পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নতুন বছরের স্বপ্ন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ফেলে আসা সব ব্যর্থতা, হতাশা, না পাওয়ার গ্লানি, চলুন সবাই মন থেকে ঝেড়ে মুছে ফেলি । সবাই জীবনে নতুন প্রত্যাশার আলো জ্বালাতে, নিজের মতো প্রস্তুতি লই  এই বছরের শুরুতে । বছর শেষে নিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে, নানা জল্পনা-কল্পনা চলেছে মনে মনে। হিসেবের খাতায় হয়তো দেখা দিচ্ছে- কিছু সাফল্য কিছু ব্যর্থতা, জানেন তো, হোঁচট খাওয়ার জায়গাটিই- মানুষে মনে রাখে ভোলেনা। নিজের হোঁচট খাওয়ার জায়গা গুলোকে- তাই বছরের প্রথমে , সংশোধন করে নতুন চিন্তা, নতুন পরিকল্পনা- জরুরি ভাবছি অবশেষে। পরিকল্পনাহীন জীবন হয় এলোমেলো- বিশৃঙ্খল, লক্ষ্যহীন, একসময় সেই জীবন ব্যর্থতা আর বিপর্যয়ের- করাল গ্রাসে হারায় কেনদিন। দীর্ঘদিনের বাধ্যতামূলক একঘেয়ে জীবনযাপনে- হয়তো ক্লান্ত-বিরক্ত হয়ে পড়ছি, জীবনটাকে বড্ড স্বাদ হীন - বিরক্তিকর, ক্লান্তিকর মনে ভাবছি । নতুন বছরে জীবনটাকে- বৈচিত্র্যের ছোঁয়ায়, আনন্দময়, উপভোগ্য, তাৎপর্যময় করে- কি করে তোলা যায়? নিজের সামর্থ্য আর সুযোগকে- আনতে হবে বিবেচনায় , আমরা কেউই অসুন্দর, ব্যর্থ, বিপর্যস্ত জীবন- চাই না ধরাতে । জীবনের সব ক্ষেত্রেই পূর্ণ সফলতা না পেলেও, বেশ ভালো ভাবেই সফল হতে চ...

আমার ভালোবাসা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কে দেবে আমায় একমুঠো বিশ্বাস কে শুনবে আমার বুকের ঘন নিঃশ্বাস ?? তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।। কুয়াশার চাদরে ঢাকা কত চোখের জলে লেখা আমার মনের কত কথা হতাশা, গাঢ় নীল ব্যথা ।। তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।। ডায়রীতে বন্দী এলোমেলো কবিতা প্রেমিকার আঁকা কাঠপেন্সিলের ছবিটা একদিন পাবে ঠিক ছন্দ ভাষা প্রেমিকের বোকা ভালবাসা ।। আমাদের ঠোঁটের কোনে হাসি ছড়িয়ে যাক শত রাশি রাশি, গাঢ় নীল-অন্ধকার ভুবনে ভোর হোক নতুন সূর্যের মিলনে ।। একদিন হাত রেখে তোমার হাতে শুরু হোক পথচলা সাজ-প্রভাতে মুঠো ভরা বিশ্বাস নিয়ে শত আশা আমার প্রেম, আমার পথচলা ।। তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।।

বছর শেষের  প্রাপ্তি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমার শহর ঘোরে আছে  হৃদয় খোলা দরজা দিয়ে কুলকুলে শীতল বাতাস। হনুটুপিখোলা আদরেরা ভাবনার শীত আমার শহরে তুই মানেই ,,,,,সব ঠিক। কফোঁটা  শিশির পড়েছে গতরাতে,পড়ছে বছর শেষের ব্যস্ততা তুই দাঁড়িয়ে আছিস প্রতীক্ষায়  ,কিন্তু শহর ব্যস্ত।  মেঘেদের ঝলমলে  ডানা,স্বাধীন আকাশ খালি শহরের বুকে হেঁটে চলা হাজারো পায়ের ছাপ। আজ শহরও তোর মতো ক্লান্ত এখানে বছর শেষটা একটা অভ্যেস ,অভ্যেসটা বেঁচে থাকা। মাঝে মাঝে একটা জেদ কাজ করে শহরের খুলে বয়ে চলা বিষন্ন বায়ুঘর আমার হৃদয়। ভাঙতে ইচ্ছে করে ,গড়তে ইচ্ছে করে হৃদয়ের সেলফি তোলা মুহূর্তদের জড়িয়ে বাঁচা। হৃদয়ের ফটোল্যাবে রাখা আছে রিটর্ট আর্দ্রতা ধরবো বলে,সেলফি পাঠাস  সময়। সেলফি পাঠানো  তুই আমার হৃদয় বারান্দায় এলেমেলো  শীতল বাতাস ছুঁয়ে যাওয়া।  আমার শহর ঘোরে আছে  অতিমারীর চাপে বছর শেষের লুকোনো  দুঃখ সাদা দাঁড়িওয়ালা সান্টা। আলোয় ঝলমলে বছর শেষের  শুভেচ্ছা  তুই ভালো থাকিস ,ভালো থাকুক শহর জোড়া কবিতারা। বেশ কিছু অগোছালো সময়ের ক্যানভাস বছরের শেষ দিনে, অপেক্ষা শুভ হোক আগামী।

