পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জীবনযুদ্ধ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মোবাইল ফোনের অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে খুব ভোরে আধো অন্ধকার আকাশটা তাকিয়ে থাকে হা করে ; তখনও ক্লান্তি থাকে কোষ গুলো দখল করে তবুও শ্রমজীবী জীবিকার তাগিদে বিছানা ছাড়ে ।  ঘুম  চোখে মাথা গুঁজে হেঁটে চলে ওরা সবাই প্রত্যেকে ওরা জীবন যোদ্ধা ; করছে শুধু লড়াই ; ফোরম্যানের কর্কশ গালি তবুও করে যায় সেলাই ওরাই আঁধারে আলো জ্বালানোর সুপ্ত দেয়াশলাই ।  ফেরার পথে কষ্টের বংশকে অভিশাপ দিয়ে ঘরে ফেরা আর সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্লান্ত শরীরটাকে চাঙা করা ; এ যেনো ওদের দৈনন্দিন জীবনেরই সাথে বোঝা পড়া তবুও সুন্দর আগামী দিন গড়ার প্রত্যয়ে প্রত্যয়ী ওরা ।  সুতোর কাজের জোরেই ওদের নতুন দিনের স্বপ্ন তাই নতজানু হয়েও ওরা কাজ করে চলে নিমগ্ন ; ধনীর স্বার্থে শ্রমে শ্রমে জীবনটা হয়ে যায় বিপন্ন তবু শ্রমিকের রক্তেই ধনীদের তৃষ্ণা মেটে আজন্ম ।  অভিশপ্ত রোদে তামাম শহর আজকে পুড়ে যায় শ্রমিকের ঘামে তবুও এই শহর সচলই রয়ে যায় ; গরীবের অশ্রু আর ঘামে ধুয়ে যাওয়া সেই রাস্তায় যুগে যুগে ধনীরাই চড়ে দামী গাড়ি আর হাঁটে লাল গালিচায় ।

অদ্ভুত প্রেম - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কোথাও একসাথে যেতে হলে সাজের ব্যাপারে মহিলাদের সময় লাগার ব্যাপারটা সকলেরই জানা. তারপর যদি নব বিবাহিত দম্পতি হয় সে বিষয়ে ব্যাখ্যায় না যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। - কি রে! হলো তোর? বিয়েতে তো অনেক সাজলি। আর কি, না সাজলেই নয়? মধুচন্দ্রিমায় এসে কোনো মেয়ে এতো সাজতে পারে এই প্রথম দেখলাম। - এই তুই চুপ করতো! বেরসিক একটা লোক। নতুন বৌ বলে কথা, একটু তো সাজতে সময় লাগবেই। - ও আচ্ছা! এক ঘন্টাটা বুঝি একটু সময়? - চুপ বেয়াদপ কোথাকার, তুই মেয়েদের ব্যাপারে কি বুঝিস রে হাঁদারাম? তোকে কি দেখে যে ভালোবাসলাম কে জানে? - তুই আবার শাড়ি পড়েছিস? শাড়ি ঠিকঠাকভাবে সামলাতে পারবি তো? - সব পারবো, তোকে চিন্তা করতে হবে না। - বাব্বা ! তুই সবুজ শাড়ি পড়েছিস দেখছি। ওই জন্যই আমাকে সবুজ পাঞ্জাবিটা সকাল থেকে পড়তে বলছিলি বারবার। - হ্যাঁ হাঁদারাম, যাতে আমাদের ড্রেস ম্যাচ করে বুঝলি। - এই ম্যাচ করে জামাকাপড় পড়ার কনসেপ্টটা কেমন যেন জোকারের মতো লাগে। - কিছুই জোকার লাগে না, ওটা ভালোবেসে দু'জন দু'জনের জন্য পরে বুঝলি। বেশি কথা না বাড়িয়ে চল এইবার সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো দেখে আসি। রূপম আর জয়ী দু'জনেই কর্মজীবনে ইঞ্জিনিয়া...

