পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গান্ধারী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মহাভারতের এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছেন হস্তিনাপুরের মহারানী গান্ধার কন্যা গান্ধারী, শত কৌরব পুত্রের জননী এই গান্ধারী। ★ধর্মের জয় হোক★ এই ছিল তার আশীর্বাদের মূল মন্ত্র।  কি বলবেন গান্ধারীকে... এক হতভাগ্য মাতা নাকি এক হতভাগ্য কন্যা? যিনি সব জেনে সব বুঝেও পিতার মুক্তির জন্য শত পুত্রের বর চাইলেন।  আবার পিতার ইচ্ছা পূরণ করতে নিজের জন্য শত পুত্রদের যুপকাষ্ঠে বলি হতে দেখলেন। হস্তিনাপুরের বংশ তো আসলে তারই বংশ।  শুধু তাই নয় রাজা সুবলের বংশও তো...  রাজা সুবলের এই অভিশাপ কার জন্য ক্ষতির কারণ হল? ভীষ্মর? নাকি তার নিজের? এই  দ্বন্দ্বর মাঝে পিষ্ট হয়ে গেলেন গান্ধারী, ভাগ্যের দোষ? নাকি ভবিতব্যর?  পাঠক কুল আপনারাই করুন বিচার... গান্ধার কন্যা গান্ধারী: ◆●■◆●■◆●■◆●■◆●■●◆■ গান্ধার প্রদেশ - বর্তমানে আফগানিস্তান।  পাহাড়ে ঘেরা খুব সুন্দর এক জায়গা। অল্প রুক্ষ শুস্ক ভূমি। জলের অভাব রয়েছে।  খুব স্বচ্ছল প্রদেশ না হলেও বেশ হাসিখুশি জীবন কাটে এই প্রদেশের প্রজাদের। ঘোড়া ভেড়া পশম আর বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যে ভরপুর এক সমৃদ্ধ রাজ্য।  চাষবাসও হয় তবে মাদক দ্রব্যের, যদিও সেই মাদকের বেশি...

শুধু তোমাকেই ভালোবাসা যায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
পৃথিবীতে এখন এরকম কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা এই স্বার্থপর পৃথিবীর মধ্যে একটু অন্য ধরনের। আজকের সমাজের চোখে হয়ত তাঁরা নির্বোধ বলে আখ্যা পেয়ে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের চোখে এদের জায়গা একটু অন্যধরণের। সামনাসামনি কেউ একে কিছু না বললেও মনে মনে একে বিশ্বাসের আসনে অবলীলাক্রমে বসিয়ে দিতে পারেন। তাই তো পিয়া অসীমকে মুখে যাই বলুক না, মনে মনে একটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার  আসনে বসিয়েছে।  -ব্রেকআপ!!! চিৎকার করে উঠল পিয়া! -মানে? -মানে বোঝো না?মানে হল তোমার আর আমার রিলেশনের এখানেই শেষ!বাই বাই! -আচ্ছা। -আচ্ছা মানে?তুমি কিছু বলবে  না? -আচ্ছা আজকে কি আমরা শোক পালন করব?না মানে যেমন ধর…প্রতিদিন আমরা আইসক্রিম,ঝালমুড়ি,ফুচকা খাই..আজকে বরং তা না করে সিগারেট খাই! -তুমি আমাকে সিগারেট খাওয়াবে !!! -না মানে…কষ্ট ভুলতে তো মানুষ তা-ই করে! -তোমার কি মনে হয় আমার কষ্ট লাগবে?মোটেও না!! -ও!! রাগে হাতের ব্যাগটা আছাড় মারল পিয়া!-তুমি একটা ছাগল আর একটা ছাগলের সাথে কোনো মানুষের সম্পর্ক থাকতে পারে না! কথাটা বলেই বাসার দিকে হাঁটতে লাগল পিয়া। পিয়ার ফেলে যাওয়া ব্যাগটা হাতে নিল অসীম । ভিতরে একটা মোবাইল আর কিছু টাক...