শেষ না শুরু? - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দিনের শেষে  আমার  স্বপ্নের চাষ শুরু হয়। উজ্জ্বল রবির আভা যখন মিইয়ে যায়, গোঁধুলীর শুরুতে ঝাপসা বীজের বীজতলা বসে; আলোর শেষ যে বিন্দুতে , অন্ধকার তো শুরুই হয় এখানে!  হতাশার বানে যখন স্বপ্ন গুলো থৈ থৈ- আমি ঘুরে  দাঁড়াই আবার স্বপ্নচারী হবো বলে। হোক না একটা স্বপ্ন চুরমার, ভাঙুক না হাজার টা; আমি তো করি স্বপ্নচাষ । যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু স্বপ্নখেলা। স্বপ্নের শেষ সইবো না,শেষেই শুরু। শেষেই শুরু অথবা শুরুতেই শেষ।

মাঝি মাল্লার গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কত যে অন্ধকার পেরিয়ে  সকাল হলো জানি না, দূরে বনে কাঁপছে সবুজ পাতা। দুয়ারে তোমার সাত সমুদ্রের ঢেউ এনেছে ফেনা। তুমি জাগলে না? তবু, তুমি জাগলে না? সাত সমুদ্রের মাঝি, চেয়ে দেখো দুয়ারে দাঁড়ায়ে জাহাজ, অচল ছবি সে, ছবি হয়ে দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ। হালে পানি নাই, পাল তার ওড়ে নাকো, হে নাবিক, তুমি মিনতি আমার রাখো; তুমি ওঠে এসো, তুমি ওঠে এসো মাঝি মাল্লার দলে দেখবে তোমার নাও আবার ভেসেছে সাগর জলে, নীল সমুদ্রের যেন সে পূর্ণিমার চাঁদ মেঘমালা কেটে কেটে চলে ভাঙে নিষেধের  বাঁধ। তুমি জাগো, কখন সকাল ঝরেছে  হাসনুহানা  এখনো তোমার ঘুম ভাঙলো না? তুমি জাগলে না? দুয়ারে কোনও গর্জন শোনো নাকি? কত অসংখ্য ক্ষুধিতের সেথা ভিড়, হে মাঝি, তোমার বসতি ছড়াও,  নইলে যে-সব ভেঙে হবে চৌচির। দেখছ না, এরা চলে কোন আলেয়ার পিছে পিছে? চলে ক্রমাগত লক্ষ্য ছেড়ে আরও নিচে! মাঝি, তোমার তারা নেভেনি একথা জানো তুমি, তোমার চাঁদনি রাতের স্বপ্ন দেখেছে এ মরুভূমি, দেখো জমা হলো কত প্রাণ তোমার দিগন্তে ; কেন তুমি ভয় পাও, কেন কাঁপো অজ্ঞাত ভয়ে ! তোমার জাহাজ হয়েছে কি অচল, মেঘ কি তোমার তারাকে করে আড়াল? তাই কি অচল জাহাজ ভাঙা হ...

প্রিয় ম্যাগাজিন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বহু সহস্র জীবনের পাণ্ডু্লিপি থেকে তুলে আনি সর্বশেষ- একটা ভয়ংকর গল্প কিংবা প্রেমের কবিতাগুচ্ছ! প্রচ্ছদে আঁকা গাঁয়ের সাধারণ রমণী; খেয়াঘাট,নৌকার গলুই। রং ঢালি প্রচ্ছদে; হলদে শাড়ীর আভায়- রমণীর গা বেয়ে সোনা ঝরে, ধোঁয়াশা খেয়াঘাট,কালচে নৌকো, গলুইটা মেটে বুঝি। আকাশে  এঁকে দিই রামধনু, জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রচ্ছদ! ওই দিকে জীবনের কানাকানি শুনি- সমতল উপত্যকায়  ধাপে ধাপে পাহাড়ের গায়; দিনগোনে প্রতীক্ষায় জীবন সাময়িকীর। কবিতায় গল্পে লেগে থাকে জীবনের প্রাকৃতিক আভা- অক্ষরে অক্ষরে, চরণে চরণে। নৈসর্গিক বৈকালে সবুজের মখমলে বৃক্ষ-গুল্ম-লতা জীবনের সমস্ত প্রতীক হাতে পায়; একটা প্রিয় ম্যাগাজিন!