ভালোবাসার স্বর্গ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমাদের এই পৃথিবীর ৩ ভাগ জল আর ১ ভাগ স্থল, সেরকম বোধহয় মানুষের জীবনও ৩ ভাগ দুঃখ এবং ১ভাগ সুখ। কারোর জীবনে হয়ত নির্বিচ্ছিন্ন সুখ বলে কিছু হয় না - সকল সুখের মধ্যে ঠিক একটা ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে যায় - ফলে জীবনে দুঃখের উপস্থিতি অনিবার্য। রেখা কালো বলেই বোধহয় ওর বাবা-মা ওর বিয়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন । পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন সাইকোলজি নিয়ে করতে চাওয়ার মধ্যে রেখার অনেক স্বপ্ন লুকিয়ে ছিলো, কিন্তু ভারতে মেয়ে জন্মালে তাকে নিঃশ্বাস নিতে সময় না দিয়েই তার বিয়ের কথা  শুরু হয়ে যায়।মেয়ের গায়ের রঙ ফর্সা হলে আয়া মাসী মাড়ি বের  করে মেয়ের বাবাকে বলে,’মেয়ে ফর্সা হয়েছে। বিয়ের চিন্তা নাই। আমার কিন্তু ভালো শাড়ি  চাই।‘ বাচ্চাকে তখনো হয়তো বাপে দেখেইনি। আর কালো হলে? আয়া মাসী মুখটা আরো কালো করে বলবে,’চুক-চুক-চুক! একে মেয়ে তায় কালো! কী করে যে বিয়ে দেবেন!’অথচ আবহাওয়া অনুযায়ী ভারতের বেশীরভাগ মানুষের ই গায়ের রঙ কালো আর সেটাই স্বাভাবিক।এদেশের ফর্সা মুখে হাল্কা গোঁফের রেখা ওয়ালা মেয়েরাও সুন্দরী।এবং এদেশে যাদের ফর্সা বলা হয় ইংল্যান্ড-আমেরিকার মতো দেশে তাদের কালোই বলে। আমাদের চারদিকে এত প্রগতির পরও আজও মেয়েরা আমা...

বিদায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কখন তুমি চলে গেছো, আমি বুঝতে পারিনি  জানিনা তুমি আমাকে কতটা বোঝাতে চেয়েছিলে আমার ক্ষতি, তবে আমি আজ তারাহীন রাতের আকাশের মতো প্রশস্ত,ঝড়ো সমুদ্রের মতো গভীর।  আমি তোমার মিষ্টি ভালবাসার পরশ হারাচ্ছি, তোমার পরম নিষ্ঠা অমূল্য স্মৃতি ভেবে তুলে রাখছি আমি এখন অফুরন্ত অশ্রু ঝর্ণা, দু:খিত আবেগের গভীর স্রোতোবহা।  বন্ধুরা আমাকে বলে আমার জীবনের সাথে এগিয়ে যাওয়া উচিত, কাজের সময়টি আমার ব্যথা নিরাময় করবে; আমি মুচকি হেসে সম্মতি জানাই এবং তাদের সাথে একমত হই,তবে আমার জানা - আর আমি কোনদিনও জীবনে এগোতে পারব না।

যেখানে মন যেতে চায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমি ভিজেছি শহরের সন্ধ্যায় নিয়নের আলোয় ঘুম ভেঙেছে অ্যালার্ম -এর শব্দে আমি ফিরতে চেয়েছি ভালোয় আমি ফিরেছি শুধুই তোমার কথায় আর তোমার মায়াবী স্পর্শে আশ্রয় নিতে বারবার বিগত হারিয়ে যাওয়া শত-সহস্র আলোকবর্ষে তুমি বলেছিলে ভালোবাসা, সবচেয়ে প্রিয় হতে পারে আবার নিস্তরঙ্গ জীবন স্রোতে , কালবৈশাখী হতে পারে ঘর ভাঙা ভালোবাসা পারে , এক অন্য ঘর গড়ে দিতে বিশ্বাসের নিশ্বাসে ভালোবাসা পারে ক্রোধ তুচ্ছ করে দিতে ফিরে চল সব ছিড়ে চল যেখানে মন যেতে চায় আমি আছি তোমার অপেক্ষায় স্টেশনে যখন শেষ ট্রেন দাড়ায় ফিরে চল সব ছিড়ে চল আমাদের অপূর্ণ ইচ্ছায় আমি আছি তোমার অপেক্ষায় জীবনের যখন শেষ ট্রেন দাড়ায় না  হলে মহাপ্রলয় লাগিয়ে দেব থাকবে যত বিস্ফোরণের শূন্য ছাই আমি পৃথিবীর প্রতিটি ধূলোয় লিখে দেব শুধু তোমাকে চাই তুমি হয়তো এখনো জানো না কারো সাধ্য নেই আমায় আটকায় আমি ভালোবাসবো আবার তোমায় যতটা বেশি ভালোবাসা যায় ফিরে চল সব ছিড়ে চল যেখানে মন যেতে চায় আমি আছি তোমার অপেক্ষায় স্টেশনে যখন শেষ ট্রেন দাড়ায় ফিরে চল সব ছিড়ে চল আমাদের অপূর্ণ অতৃপ্ত ইচ্ছায় আমি আছি তোমার অপেক্ষায় জীবনের যখন শেষ ট্রেন দা...