পোড়োবাড়ির গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দুপুর। চারদিকে সুনসান নিরবতা। উঠোনের পাশে এক দঙ্গল বাচ্চা নিয়ে কুটকুট করছে মা মুরগী। ঘরের ছায়ায় ঝিমুচ্ছে একটি কুকুর। নিশ্বাসের সাথে উঠানামা করছে হৃৎপিন্ড। হঠাৎ দমকা হাওয়ায় গাছের ডালপালা কেঁপে ওঠে। জোরে আছাড় খায় জানালার পাল্লা। বাতাসে তার প্রতিধ্বনি ঝুলে থাকে কিছুক্ষণ।  প্রমোদ ঘুমাচ্ছিল। জানালার সশব্দ উল্লাসে জেগে ওঠে। এতে বরং ভালই হল। আরেকটু ঘুমালে হাট ধরতে পারতনা আজ। মুখে জলের ছিটা দিয়ে দ্রুত বিল থেকে গরুগুলো এনে গোয়ালঘরে বাঁধে। রওয়ানা হয়। যেতে যেতে গান ধরে “ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইবনা আর বেশিদিন তোদের মাজারে। হায়রে ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে!” প্রমোদের সুর বিলের বিলের বিস্তীর্ণ প্রান্তর ভেদ করে খুঁজে নেয় আকাশের কিনারা।  প্রমোদের মা ঘুমুচ্ছিলেন। ঘুম ভেঙ্গে যায় কোন এক দুঃস্বপ্নে। মনে করতে পারছেন না ঠিক কি দেখেছিলেন। কিন্তু ছেলের জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে। জাভেদকে ডাকেন। কোথায় প্রমোদ ! মায়ের ডাকে জবাব দেয় গরুগুলো। ওগুলোর হাম্বা হাম্বা রবে গোয়ালঘরে ঢোকেন মা। গরুগুলোর সামনে পানি দিয়ে আবার এদিক ওদিক খোঁজা শুরু করেন ছেলেকে। বিলের মধ্যে পাশের বাড়ির অমিতকে দেখে ডাক দ...

মধুর সমাপ্তি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
।।১।।  পাড়ার মোড়ের ফুচকার  দোকান ক্রেতার ভিড়ে উপচে পড়ছে, করোনার প্রকোপ একটু কমের দিকে এবং অনেকেরই করোনার টিকা নেওয়া হয়ে গেছে। তাই বিকেলের ফুচকাটা আবার কিছুটা হলেও, কিছু ক্রেতা পাচ্ছে। “কাকা, ফুচকায় আর একটু ঝাল দাও তো”- বলেই হাপুস হুপুস করে চোখ নাক মুছে আবার ফুচকাটা মুখে পুরল তুলিকা  ।  “ঝাল খেতে গিয়ে নাকের জল, চোখের জল এক হচ্ছে তবু খাওয়া চাই”- বলেই তুলিকাকে ভালবেসেই কথার দু ঘা বসাল গৌতম ।  তুলিকা , গৌতমের কথায় বিশেষ কান না দিয়ে খাওয়ায় মনোনিবেশ করল । প্রতিবারের মত খাওয়া শেষে ফাউ নিয়ে খানিক তর্ক বিতর্কও হলো, তারপর হাঁটা লাগল দুজন ।  গৌতম আর তুলিকার এই হেদুয়া পার্কের পাশ দিয়ে হাঁটাটা নতুন কিছু নয়, দীর্ঘ বেশ কয়েক বছরের অভ্যাস, বহুদিন ধরেই এই রাস্তা, দোকান, পার্কের বসার বেদি, ফুচকাওয়ালা, কৃষ্ণচূড়া গাছটা এরা সবাই ওদের চেনে । ঐ যেদিন গৌতম প্রথম তুলিকার হাত ধরেছিল, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই, আচমকা, সেদিন তুলিকার সাথে  লাল কৃষ্ণচূড়াটাও  লজ্জা পেয়েছিল, রাঙা হয়েছিল তুলিকার কানের লতি, গালের লালাভ আভা সেদিন গৌতমের চোখ এড়ায়নি ।  অথচ, এই গৌত...

প্রেমের নাট্যরঙ্গ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
- হ্যালো, জয়িতা বলছো? - বলছি। আপনি কে? - আমি মিলন । মানে আমার মা আর তোমার মা বন্ধু হন। আমার মা'ই তোমার ফোন নাম্বার দিয়েছে আলাপ করার জন্যে। - প্রথম কথা আপনি আমাকে চেনেন না। তাই দুম করে আমাকে 'তুমি' বলবেন না। এই শর্তে যদি রাজি থাকেন তবে এখনই ফোন রাখবো না। - আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাকে, সরি আপনাকে আপনি করেই বলবো না হয়। - হ্যাঁ, তো করুন আলাপ। বলুন কি জানতে চান। - না, মানে এই ভাবে বললে কি বলি বলুন তো!! আপনি আশা করি জানেন আমি কি কারণে ফোন করছি। - জানি। আপনি বিয়ে করার জন্যে পাত্রী দেখছেন। তাই বুঝতে চাইছেন আমি আপনার যোগ্য নাকি। তা বার করুন আপনার প্রশ্নবিচিত্রা।- প্রশ্নবিচিত্রা? সেটা আবার কি?- মানে বিয়ের পাত্রীকে লোকেরা যা সব জিগ্যেস করে। 'নাচ জানো'? 'গান জানো'? 'রাঁধতে  জানো? ''হাইট কত'? এইসব। - না। এইরকম তো কোনও প্রশ্ন আমার রেডি নেই।- সে কি? তা হলে আগে প্রশ্নবিচিত্রা রেডি করুন। তারপর আমাকে কল করবেন। রাখছি। (২) - হ্যালো, জয়িতা? - বলছি বলুন। - মানে, বলছিলাম, প্রশ্নবিচিত্রা রেডি করেছি। - বাহ। গুড। বলে ফেলুন। - জিজ্ঞেস করছিলাম আপনাদের বাড়িতে আলুপোস্ত হয়? - এ ...

রূপকথায়  শরত - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
শুভ্রতায় ভরা ঋতু অনন্য স্নিগ্ধতায় মনের আশ্রয় চাই কাশবনে রূপের জ্যোৎস্নায় ভেজা ভেজা শিউলি ফুল করে মনের আকুল ডুবে যায় মন সেই তীরে স্মৃতিরাশি মেঘমালায়। মন ছুটে যায় সাদা মেঘের ওড়ার দেশে শুধু যেতে চাই মেঘমালায় থাকতে চাই শুভ্রতায় মিশে মনকে নিতে মেঘ উড়ে আসে গোধূলী সন্ধ্যায়। হৃদয় টানে কাশফুলের রূপে  হারিয়ে যায় সেই স্বপ্নে ঘুরে বেড়ায় মনের আঙিনায় ডুবতে যে চাই মেঘমালায় দেহের অলসতায়। উড়াল পাখির রূপটি দেখে মনটিও সেই রূপ চায়  রূপঘরে হারায় শরতকে  বেঁধে মনে এই মন শুধু হারাতে চায় শরতের রূপকথায়।

কল্পনার সিন্দুক - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ইচ্ছে আমার একটা সিন্দুক বানাবো, দামী কাঠের, দর্শনীয় সংগ্রহশালা , ভিতরে অসংখ্য কুঠুরি; আমার যত আপন কথা, ঘুমিয়ে থাকবে খোপে খোপে, যাদের বুকে নিয়ে বয়ে বয়ে আমি ক্লান্ত। লোকসমাজে যারা অপ্রকাশ্য, তারা শান্তিতে ঘুমোক ঐ সিন্দুকে, লোকচক্ষুর আড়ালে।  আরও কত কথা লোকে জমা রেখে যায়; 'কাউকে বোলো না' - বলি না.. কালে কালে, যার কথা সেও ভুলে যায়, এভাবে, বন্ধকী কথা জমতেই থাকে, জমতেই থাকে.. তাদেরও রাখবো ঐ সিন্দুকের অন্ধকারে।  সিন্দুকটা থাকবে বৈঠকখানা ঘরে , প্রকাশ্যে সুন্দর কাজ করা চিকনের ঢাকা, তার ওপর সাজিয়ে রাখবো তিনটি বাঁদর পুতুল, যারা কিছু দেখে না, শোনে না...বলে না;  বাড়িতে যারাই আসবে, তারিফ করবে আমার রুচিবোধের, শুধু আমি জানবো আপাত নিরীহ এই সজ্জার আড়ালে কি ভয়ংকর সত্য সব ঘাপটি মেরে আছে, মুক্তি পেলে যারা একটা সভ্যতা ধ্বংস করতে পারে এক মূহুর্তে! মজবুত একটা সিন্দুক তাই বানাতেই হবে।