বড়দিন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বড়দিন বড় নয় সময়ের হিসাবে , বড় নয় সে যে শুধু উৎসব-মিছিলে । মানুষের রূপে আজ এসেছেন ঈশ্বর, বড় তিনি, আজ তাই নতজানু বিশ্ব! এই দিন বড় তাঁর আবির্ভাবের পরশে, যত আছে ক্ষুদ্রতা, হোক আজ বড় সে! ছোট মন বড় হোক, হোক আজ সে মুক্ত ঈর্ষা করা আজ মানুষ ছাড়ুক তো। দেখবে না দোষ কারো, ধরবে না খুঁত-ও সে, বহুদিন ছোট আছে, আজ বড় হোক দ্রুত সে! জ্ঞানের পরিধি যেন বৃদ্ধি পায় নিত‍্য, বড় হোক চিন্তা ও ভাবনার বৃত্ত।  বড় মাপের হৃদয়  আজ বড় কাম‍্য, বড় হোক সম্প্রীতি, শান্তি ও সাম‍্য। বড় হোক যুক্তির তরবারি-ফলাটি, অন‍্যায়ে বেড়ে উঠুক প্রতিবাদী গলাটি। শোষণ ও অপরাধে গ্রামে আর শহরে মিছিল ও জমায়েত বেড়ে উঠুক বহরে। বড় হোক প্রতিরোধ শোষণ ও দখলের- বড়দিন আজ ভাই বড় হোক সকলের!

ক্যাফেটরিয়া - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কথা বলতে বলতে কথা হারিয়ে ফেলছি কাকে দোষ দেবো? নিজেকে। প্রতিটা ক্ষয়ের পর আকাশ থেকে নেমে আসে বৃষ্টি বুকের মাঝে। তখন বলার কিছু থাকে না বলাগুলো আনমনে চুপিচুপি বকে যায়।  তোকে বৃষ্টি বলে ডেকেছিলাম ভেতরের সর্পিল সরু রাস্তা ধরে অলিগলি ক্যাফেটরিয়া। আজকাল ভাবলে হাসি পায় জানলার কাঁচে আদর আর  মুখরোচক শীতল  কফি। আমার ঠোঁটে সিগারেটের পোড়া দাগ তোর বুক পুড়িয়েছিলাম। পুড়ে গেছিলাম নিজে আরো একলা হয়ে কোনঠাসা বিড়াল আর ম্যাও করে লাফ মেরেছিলাম তোর বুকে। দোষ ,গুণ সব একলা থাক কবিতার পাতা জুড়ে আবার বৃষ্টি নামুক আমি ডুবে যাই একই ভাবে তোর কপালের কালো টিপে।  সত্যি বলতে বলতে মিথ্যা বলার অভ্যাস করাটা কিছুটা অহংকারের মত। নিজের বুকের ভিতরে অনবরত সম্ভাবনার শুক সারি বসে ওদেরকে কে কেউ  আলাদা করে রাখে না, আসলে রাখতে চায় না। তোকে একটা নাম দেব ভাবছি চলন্তিকা মনের আগুনের কাছে প্রিয় নারীর কোনো পরিচয় দরকার। দরকার অনর্গল বয়ে চলা মেঘ ,বৃষ্টির খেলার আজ বিকেলটা ঠিক তোর মত হোক ক্লান্ত ,অবসন্ন কোন খেই হারানো খেলা।  কথা বলতে বলতে বারংবার কথা হারানো উপন্যাসের শেষ পাতাটা খোলা পরে আছে টেবিলের উপর। প্রতিটা যত্...

সারপ্রাইজ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
তোমাকে না জানিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে চলেছি আজ। প্রিয় মুহুর্তটি আরো প্রিয় করে তুলতে সারপ্রাইজের বাহারি চমকে। আজ তোমার জন্মদিন। আমার প্রিয় মুহুর্ত।  অনেক কেতা দুরস্ত  সাজে বের হয়েছি আমি। চোখে সানগ্লাস, চুল স্পাইক করা। ঈগল'র চেক শার্ট আর সেলিও'র নীলাভ ন্যারো ডেনিম পরনে। পায়ে এডিডাস'র শাদা কনভার্স সু। বন্ধু-বান্ধবের কাছে খুব প্রশংসা পেয়ে মনে সাহসের ঝড় উঠেছে। অজানা শিহরন তো রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছেই।  যেতে যেতে কতো কথা সাজিয়েছি। কথার মালায় কতো কৌতুক গেঁথেছি তোমাকে একটু হাসাবো বলে। তোমরা হাস্যরস পছন্দ করো কি না তাই! পৃথিবীটা হঠাৎ রোমান্টিক মনে হচ্ছিলো আমার কাছে। যেদিকে তাকাই শুধু খুশি আর খুশি! দুঃখ বলতে আমার ডিকশনারিতে সেই সময় কোন শব্দ চোখে পড়ছিলো না। ভালোবাসা এতো দ্রুত জীবনকে বদলে দেবে কখনো কল্পনাও করি নি। অথচ দুদিন আগেও আমি ছিলাম অসংস্কৃত । মানুষের সাথে মিশতে পারতাম না। কথা বলতে জানতাম না। চরম এক অস্বস্তি কাজ করতো ভেতরে। গুটিয়ে চলার স্বভাবটা তো জন্ম সূত্রেই হাসিল করেছি। গুন বলতে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার অভ্যেসটাই ছিলো। সামাজিকতা খুব বিষের মতো লাগতো। খাঁটি বাংলায় গেঁয়ো বলত...