ভালোবাসার চিঠি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এই চিঠি একজন প্রাক্তন স্ত্রীর তার প্রয়াত স্বামীর উদ্দেশ্যে লেখা - যার প্রতিটি শব্দে রয়েছে ভালোবাসার মূর্ছনা। ১৯৯১ সালে ২১ জুন নিজের বাড়িতেই মারা যান রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহ।  কবিতা, প্রবন্ধ, গানে ছোট্ট জীবনটাকে অসীম তারে বেঁধেছেন। অনেকেই বলেন স্ত্রী তসলিমাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর লেখা, ‘ভাল আছি ভাল থেকো’ গানটি। এই গানের সুর দিয়েছেন নিজেই। রুদ্রের মৃত্যুর পর ‘ফিরে আসুক রুদ্র’ শীর্ষক লেখায় তসলিমা বলছেন, রুদ্রকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দেখেছি দূর থেকেও। রুদ্র সেই মানুষ, যে কোনও দূরত্ব থেকেও ভালোবাসা যায়। ভালোবাসা যায় বলেই আজও আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখেন কবি রুদ্র মহম্মদ শহিদুল্লাহ। আশ্রয় খোঁজেন প্রেমিকার নিবিড় ছোয়ায়... আমি এখানে মূল লেখাটা পুরোটা দিলাম। ভাল নেই, ভাল থেকো ____তসলিমা নাসরিন প্রিয় রুদ্র, প্রযত্নে আকাশ তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি কি আকাশে উড়ে বেড়াও তুলোর মত? পাখির মত? আমারও খুব পাখি হতে ইচ্ছে করে। আমারও সারা আকাশ উড়ে উড়ে মেঘের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছে করে। ছোটবেলায় ছাদে উঠে আকাশ দেখতাম খুব। রাতে তারা গুণতাম। সবাই আমাকে পাগল বলত, ব...

স্মৃতির পাতায় আজও তুমি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মনে পড়ে?  প্রিয়া , আমার সাথে তুমি একলা বিকেলে  বৃষ্টিতে ভিজেছিলে  প্রিয়া , তোমার নরম হাতের  উষ্ণতায়  আমার হাতকে আশ্রয় দিয়েছিলে  যত্ন করে  মনে আছে?  প্রিয়া , তুমি অষ্টমীতে নীল শাড়িতে নীলাম্বরী হয়েছিলে  প্রিয়া , তোমার কস্তুরী মৃগী গন্ধ পেতে আসতে চেয়েছিলাম  আরো কাছে  প্রিয়া , স্নানশেষে তুমি  খোলা চুলে কার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলে  জানালাতে  প্রিয়া , সেই বৃষ্টিস্নাতা মিষ্টি নারীকে লুকিয়ে দেখেছিলাম  একা ছাদে  প্রিয়া , তোমার নরম অধর আমার অধরে নিয়েছিলাম  লুকিয়ে অন্ধকারে  প্রিয়া , তোমার  রূপের জ্যোৎস্না চোখে হারিয়েছিলাম  বারে বারে  প্রিয়া , তোমার কাঠবিড়ালীর মত লঘু পায়ের আলসেমিতে  নুপুর পরিয়েছিলাম  প্রিয়া , তোমার জীবন সাথী হবার  স্বপ্ন দেখেছিলাম  প্রিয়া , তোমার  কালো  ভীরু হরিণ  চোখ শান্তি দিয়েছিল  প্রিয়া , তোমার আলগা-খোঁপার বাঁধন খোলায় বৃষ্টি নেমেছিল  প্রিয়া , তুমি পারো নি বাস্তবতার হিসেব করতে গিয়ে আমার নারী হতে  প্রিয়া , তবে আজ কেন কাঁদো উপুড় হয়...

