পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একটা বৃষ্টিভেজা বিকেল - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

হঠাৎ এক বিকেল বেলা গুমোট গরমে শ্রাবনের ধারা এলো ঝমঝমিয়ে বারান্দাটায়, আমি  জড়িয়ে পাশবালিশ,তখন ভাতঘুমেতে হঠাৎ করে তুমিও এলে একলা ছাতায়।  তখন তোমার মেরুন শাড়ি পাতলা ঠোঁট আগুনমাখা কোমল কোমর চৌম্বকীয়, ঝোঁকের বশে হুঁশ হারিয়ে ডিগবাজি খেলে হুকের বাঁধন শিকেয় তুলে সামলে নিও।  সবটা জেনেও তখন আমি ঘাপটি মেরে ভাবছি শুয়ে আদর করে তুলবে ডেকে, ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে আমার গালেতে উঠবি নাকি জল ঢালবো,বললে রেগে।  তাই শুনে আমি তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ম্যানেজ করতে ক্যাবলা হাসি দিলাম হেসে, তুমিও সটান মুখ ঘুরিয়ে,পর্দা তুলে উধাও হলে সামনে থেকে ঝড়ের বেগে ।  আমিও  তখন  বিছানা ছেড়ে নিলাম পিছু তুমি তখন বৃষ্টিফোঁটা মাখছো সুখে, পিঠ জড়িয়ে ঠোঁট ডোবাতেই উষ্ণ কাঁধে হঠাৎ জোরে কনুই- গুঁতো ঠেললে বুকে।  তারপরতে মুখ ঘুরিয়ে কঠিন মুখে বললে তুমি,সাহসটা যে বাড়ছে বেশ আমার তখন অবস্থাও বেজায় জটিল কাহিল তোমারকনুইগুঁতোয়, হচ্ছে মনে আমি শেষ ।  খেই হারিয়ে আমি তখন চুপটি করে চিবুক তখন মাখছে আমার নোনতা স্বাদে, সবটা দেখে তুমিও তখন মুচকি হেসে জল মুছিয়ে আলগা টানে আনলে কাঁধে।  বৃষ্টিভেজা বিকেল জমাট হলো ...

কষ্ট - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

অশ্রুজল অঝোরে পড়ে ঝরে, বুঝিনা তোমার  রকমসকম আমারও কিছু কষ্ট আছে, কষ্টগুলো অন্যরকম। কষ্টগুলো চোখের তারাতে  দিনের বেলায় স্বপ্ন বোনে। কষ্টগুলো ঠোঁটের ফাঁকে , মৃদু ঢেউয়ের শব্দে বাজে। মন জুড়ে বইছে শুধু , অস্থির এক সুরের মাতন  আমারও কিছু কষ্ট আছে, কষ্টগুলো অন্যরকম। কষ্টগুলো হৃদয়ে রেখে  বিশেষ কিছু অর্থ খুঁজি। কষ্টগুলো মনে বসে , ফিসফিসিয়ে ভালোবাসে। আমারও কিছু কষ্ট আছে, কষ্টগুলো অন্যরকম ॥

বকাঙ্গনা মন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী.

ছবি
বহু দিন পড়ে কলকাতায় ফিরে গরমে নাজেহাল হিয়া, নিউ ইয়র্কের আবহাওয়ার সাথে আকাশ- পাতাল তফাৎ।কোলকাতা অসহ্য আবহাওয়ায়, গৃহ বন্দী মনটা যেন  অতিষ্ট  লাগছে, একটু খোলা হাওয়ায় ঘুরে আসতে পারলে মনটা সজীব হত। তাই সাহস করে মার কাছে বেরোনোর আর্জি পেশ করেই ফেলল।  "মা প্লিজ রাগ করো না। আজ একটু university - তে যাই।" হিয়ার আবদার। মা হেসে বলল, "না বললে যেন শুনবি? যা ঘুরে আয়। যত্তসব পাগলামি। আসলে university মানেই বই পাড়া। আর সত্যি বলতে কী নূতন বইয়ের টান আলাদা, একটা সুন্দর ভালো  লাগা। কলেজে পড়ার সময় প্রায় দিনই আসা হত। এখন  প্রবাস জীবন - সেই সুদূর নিউ ইয়র্ক। জীবনে এখন  প্রাচুর্য আছে, আছে বিজুর মত caring স্বামী, উইকেন্ডে বেড়ানো - এত কিছু পাবার পরও হিয়া বই পাড়াকে খুব মিস করে। বই পড়া যে ওর প্যাশন। বাধ্য হয়ে একই বই বার বার পড়ত, কী করবে? নিউ ইয়র্কে বাংলা গল্প উপন্যাস কোথায় পাবে ও? বই পাড়ায় পৌঁছে, ওর চেনা দোকানে ঢুকলো। মনটা পুরো ভরে গেল - নূতন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে কী যে ভালো লাগে। তাই বই ঘাটার ছলে বয়স, স্থান, কাল ভুলে বইয়ের গন্ধ শুঁকছে - বই ঘাটতে  ঘাটতে," কিছু বর্তমান নুতন লেখকের বই দেখ...