তোমার আমার ভালো লাগা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
জানা অথবা অজানা কারনে যখন ডাকো আমার নাম ধরে । ভাল লাগে আমার ভাল লাগে ।। ঝড়ের রাতে অথবা ভয়ঙ্কর বজ্রপাতে ভয়ে যখন জড়িয়ে ধরে রাখ আমাকে । ভাল লাগে আমার ভাল লাগে ।। যখন হাড়কাঁপানো শীতের রাতে উষ্ণতা খোঁজ আমার বুকে ভাল লাগে আমার ভাল লাগে তোমাকে উষ্ণতা দিতে ।। প্রেমহীনতায় অথবা ভালোবাসায় যখন এই হাত ধরে রাখ- কোন কিছু পাবার আশায় ! ভাল লাগে আমার ভাল লাগে ।। যখন কোন আরশোলা দেখে ভয়ে চিৎকার করে ডাকো আমাকে ভাল লাগে আমার ভাল লাগে ।। ঘুমের মাঝে অথবা মধ্যরাতে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে চমকে উঠে যখন শুধু আমাকেই খোঁজো । ভাল লাগে আমার ভাল লাগে ।। দুঃখ অথবা অসহনীয় বেদনাতে যখন তোমার দু’টি চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা ঝরে ঝরে পড়ে । ভাল লাগে আমার ভাল লাগে তোমার চোখের জল মুছে দিতে ।। ভাল লাগে তোমার ভাল লাগা দুজনের পথ এক করে পথ চলা । ভাল লাগে তোমার ভালবাসা ভাল লাগে দুজনের একসাথে বাঁচা ।।

ভরসার হাত রবি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এখন বড় দুঃসময়  অজানা শত্রুর হুঙ্কার  দিকে দিকে হতাশার জয়গান  অসহায় মানস প্রতিমা  সঙ্কট আবর্তে প্রিয় জন্মভূমি  তবু আছে ভরসার হাত  আছে জানি গীতবিতান।  মননে আশ্বাস গীতাঞ্জলির  কালবোশেখীর মহা তান্ডব  থামবে খুব শীঘ্রই হয়তো  নিষ্কলুষ মুক্তধারায়  ভেসে যাবে ভাবনার জঞ্জাল  শুষ্ক তৃণের মতো ... শুধু তুমি পথ দেখিও প্রিয়  নতুন প্রভাতে   ছড়িয়ে দিতে মুঠো মুঠো  উজ্জীবনী শক্তির প্রাণরশ্মি ...

মায়ের হাতের রান্না - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমি ভোজনপ্রিয় নই তবে বাঁচার জন্য খেতে তো হয় তাই প্রাণভরে খাওয়া বলতে  তখন আমার মায়ের হাতের রান্না এখন মা নেই তাই বউয়ের হাতের রান্না তৃপ্তি ভরে খাই।  এর বাইরে কাজে থাকার সময়, নেমতন্ন বাড়ি, কুটুম বাড়ি এবং হোটেল রেস্টুরেন্টে খেতে হয়েছে এখনও খেতে হয় কিন্তু তৃপ্তি করে খাওয়া বলতে আমার মায়ের হাতের আর আমার বউয়ের হাতের রান্না।  এই খাওয়া যে যত বেশি খেয়েছে সেইই পেয়েছে মায়ের মত এই পৃথিবীর অসীম সুখ অপার আনন্দ আর আন্তরিক অনন্ত হৃদয়।

বাসনা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
জীবনের খাতা  থেকে দু’টো পাতা মুছে যাক….. হিংসার আর অবহেলার।  দিন শেষ হতে হতে যেটুকু নতুন রূপ ভালোবাসাকে দিই…. সেটুকুই তো জীবন। আবার নতুন করে বাঁচার রসদও বটে। এই এলোমেলো সুখ গোছাবো বলে… যতো ব্যস্ত রাখি স্বার্থপরের মত নিজেকে…. ততোটাই অগোছালো হয়ে জীবন আজ স্বপ্ন নদী l স্বপ্নের ঢেউ তুলে বয়ে যায়… ভবিষ্যতের পথে।  একটা আলোকময় পৃথিবীর স্বপ্ন আমি আজও দেখি, কবে এ আঁধার কাটবে বলে দাও তুমি।  বিলাসিতায় মজেছে আজ অট্টালিকা, তাদের সুখ রাখার বিন্দুমাত্র স্থান নেই,, আর যাদের স্বপ্ন অন্ন, আমি তাদের কথা বলছি ….. বড় ক্লান্ত আমি আজ।  তুমি বলেছিলে লুকিয়ে কাঁদতে, সবার সামনে হাসতে, অশ্রু তা শুধু আমার, সম্পদ আমার শুধু। আমার সুখগুলো তোমাদের সবাইকে দেবো। ওরা আড়ালে কাঁদতে জানে না…. ক্ষুধার্ত শিশু হাউ মাউ করে কাঁদে, ক্ষুধার্তদের কান্না তুমি দেখেছ?  এক আকাশ অশ্রু পান করেও তো তাদের তৃষ্ণা মেটে না আজ, ….. আরো কতো আঘাত  দিলে তারা সুখী হবে বলতে পারো?  আজ আমরা উন্নত হয়েছি, পৃথিবীটা নাকি হাতের মুঠোয়….. অথচ ওদের হাতের মুঠোতেই অন্নের অভাব l  অশ্রুর কোনো শক্তি নেই জানো.. সে পারেনা ...

