পোস্টগুলি

জুন, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভালবাসার হার - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সবে বেলা দশটা বাজে,সায়নীর জন্যে অপেক্ষা করতে করতে এরই মধ্যে তিনটি সিগারেট শেষ করে ফেলেছে সুমন। সকালবেলা ব্রেকফাস্ট করা হয়নি। তাই খালি পেটে এতোগুলো সিগারেট খাওয়ার জন্যে তাঁর গা গুলিয়ে উঠছে । গাছপালা ঘেরা এই পার্কের মধ্যেও সূর্য যেন আগুন ঝরাচ্ছে। ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপটে গেছে শার্টটা। চার নাম্বার সিগারেটটা জ্বালাতেই সায়নীকে দেখতে পেল সে। সায়নীও তাকে দেখতে পেয়েছে। রিকশা করে তার দিকেই এগিয়ে আসছে। আজ সায়নী নীল রঙের সালোয়ার কামিজ পড়েছে।তার অবাধ্য খোলা চুল বার বার বাতাসের ঝাপটায় চোখের উপর এসে পড়ছে। বেশ সুন্দর লাগছে। তবে প্রতিদিনের মতো মিষ্টি হাসিটা আজ নেই। মুখটা থমথমে। কারনটা জানে সুমন। বাসা থেকে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে সায়নীর। কিন্তু সে বিয়েটা করতে চায় না। সায়নী নিশ্চয় তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলবে আজ। হাসলো সুমন। মেয়েটা এতো সরল। সাদা কালো পৃথিবীতে রঙীন ভালবাসার যে ঠাঁই নেই , এই সাধারন কথাটা বোঝে না। রিকশাটা সুমনের কাছে আসতেই নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিলো সায়নী। চুপচাপ দুজন হেঁটে পার্কের একটা বেঞ্চে বসলো। সুমনের দিকে তাকিয়ে সায়নী বললো, স্যরি, আজ তোমাকে অনেকখন  অপেক্ষা করতে হলো। - ...

ভালোবাসার যুদ্ধ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

আমার জীবনে প্রেম এসেছে বার বার নদীর  ঢেউর মতন স্নিগ্ধ অপলক দৃষ্টি ছিলো তাদের মোহময়ী তাদের সেই দৃষ্টি ভেদ করে আমার চোখ চলে যেতো অসীম পানে, সীমাহীন নীলাকাশে। তাদের আমি কাব্যে প্রেমিকা করি,  আবার আমি বক্তৃতায় ভালোবাসি, একসময় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ি যখন সেই ঢেউ ফেরে আবার নদীর বাড়ি হৃদয়ে বাজে মৃদু সাইরেন আমার কোটর থেকে মণি ছিটকে বেরিয়ে আসে আমার নাকে বিষাদের গন্ধ এসে লাগে বারে বারে এক দমকা বাতাস এসে আমাকে সব ভালোবাসার আসন থেকে শূন্যে নিয়ে যায় আমি অদৃশ্য হয়ে যাই-আঁধারে।।

তন্দ্রায় হঠাৎ দেখা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত প্রান্তে একটি ছোট্ট স্টেশন।একটুখানির জন্যে ট্রেন  টা ধরতে পারলাম না।উনিশ– কুড়ি বছর বয়স হলে এক ছুটে ট্রেন টা ধরে নিতাম কিন্তু,এই আটাশ  বছরে আর ছুটতে ইচ্ছে করে না। বাধ্য হয়ে  প্লাটফর্মের একটা বেঞ্চের উপর   এসে বসলাম। স্নাতক স্তরের পরীক্ষা  পাস করার পরে বহুদিন কর্মহীন ছিলাম। এখন স্টেশন থেকে কিছু দুরে একটা  প্রাইমারী স্কুলে পড়াই আমি,তাই এই স্টেশন খুব  প্রিয় আমার। গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেল,দখিনের  শির শির করা বাতাস ঘর্মাক্ত মুখে যেন বরফের কুচি  ছড়িয়ে দিচ্ছে। সামনেই একটি  চায়ের দোকান, ভাবলাম একটু চা খাই - সময়টাও কিছুটা কাটবে।চা খেতে খেতে দূরের কালো গাছ গাছলায় ভরা  বন টাকে দেখছি।হঠাৎ একটি মেয়ের গলা— 'এই  প্রিয় '। চমকে উঠলাম। আমার নাম ধরে কে ডাকল!  পাশের বেঞ্চের দিকে তাকালাম,উনিশ – কুড়ি  বছরের দুটি ছেলে মেয়ে বসে বেশ গল্প করছে।  মেয়েটি বলল— 'প্রিয়, কাল কিন্তু সিনেমা দেখতে  যাব।' বুঝলাম,ঐ ছেলেটির নাম ও প্রিয়। আমার  মনটার কেমন ইচ্ছে করল সাত বছর আগে ফিরে  যেতে।.......

