পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভালোবাসা বাকি আছে

ছবি
সেদিন সকালে থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল, সকলের মত রাকারও  ভীষণ আলসেমি লাগছিলো। সারাটা দিন ঘরে বসে থেকে রাকার খুব একঘেয়ে লাগছিলো, তাই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় মেঘলা শহরের রাস্তায় ও বেরিয়ে পড়লো মন ভালো করতে। কিছুক্ষণ পরে এই ঠান্ডা আবহাওয়ায় ওর ইচ্ছে হলো এক কাপ গরম কফির উষ্ণতার স্বাদ পেতে। তাই মনে মনে "এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকেনা তো মন....." গাইতে গাইতে বেরিয়ে পড়লো রাকা। শহরের রাস্তার উপর ছোট্ট একটি ক্যাফেতে রাকা বসে ছিল। তার হাতে এক কাপ গরম কফি, দুচোখে অল্প বৃষ্টি দেখে মনে মনে হারিয়ে যাচ্ছিল। রাকার জীবন ছিল শান্ত, তবে একাকীত্বে ভরা। অনেক দিন আগে এক হৃদয় ভাঙা ঘটনায়, সে ভালোবাসার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওর প্রেমকে হারিয়েই ফেলেছিল। আজ কেন জানিনা এই বর্ষণ স্নাত দিনে নিজের নিঃসঙ্গতাটা ওর মনকে বারবার জানান দিচ্ছে। এসব ভাবতে ও হারিয়ে গেছিলো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে স্মৃতির জগতে। অন্যদিকে ছেলেটিরও এই বৃষ্টিভেজা দিনে আর কিছু ভালো লাগছিলো না, মনটাও কিরকম অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিলো। কিরকম একটা অনুভূতি যেন ওর ভিতরে খেলা করছিলো - মনে হচ্ছিলো "আজি  ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে জানি নে,   জানি নে কিছুতে কেন ...

থেরাপিস্ট

ছবি
কখনও কখনও মানুষের মনে হয় জীবনটা যেন ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে না। আধুনিক জীবনের এই মানসিক চাপ সকলের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কারণ নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে গেলে, জীবনের লড়াইটা লড়া আর সহজ হয়ে ওঠে না। ফলে তখন হতাশা মানুষটিকে শেষের পথে নিয়ে যায়। সোহমের জীবনে হঠাৎই একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করে, ও ধীরে ধীরে হতাশায় ডুবে যায়। ওর মনে হতে শুরু করে ওর দ্বারা আর কিছু হবে না, ও নিঃশেষ হয়ে গেছে। এমনিতে সোহম ছিল ভীষণ আত্মমুখী, একজন মানুষ যে নিজের মধ্যেই সব আনন্দ খুঁজে পেতো। ফলে ওর মানসিক স্বাস্থ্য খুবই সংকটজনক জায়গায় চলে গেলো। অফিসের বস মানুষটি কাজকর্মের জন্য সোহমকে পছন্দ করতেন, হঠাৎই ওর এরকম মানসিক অবনতি দেখে উনি বুঝলেন যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছে সোহম ।  একদিন উনি সোহমকে বললেন , "সোহম , তুমি একটা থেরাপিস্টের কাছে যাচ্ছ না কেন? গেলে তোমাকে এই অসুস্থতার থেকে মুক্ত করে দেবে ।" উনি বুঝলেন একটা সামাজিক ট্যাবুর কারণে ও যেতে সাহস পাচ্ছে না - ওর ধারণা ওখানে গেলে লোকে ওকে পাগল ভাববে। তখন উনি বোঝালেন যে পরিশ্রমে যেমন শরীর দুর্বল হয় আর তখন তার চিকিৎসার প্রয়োজন। সেরকমই মানসিক পরিশ্রমে মনও দুর্বল হয় এবং চি...

নজরুল স্মরণে

ছবি
আমাদের নজরুল ইসলাম পরিচিত একজন কবি হিসাবে,কিন্তু তিনি শুধুই একজন কবি নন। তিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী, বিদ্রোহী সত্তা । কবিতাকে তিনি তার সংগ্রামের ও দ্রোহের বা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখতেন। তাঁর সেদিনের বিদ্রোহ ছিল পরাধীনতার বিপক্ষে, শোষণ, শাসন, অন্যায়ের বিপক্ষে, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ আর জাতপাতের বিরুদ্ধে। সমাজের শ্রেণী শোষণের বিরুদ্ধে তো বটেই। কিন্তু নারী পুরুষ অসাম্যও তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি। এগুলির বিরুদ্ধে লড়াইকে নজরুল তাঁর কবি জীবনের একেবারে প্রথম পর্ব থেকেই নিজস্ব অভিজ্ঞান করে তুলেছিলেন। সেকারণেই তিনি পরিচিত হয়ে যান বিদ্রোহী কবি হিসেবে। যে কবিতার সূত্রে তাঁর এ পরিচয় প্রাপ্তি, সেই বিখ্যাত লাইনগুলিকে আর একবার এই মুহূর্তে স্মরণ করা যাক – মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্ত,যবে উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না –অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –বিদ্রোহী রণ ক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্ত। দ্বিধাহীনভাবে নজরুল তাঁর কবি জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে স্পষ্ট করে দিচ্ছেন তাঁর লেখালেখির উদ্দেশ্য।   নজরুলের কবিতা গান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় খুব কাজে লেগেছিল, মানুষকে প্...

আজকাল সবার ধৈর্য বড় কম

ছবি
জীবনের গতি বাড়ছে , এবং এর সাথে আমাদের সব কিছু চাওয়ার মানসিকতা, এবং এখনই চাই। সবকিছুর জন্য আমাদের অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন৷ আমরা আর দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে ভাবতে আগ্রহী নই৷ এই তাড়াহুড়ো কেন? এটা কি "দ্রুত" হওয়ার জন্য একটি পুরস্কার? তাৎক্ষনিক পরিতৃপ্তির জন্য একটি তীব্র প্রয়োজন আমাদের সংস্কৃতিতে এমবেড করা হয়েছে যেটি ভক্তিমূলকভাবে একটি "টাইম ইজ মানি" বিশ্বাসকে অনুসরণ করে। ধীর গতিতে চলাটা সময় নষ্ট করার সমতুল্য। তাই মানুষ ধৈর্যের মাত্রা কম রাখে। কিন্তু আবার কম ধৈর্য মানে কম অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের অভাব একজনকে সর্বদা অস্থির করে তুলবে। সবাই অবিলম্বে জিনিস পেতে চায়. কারো ধৈর্য নেই। ব্যর্থতাকে সবাই ভয় পায়। ব্যর্থতার প্রধান কারণ ধৈর্যের অভাব। কেউ সময় নষ্ট করতে চায় না। প্রত্যেকেই কিছুতে সময় দিতে এবং চেষ্টা করতে ভয় পায়। মানুষ মনে করে যে যা ঘটবে, তা হওয়া উচিত, কোন সময় অপচয় না করেই। তারা ভুলে যায় যে ঘটনা ঘটতে সময় লাগে।আজকেই একটা খবর আছে যে উত্তর কোরিয়ার প্রশাসনিক প্রধান মি. কিম ঠিক করেছিলেন, চীনের উপর নজরদারি চালানোর জন্য উনি তিনটি উপগ্রহ আকাশে ছাড়বেন। কিন্ত...

ইলিশ

ছবি
ইলিশ একটি মাছের প্রজাতি। বাঙালীর পছন্দের মাছের নাম উঠলেই যে নামটি প্রথমেই উঠে আসবে, সেটা হলো ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম: Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি একটি সামুদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে আগমন করে। বাঙালিদের কাছে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়াও ইলিশ ভারতের বিভিন্ন এলাকা যেমন পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা ও আসামে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাংলা ভাষা, ভারতের আসাম এর ভাষায় ‘ইলিশ’ শব্দটি পাওয়া যায় এবং তেলুগু ভাষায় ইলিশকে পোলাসা (তেলুগু: పులస Pulasa বা Polasa) আখ্যায়িত করা হয়। পাকিস্তানের সিন্ধ ভাষায় বলা হয় পাল্লু মাছি (সিন্ধু: پلو مڇي Pallu Machhi), ওড়িয়া ভাষায় ইলিশী (ওড়িয়া: ଇଲିଶି Ilishii) গুজরাটে ইলিশ মাছ মোদেন (স্ত্রী) বা পালভা (পুরুষ) নামে পরিচিত। ইলিশ অর্থনৈতিক ভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছ। বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চল, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর মোহনার হাওর থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরা হয়। এটি সামুদ্রিক মাছ কিন্তু এই মাছ বড় নদীতে ড...

এক যে ছিল বাবা

ছবি
নামটা শুনলেই মনে হয় "বাঃ, বাঃ ", কিন্তু আমি মনে করি এটা সঠিক নয়। সকলে মন খুলে খালি প্রশংসা করে, কারণ সকলের জন্য পছন্দের জিনিস দেয়াটাই তার পরিচয়। তাতে তার নিজের ভাগে না হয় রইলো কিছু, অন্যরা তো পেলো। আসলে উনি একজন ভীষণ বড় মিথ্যেবাদী, নিজের ব্যবহারের কোন জিনিসের কথা বললে বলবে এখন ঠিক আছে। অথচ ছেলে - মেয়ের সব জিনিস কিছুদিন পর পর বদলানো চাই। ওই দামী জিনিস গুলো নাকি তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়। ওনার আবার একজন অন্ধ সমর্থক ছিলেন - আমার মা। যার কাছে ওনার জায়গা ছিল ঈশ্বরের মত। হয়ত কখনও লেখাপড়ার কোন একটা বিষয় নিয়ে গলদ্ঘর্ম হচ্ছি, মা বলতেন এত ভাবিস না, উনি আসলে জিজ্ঞাসা করে নিস, সব বুঝিয়ে দেবে। এতটাই ওনার অন্ধ বিশ্বাস ছিল "ওনার প্রতি "।  বাজার থেকে হাত খরচের পয়সা চুরি করলে, বলতেন বাচ্চা ছেলে ঠকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি জানি উনি সেটা বুঝতেন, কিন্তু কখনও ছোট করতেন না। এটা মিথ্যাচার নয়, এরকম উদাহরণ দিতে গেলে লেখাটা বোধহয় আর শেষ হবে না। আসলে তখন মোবাইল বিহীন, ইন্টারনেটহীন মানুষগুলো জীবনের সব কিছু ছিল পরিবার। এক কবি বলেছিলেন - "ঈশ্বর, পাহাড়ের কাছ থেকে নিলেন সহস্র বছরের 'কঠিনতম দৃঢ...

ব্যবস্থা বিবাহ

ছবি
বিবাহ সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের দুই ব্যক্তির মিলনকে বোঝায়। এটি একটি পবিত্র বন্ধন এবং গৃহকর্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি ষোলটি সংস্কারের একটি এবং এটিকে সমস্ত সংস্কারের ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। প্রারম্ভিক ভারতে , বিবাহ একটি বাধ্যবাধকতা হিসাবে বিবেচিত হত এবং সামাজিক ঐতিহ্য অনুসারে সম্পাদিত আচার অনুষ্ঠান। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সমাজের বিকাশে বিবাহ প্রধানত অবদান রাখে। ভারতবর্ষে প্রাচীনকালে যারাই প্রথম পর্যায় অর্থাৎ ব্রহ্মচর্যাশ্রাম শিক্ষা সম্পন্ন করেন তাদের বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং একজন বিবাহিত ব্যক্তিকে পূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। ঐতরেয়ব্রাহ্মণ ঘোষণা করেন, তস্মাদ্ পুরুষো জয়ং বিত্ত্বা কৃত্নতারামিবাত্মনাম মান্যতে /  একজন পুরুষকে স্ত্রীর নিরাপত্তা ছাড়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। বেদব্যাসস্মৃতিতে একই মত প্রকাশ করা হয়েছে এভাবে: yāvanna vindate jāyāṃ tavadardho bhavet pumān / nārdha prajāyate sarva prajāyetetyapi শ্রুতিঃ //  তৈত্তিরিয়উপনিষদও বিবাহকে সকল মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করার পক্ষে কথা বলে । শতাপথব্রহ্মণ অনুসারে , একজন স্ত্রী স্বামীর ...