আমার ভাবনা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
হাসি খুশি জীবনটা হারিয়ে গিয়েছে সেই কবে তারিখটা সঠিক নেই মনে ..!! এখনও হাসি হয়তো একটু বেশি হাসি---- তবে মনের সাথে আড়ি ,, প্রিয় মানুষ গুলো কে ভীষণ রকম মনে করি, নিজের অজান্তে মনের কথার  স্তুপ জমিয়ে আশায় বুক  বাঁধি , ভাবি ও বা ওরা ফিরে এলে জমানো কথা গুলো বর্ষা হয়ে ঝরি...!! আমার আশা আর ভাবনা হেমন্তের ঝরা পাতার মতই অবিরাম ঝরে পড়ে..!! আমি আমার চোখ দিয়ে দেখি আমার পৃথিবী আর ভাবি,, ভাবনার আর বাস্তবতায় ব্যাপক ব্যবধান,, কোথাও  মিল নেই তিল পরিমান,, ওরা ভালো আছে..!! ও ভালো আছে..! সবাই সবার জগৎ সাজিয়েছে নতুন আকাশে-- ভালো থাকিস তুই,, ভালো থাকিস তোরা.! তোদের ভুবনে আর আমার হবেনা আনাগোনা....

ভয়ঙ্কর সুন্দর - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমি রূপসী বাংলার কবি  নই যে- আমার বনলতাকে নিয়ে কবিতা লিখব। আমি বিশ্বকবি কিংবা বিদ্রোহীও নই যে- আমার প্রিয়াকে নিয়ে গান লিখব। আমি সাধারণ একজন মানুষ, তাইতো আমি- খুব সাধারণ ভাবে অতি সাধারণ ভাষায় মাথার চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকা মনের অসাধারণ অনুভূতি গুলো- ব্যক্ত করতে বড় ভালবাসি।  আমার প্রিয়া- আমার বনলতা- অসম্ভব সুন্দরের আবেশে, ভয়ঙ্কর ভালোলাগার বাঁধনে, আমাকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে- জড়িয়ে রাখে দিবা-রাতে। স্বপ্ন-কল্পনা মিশিয়ে আমার দিকে দুষ্টু দুষ্টু চোখে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসে। অপূর্ব মায়াময় সে চাহনি, হৃদয়ের গভীরে- মনের মন্দিরে- এ যেন পূর্ণিমা চাঁদের এক টুকরো উজ্জ্বল আলোক ছটা।  সুশীতল সে চাহনিতে, যেন লুকিয়ে আছে সব ভালবাসা। ওটা যেন ক্ষণে ক্ষণে- আমার বুকের ভিতরের হৃদয়টাকে  পরখ করে দেখে। আমি ভেবে পাই না- ঐ চাহনির মাঝে এ কেমন অনুভূতি। অদ্ভুত! সুন্দর- ভয়ঙ্কর সুন্দর। কিংবা তার চেয়েও বেশি।

বিকেলের চা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এক পেয়ালা চা বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের সাথে। নেশা কমে যায় ঠিক দিনের শেষ হওয়া আলো আর প্রতি রাতে। দিন প্রতিদিন বাড়তে থাকা সময় বিস্তারে  হাতে খালি চায়ের কাপ আর  উষ্ণতা লেগে জিভে।  এই ভেবে জিভের সাথে ছাঁকনি ছাঁকা চেনা অভ্যেস  অতি প্রিয় গোধূলির আলো। প্রিয় যদি পরিচিত হয় সেটা নেশা আর অপরিচিত নেশা মানুষের ভালোবাসা। জান তো এক পেয়ালা চায়ে শুধু তোমাকে চাই । আর তারপর প্রতিদিন নিয়মিত অভ্যেস এক পেয়ালা চা। আর সেই বিকেলে ইচ্ছেদের মিল মেলা ভার যদিও ঠোঁটে আমার অভ্যেস দিনশেষের ঠোঁট।  এক পেয়ালা চা আরেকটু পরে সূর্যের দরকার পরে চার দেওয়ালে। চারিদিকে ছুটন্ত জোনাকিরা সূর্য নয় আর চা শুধু গরম নয় যদি প্রিয় গন্ধি হয়। নিশ্চিন্তে লেগে যায় ঠোঁট বাঃ , উফ এক পেয়ালা গরম চা। 

