বৃদ্ধাশ্রমের মা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
বৃদ্ধাশ্রমের জানলা ধরে ঝাপসা চোখ দাঁড়িয়ে আছো একা,
কাঁপছে দুখানি পা, আসে যদি তোমার খোকা।
এভাবেই করে লালন পালন, টিমটিম করে এক বাঁচার নেশা,
ভিতরে মনের বইছে স্মৃতি, তরঙ্গিণী খরস্রোতা।
মায়ের মন- আসবে খোকা, শূন্য পথে দুচোখ পাতা,
আগের মতো জাপটে গলা, ভালোবাসায় মুছে দেবে মনের সব মলিনতা।
জানলা বেয়ে চোখ চলে যায়, গাছের সারির পাশ কাটিয়ে,
হয়তো খোকা ব্যস্ত ভীষণ, সব কাজের দায়িত্ব নিয়ে।
ছেলেটাও তো ছোট্ট এখনও সামলে রাখা কি মুখের কথা,
আগে তো খুবই দুষ্টু ছিল, নানারকম বায়না তার বাঁধা।
খাবার সময় নিজের হাতে একটুকুও যদি দাঁতে কাটে,
হাতে ধরে খাইয়ে দিলে, তবেই না খাবার মুখে ওঠে।
ঠিক যেন ওর বাবার মতো,তারও ছিল এক ঝামেলা,
ভাত নিয়ে থাকবে বসে , তবু নিজের হাতে খাবেনা।
স্কুল পেরিয়ে কলেজ যখন, তখনও সেই এক বায়না,
মা মেখে খাইয়ে দিলে তার মত নাকি স্বাদই হয় না।
গাড়ি, বাড়ি,আধুনিকতা, ঢেকে দেয় সেসব কথা।
হারিয়ে যায় আঙ্গুল ধরে টলোমলো হাঁটতে শেখা,
ঢাকা পড়ে যায় মায়ের আঁচল জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়া,
যায় হারিয়ে সেসব কথা, ঋণভার পাহাড়চুড়া।
ভেজা চোখে স্মৃতির মনিকোঠায় , ঘুরে বেড়ায় মা একলা,
দিবানিশি মনের বুনন - নাতি , ছেলে আর বৌমা।
এমনি করে দিনের শেষে, সন্ধে নামে তোমার পাড়ায়,
গাছের সারি ফিসফিসিয়ে, ব্যথিত মনের গল্প শোনায়,
বৃদ্ধাবাসে মনখারাপের চাদরগুলোতে , বালিশ রাখে নিঃশব্দে কান্না গেলার, মন্ত্র শেখায় চুপকথাকে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন