পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অন্যায় যে সহে

ছবি
অন্যায়কে সহন করিবার ব্যাপারে আলোচনা করিতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে বিখ্যাত অভিধানকার হরিচরণ বন্দোপাধ্যায়ের (১৮৬২-১৯৫৯ খ্রি.) কথা, যিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুণমুগ্ধ গুণী ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষক ছিলেন । একদা তিনি ‘রবীন্দ্রনাথের কবিতার চিত্র’ নামে এক নিবন্ধে তিনটি কবিতার আলোচনাও করিয়াছিলেন। তাহার মধ্যে একটি কবিতার নাম ‘শেষ শিক্ষা’। হরিচরণবাবু মনে করেন এই কবিতার মূলসূত্র ‘অন্যায়’। আমরা আরও এগিয়ে বলব, ‘অন্যায় ও তাহার প্রতিকার’।  ‘শেষ শিক্ষা’ নামক কবিতাটিতে শিখজাতির দশম ও শেষ শুরু গোবিন্দসিংহ (১৯৭৫-১৭০৮) ছিলেন । ইনি মারাঠাজাতির অধিপতি শিবাজির যুগে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতার কাহিনী হরিচরণ যেভাবে সংক্ষেপ করিয়াছেন আমরা এখানে তাহার মাত্র সারাংশ গ্রহণ করিতেছি। ‘বীর গুরু’ নামা নিবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজও একবার কাহিনীটা গদ্যযোগে লিখিয়াছিলেন। বলিয়াছিলেন, “গোবিন্দের মৃত্যুঘটনা বড়ো শোচনীয়”। শিখগুরু গোবিন্দ একদিন নিভৃতে তার নিজের জীবনকথা- “অখন্ড ভারত অধিকারের সংকল্পিত বিষয়”- ভাবিতেছিলেন। তাঁহার মনে হইতেছিল এই প্রৌঢ় বয়সে সে বিষয় ‘শতধাবিকীর্ণ, সংশপ্রান্ন সংকটসংকুল”। তিনি ভাবিতেছিলেন ...

সম্প্রীতির সংগ্রাম

ছবি
"জীবন হলো প্রতিনিয়ত একটি নতুন যুদ্ধ ।" বিকেলবেলা কলেজ শেষ হবার পরে যে আড্ডাটা জমে কলেজের কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধুদের মধ্যে, তাতে মাঝে মাঝে ঝালমুড়ি, চাট, ফুচকা ইত্যাদি চলেই আসে। আর সকলে সেই খাবারটা খুবই উপভোগ করে। এরকমই একদিন চাট খাবার উদ্দেশ্য নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে সুপ্রিয়ারা পৌঁছলো ওদের কলেজের কাছের একটি চাটের দোকানে। দোকানটায় ঢুকে দেখা গেল, দোকানটা একটু অন্যধরনের চিন্তাধারায় সাজানো। "A certain type of imperfection can only be realized through limitless accumulation of imperfect" চাট খেতে খেতে এই লাইনটায় চোখ লেগে গেল সুপ্রিয়ার । খুব অদ্ভুত লেগেছিল। লেখাটা চেনা চেনা লাগলো,তার পর মনে পড়লো লেখাটা হারুকি মুরাকামির । নতুন এই চাটের দোকানের ছেলেটা শিক্ষিত দেখেই বোঝা যায়। চাটটা ও বেশ ভালো বানায়। সুপ্রিয়া প্রায়ই আসে কলেজ ফেরত। সবাই যখন অবসর পেলে মোবাইল নিয়ে ঘাঁটতে থাকে, তখন ওকে দেখেছে বই পড়তে। ওর কাছে বাংলা বই দেখেছিল, একদিন ইংরেজি একটা বই ও দেখেছে। কারোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ দেখানো সবসময় ঠিক না। তাও আবার সামান্য চাটওয়ালা । ছেলেটাকে দেখতে ভালো ও ফর্সা টুকটুকে, কিন্তু আজ যখন চাট...

মা তুঝে সালাম!

ছবি
শরতের সকাল, চারিদিকটা সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। সব মিলিয়ে একটা পুজো পুজো গন্ধ। সকলের মনে মা আসবার কারণে একটা খুশীর উৎসব খেলা করে চলেছে। আর্ট কলেজের ফাইন আর্টসের পোস্ট গ্রাজুয়েট ক্লাসের ছেলেগুলোর বহু আকাঙ্ক্ষিত দিনটি আজ। এতগুলো বছর এই দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে যে কটি লড়াকু শিল্পী মানুষ, তারা আজ সকালের অমানুষিক ভিড় ঠেলে ট্রেনে বাসে করে এসেছে কলেজে। আজ Master of Fine Arts -র এই ক্লাস টাতে একটা চাপা উত্তেজনা। বিকিউব (মানে বিধু বিনোদ বসুর) - র এই ক্লাস কেউ মিস করতে চায় না। অজানাকে জানবে বলে আজ ক্লাসের পাঁচজনকেই ভীষণ উত্তেজিত লাগছে। বিকিউব কিন্তু সকলকে~ লক্ষ্য করছেন অথচ ভাবখানা দেখাচ্ছেন যেন কিচ্ছু দেখছেন না। অয়ন আস্তে করে সৌমিত্রকে বলল, "আজ শালা বাসে একটা মালের সাথে হেব্বি কিচাইন হয়েছে। মনটা ভালো লাগছে না।" এরমধ্যেই বিধু বাবু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন "এসো মা"। তারপর সকলের দৃষ্টি সেই মায়ের দিকে হতেই অয়ন যেন কারেন্ট খাবার মতো লাফিয়ে সৌমিত্রকে চিমটি কেটে বলল, "আরে সেই মালটা সমু !" মহিলা বিধু বাবুকে প্রণাম করে বলল," আসছি আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে।" ঘরের মধ্যে তখন উত্তে...