আলোকের এই ঝর্ণাধারায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
নজর ফুটন্ত ভাতের  হাঁড়িতে প্রতিটা সময় নানা ধরনের কথা বলে অবিশ্রান্ত। চোখ চেনে ,মন চেনে  আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও।  অনন্ত ধারার মতো কিছু একটা  সময়ে কুমারী থেকে বিবাহিত হয়ে ভাষা বদলালো না । সিঁদুরে ঢিল বেঁধে দশমীর বোধন হাতের শাঁখাতে লুকোনো প্রহসন সামাজিকতা। বুক জ্বলছে ,নিশ্বাসে আগুন বইছে  চাল বাছাই করা  কুমারী হাতের মতো নিমন্ত্রণ। বৃষ্টি পড়ছে, মন মাতাল প্রজাপতি আকাশের গায়ে গিয়ে বসলো। পাগলটা হেসে উঠলো নিজের রসিকতাতে , ঘরেতে তোমার ম ম করছে ভাতের গন্ধ। কোনো এক অপেক্ষমান নীরবতা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ঘোমটা ঢেকে অবিশ্রান্ত দর কষাকষি। ধ্যান ভেঙে গেলে ঈশ্বরের শব্দ পড়ে নেয় সময় , তারপর ক্যামেরা চলছে, ভাতের হাঁড়ির মাড় গড়িয়ে নামছে গভীর আগুনে , চোখে তখন লাগলো ধাঁধা ,হাত পুড়ে গেলো আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও ॥

হারিয়ে যাওয়া শৈশবস্মৃতি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
একলা বসে  হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে খুঁজি মধুর স্মৃতির সোনালি দিন, যা ছিল মোর রোজই। কোথায় গেল সেই ডাংগুলি আর কানামাছি খেলা মাঠের পরে গোল্লাছুটে কাটত যখন দুপুর বেলা। কোথায় গেল খেলার আসর হইহুল্লোড়ে থাকা ইস্কুলেতে পড়ার ফাঁকে নানান মজার ছবি আঁকা। বিকেল হলে খেলার মাঠে ফুটবল খেলা হতো শুয়ে রাতে ঠাকুমার মুখে গল্প শুনতাম কত। বর্ষা এলে শাপলা–শালুক অনেক হতো তোলা মনে পড়ে ভীষণ রকম ডিঙি নৌকার দোলা। কদম ফুলের সুগন্ধ মাখতে চড়তাম উঁচু ডালে, জল নিয়ে খেলে বেড়াতাম নদী নালা খালে। কোথায় গেল লাটাই আর নীল আকাশের ঘুড়ি ইচ্ছেডানায় পাখি হয়ে উড়ে যেতাম স্বপ্নপুরী। পাখির বাসা ভাঙার ছলে গাছে হতো চড়া দুরন্ত এই শৈশবস্মৃতি ভাবলে হই মনমরা।

মেয়েবেলা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মনে  ভীষণ গর্ব আমার কারণ আমি মেয়ে  সকল বাধা দূরে ঠেলে আমি পারি যেতে  এগিয়ে ঘরে ফসল তুলতে আমি হাতে কাস্তে ধরি  শরতকালে নিজের হাতে মায়ের মূর্তি গড়ি  মিড ডে মিলে আছি যেমন,তেমন আছি সংগ্রামে  আমার রক্তে সংগ্রামী ঢেউ, বুক ভিজে যায় ঘামে  কবিতা আমি পড়ি  যেমন, অঙ্ক কষি খাতায় পাথর ভেঙে টুকরো করি, মোট বয়েনি মাথায়  চায়ের  বাগানে খিদের সঙ্গে করি লড়াই, ভিড় বাসে ট্রামে পাল্লা দিয়ে রোজ অফিস যাই  আমি সন্তান প্রসব করি  অসহ ব্যথা সয়ে  অশুভশক্তি বিনাশ করি সংহারিনী হয়ে  ৱ্যাম্পে আমি হাঁটি যেমন, ক্যাম্পে জাগি রাত  অভুক্তমুখে  তুলে দিতে পারি গরম ভাত  অধিকার রক্ষার জন্য আমি মিছিলে মেলাই পা  সন্তানের কান্না মোছাতে পারি আমি যে স্নেহময়ী মা  কখনো আবার সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করি  দুষ্কৃতীদের শাস্তি দিতে প্রকাশিত হই ছদ্মবেশে  সিনেমাজগৎ , গানের আসর, কর্পোরেট অফিসে  আমি জাগ্রত ঊষর মরুতে, নতুন ধানের শিষে  ঝড়ের রাতে সাহস জোগাই, তপ্ত দুপুরে হাঁটি  প্রয়োজনে আমি সকল দুঃখ বুকে চেপে দিন ক...