পরমা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আর পাঁচটা বাংলার গ্রামের মতই, এটিও একটা গ্রাম - মূলত মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত মানুষের বাস। অপ্রতুল উন্নত রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা। এই পটভূমিতে শুরু -  "ওরকম চোরের মত উঁকিঝুঁকি না দিয়ে, ভেতরে আসলেই তো পারেন। আমি সামান্য নিরীহ স্কুল মাষ্টার - বাঘ ভাল্লুক নই, তাই আমাকে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই।"  কথাটা শুনেই চমকে উঠে পরমা । সে দিব্যি দেখছিলো যে লোকটা পিছন ঘুরে কাজ করছিলো। তাহলে দরজায় যে কেউ একজন উঁকি দিচ্ছে সেটা লোকটার কি পিছনেও একটা চোখ আছে নাকি? মাষ্টার মানুষ, থাকতেও পারে। কেদার বাবুর ছিলো। কেদার সেনগুপ্ত ছিলেন পরমাদের স্কুলে অংকের মাষ্টার মশাই। খুবই কড়া , তবে মানুষ হিসাবে খুবই ভালো। তিনি যখন বোর্ডে অংক বুঝাতেন তখন পিছনে কে কী করছিলো দিব্যি বলে দিতেন। তাই অন্য ক্লাশে যে যাই করুক না কেন কেদার বাবুর ক্লাসে সবাই শান্ত। তবে অবসর নেওয়ার সময় পিছনে দেখার রহস্যটা সবার সামনে বলেছিলো। আর সেটা হলো মোটা ফ্রেমের চশমা। আর তাছাড়া তখন ক্লাশে খুব বেশি ছাত্র- ছাত্রী ছিলোও না তাই বুঝতে খুব একটা অসুবিধে হতো না।  কেদার বাবু চলে গেলেন, তার পরের বছর বর্ষাতে স্কুলটা ভেঙে গেলো। গ্রামের ...

তুমিই বল ???? - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

আজ তুমি আছ আমার থেকে অনেক দূর ,, কতটুকু দূরে বলতে  পারো ? এতটাই দূর যেখানে আমার স্মৃতিগুলো তোমাকে আর স্পর্শ করে না , বার বার তোমাকে মনে করিয়ে দেয় না যে কেউ একজন তোমাকে ভালোবেসে ছিল,, তার নিজের চেয়ে বেশী ।.... আজ হয়তো  লক্ষ্যহীন  হয়ে  হেঁটে চলছি আমি , কোন ঠিকানায় গিয়ে উঠব অজানা ,, নিস্তব্ধ নীরবতায় নিথর দেহটা কালেই হারিয়ে যাবে একটু একটু করে ,, কিন্তু কেন এমন হল?? বলতে পার কী ?? তা-হলে কী এটাই  জীবন ?? না কি এটা একটা সত্যিকারের ভালোবাসার প্রাপ্য পুরস্কার ! তুমিই বল ????.