স্বাধীনতা

ছবি
আমি মেঘের মতো -মাটি ছুঁতে চাইলে আমাকে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে হয়। তখন আমি আর মেঘ থাকি না , হয়ে যাই মেঘের কান্না। সাব-ইন্সপেক্টর দীপক গুহ খুব শক্ত নার্ভের মানুষ । সহজে ঘাবড়ে যাওয়া তার স্বভাব বিরুদ্ধ । জীবনের প্রায় অর্ধেকটা সময় এই পেশায় কাটিয়ে দিলেন ,খুন-খারাবি থেকে শুরু করে কতো যে ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী তিনি তার হিসাব নেই । প্রথম-প্রথম এত হিংস্রতা আর প্রাণঘাতী ব্যাপার স্যাপার দেখলে একটু কেমন লাগলেও এখন আর কোন কিছুতেই আর কিছু হয়না তার । মনটা যে কখন পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে কালে কালে নিজেও বুঝতে পারেন নি। তবে মাঝে মাঝে মনে হয় মনটা পুরো মরে যায় নি, পাথরের তলা দিয়ে ধীরে ধীরে ফল্গু নদীর মত প্রবহমান।  ইদানীং কালে একটা বাচ্চা মেয়ের মৃত্যু দেখে ওনার যেন একটা বড় ঝটকা লাগলো। স্বভাব শান্ত মানুষটাকে কিন্তু এই বাচ্চা মেয়েটার মৃত্যু কেমন নাড়িয়ে দিয়েছে । মেয়েটার লাশের দিকে তাকালেই তার ছোটো মেয়েটার মুখ কেমন চোখে ভেসে ঊঠছে ।অশান্ত চঞ্চল মনটাকে তিনি কিছুতেই স্থির করতে পারছেন না । তিনি ভাবতে লাগলেন যে আজকালকার ছেলেমেয়েগুলো বোঝে না ওদের এই ধরণের হঠকারী  কাজের ফলে মা - বাবার মনের উপর দিয়ে কি যায়! কি এমন দুঃখ হল...

ছদ্মবেশ

ছবি
দর্শকদের হাততালি আর উৎসাহ বার্তায় হলটা ভরে উঠলো, এই অনুপ্রেরণার শব্দে শিল্পী তখন এক অজানা উত্তেজনায় কেঁপে উঠছে। ওর মনে হচ্ছে ওর দমবন্ধ হয়ে যাবে, চোখ বেয়ে নামছে অশ্রুধারা - সেটা কিসের? - আনন্দের না দুঃখের! 'সাব্বাস লাবণ্য। যেমন অভিনয় আর তেমন হয়েছে তোর মেকআপ টা! ঠিক মনে হচ্ছে কেউ সত্যি সত্যি অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরেছে। এমন মেকআপ করা মুখের কথা নয়।" স্টেজের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জীবন মল্লিক। থিয়েটারের দুনিয়ায় হেভিওয়েট মানুষ একজন, বিশাল তার নাম। তাঁর মতো পরিচালকের থেকে এহেন প্রসংশা ভালোই লাগে। হোকনা, সে পাঁচ মিনিটের রোল। লাবণ্য প্রায় বছর তিনেক ধরে জীবন মল্লিকের দলের সাথে যুক্ত।তবে কাজটা পাওয়া অতটাও সহজ ছিল না। জীবন মল্লিকের শ্বশুরবাড়ি লাবণ্যদের পাড়ায়। সেবার লাবণ্যদের পাড়ার পুজোর সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই নিয়ে হৈ চৈ। এলাহী আয়োজন। বাইরে থেকে শিল্পী এনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। তার সাথে ছিল পাড়ার কচিকাচাদের নাটক, বড়দের নৃত্যনাট্য। পুজো কমিটি লাবণ্যকে মেকআপের ভার দেয়। পাড়ার নাটকে লাবণ্যর মেকআপ চোখে পড়ে জীবন মল্লিকের। জহুরী জহর চেনে.. সেখান থেকেই যোগাযোগ.. এখন তো জীবন মল্লিকের দলের অবি...