ভ্রমবিলাস - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
স্কুল জীবনের  পরেই শুরু হয় কলেজ জীবন আর অনেক স্বাধীনতার দরজা খুলে যায়। জীবনের শাসনের ভার আলগা হওয়াতে আর বয়সন্ধি কাল মানুষকে ভীষণ রোমান্টিক করে তোলে। জীবনের চলার পথে তখন একজন সঙ্গীর অভাব ভীষণ ভাবে অনুভূত হয়। তবে সরস্বতী পূজা আর ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পায়। আজ আকাশের মুখটা ভার।সকাল থেকেই দু এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে।না বলা কথাগুলো অবনের মনেও জমাট বাধা মেঘের সৃষ্টি করেছে।আজ তোর্সাকে বলতেই হবে মনের গোপন কথাটা।সেই প্রথম যেদিন নবীন-বরণে দেখেছিলো তাকে নীলাম্বরী শাড়িতে সেদিন থেকেই মনের জলরঙে শুধু তারই ছবি এঁকেছে অবন ।একটু একটু করে বন্ধুত্ব হয়েছে তোর্সার সাথে কিন্তু ভালোবাসার কথাটা সাহস করে বলে উঠতে পারেনি এখনও।আজ ভ্যালেন্টাইন্স ডে মানে প্রেম দিবস ।আজ মনের মেঘটাকে আলগা করার দিন আজ বলবে সে তোর্সাকে তার ভালোবাসার কথাটা।সব ঠিক থাকলে মেঘ সরে গিয়ে তোর্সার ভালোবাসার বৃষ্টিতে ভিজবে তার হৃদয়। কলেজে ঢোকার মুখেই দেখলো ভ্যানে করে গোছা গোছা লাল গোলাপ বিক্রি হচ্ছে।বাইকটাকে স্ট্যান্ড করে এক গোছা লাল গোলাপ কিনে নিলো আবীর। -----'কী রে কার জন্য কিনলি গোলাপ?' প্রশ্নটা শুনেই চমকে তাকালো অবন।পাশে...

রোজনামচা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কুয়াশা ঢাকা আকাশে ভোরের সূর্যের উদয়  ক্লান্ত আমি নিলর্জ্জ তেজষ্ক্রিয়তা আর ইটভাঙা প্রখরতায়।  দিন পেরোলেইতো রাত-বেরাতের খেলা ক্লান্ত হাতে সুই ফুঁড়ে যাই বলি মনের কথা মনের নির্জনে । আমার শ্রান্ত চোখে দেখা শেষ রোদ্দুর হাতপাখার এই নড়াচড়া আমার চোখের জলের  সাথে মেশে। স্বপ্নরা আসে ভেসে ভেসে  অচেনা দেশে।সুর তুলে যায় তীব্র সোনার  খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ... লগ্ন শেষ , থেমে যায় সোনালী রোদ্দুর দীর্ঘশ্বাস। সময়গুলো সব এগিয়ে চলে ধীরে সাজতে হবে সন্ধ্যের রঙিন সাজ কাজলমাখা চোখে আমার প্রেম যত বন্দী-সব কাপড়ে ঢাকা। লনের ওপর সবুজ ঘাস, তাতে কারও পায়ের আওয়াজ দুমড়ে ফেলে আমাদের অগভীর শেকড়।  আমাদের রক্তরন্ধ্রের ভেতর বেজে ওঠে সাইরেন, শব্দের প্রতিধ্বনি -থামো, আমরাও মানুষ ... রাত্রি শেষ , সোডিয়াম লাইটে নিস্তব্ধ অন্ধকার ক্লান্ত মন, ক্লান্ত দেহ চুড়ি ভাঙে, লেপ্টে থাকে কাজল উদাস মনে তাকিয়ে থাকি আমাকেই, আয়নার ভেতর আমি মরে চলি, মরে চলি, মরে চলি এভাবে রোজ। 

স্বীকারোক্তি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

যদি আমায় বুঝতে পারতে , তাহলে শুনতে , আমার হৃদয়ের গভীর অন্তস্থলের শব্দ । শুনতে পেতে, আমার হৃদয়ের প্রেমের হৃদ স্পন্দন । যেখানে শুধু তোমার বিচরণ ......... খুঁজে পেতে, কারনে অকারনে তোমার অজস্র কারন । বুঝে নিতে, কতো গভীর ভালোবাসায় প্রেমে এই হৃদয়ে করেছি তোমাকে ধারন ..