পৃথিবীর রং - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

তুমি ডেকেছো বলেই তো শুনিনি কাছে এসেছো বলেই দাঁড়ায়নি গায়ে গায়ে, ধরি নি তোমার হাত। এই হাত শুধুমাত্র খুঁজে যায় সারাদিন। সমস্ত রঙ হয়েছে ধূসর, হলদে হয়েছে দেয়াল। ইট পাথরের খাঁচায় ঝাপসা যন্ত্রণাগুলো আমায় ক্লান্ত করছে। রঙিন আলোয় দৃষ্টিবিভ্রম হয় বলেই তুমি এসেছো তবুও, তবুও বৈশাখের ঝড়ের আকাশের মত হয়েছি গম্ভীর। তুমি কেঁদেছো তবুও, তবুও রঙ বদলায় নি এই কঠিন পৃথিবীর।

প্রেমপত্র - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

বড় ঝাপসা চোখে আজ তোমাকে দেখছি মাথায় জুঁই ফুলের স্নিগ্ধ আবেশ কপালে লাল টিপ পরা, আমাকে দেখে সলজ্জ হাসি হেসে আমার দিকে তাকালে প্রাসঙ্গিক নিয়মে যদিও অসংখ্য টহলদার প্রহরীর সমাবেশ, তবুও আমি আজ বুকে সাহস পেয়েছি প্রবল আমার মধ্যে তাই এক নিরাপরাধ চাহিদার অদম্য কৌতুহল আমার স্বত্তার বিচ্ছিন্ন বিন্যাসে শীতের রাতের কুয়াশা মাখা জোছনার মুদ্রিত চন্দ্রের প্রতি আলোয় তোমার মুখাবয়ব ঢেকে ফেলেছি প্রিয়া তুমি সুন্দর! বড্ড সুন্দর তুমি প্রিয়া!! আমি তোমার মূহূর্তের দেখার অনুমতি পাওয়ায় আমার ভেতর জ্বালিয়ে ছিলাম সূর্যের চেয়ে তীব্রতর অগ্নি আমার হৃদয়ে তাই বন্দীত্বের ভয় নেই, তুমি ছাড়া আমার চোখে অন্য চাহিদা নেই, শুধু তোমাকে ছাড়া আমার আর অন্য কোনো পৃথক সত্তা নেই।

এখন বড় দুঃসময় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

এখন বড় দুঃসময়। অস্তিত্বের সংকটে পড়ে কেবলই খুঁজে ফিরি এক  নিরাপদ আশ্রয় বারবার। আমার মধ্যমা আঙ্গুলিতে শীতল স্পর্শ, আলতো পায়ে পথ চলা; স্নেহের স্নিগ্ধ পরশে এখনও চিরঞ্জীব ভালোবাসা। ইস্পাত কঠিন দু'টো শক্ত হাতে ছিল আমার সকল নির্ভরতা, আমার অস্তিত্ব রক্ষার অনন্ত অভিলাষ। অনুভব করতে বড্ড দেরি করে ফেলেছি যখন বুঝতে পারলাম, আমার একটু ছায়া দরকার যেখানে একটু শীতল পরশ, অথচ মাথার উপর ঐ দু'টি হাত নেই। তখন কেঁপে উঠি নিরাপত্তাহীনতায় । সনাতন আশ্রয়ে তবে কি খুঁজে ফিরি ? ঐশ্বরিক কৃপা কিংবা অদৃশ্য কোন আশীর্বাদ। যেখানে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে, হয়তো প্রতীক্ষায় আমার-ই কোন অনাগত বংশধর। তাদেরও বড় অসময়, প্রয়োজন একটু শীতল ছায়া। অমলিন দূষণহীন একটুকরো পৃথিবী। মোহ - মায়ায় প্রলুব্ধ এ পৃথিবীর কঠিন ইতিহাসে এখন বড় দুঃসময়।