ভাড়াটিয়া

ছবি
বর্তমান কালে ও বিশ্বায়নের ফলে বেশিরভাগ সময় আজকাল লোকেদের তার নিজের এলাকায় বা বাড়িতে থেকে কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে এরা হয় এদের কোম্পানির দেওয়া অস্থায়ী বাসস্থান অথবা এই সুযোগ না থাকলে স্থানীয় লোকেদের থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওই স্থানে কাজ চালিয়ে যায়। ফলে যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সম্পত্তি অর্থের বিনিময়ে নিজের ব্যবহারের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়, তাকেই ভাড়াটিয়া বলা হয়। প্রজাস্বত্ব হল সম্পত্তির উপর এক ধরনের মালিকানা। একজন ভাড়াটে হলেন এমন একজন যিনি ইজারা বা ভাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করে অন্য ব্যক্তির সম্পত্তি দখল করার অনুমতি পান। ভাড়ার চুক্তি কিছু উপায়ে ভাড়াটেকে ক্ষমতা দেয় কিন্তু সম্পত্তির সামগ্রিক আইনি মালিকানা নেওয়া থেকেও সীমাবদ্ধ করে। চুক্তির সাথে সাথে, ভাড়াটে এবং বাড়িওয়ালা উভয়েই তাদের ভূমিকা, অধিকার এবং দায়িত্বগুলি জানেন৷ প্রজাস্বত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধরুন আপনি কয়েক মাসের জন্য আপনার সম্পত্তি আপনার পারিবারিক বন্ধুকে দিয়েছেন। এটি ভাড়াটে হিসাবে বিবেচিত হবে না। ভাড়াটিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমত, এটি ব্যক্তি/পরিবারকে দেওয়া একচেটিয়া অ্যাক্সে...

এক অবিবাহিতার গল্প

ছবি
সেদিন প্রিয়া একান্ত অবসরে নিজেকে নিয়েই ভাবনায় ডুবে গিয়েছিলো, আসলে ওকে অবাক করছিলো ওর এইরকম অফুরান অবসর সময়েও ওর বিবাহিতা বান্ধবীদের কর্মব্যস্ততা। প্রতিটি মানুষ ভালো তখনই থাকে যখন তারা নিজেকে ভালো রাখে। কিন্তু ওর বান্ধবীরা তো নিজের কথাই ভাবার সময় পায় না, ভালো থাকার কথা তো দূর। তখনই প্রিয়ার মনে পড়ে গেলো বহু পুরোনো দিনের কথা - তখন ও সদ্য কলেজ শেষ করেছে আর সাথে সাথে একটি চাকরিও পেয়ে গেছে। তখন ওর অনেক স্বপ্ন দুচোখ জুড়ে নিজেকে নিয়ে, জীবনকে নিয়ে ইত্যাদি। বাড়ি ফেরার পথে ও লক্ষ্য করে দেখেছে বিশেষ কেউ একজন যেন ওর প্রতীক্ষায় থাকে, ওর ফেরার অপেক্ষা করে।এই কথাটা মনে হলে ওর মনটা এক অদ্ভূত ভালো লাগায় ভরে ওঠে! এরকমই একদিন অফিস ফেরৎ বাসে ওর সামনে এক বয়স্কা ভদ্রমহিলা এসে দাঁড়ালে, প্রিয়া উঠে ওনাকে বসতে জায়গা ছেড়ে দেয় আর তারপর দু - এক কথায় গল্পের শুরু। ওর সবকথা শোনার পরে, ভদ্রমহিলা নাবার আগে ওকে বলেন, " আজ তোমাকে দেখে আমার নিজের মেয়ের কথা মনে হলো, ও বিয়ে করতে চায়নি। আমাদের মন রাখতে বিয়ে করলো, কিন্তু আমি বুঝি সব থেকেও ও ভালো নেই, তাই জীবনটাকে বুঝে খরচ করো। " এই বলে উনি নেবে গেলেন। সেদিন প্রিয়া অন...