বিনিদ্র রজনী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
রাতেরবেলা যদি বিছানায় শুয়ে ঘুম না আসে, সেটা সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার। ওই রাতজাগা মানুষের মাথায় ভিড় করে সারা দুনিয়ার চিন্তা - বেশীর ভাগই কুস্মৃতির ভার বহন করা চিন্তা। হয়ত দু/একটা সুন্দর স্মৃতি মনে আসে - তখন মনটা অনেক হাল্কা হয়। এই করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে যায়, বোঝাই যায় না। একটা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আবার একটা নূতন দিনের পথ চলা শুরু।  কখনো যদি এমন হয়- তুমি আর আমি একসাথে আমাদের সব স্বপ্ন পূরণ করবো কখনো যদি এমন হয়- আমি কিছু না বলতেই তুমি সব শুনে নেবে আমাদের চলার পথও এক হয়ে যাবে তখন আমার হাতের মুঠোয় তোমার উষ্ণ স্পর্শ থাকবে সেদিন কেন আজ মনে হয় তুমিহিনা অসম্পূর্ণ এ পৃথিবী? কেন আজ প্রথম প্রেমের শিহরণ তুমিবিনা অসম্পৃক্ত? সেই তোমার পাশে কাটানো কোন এক বসন্ত আর ভালবাসার নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকা মায়াজালের হাতছানি-আজও প্রতিরাতে আমাকে কাঁদায়কখনো যদি এমন হয়- সব শেষের শুরুতে শুধু তুমি আর আমি আরেকবার হারাবো আমি তোমার বিশ্বাসে আরেকবার তুমি ফিরবে সেদিন আগের মতই পেছন থেকে চোখ জড়িয়ে বলবে- বল তো আমি কে? আরেকবার আমি তোমার মিষ্টি হাসির প্লাবনে ভেসে যাব যেদিন মুছে যাবে এসব স্মৃতি, হৃদয়টা হয়তো পাবে তৃপ...

বিকর্ন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এই নামটা  খুব একটা পরিচিত নাম নয় । খুবই কম লোক এই নামের সাথে পরিচিত।আসলে কি জানেন চোখে আঙুল দিয়ে উচিত অনুচিত বলে যাওয়া লোকজনেরা চিরকালই রয়ে যায় প্রদীপের নীচে। উচিত কথার প্রদীপ এরাই তুলে ধরে কিনা উঁচুতে, তাই তাঁরা চিরকাল থেকে যান পিছনের সারিতে।  যাইহোক ইনি ছিলেন কৌরব ভাইদের মধ্যে অন্যতম। তৃতীয় ভাই তিনি। তৃতীয় হলেও তিনি কিন্তু বড় দুইভাইদের ছেড়ে কথা বলেননি কোনদিনই...।ধর্মপথে চলা তার লক্ষ্য ছিল ঠিকই  কিন্তু তাবলে ভাইদের ছেড়ে যান নি,বরঞ্চ ভাইদের সাথে থেকে ভাইদের ধর্মপথের রাস্তা দেখিয়ে গিয়েছেন বরাবর।কেউ শোনেনি তার কথা তবুও দমে যাননি উচিত কথা তিনি বলে গিয়েছেন  শুধু ভাইরা নয়,তিনি ছেড়ে কথা বলেননি গুরুজনদের।তার উচিত কথার প্রশ্নবান থেকে রেহাই পাননি কৃপাচার্য্য, দ্রোনাচার্য্যদের মত গুরুরা , পিতামহ ভীষ্মকে, নিজের পিতা ধৃতরাষ্ট্রকেও না এরকম একজনকে পছন্দ করা তো সত্যি খুব দুরূহ ব্যাপার।আসলে আমরা সবাই উচিত কথা বড্ড বেশি পছন্দ করি,কিন্তু যতক্ষন না আমাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছেততক্ষণ অবধি।  স্ত্রী- ইন্দুমতি  আজ থেকে  আনুমানিক 7500 বছর আগে,হস্তিনাপুরে জন্মগ্রহণ করেন বিকর্ণ। পিতা...