নিরুদ্দেশের পথে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এই দূষিত পৃথিবীতে এখনো বসন্ত আসে,আনমনে ! ঘোরলাগা অবাক করা পলাশ সকালে, হয়তো বা বাউরি-বাতাসের ছোঁয়ায় আলটুপটাপ মনকেমনে। চোখ বুজলেই হলুদ অমলতাসের বন,অথচ  এই নিঃসঙ্গ বসন্তে মন নিজস্ব কোণ খোঁজে,চায় ভালোবাসার রঙে রাঙানো  নিজস্ব একান্ত ঘর ।  একটা আস্তদুপুর হেঁটে যায় নিরুদ্দেশের পথে, চোখ বুজলেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামে সুদূরে; পূর্ণিমা রাতে কে যেন বাঁশিতে আনন্দ সুর বাজায়, মুঠোয় অনন্ত নিয়ে জ্যোৎস্না মেলে আশ্চর্য ডানা। তবুও কেন এমন বসন্তে মন বিশ্বস্ত ভালোবাসা খোঁজে,আজন্ম কাঙাল খোঁজে নিজস্ব ঠিকানা ।।

অন্তঃসলিলা মন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
চাইলে মন, সময়ের প্রবাহে  পথও দ্বিধা হয়, দুটি পথ দুজনের। তবুও কি দুভাগ হয় ? যা থাকার , তা তো ভিতরেই থাকে শাঁসের মতন। বীজহীন কিম্বা সে বহুবীজ এই প্রশ্নেরা বৃথা আজ। শুধু জেনো , এখনও সে পর্দায় এত জোর আছে, সেই জোরেই ঢাকবো তোমায়। বহুদূর, বহু যন্ত্রণার পথ। আগামীর আহ্বান। এস বুকে, মিলিত নন্দিত কম্পনে। সবশেষে কোন এক সর্বনাশ মোহময় পৃথিবীর এই এক খাঁজ যেখানে হারায় সব, ভাল থাকার প্রতীকী আবেশে।

যাযাবর - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
হঠাৎ তুমি চলে গেলে , আচমকা আসা দমকা হাওয়া আমার বয়সটা বাড়িয়ে দিল , সারবত্তা নিয়ে গেলে চলে এক কোনে পড়ে আছি বাদ পড়া ছাটা লোহার গুঁড়ো ।  সময়ের ক্ষয়িষ্ণু গতির তালে চলছিল জীবন নাও অবসাদে হেলে দুলে; কেন এলো ঝোড়ো হাওয়া উচ্ছ্বলতার চাওয়া পাওয়া যাবে যদি সব ফেলে?  সখা,বন্ধু ,প্রেম,প্রেয়সী হয়ে  ভরে দিলে জীবন পাত্র। আজ জীবনে জীবন নাই ঘুরি ফিরি নাচি গাই বেদুইন সাহারা মরুভূমির  কেবল হা-হুতাশ অহোরাত্র।

অভিমানী মন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বাতাসে উড়িয়েছ প্রেমের আশা, মাটিতে ছড়িয়েছ নবজীবনের আশ্বাস, সমুদ্রের ঢেউএ জাগিয়েছ তরঙ্গায়িত আবেগ, আর সবুজ বনানীতে প্রেম । আশা, আশ্বাস, আবেগ, আর প্রেমে ভেসে ভেসে রোজ শেষ ট্রেনের পথ চেয়ে আমি তাই থাকি। আজও শেষ ট্রেন সিটি বাজিয়ে চলে গেল তুমি এলে না, কাল নয়, পরশু নয় ,কিম্বা তার আগের দিনও না, তাহলে তুমি কি আসবে না? ধর যদি নাইবা আসো, চিঠিতো দেবে? ধর যদি চিঠি নাইবা দাও, ফোন তো করবে? ধর যদি ফোন নাইবা কর, ভুলে গেছ কি ? কিন্তু তুমি ভোলনি,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

কবিতা ও তুমি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
হঠাৎ এমন একেকটা মূহুর্ত আসে, ঝড়ের বেগে হয়ে যায় ওলোটপালোট সব। তীব্র কিছুইনা অত্যন্ত  সাধারণ কিছু , ঠেলে সরিয়ে দেয় আমায় এককোণায়। একটু আগেও তো হাত মিলিয়েছি, তছনছ হয়ে গেছে সংযমের শাসন। আখরের কাছে নতজানু হয়ে গেলে তো  কবিতা হয়,দাবদাহেও বসন্ত আসে। হয়ত একাগ্র হতেই পারিনি কখনো, না তোমার কাছে অথবা কবিতার কাছে। তোমায় পেলে তবে কেন বল, কবিতাও ভুলে যাই নির্দ্বিধায়?