গণপ্রহার

ছবি
ছেলেধরা অথবা চোর, কোনো মানুষকে বাইরে থেকে দেখে তার সম্পর্কে এতটা অনুমান নিশ্চয়ই করা যায় না৷ সন্দেহ জাগতে পারে, তাকে পাকড়াও করে প্রশ্ন করা যেতে পারে৷ একটি এলাকায় কী উদ্দেশ্যে সেই ব্যক্তি এসেছে, তা জানতে চাইতে পারে স্থানীয় বাসিন্দারা৷ জবাবে সন্তুষ্ট না হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যায়৷ কিন্তু, স্রেফ সন্দেহের বশে একটি মানুষকে তারই মতো একদল মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলছে৷ বাঁশ-লাঠি-রড দিয়ে মারধর করছে, তা তিনি মহিলা হোন বা প্রৌঢ়৷ মৃত্যু নিশ্চিত করতে পাথরের ঘায়ে থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে মাথা৷ গণপ্রহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মারাত্মক। নতুন কেন্দ্রীয় আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও দণ্ড সংহিতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকী মৃত্যুদণ্ডেরও সংস্থান রয়েছে। কিন্তু তাতেও মারমুখী জনতার যেন ভ্রুক্ষেপ নেই! একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেই চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। ঝরছে একের পর এক তরতাজা প্রাণও। করোনা পরবর্তী বাংলায় যেন নতুন সংক্রমণের নাম গণধোলাই। বেশ কিছু বছর আগে সহিষ্ণুতার ইতিহাস লিখতে গিয়ে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অশীন দাশগুপ্ত বলেছিলেন, ‘এই দেশে হিন্দু মুসলমানকে, বাঙালি হিন্দুস্থানিকে, গরিব বড়লোককে এবং নারী পু...

কেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত নয়:

ছবি
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইন সেলিব্রিটি হিসাবে প্রভাবশালীদের উত্থান অনেকেরই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যদিও ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার সম্ভাবনা লোভনীয় হতে পারে, তবে এটি স্বীকার করা অপরিহার্য যে, এই পেশার পথ সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবের জগতে প্রবেশ করার আগে সতর্কভাবে চিন্তা করার জন্য কিছু বিষয় রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক। কেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত নয়- ১. প্রাইভেসি কনসার্ন: বিশ্বব্যাপী দর্শক ও শ্রোতাদের সঙ্গে আপনার জীবনের ব্যক্তিগত দিকগুলো ভাগ করার বিষয়টি একটি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। যারা নিজের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেন বা স্বাভাবিকভাবে ইন্ট্রোভার্ট, তাদের জন্য ক্রমাগত এক্সপোজার অস্বস্তি এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হতে চাইলে আগে এই বিষয়ে খেয়াল করুন। ২. সমালোচনার প্রতি ভয়: অনলাইন বিশ্বে প্রতিনিয়ত সমালোচনার ঝড় বইতে পারে। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হতে চান, তবে এই সমালোচনার ভয়কে জয় করতে হবে। আর যদি অন্যদের সমালোচনাকে ভয় করে চলেন তবে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার না ...

সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার:

ছবি
বর্তমান জগতে মানুষের ব্যস্ততা বৃদ্ধি ও কারিগরীর উন্নতিতে মানুষের ব্যক্তিগত সময় অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে ইন্টারনেট, ফলে মানুষের মানসিক বিনোদন থেকে কেনাকাটি সবই এখন অনলাইন নির্ভর। মানসিক বিনোদনের জন্য রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি। ধরুন, অনলাইনে কয়েকটি বই কিনবেন আপনি। স্বভাবতই অনলাইন বুকস্টোরের বিশাল ক্যাটালগ থেকে পছন্দসই বই খুঁজে বের করা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। তবে অবচেতন মনে আপনি জানেন, কোন বইগুলো খুঁজছেন। কারণ, ফেসবুকে আপনি একজন খুবই পড়ুয়া ব্যক্তিকে অনুসরণ করেন, যিনি নিয়মিতই বিভিন্ন বই নিয়ে দুর্দান্ত সব রিভিউ পোস্ট করে থাকেন, এবং কিছু বই সম্পর্কে তার করা রিভিউ আপনার খুবই ভালো লেগেছে। কিংবা আবার ধরা যাক, ইনস্টাগ্রামে আপনি কয়েকজন মডেলকে অনুসরণ করে থাকেন। তাদের ফ্যাশন স্টাইল আপনাকে আকৃষ্ট করে। নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে যখন তাদের ছবি আপনি দেখেন, তাদের জায়গায় নিজেকেই কল্পনা করতে আপনার ভালো লাগে। তাই আপনি যখন কোনো ক্লদিং স্টোরে গেলেন নতুন পোশাক কিনতে, আপনার মনে পড়ে গেল ওই মডেলদের পরা পোশাকের ডিজাইন। আপনি ভাবলেন, এখনকার দিনে এমন পোশাকই তো ট্রেন্ড। তাই আপনি ...