অব্যক্ত প্রেম - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

যে কথাটি পারিনি বলতে আজও যে কথাট ি লালন করেছি মনের মাঝে সে কথাটি আজ বলব তোমায়। শুনবে তুমি? সময় হবে তোমার? জানি তুমি অনেক ব্যস্ত অনেক কাজ, অনেক দায়িত্ব তবুও যদি একটু সময় আমায় দাও। প্রথম দেখার পর পাঁচটি বছর কেটে গেছে অথচ, হয়নি বলা ছোট্ট কথাটি আজ অনেক সাহস বুকে নিয়ে তবে এসেছি; যা কিছু হয়ে যাক, আজ বলব সে কথা- যে কথাটি হৃদয় নীলাচলে চির অম্লান যে কথাটি ব্যক্ত হতে এসে ফিরে চলে যায় ঠোঁটের কোণে জমে থাকে অজানা দ্বিধায়; যে কথাটি বলতে এসে হারাই নিজেকে কাজল আঁখির মায়ায় যে অব্যক্ত কথা নীরবে কাঁদে পরাণে নিশিদিন সে কথাটি আজ বলব তোমায়, শুনবে তো? একি! চললে বুঝি? যাও তবে। ব্দ্ধনিশ্বাসের গরম হাওয়া বায়ুতে মিলিয়ে গেল তুমি চলে গেলে দ্রুত পায়ে আমি আছি তোমার যাত্রাপথে চেয়ে যতদূর চোখ যায়। যতটা সময় কাটালে , আমার সবটা জুড়ে থাকলে বললে না কোনো কথা, শুধ ু শুনলে দু-নয়নে জাগালে অসীম বিস্ময়; আমি খুঁজলাম সেথায় প্রেম। হায়! আফশোস ! আজও হলো না বলা অস্ফুট এক গুচ্ছ শব্দ  " ভালবাসি তোমায়"।

তোমার নীরবতা -পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি

কর্মব্যস্ত শহরে যখনই বৃষ্টি পড়ে… - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কর্মব্যস্ত শহরে যখনই বৃষ্টি পড়ে অলস ভাবনায় তোমাকে মনে পড়ে  মনে পড়ে এক বৃষ্টি ভেজা দিনে আনা  হয়নি  সঙ্গে ছাতা ভিজে গেলো জামা কাপড় আর আমার কবিতার খাতা আঁচলখানি দিয়ে তুমি ভালবেসে মুছে দিলে মাথা  যখনই বৃষ্টি ঝরে মনে পড়ে সেই স্মৃতিকথা বুকে জাগে ব্যথা  কর্মব্যস্ত শহরে যখনই বৃষ্টি পড়ে অলস ভাবনায় তোমাকে মনে পড়ে  মনে পড়ে একদিন একলা পেয়ে খোলা ছাদে তোমাকে হাত দুটি ধরার অপরাধে করেছিলে ভীষণ রাগ তখনি হঠাৎ বৃষ্টি এলো সব রাগ ধুয়ে গেলো রইলো পড়ে শুধু অনুরাগ  তারপর কি যে হলো হঠাৎ ভীষণ ঝড় এলো দুজনের দুটি পথ হয়ে গেলো ভাগ  যখনই বৃষ্টি ঝরে তখনই মনে পড়ে তোমাকে হারানোর সেই কষ্টের দাগ  কর্মব্যস্ত শহরে যখনই বৃষ্টি পড়ে অলস ভাবনায় তোমাকে মনে পড়ে…।।