বিপন্ন বিশ্বাস - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সংসারের থালা - বাসনের শব্দর সাথে প্রিয় পত্নীর আকাশ কাঁপানো বিলাপ দিয়ে প্রতিটি সকালের শুভারম্ভ হয়। দীর্ঘদিনের একই সম্প্রচার - কথাগুলো সব প্রায় মুখস্ত হয়ে গিয়েছে। যদি এর সারাংশ নেওয়া হয়, তাতে প্রমাণিত যে অপদার্থ মানুষটার হাতে পড়ে জীবনে একটু শান্তি নেই - অথচ স্ত্রীর সফল ব্যবস্থাপনা ছিল বলে এ যাত্রা সংসার বেঁচে গেল। সুতরাং, অহেতুক তর্ক করা বোকামি।সেই রকম একটি সকালের শুরু হচ্ছিলো  অসীমের সংসারে। অসীমের স্ত্রী সীমা যেই বুঝতে পারলো যে অপরাধী জাগ্রত - ব্যস সম্প্রচারের তীব্রতা আরো বেড়ে গেল। বলছি - আমার কথাগুলি কি তোমার কানে যাচ্ছে ? বলি , এই সংসারে যত কাজ , যত দায়িত্ব সবই কি আমার ? সকাল হতে হতেই রান্নাঘরে ঢুকে চা করা , সকালের জলখাবার তৈরি করা , ঘরদোর পরিষ্কার করা এরপর রান্নার যোগার করা । কতবার বলেছি - মেয়ে এবারে এম.এ. পাস করেছে , মেয়ে কিন্তু এখন বড় হয়েছে , এবার মেয়ের জন্য একটি সুপাত্রের খোঁজ কর । কার কথা কে শোনে ? সেটা ও আমাকেই খোঁজ করতে হবে !! কেন ? বাবা হিসেবে তোমার কি কোন দায়িত্ব নেই ? কোন চিন্তা-ভাবনা নেই ? সামনের বারান্দায় খবরের কাগজটা পড়তে পড়তে অসীম স্ত্রীর সব কথাই শুনতে পেয়েছে । ত...

একটা সাধারণ প্রেমের গল্প - পার্থ  প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সারাদিন  স্বামীর সাথে খুব একটা কথা বলার সুযোগ হয়না রমলার - কারন স্বামীর অফিস আর তাতে তার কর্মব্যস্ততা প্রচুর। কাজের চাপে দম ফেলতে পারেনা, এরকম পরিস্থিতি।  কিন্তু অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় তার স্বামী তাকে রোজই একবার কল করবে অফিস থেকে বেরিয়ে ।এমনই এক মেঘাচ্ছন্ন সন্ধ্যা বেলায় রমেন তার রমলাকে কল করলো। অভিমানে মুখ ভারী করা বউ কল রিসিভ করেই বললো,  -- আমার খোঁজ-খবর তো আর আপনার রাখতে হবেনা।সারাদিন একা বাড়িতে কি করি না করি তাতো আপনি বুঝবেন না।থাকুন আপনি আপনার অফিস নিয়ে।  এই কথা গুলো রমলা তার স্বামী রমেনকে প্রতিদিনই শোনায়। সব অভিমান শুনে ক্লান্ত স্বামী হেসে উত্তর দিলো,  -- রাগ করো না সোনা ।এইতো এখনি বাড়ি ফিরবো।  -- আচ্ছা।আমার জন্য কি নিয়ে আসবেন?  -- সারা দিনের পরিশ্রমের ঝড়ানো শরীরের ঘাম আর এক পকেট ভালোবাসা।  খুনসুটির আলাপ শেষে বাড়ির রান্না করার জন্য টুকটাক জিনিসপত্রের নাম বললো।শেষে রমেনকে সাবধানে বাড়ি ফেরার কথা বলে কল কাটলো।  অনেক মেঘ আকাশে,বৃষ্টি আসবে কিছুক্ষনের মধ্যেই। আদিকাল থেকেই বৃষ্টির সাথে আমাদের প্রেম- বিরহের সম্পর্ক। বৃষ্ট...