একটি মিথ্যা ভালোবাসার গল্প

ছবি
“একটি মিথ্যা ভালোবাসা” মানুষকে জীবনে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায় , তার জীবন থেকে কেড়ে নেয় অনেক গুলো বছর, কেড়ে নেয় হাসি খুশী থাকা “সেই আমিটাকে”। ভালোবাসা তাকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে কিভাবে একা বেঁচে থাকতে হয়, তার চোখে ভালোবাসাকে “অপরাধী” করে দিয়ে গেছে। একটা সময় ছিল ভালোবাসার মানুষের সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করতো, সবসময় তাকে দেখার জন্য পাগলের মতো ছটফট করতাম। কিন্তু তখন তোমার এই মানুষটার জন্য একটুও মায়া হয়নি, আর এখন শুধু তোমার সাথে নয়, কারো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছে করেনা, আগে একা থাকলে দমবন্ধ হয়ে আসতো, কিন্তু এখন একা থাকতে খুব ভালো লাগে।  তুমি একটি শিশুকে বললে, "চকলেট খাবি, চল দোকানে যাই। " দোকান থেকে তাকে চকলেট কিনে দিলে। বললে বাড়িতে ফিরে খাবে। ছেলেটি বাড়ি ফিরে এসে চকলেটের প্যাকেটটা ধীরে ধীরে খুললো যাতে একটুও চকলেট নষ্ট না হয়। সে প্যাকেটে লেগে থাকা কিছুটা চকলেট বেশ তৃপ্তিভরে চেটে খেলো‌। এরপরে আসল চকলেটের কামড় বসাতে যাবে, এমন সময়ে, তুমি চকলেটটি কেড়ে নিয়ে পালিয়ে গেলে। এমন অবস্থায় ছেলেটির মনের অবস্থার কথা ভেবে দেখ। "প্রেম" ঠিক ওই চকলেটের মতন অত্যন্ত মধুর। আপনি শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার জ...

প্রিয় সিনেমা

ছবি
সারাটা সময়ে কাজে ব্যস্ত থাকার পরে সকল মানুষই চান অবসরের সময়টুকু নিজের মত করে উপভোগ করতে যা তার কায়িক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করে আবার তাকে সজীব করে তোলে আর এই অভ্যাসটা তার অন্যতম নেশায় পরিণত হয়। কর্ম সুবাদে দীর্ঘদিন একলা থাকার অভ্যাসে একটি বদ নেশাও আয়ত্ত হয়ে পড়ে, সেটা হলো সিনেমার নেশা। সত্যি বলতে গেলে আমার প্রিয় সিনেমার সংখ্যা অনেক, কারণ প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু অন্তর্নিহিত গুণের কারণে সে অন্যদের থেকে আলাদা। সেইজন্য আমার সদ্য দেখা একটা সিনেমার কথা উল্লেখ না করলে, আমার এই প্রবন্ধ লেখা সফল হবে না। কারণ এই ছবিটা আমাকে অন্তত ভাবিয়েছে। বইটাকে বিচার করতে হলে বুঝতে ও দেখতে হবে জীবনকে অন্যভাবে চিন্তা করে। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকে একটা শয়তানের বীজ। একটু সন্দেহের সার আর ঘৃণার জল পেলেই সেই শয়তান ছাড়া গাছ তড়তড়িয়ে বেড়ে উঠে মহীরুহ হয়ে পরিণত হয়। আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে লেখা উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক ‘ওথেলো’ সেই সত্যিকেই গল্পের মোড়কে তুলে ধরেছিল পাঠকদের কাছে। দেশ-কালের সীমানা পেরিয়ে শেক্সপিয়রের যে সমস্ত নাটক এখনও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক তাদের মধ্যে অন্যতম হল ‘ওথেলো’। আর এই নাটককেই বাংলার...