প্রেমের  সেকাল ও একাল - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সেকালের প্রেম ছিল এক ছন্দে ভরা মিষ্টি সুরেলা গান একালের প্রেম মানে শরীরের কামনা -  বাসনার আখ্যান না বলা কল্পনার কথারা আঁকতো আল্পনা নয়নের দৃষ্টিতে আজ শুধুই শরীর কথা বলে , প্রেমের সৃষ্টিতে একটি গোলাপ ফুল বহিত বার্তা  দুটি হৃদয়ের আজ অজস্র উপহারে দুর্গন্ধ শুধু অর্থের ভাঁড়ের চায়ের আমেজ উষ্ণতা ছড়াতো হৃদ্যতার তারই মাঝে অব্যক্ত প্রেম রাখতো তার সম্ভার আজ ঝাঁ চকচকে রেস্তোরায় খরচে প্রাণ ওষ্ঠাগত হাজার আলোর রোশনাইতেও প্রেম আজ পথ হারিয়ে দিগভ্রান্ত সেকালে মনের কথারা ছড়াতো সুবাস  চিঠির আদান-প্রদানে আজকের প্রেম মাধুর্য্য হারায়,আবডালহীন মোবাইল ফোনে  দূরত্ব, অপেক্ষা, প্রহর গোণায় মিশে ছিল মনের আকুতি- আবেগ আজ সর্বক্ষণ যোগাযোগে আবেগ হারায়, জমা হয় খেদ, মনেই ছিল সেকালের প্রেমের বাসরঘর আধুনিকতার প্রযুক্তির চাপে  প্রেম হারায় তার মনের ঘর উৎসব-পালা-পার্বণে চোরা চাউনিতে, উষ্ণ হাতের হাল্কা স্পর্শে প্রেম ছুঁত মনের অলিন্দ,ছড়াতো অনুরাগের আবীর,অজানা আনন্দে-হর্ষে হৃদয় বিনিময়েই লেখা হতো, সকল প্রেমের মর্মগাথা ভালোবাসাই সেথা ছিল প্রাণ, প্রেম ছিল যেন রূপকথা সহজলভ্য কামনা-বাসনা-যৌনতায় প্রেম আজ তার ভাষ...

ভালবাসা ও প্রতারণা- পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সত্য কাহিনী অবলম্বনে একটি সম্পূর্ণ গল্প । পড়ে হয়তো আপনাদের বিবেক এ নাড়া দিতে পারে…… গল্পটা একটু বড় এড়িয়ে যাবেন না ….. ফেসবুক থেকে লগ আউট করার সময় হঠাৎ মিস্টি নামের একটি মেয়ের আইডি দেখতে পায় নির্মল ।  মিউচুয়াল ফ্রেন্ড অনেক । নির্মল এত মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখে মিষ্টিকে ফ্রেন্ড  রিকোয়েস্ট পাঠাল।এমনিতে নির্মল খুব খুব দ্রুত মিলতে পারে। ফেসবুক নিজের আইডি খোলার পর থেকে অনেক অচেনা মানুষকে আপন করে নিয়েছে।বাড়িয়েছে  বন্ধুত্বের হাত । অনেক মেয়ের সাথেই তার খোলামেলা বন্ধুত্ব । ভার্চুয়াল জগতের এসব বন্ধুত্ব নির্মল খুব উপভোগও করে। এদের মধ্যে দু একজন তার সত্যিকার ভাল বন্ধু হিসেবেও জীবনে আবির্ভূত হয়েছে। দুই –তিন দিন পর মিষ্টি নির্মলের রিকোয়েস্ট গ্রহন করে । এরপর স্বভাবতই নির্মল মিষ্টিকে কে চ্যাট মেসেজ দেয়। মিষ্টিও প্রত্যুত্তর দেয়। শুরুটা এইভাবে । এইভাবে প্রতিনিয়তই চলতে থাকে নির্মল আর মিষ্টির চ্যাটিং । মিষ্টির আগ্রহ দেখে নির্মল মিষ্টিকে তার ভাল বন্ধু বানাতে উৎসাহ প্রকাশ করে । এরপর দিন যায় ,সপ্তাহ যায় শুধুই ফেসবুক চ্যাটিং ,দুজনের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ।পারিবারিক,বাক্তিগত অনেক কথাই তারা শ...