ভাই বোনের খুনসুটি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
একটি বোন পারুলের  আজ সাত ভাই চম্পা নেই, স্বার্থের সংঘাতে হয়ে গেছে তারা আলাদা সবাই, একা থাকে পারুল, থাকে সারা দিন চুপ করে, বসে ভাবে এ সব ঝুটো সেন্টিমেন্ট ফেলবে ঝেড়ে।  কানেতে হঠাৎ বাজে সে এক অস্ফুট ক্ষীণ ধ্বনি, কে যেন ডাকে তাকে - শুনছ ওগো দিদিমণি ? দেখে ছোট্ট এক অনামী ফুল ফুটে আছে ঝোপে, কথাটা কিন্তু সে বলছে না  মোটেই বাজে।  পারুল দিদি আজ তুমি নয় একা,দুর্বল এখন তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছে,দেখ কতজন, নাইবা পেলে আপন ভাইয়ের হাতটা ধরতে, অচেনা ভাইয়ের ভালোবাসা এখন তোমার হাতে ।।

ভাইফোঁটার গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
হোয়াটস্যাপ খুলতেই হাজার শুভেচ্ছা বার্তার ভিড়ে দৃষ্টি পরলো হৃদয়স্পর্শী আদর ছোঁয়া কয়েকটি লাইন কেমন আছিস বোন? সব ঠিকঠাক তো?  মেয়েটি থাম্বস আপ সাইন দিয়ে লিখলে বেশ ক্লান্ত,ফিরলাম সবে অফিস থেকে আহা রে বিশ্রাম নে, অসময় কেন মুখ বইয়ে?? মেয়েটি আবার থাম্বস আপ দিয়ে জানালে- হ্যাঁ নেব খন,সদ্য স্নাত চুলগুলো ভিজে চুপচুপে বিকেলের আলসেমির রোদ্দুরে মেলে দিলাম কিছুক্ষণ, তুমি কী কথা শেষ করতে না করতেই ; আহা ছোট করে গুছিয়ে রাখিস তোর সুবিধে মতন।  মেয়েটি দুচোখে ভালোবাসা ভরে বললে, কেমন আছো তুমি?যত্ন নিচ্ছ শরীরের?? এককথায় ঝটপট উত্তর ভালো আছি। মেয়েটি বুঝল কত ভালো না থাকার কাহিনীগুলো ডালপালা মেলে এক মুহূর্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে কি নিদারুন ব্যস্ততায়, ছলছল চোখে আহ্লাদে আটখানা হয়ে অবাক জিজ্ঞাসা  শোননা, তোকে বোনটি আমার দেখার বড় সাধ হয় আমতা আমতা করে বললে, চিনতে পারবি আমায় এক নিঃস্ব পাতা ঝরা গাছ কঙ্কালসার দেহ শুষ্ক ত্বক, খোঁচা দাড়ি রৌদ্রে পুড়ে বাদামি হয়েছে ইদানিং গায়ের রং, মাঠের কাদা লেপটে আছে সারা দেহে পারবি? পারবি তুই চিনতে আমায়??  মেয়েটি চিৎকার করে বললে পারবো বইকি, তুমি কি জানো না...

ও জীবন তোমার সাথে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
জীবন পেয়েছিল  সুখের দেখা ছোটকালে , জীবনটা তখন ছিল বয়সের ঢের আকালে । জীবনের বয়স বাড়ার সাথে সাথে , সুখ আড়ি করেছিল দিনেরাতে । ধীরে ধীরে সুখ'টা হায় , নিয়েছিল বিদায়। সেই যে বিদায় নিলো আর আসেনি আমার কাছে , আর দ্যাখেনি ঘুরে জীবন কী হালে আছে । জীবন চলেছে নিজের পথে ধীরে , সুখ আর চায়নি জীবনকে ফিরে । থাকেনি থেমে জীবনের গতি , এগিয়ে চলেছে সে বুকে নিয়ে অসুখের বাতি ।  সময়ের ব্যবধানে দুঃখ হয়েছিল জীবনের সাথী , জীবনও দুঃখের প্রেমে পড়েছিল রাতারাতি । সে পরিণয়ের আজো ধরেনি ফাটল , আজো দু'জনে প্রেমেতেই অটল । একে বাঁচে না অন্যকে ছাড়া , দুঃখ ছাড়া যে জীবন সর্বহারা ।  প্রথম প্রেমকে যায় না ভোলা কোনদিন , যতই তা হোক না অসহায় অথবা হীন । জীবনের আজও সুখ'কেই মনে পড়ে সদা , যদি সে সুখ'টা ফিরে আসে কদা । জীবন তাহলে খুব খুশী হবে , তাকে নিয়েই সে বাকী সময় কাটাবে ।  সুখের নাই যে কোনই দয়া মায়া , ফিরে দেখেনি একবারও জীবনের ছায়া । তবু জীবন ছাড়ে না আশা কভু তার , যদি হয় সে জীবনের  আরেকবার । জীবনের আশা ফিরে পেতে ভালবাসা , দুঃখে পোড়ে বুক তবু ছাড়ে না  সে আশা।