পাহাড় নদীর প্রেম - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
পাহাড়ের বুকে নদী চলে এঁকে বেঁকে সারাদিন, পাহাড়ও ঠিক প্রেমিকের মতোই নদীকে আগলে রাখে। নদীকে সে একটা বাঁধন দিয়েছে… ভালোবাসার বাঁধন। পাহাড়ের যখন ইচ্ছে হয় নদীর সাথে খুনসুঁটি করে, কখনও কাব্য করে প্রশংসা করে নদীর রূপের, নদীও কুল কুল ধ্বনি দিয়ে পাহাড়কে গান শোনায়। এভাবেই চলছিল পাহাড় নদীর প্রেম, লোকচক্ষুর আড়ালে… তারপর একদিন, বাতাসের কানে এলো ওদের প্রেমের কথা; ক্ষোভে সাথে সাথে একটা ঝড় উঠলো পাহাড়ের চারপাশে। ঝড়ের পর শুরু হল আকাশ ফাটানো বজ্র বৃষ্টি।  না থামা বৃষ্টি - ঝরতে লাগল অঝোরে,  বাঁধন ছিন্ন করে নদী ভেসে চলে যেতে লাগল দূরে, পাহাড়ের থেকে দূরে…আরও দূরে........

ভাল থেকো, আমার ভালবাসা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

আমরা না চাইলেও এই সময়গুলো চলে যাবে... চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হবে, চুলে পাক ধরবে, অনিদ্রায় রাতের ঘুম কমে আসবে, প্রিয়জনদের থেকে পাওয়া কষ্টের তালিকা লম্বা হবে। অনেক বুঝতে শিখবে তখন। অন্যের একটা আচরণের সাথে সাথেই প্রতিবাদ জানাতে ভাল লাগবে না আর। মানুষকে ক্ষমা করে দিলে শান্তি পাবে । তখন, অনেকগুলো দিন পরে তোমার হয়তো মনে হবে, মানুষটা তো খুব বড় কোন অন্যায় করেনি। তাকে ক্ষমা করে দিলেই পারতাম। হয়তো খুব আফশোস হবে তোমার। হয়তো কষ্ট পাবে, লুকিয়ে কাঁদবে তুমি। তাই তখন খুব আশেপাশেই থাকব আমি। ডাক পেলেই ছুটে আসব। সম্পর্ক তো শেষ করতে চাইলেই দেয়া যায়। সব কিছুর পরও----------- একসাথে থাকতে পারাটাই  ভালবাসার যাদু। আমি সেই যাদুর অপেক্ষায় থাকব। সেই লাইনগুলো মনে আছে তোমার? ”যদি আজ বিকেলের ডাকে তার কোনো চিঠি পাই, যদি সে নিজেই এসে থাকে! যদি তার এতকাল পরে মনে হয়, দেরি হোক - কিন্তু যায়নি সময়।”  ভাল থেকো, আমার ভালবাসা।

নদীর ভালোলাগা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

দূরের ঐ রাতের আকাশে কখনো রামধনু ওঠে ,কখনো নীলিমায় যায় ঢেকে। কখনো আবার চাঁদ আর তারারা ভাসে , ঐ আকাশের বুকে। আকাশ ও নদী দুই দিগন্তে দুই জন কেঁদে মরে আমরণ , নদীর ও তো  ইচ্ছে জাগে দূরের আকাশ টাকে ছুঁতে ।  নদীর উপর আকাশের অনুরাগের ছায়া তাইতো আকাশের প্রতি নদীর এতো মায়া । কাছে পাওয়ার চাওয়ায় , নির্ভরতার আশায় , নদীর বুকে যখন পড়ে আকাশের নীল আলো নদীর ও তো লেগেছিলো ভালো …।।