তুমি যে আমার - ২য় পর্ব : পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
১ম পর্বের পর - হ্যাঁ, সত্যি বোধ হয় একেই প্রেম বলে। বড্ড মিষ্টি এই অনুভূতি, আগে  কোনদিন এমন তো হয়নি। কখন রাতের ঘুমপরী চোখের পাতায় পালক বোলাল, আর বুঝতে  পারিনি। সূর্যর জন্মদিনটা এসেই গেল, কোনদিন আমাদের বাড়ি সেভাবে ঘটা করে কারওরই  জন্মদিন পালন হয় না। বিয়ের পর প্রথম জন্মদিন ওর, তাই স্বাভাবিক ভাবেই  আমি উত্তেজিত । ও আমার ভীষণ ভাল বন্ধু এখন, যার সাথে মনের কথাগুলো নির্দ্বিধায় বলা  যায়। আজ ওকে নিজের মনের কথাটা বলবো ঠিক করেছি। ওর ব্যক্তিত্ব, ওর রুচি,  শিক্ষা এসবকিছুর জন্য ওকে ভাল না বেসে, শ্রদ্ধা না করে থাকতে পারিনি।প্রেম  আমার জীবনে কোনদিনই আসেনি সেভাবে, তাই জীবনের প্রথম এই প্রেমটা আমায়  ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল দূর দিগন্তের স্বপ্নের নীল সীমানায়। বাড়ির বাগানের এদিকটায় তেমন আসাই হয় না। আজ দিনটাও এত সুন্দর, মেঘলা, খুব ইচ্ছে হলো যাই । এদিকটায় অনেক কয়েকটা ফুল গাছ আছে, আপন মনে সুগন্ধ ছড়ায়  তারা, আজ বড়ো ইচ্ছে হলো ফুল দিয়ে ঘরটা ভরিয়ে তোলার। ************** রজনী গন্ধা, জুঁই, গোলাপ আর তার সাথে আকাশের কালো মেঘের ঘনঘটায় সেজেছে  আজ আমার ঘরটা...

তুমি যে আমার - ১ম পর্ব : পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বাংলার মেয়েদের দেখা শোনা করে বিয়েতে একটা চাপ থেকেই যায়, সেটা হল একটা সম্পূর্ণ অচেনা মানুষকে আপন করে নেবার। প্রেমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্য রকম, এত দিনের মেলা মেশায় লোকটা যে মেয়েটির সবচেয়ে আপনার সে একদম একটা পড়ে ফেলা বইয়ের মত। এসব ভাবতে ভাবতে হাতের গাছকৌটো, শাড়ির আঁচল আর মনের অনেকটা দ্বন্দ্ব সামলে যখন কনের  সাজে বসলাম, তখন সন্ধ্যে নামছে। নতুন শাড়ী, গয়না, কত উপহার, কত লোকজন,  হইহই, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু আমি, এটা দেখে মনে মনে যে আনন্দ হচ্ছিল না,  সেটা বলা ভুল। কিন্তু অনেক আনন্দের মাঝেও একটা ভীষণ রকম অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ  করছিল। কারন একটাই, যে মানুষটার সাথে সারাজীবন কাটাতে যাচ্ছি, তাকে তো  সেভাবে চিনিই না। ************** আমি রমা, ভবানীপুরের ঘোষ বাড়ির সবথেকে ছোট সদস্য। বাড়ির  পরম্পরা মেনে দাদুর সামনে নিজের পছন্দকে আর দাঁড় করানোর সাহস জোটাতে  পারিনি। তাই, প্রেম, ভালোবাসা, এসব কী তা কিছুই বুঝিনি। গ্র্যাজুয়েশন পাশ  করতে না করতেই বিয়ের সম্বন্ধ দেখা শুরু। নাহ, বাড়ির কাউকে বলতে পারিনি,  আমি এখন বিয়ে করতে চাই না, আমার জীবনটাকে আমি আমার মতো করে বা...

চাহিদার ভিড়ে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মনের চাহিদারা চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে, চোখের স্বপ্ন যেন নেশার সৃষ্টি করে , অবিন্যস্ত লেখনী খোঁজে – শ্রাবনের মেঘ,হেমন্তের স্বর্ণালী আকাশ,পাতাঝরা শীতের রঙীন গোধূলি,। মনের চাহিদার ভিড় ফুঁড়ে মনের আগুন ছোটে – নিঃস্ব বাউলের পিছে, কল্পনার সুরে বাঁধে মানসীর বেণী। চাহিদার ভিড় হতে চুপে চুপে কাব‍্য আসে- অন্ধকার রাত পার করে  জোছনার হাত ধরে ভাবনালোকিত প্রতিভার দ্বারে। পড়ন্ত বেলায় নুয়ে পড়া চাহিদার ভিড় ছিঁড়ে বিকেলের রোদ- নিরাশার ঝাপটায় হলুদ পাতায় পড়ে মহাচেতনার পথ নির্দেশ করে।

প্রথম  চিঠি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
পত্রের শুরুতে গ্রহণ কোরো  শুভেচ্ছার লাল গোলাপ ফুল। ভালোবাসা দিয়ে ক্ষমা কোরো তুমি আমার পত্রের সকল ভুল।  তুমি আমার প্রথম প্রেম, প্রথম ভালবাসা। এক সাথে কাটাবো সারা জীবন এই আমার মনের আশা।  জানিনা প্রেম কাকে বলে শুধু এই টুকু  পারি বলতে। বাঁচতে পারবনা আমি কখন তোমাকে ছেড়ে ।  তোমার চোখের দিকে তাকালে কথা হারিয়ে কাঁপে দুরু দুরু বুক। তবুও তোমাকে ভালবেসে পাইযে আমি মনে সুখ।  তুমি আমার প্রথম প্রেম প্রথম ভালবাসা। তুমি আমার জীবনে বাঁচার একমাত্র  আশা।  আমার এই ভালবাসায় নেই কোন শঠতা বা ভুল। আমার এই মন যেন একটা  নিস্পাপ গোলাপ ফুল।  উত্তর দিয়ো আমায় তুমি রহিলাম তারই আশায়। তোমার ভালবাসার পত্র লিখো তোমার মনের ভাষায়। সারা জীবন রাখবো মনে আমার প্রেমের স্মৃতি। আর বেশী লিখবোনা এই দিলাম ইতি।