ক্ষমতা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ক্ষমতার অহংকারে আর দাপটে আইনকে রাখি আমার পকেটে । যারা সেলাম করে আমাকে জানি ,ভালবেসে নয় করে ভয়ে ভক্তি , শ্রদ্ধা ,সন্মান পাই ক্ষমতার জোরে । টাকার জোরে পাব আমি আরো ক্ষমতার দেখা , গাড়ি ,বাড়ি নাই তো আমি কিসের সমাজের হোতা ! সবাই শুধু চেনে টাকা আর ক্ষমতা। জানি এই ক্ষমতার জোর থাকবে না চিরদিন , তাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে করি অহংকার প্রর্দশন।  নিজের দুর্বলতা আর অক্ষমতা ঢাকা দিতে করি অভিনয় উদারতা । জুলুমবাজি করি যাতে ভয় হয় শত্রুর মনে জয়ী হতে আক্রমন করি দুর্বলের পানে । সত্যকে যে আমি বড্ড ভয় পাই সত্যকে তাই মিথ্যা দিয়ে সরাই ।  দম্ভ হল অস্ত্র আমার নিজের অক্ষম ঈর্ষাকে চরিতার্থ করার , অন্যের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমান করার ।। 

তাজমহল - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
তাজমহল।  পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য শিল্পনিদর্শন আগ্রার  মুমতাজের সমাধি সৌধ। যে শিল্প কলায় মুগ্ধ কবিগুরু বলেছিলেন তাঁর  শা - জাহান ( বলাকা ) কবিতায় -  এ কথা জানিতে তুমি, ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান, কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধন মান।           শুধু তব অন্তরবেদনা চিরন্তন হয়ে থাক্‌ সম্রাটের ছিল এ সাধনা।           রাজশক্তি বজ্র সুকঠিন সন্ধ্যারক্তরাগসম তন্দ্রাতলে হয় হোক লীন,           কেবল একটি দীর্ঘশ্বাস নিত্য-উচ্ছ্বসিত হয়ে সকরুণ করুক আকাশ           এই তব মনে ছিল আশ।           হীরা মুক্তামানিক্যের ঘটা যেন শূন্য দিগন্তের ইন্দ্রজাল ইন্দ্রধনুচ্ছটা           যায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক,               শুধু থাক্‌           একবিন্দু নয়নের জল      কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল               এ তাজমহল।........  তাজমহল যাবার বাস দাঁড়িয়ে...

সত্যকি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
যদু বংশীয় এই বীর উগ্রস্বভাবের এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির বলে ইনি কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে ভাই হন। হ্যাঁ ইনিও যাদব বংশের, তবে বৃষ্নী ধারায় জন্ম ওনার। তিনি ছিলেন শিনির নাতি আর পিতা সত্যক, তাই তিনি পিতার পরিচয়ে সত্যকি নামে বড় হন। অন্য আরেক নাম যুযুধান। বলরাম আর তিনি ছোট বয়সে একসাথে বড় হয়েছেন। পরে তিনি পাণ্ডবদের সংস্পর্শে এলে অর্জুনের সাথে সখ্যতা বাড়ে। সখ্যতা বাড়ে শ্রীকৃষ্ণের সাথেও। গুরু দ্রোণের আশ্রমে তিনি অস্ত্র বিদ্যা শেখেন অর্জুনের সাথে। পরে তিনি অর্জুনের কাছেও শেখেন। সারাজীবন তিনি শ্রীকৃষ্ণ অর্জুন বলরামের সাথেই সময় কাটিয়েছেন। এরপরে তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। মহাভারতে ওনার বর্ণনা রয়েছে এরপরে একদম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে। যখন শ্রীকৃষ্ণ শেষবারের মত গেছেন দুর্যোধনের কাছে যুদ্ধ যাতে না হয়, যাতে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখা যায় সেই চেষ্টার জন্য। সাথে রইলেন সত্যকি। শ্রীকৃষ্ণ চাইলেন 6 খানি গ্রাম 5 ভাইয়ের জন্য 5 টি আর একটি মাতা কুন্তীর জন্য। দ্রৌপদী র জন্য কিছু লাগবে না, ব্যবস্থা হয়ে যাবে পাঁচ ভাইয়ের সাথেই... কিন্তু দুর্যোধনের মতলব আলাদা। তিনি পরিষ্কার বলে...