ঝরে যাওয়া ভালবাসা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ভালোবাসা  তুমি ছিলে হৃদয়ের বসন্ত বাতাস আর সেই তুমি আজ  হেমন্তের ঝরা পাতা । হেমন্তের ঝরা পাতা ঝরে যায় বদলে কি সে পায় ? একটু জায়গা পায় কি…… ভালোবাসার নূতন সবুজ পাতায় । ভালোবাসা  বসন্তের কোকিল হয়ে একদিন সুর ছড়িয়েছিল এই হৃদয়ে  , তাইতো আজ হৃদয়ের আঙ্গিনা ভরে আছে তোমারই সুরের ধূলিকণায় । ভালোবাসা তোমারই জন্য … এই হৃদয় হতে বের হয় প্রচণ্ড যন্ত্রণার অজস্র ঘাম , ভালোবাসা তুমি দিলে না এই হৃদয়ের একটুকু দাম ।  ভালোবাসা তোমার মিষ্টি কুয়াশায় হৃদয় নদে তুলেছিলাম পাল , অবহেলায় ছেড়ে দিলে এই হৃদয়তরীর হাল । ভালোবাসা তোমার জন্য …. ঈশ্বরের নিকট করেছি কতো প্রার্থনা করেছি কতো আরাধনা। ভালোবাসা তোমার জন্য ……… এই হৃদয়ে বইতো উষ্ণস্রোত টগবগে রক্ত ধারা । কিন্তু আজ স্থির হয়ে গেছে এই হৃদয়ের চোখের তারা । নিভে গেছে হৃদয়ের প্রদীপ শিখা ।

নদী ও আকাশ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

কখনো সাদা – কখনো কালো মেঘে আকাশেরও বুক  যায় ঢেকে । কখনো আবার রোদেলা সূর্য হাসে , কখনো আবার দুঃখের ঝড় উঠে । যখন আকাশ অঝোর ধারায় কাঁদে, আকাশের বেদনার মেঘগুলো , দুঃখের বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে নদীর বুকে ।  আকাশ দুঃখের বৃষ্টির ধারা ছড়িয়ে দিয়ে তোলে আলোড়ন নদীর বুকে। তাইতো নদী আকাশকে ভালোবেসে বাঁধে নদীর বুকে  । আকাশের ওই কান্নায় …নদীরও বুক ভেসে যায় বন্যায়।  আকাশ তো বোঝে না, নদীও যে আকাশকে ভালোবাসে ।

হারানো চাওয়া - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

হারিয়ে পেয়েছি অনেক -  তবুও হারানোটা একান্ত, কিছু চাওয়া থেকেই যায় অবশিষ্ট জীবনের জন্য। ভুলে গেছি সুখের মায়াজালে কিছু অতীতের স্মৃতি, হাজারো বেদনা লেপটে আছে শরীরের ক্ষত স্থানে। অপ্রাপ্তির যন্ত্রণার দগ্ধ কোলাহলে তৃপ্ত হাহাকার। তবুও হারানো চাওয়া আর বিভীষিকা একত্রে আজও  করে চলেছে গোপন বসবাস। অতীতকে সঙ্গী করেই  চলতে হয়  আগামীদিনে , তবু কিছু না পাওয়া তো থেকেই যায় বাকী জীবনে।

খেলাচ্ছলে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

হয়ত তোমার শহর ভিজবে গ্রীষ্মের রোদে হয়ত তোমার দুপুর ভিজবে পরিশ্রমের ঘামে হয়ত তোমার স্বপ্ন পুড়বে বঞ্চনার ক্ষোভে ভিজলে পুড়লে পাঠিও আমায় সবুজ খামে ভাঁজ খুলে খুলে দেখব তোমার সকল দাগ ঝুল কালি মাখা শহুরে আকাশ জুড়ে ধূসর মেঘেরা কতটা নিয়েছে বাঁক? কতখানি তার ছায়া পড়েছে নিঝুমপুরে? কতটা বিষাদ ছুঁয়েছে রঙ্গীন ডানা? কতখানি রাত গিলে নেয় মিষ্টি জোৎস্নাকে? কতটা বুঝলে, আরো বাকি থাকে জানা? কতটা ঝড়লে বৃষ্টিরা জমে থাকে- চোখের কোণায়, বুকের গহীন খাদে? ভাঁজ খুলে খুলে দেখব অথৈ জলে ডুবে গেলে তুমি- মোহনার ঘূরপাকে ডুবব, ভিজব-  আমিও খেলাচ্ছলে।