ছদ্মবেশী সময় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সব বাঁধন গুলো পুড়ে ছাই হচ্ছে কখনও কোনো কোনো অন্যায় আবদার বার বার হৃদয়ের দরজায় আঘাত করে, ঝাঁঝরা করছে –, টুকরো হচ্ছে –, শিরা উপশিরা ধমনী , ফিনকি দিয়ে বেরুচ্ছে রক্ত।  এখন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া হৃদয়ের টুকরো গুলোকে জড়ো করি ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোর মতো, দেখি অন্য এক পৃথিবীর আবছা আলো আশ্চর্য এক জ্যোতিকে জাগিয়ে তুলছে প্রতিটি টুকরো।  ছদ্মবেশকে ভয় পেয়ে হই এক কঠিন বর্ম।

মনে রেখো তাকে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সঙ্গে নিয়েছি সব, জমা ছিল যত পুরনো স্মৃতির দিন আর বেদনার ক্ষত পিছুটান পিছনে ফেলে সীমানা ছাড়াই তবু যেতে যেতে কেন যেন থমকে দাঁড়াই।  উড়িয়ে দিয়েছি ঘুড়ি সুতোটুকু কেটে পুড়িয়ে দিয়েছি চিঠি যা ছিল জমা বুক পকেটে এখন পথিক হয়ে পথের দিকে পা বাড়াই তবু যেতে যেতে কেন যেন থমকে দাঁড়াই।  আয়নায় জেগেছিল হরিণীর মত কাজল দু চোখ আয়নার গায়ে লেগেছিল লাল টিপ - স্মৃতির সূচক সেই আয়নার  সব ভেঙ্গে কাচ দু পায়ে মাড়াই তবু যেতে যেতে কেন থমকে দাঁড়াই।  মনে রেখো, তোমার ছিল কেউ কাছে দূরের তারার মতো, আরো দূরে গিয়ে, এখনো সে আছে।  মনে রেখো, তোমার ছিল কেউ পাশে অন্ধ মায়ার মতো, মেঘ হয়ে,দূরের আকাশে।  মনে রেখো, অতি দহনের দিনেও যে ছায়া হয়ে থাকে ছুঁয়ে দিও তাকে। যে হয়েছিল ভোর, অথৈ আদর, নামহীন নদী, একা লাগে যদি  মনে রেখো তাকে।

ক্ষনিকের ভালোলাগা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী

ছবি
সপ্তাহের মাঝামাঝি একটি কর্মব্যস্ত দিন, সকাল হবার পর থেকে কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যাচ্ছে সকলের। কোনোমতে কিছু নাকে মুখে গুঁজে অফিসের পথে বাংলা সমাজের বৃহৎ অংশ। বাস ট্রামের লড়াই শেষ করে অফিস পৌঁছনো।  সকাল ১১টা।অফিসে তখন সবাই যে যার কাজ নিয়ে ব‍্যস্ত। অফিসের বস তিমির চ‍্যাটার্জী, ওনার ব্যক্তিগত সহকারী মলিনাকে তলব করলেন। মলিনা তাড়াতাড়ি চলে গেলেন বসের কেবিনে।  - আমাকে ডেকেছেন স‍্যার? ও হ্যাঁ মলি ,গতকাল তোমাকে একটা দরকারি ফাইল দিয়েছিলাম, ওটা আমার এখনি দরকার। - ও কে স্যার,আমি আনছি।  মলি মানে মলিনা মজুমদার, ফাইল টা এনে স্যারকে দিলো। বললো স্যার এটা তো? তিমির ফাইল টা খুলে দেখলো, বললো হ্যাঁ হ্যাঁ এটাই। মলিনা বললো আমি তাহলে আসি স্যার । - না তুমি বসো আমার কিছু কথা আছে। বলুন স্যার , তুমি কাল খুব ভোরে আমার সাথে যাবে? কোথায় স্যার ? আমি আগামীকাল নতুন প্রোজেক্ট এর ব‍্যাপারে রায়পুর যাবো।তুমিও যাবে আমার সাথে। ইতস্তত করে মলিনা বললো, স্যার,আমি বাইরে কখনও অফিসের কাজে যাইনি এবং রাত ও কাটাই নি।বুঝতে তো পারছেন, সাধারণ পরিবারের মেয়ে,বাবা মা এগুলো পছন্দ করেন না। তাই ক্ষমা প্রার্থনা করছি স্যার । তুমি কি বল...