কল্পনার সিন্দুক - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ইচ্ছে আমার একটা সিন্দুক বানাবো, দামী কাঠের, দর্শনীয় সংগ্রহশালা , ভিতরে অসংখ্য কুঠুরি; আমার যত আপন কথা, ঘুমিয়ে থাকবে খোপে খোপে, যাদের বুকে নিয়ে বয়ে বয়ে আমি ক্লান্ত। লোকসমাজে যারা অপ্রকাশ্য, তারা শান্তিতে ঘুমোক ঐ সিন্দুকে, লোকচক্ষুর আড়ালে।  আরও কত কথা লোকে জমা রেখে যায়; 'কাউকে বোলো না' - বলি না.. কালে কালে, যার কথা সেও ভুলে যায়, এভাবে, বন্ধকী কথা জমতেই থাকে, জমতেই থাকে.. তাদেরও রাখবো ঐ সিন্দুকের অন্ধকারে।  সিন্দুকটা থাকবে বৈঠকখানা ঘরে , প্রকাশ্যে সুন্দর কাজ করা চিকনের ঢাকা, তার ওপর সাজিয়ে রাখবো তিনটি বাঁদর পুতুল, যারা কিছু দেখে না, শোনে না...বলে না;  বাড়িতে যারাই আসবে, তারিফ করবে আমার রুচিবোধের, শুধু আমি জানবো আপাত নিরীহ এই সজ্জার আড়ালে কি ভয়ংকর সত্য সব ঘাপটি মেরে আছে, মুক্তি পেলে যারা একটা সভ্যতা ধ্বংস করতে পারে এক মূহুর্তে! মজবুত একটা সিন্দুক তাই বানাতেই হবে।

অপূর্ণ ভালোবাসা-পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
জীবন কখনোও থেমে থাকে না। জীবন চলে তার মত, তবুও মাঝে মাঝে কারোর জন্য মনটা থেমে যায় ।তখন মনের ভিতর কোন এক সময়ের লুকিয়ে থাকা কিছু স্মৃতি গুলো  উঁকি দেয়। ক্ষনিকের মধ্যে হঠাৎ করেই মনটা মলিন হয়ে যায় ।  কত ইচ্ছে ছিলো।কত স্বপ্ন ছিলো।সব কেমন যেন হঠাৎ করে  মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় । স্তব্ধ হয়ে থাকে স্মৃতিগুলো, পড়ে থাকে বছরের পর বছর।এক সময় ভুলে যাই আবার মাঝে মাঝে মনে হলে চোখের জল গুলো ঝরে যায় ।  আমি মিমি ।সবে মাত্র দশম শ্রেনিতে পড়ি।সবার জীবনে কোন না কোন প্রিয় মানুষ বা প্রিয় বন্ধু প্রায় থাকেই।আর সেই প্রিয় বন্ধু গুলো কে হঠাৎ করেই কেন জানি ভালো লেগে যায় ।কাছের বন্ধুটি কেন জানি এক সময় প্রিয় স্হান টা দখল করে নেয় । তখন কেউ খুব সহজেই বলে দিতে পারে মনের কথাটা,আবার কেউ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও বলতে পারে না।  স্বপন আর আমি একই সাথে পড়তাম।দুজনের বাসা একই গ্রামে হওয়াতে দুজন একই সাথে স্কুলে আসা যাওয়া করতাম।আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম।এক সাথে স্কুলে যাওয়া প্রাইভেট পড়া ইত্যাদি।  আমরা দুজনে দুজনকে তুই করে বলতাম।মাঝে মাঝে স্বপনের ব্যবহারে আপসেট হয়ে যেতাম।মাঝে মাঝে এমন ব্যবহার করতো মনে হতো ...