বাঁধনছেড়া বর্ষণ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ভেজা মাটির গন্ধের মন মাতাল হাওয়ায় আবার তোমাকে অনুভব; ঘন কালো মেঘের বাতাবরণে ঢাকা গ্রীষ্মের প্রকৃতি মুহুর্মুহু চমকিত হয় দুর্দান্ত এক আগমনী অভিষেকে। অগ্নিঝরা প্রতীক্ষার কষ্টের প্রহরগুলোকে বিদায়ী বার্তা ছুঁড়ে দিতে অপার ধারায় উদ্ভাসিত তুমি এক দেবদূত... প্রতিটি ধারার মাঝে মিশে থাকা তোমার অস্তিত্বকে মেখে নিই তৃষ্ণার্তের সুতীব্র পিপাসায়। উদার দাক্ষিণ্যে ধন্য হয়ে ওঠে পথ প্রান্তর, জয়বার্তা শুনতে পাই তোমার অনবদ্য কর্মকান্ডের । মুগ্ধতার রেশ রেখে যাই... জানালার আর্শিতে ফুটে ওঠা বিন্দু বিন্দু স্বেদকণিকায়। তরুণীর এলোমেলো একরাশ খোলা চুলের মায়াজালে ডুবে থাকে তোমার একান্ত সৃষ্টির অতৃপ্ত নিদর্শন । কর্দমাক্ত কিশোরের হাতে দাবদাহের মুক্তি তুলে দিয়ে পরিপূর্ণ তুমি মেতে ওঠো বর্ষণের উদ্দাম হোলি উৎসবে। নিষেধের রক্তচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে, ছাদের এককোণে চুপি চুপি স্নাত হওয়া দুরন্ত কৈশোরকে, মাতিয়ে দিয়ে যাও তুমি দ্বিধাহীন প্রশ্রয়ে। তোমার আগমনী সুরেই বেজে ওঠে অশ্রুত ঝঙ্কার বাঁধনছেঁড়ার দুঃসাহসী অনুভবের...

রৌদ্র ছায়া - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সময়টা প্রায় বিকেল হয়ে এসেছে, অপরাহ্ন বেলার রোদও উজ্জ্বলতা হারিয়েছে  এবং উত্তাপ কমেছে। ক্লান্ত মন শ্রান্ত দেহে  আলিপুর সিভিল কোর্ট থেকে বেরিয়ে এলো দুজনে। রাজ বললো, ভালো থেকো। মিতা হালকা হেসে উল্টোদিকে হাঁটা দিল। দুজনে  দুজনের  অজান্তে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে এগিয়ে গেলো বাস ধরতে। আজ শেষ হয়ে গেল ওদের বিবাহিত জীবন। এখন বেঁচে থাকা ওই দুধের শিশুটির সংস্পর্শে। ডিভোর্সের এই প্রাপ্তির জন্য মামলা লড়েছিল ও। রাজের বাড়ি থেকে বাচ্চা চুরির অভিযোগে পুলিশের কাছে কমপ্লেইনও করেছিল ওর বিরুদ্ধে। কিন্তু সব শেষে জিত হয় সত্যের। এখন  ওর একমাত্র লক্ষ্য কিভাবে সন্তানকে বড় করে তোলা যায়।  এভাবে লড়াই করতে করতে কেটে গেছে বছর দশেক। মিতা নিজের বেসরকারি চাকরিতে ভর করে গুছিয়ে নিয়েছে সবকিছু। এর মধ্যে একমাত্র ভরসার  স্থল  বাবা চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে। বাবা মারা যাওয়ার পর ছোট্ট ফ্ল্যাটে মা কে এনে রেখেছে । ছোট্ট দীপ এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। মা অনেকবার করে বলেছে আবার বিয়ে করতে, ছেলেটা ছোট থাকতে থাকতেই। কিন্তু আর ওই পথ মাড়াতে চায়নি ও। কিন্তু মাকে দমিয়ে রাখা ভারী মুস্কিল হচ্ছে ইদানিং।...

তোমাকে যে আসতেই হবে........- পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

তুমি আমার কল্পনায় আসো, বাস্তবে আসো না, স্বপ্নে ভালোবেসে চুম্বন করো, সমর্পিত হও না। আমি জানি তুমি আসবে, ঠিক আসবে এসে আমায় তোমার হৃদ-কোলে নেবে তোমাকে যে আসতেই হবে।  তুমি আমার কল্পনায় আসো, বাস্তবে আসো না স্পর্শ সুখে ঘুম ভাঙিয়ে দাও, অথচ তুমি অধরা,  আমি জানি তোমার ঠোট আমাকেই চায় কাছে এসে তুমি সিক্ত কর আমায় তোমাকে আসতেই হবে। বর্ষা হয়ে সিক্ত কর, তবু অন্তর শূন্য থাকে প্রখর তাপে আমায় পুড়িয়ে  মারো , শুধু অধরই ছবি আঁকে, খরস্রোতা আমি, তবু  কেন ত্রিমুখী তুমি  আমি অভয়দাতা , মনোভিলাষ তুমি জান তোমাকে যে আসতেই হবে মনমোহিনী,স্বরূপিণী তুমি বিদুষী নারী, তোমার পানিপ্রার্থী আমি নন্দিনী,   তোমাকে যে আসতেই হবে........”