আটপৌরে প্রেমের গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
-তুমি আসলে একটা আনরোমান্টিক! -আমি? -হুম, তুমি.. -কী জন্য? -অনেক কিছুর জন্যই.. -যেমন? -যেমন সেদিন বৃষ্টি হচ্ছে, আমি তোমাকে বললাম চলো বৃষ্টিতে ভিজি; কিন্তু তুমি কী করলে? বললে না থাক..ঠান্ডা লেগে যাবে, এখানেই দাঁড়িয়ে থাকি। -বৃষ্টিতে না ভিজলেই আনরোমান্টিক? -ঠিক তা না। এমন আরো অনেক কিছুই আছে, ঐটা তো একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র। -ওহ্.. -হুম.. এই হলো আমার গার্লফ্রেন্ড বিজলীর সাথে আমার কথোপকথন। বিজলী যে কথা একেবারে মিথ্যাও বলেনি, সেটা আমি নিজেও জানি। ছোটবেলায় আমার মা-ও বলত আমার মধ্যে না-কি একেবারেই রসকষ নাই।সত্যি কথা বলতে কী আমি ঠিক এই ফিলিংস গুলো বুঝে উঠতে পারি না। ফলে পরে পস্তাই - তখন হাত কামড়ানো ছাড়া  আর কিছু করার থাকে না। কিন্তু এ থেকে মুক্তির উপায় কী! এভাবে তো চলতে দেয়া যায় না। আর চলতে দিলে গার্লফ্রেন্ড তো আর গার্লফ্রেন্ড থাকবে না, অন্যের জাস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যাবে। গার্লফ্রেন্ডকে অন্যের জাস্ট ফ্রেন্ড হওয়া থেকে বাঁচানো জন্য আমি নানান উপায় খুঁজতে লাগলাম। সারাদিন কোক খাই আর বুদ্ধি খুঁজি; কিন্তু মাথায় কিছুই আসে না। কোক খেতে খেতে কয়েকদিনে আমার ওজন পাঁচ কেজি বেড়ে গেল, তারপরও মাথায় কিছু আসল না। এবা...

বিবাহ সমাচার - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মানুষ বোধহয় সবচেয়ে  দুর্বোধ্য প্রাণী, কারোর বাহ্যিক ব্যবহার দিয়ে তাঁকে বোঝা বড় মুশকিল। অন্তত আমার মত মানুষের পক্ষে। যত আমরা শিক্ষা ও বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছি - তত  কিছু মানুষ সেই উন্নতিটা লোকঠকানোর  কাজে ব্যবহার করছে ব্যক্তি মুনাফার উদ্দেশ্যে। এক্ষেত্রে মুনাফা শুধু অর্থ নয় - অন্য কিছুও হতে পারে। এরকমই এক মধ্যবিত্ত জীবনের ছবি আমরা সমাজের পর্দায় দেখে থাকি - বুদ্ধি করে ধরতে পারলে আসামি, নাহলে বিজয়ী। – আমার ঠোঁটের উপরের তিল টা দেখেছেন?  পাত্রী দেখতে এসে পাত্রীর মুখে এমন অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে আমার সামনে বসে থাকা ভদ্রলোক যে বেশ অবাক হয়েছেন, তা আমি বুঝতে পারছি। তারপরও স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় তিনি উত্তর দিলেন, – হ্যাঁ,দেখেছি। সামনে সেন্টার টেবিলের উপর ট্রে তে দু’কাপ চা রাখা আছে। হালকা ঝুঁকে আমি চা’এ চিনি মেশাতে মেশাতে বললাম, – ঠোঁটের উপরে তিল থাকলে প্রেম করে বিয়ে হয়। ক’চামচ চিনি দিবো? – এক চামচ। আপনি তাহলে বিয়ের আগে প্রেম করতে চাচ্ছেন?  প্রত্যুত্তরে শুধু মুচকি হাসলাম আমি। তারপর আবারে পালটা প্রশ্ন করলাম, – আপনার নাম টা যেন কি? – মিহির । আপনার নাম তো মিনি ? – হুম। নিন, চা শেষ...