বাঁচাও পরিবেশ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ধ্বংসের পথে উদ্ভিদকূল, উজার হচ্ছে বনভূমি উষ্ণ হচ্ছে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে জমি।  হঠাৎ করে অতি বৃষ্টি তারপরেই  আবার খরা প্রয়োজনে বৃষ্টি বাদল দেয় না মোদের ধরা ।  এসব কিছু প্রকৃতির এক অভিমানী খাম-খেয়ালি বটে বৃক্ষ ধরায় কমে গেলে এমনটি রোজ ঘটে ।  না থাকলে গাছ-গাছালি যতটুকু কাম্য, প্রকৃতি হারিয়ে ফেলে তার নিজেরই ভারসাম্য ।  গাছ লাগিয়ে করতে হবে সবুজের সমাবেশ বাঁচবে তবে পরিবেশ আর বাঁচবে আমার দেশ ।

একাকী আমি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

পথচলার জন্য নেই কেউ আমার সঙ্গে ; অগণিত মানুষ চলেছে শহরের পথে কিন্তু আমি একাই পথচলি আমার সঙ্গে। কথা বলারও নেই কেউ আমার সঙ্গে ; সবাই সবার সাথে ঠিক কথা বলছে অথচ আমি আছি নিসঙ্গ একাকীত্বের সঙ্গে । কোন শ্রোতাও নেই আজ আমার এই শহরে ; সবাই শুধু বলার জন্য উন্মুখ থাকে তবুও কেউই শোনেনা কারুর কথা এ শহরে। অগণিত মানুষ থাকে এই শহরে ; রোজ মুখোশের আড়ালে বহুরূপী সাজে আর মানবিকতা চলে গেছে শহর ছেড়ে । সবাই এখানে ব্যস্ত তার নিজের মতো ; ভালোবাসাও আজ কর্পোরেট হয়ে গেছে, তবুও সবাই সোশাল নেটওয়ার্কেই ব্যস ্ত আছে।

অবুঝ হৃদয় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

অবুঝ হৃদয় ………… যেন ভালোবাসার এক নদী আমি চেয়েছিলাম দিতে পাড়ি , ভালোবাসা শুধুই তোকে ভালোবেসে । আমার নোঙ্গর হারা হৃদয় হতে ভালোবাসা তুই ভেসেছিলি হৃদয়ের জোয়ারের স্রোতে । হৃদয়ে জেগেছিলো আবেগ , হৃদয় আকাশের গাঢ় কালো মেঘ দু’চোখে সেটা অশ্রু হয়ে ভাসে হৃদয়ের নীল আকাশে । ভালোবাসা তোর জন্য …দু’চোখ জ্বলেছে মনটাও আমার পুড়ে গেছে ।

মোহিনী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছিপছিপে মাঝারি ধরনের গড়ন, মরাল গ্রীবায় চন্দ্রানন। দুচোখে কামাত্তোজক তীব্র আমন্ত্রণ । অপ্সরা রুপে , সম্মুখে দণ্ডায়মান।  সিক্ত তাহার কেশ রাশি, মস্তক মধ্যে প্রশস্ত সিঁথি, বক্ষের দু-পাশে প্রবল বিস্তারিত কেশ রাশি  অতি যতনে কেশাচ্ছাদিত সৌদামিনীর চূড়া। কপোল তলে রক্ত তিলকে কামনার বিচ্ছুরণ।  রক্তিম ওষ্ঠধরে যেন এক সর্বনাশের আহ্বান, মৃদু ঢেউ খেলানো পলল জমিন। নাভীমূলে প্রসারিত পত্র,লজ্জা হরণের আহ্বানে উন্মত্ত। নিতম্বের ভার বহে যেন গোবাক তরু। পদ প্রান্তে লুণ্ঠিত রাজ শিরস্ত্রাণ। দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অস্থির যুদ্ধের দামামা, মোহনী রূপের শীতল শিহরন, যেন খুনের গন্ধে প্রেমে উন্মত্ত।।