সমাধিস্তম্ভ লিপি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

রাজপথের ঝলমলে  সাদা আলোয় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটির সাথে ফেরার পথে প্রতিদিনই ভাবি কুশল বিনিময় করার কথা। ভাবি জিজ্ঞেস করবো ভালো আছে কী সে এই আদিম সাজে শীতের রাতে। কথা হয় না, পথে যেতে যেতে দূর থেকে দেখি তার অনাবৃত দেহে খেলা করে দুষ্টু চাঁদের আলো, কম যায় না সাদা আলোও, কৃষ্ণচূড়ার  অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করি অবশেষে একদিন তাকে জিজ্ঞেস করি কেমন আছে সে কৃষ্ণচূড়া  জানায়, সে ভালো আছে সর্পিল জীবন নিয়ে যেহেতু জন্মায়নি সুতরাং সে গাছ হয়েই  বাঁচে  চাঁদ  আর সাদা আলোর প্রেমে মাখামাখি অসম্মানীতাকে একা রেখে আমি ফিরে আসি গাছের মত আমিও লিখি আমার যাপিত জীবনের সমাধিস্তম্ভ লিপি  প্রেমময় আকাশের তলে আমিও ভালোবাসি ভালোবেসে ভালো আছি।   ১৭/০৮/২০২১

স্বাধীন স্বদেশ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

পুরানো ইতিহাসকে একটু খুঁজলে,সামনে এসে যায় স্বাধীনতা সংগ্রামী মানুষদের কথা। বইতে পড়া , লোকমুখে শোনা এদের বিজয়গাথা, দেশকে ভালবেসে শহীদ হয়েছেন মহান ব্যক্তিরা। এ দেশ দেখেছে নির্ভীক তরুণদের মুক্তির সংগ্রাম স্বাধীনতাকামী শহীদের এ ভারত  তোমায় প্রণাম। স্বাধীনতা মানে নয় শুধু পতাকায় ছয়লাপ, স্বাধীনতা মানে নয় শুধু তেরঙ্গায় সাজে চারদিক স্বাধীনতা মানে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালে রোজ প্রাণের মূল্যে শত দেশপ্রেমিক বীর সৈনিক । এসো এসো ভুলি হাত ধরে সবার পরাধীন যত হিংসা, বিভেদ ও বিদ্বেষ স্বাধীনতা জানে বলিদান - রক্তের কত দাম,আমার ভারত প্রিয় স্বাধীন স্বদেশ । এই মাটিতে জন্ম আমার , এই জল হাওয়ায় বৃদ্ধি, হাজার  দৈন্য সত্ত্বেও এই দেশকে আমি ভালোবাসি।

কঠিন সময় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

একজন কবির চোখে  প্রতিটি মুক্ত শব্দই এক একটি কবিতা! একজন মানসিকভাবে বন্দী কবি কি মুক্ত শব্দের স্রষ্টা হতে পারে?  স্বাধীন স্বদেশে এখন কঠিন সময়! এক একটি শব্দ কলমের  প্রসবপথ থেকে বের হতেও ভয় পায়। রুদ্ধ অনুভূতি হৃদয়ের দেয়ালে   দুঃস্বপ্নের ছায়ায় আঁতকে ওঠে।   কবিতা এখন আর সৃষ্টিসুখের উল্লাসে উল্লসিত হয় না- নিজেই খুঁজে ফেরে শৃঙ্খলিত এক একটি কৃষ্ণ গহ্বর। এর ভিতর থেকেই জন্ম নেয় একজন প্রতিবাদী , সত্য, ন্যায় আর সুন্দরকে বুকে নিয়ে মুক্ত মনের স্বাধীন চিন্তার আশা আমৃত্যু ছড়িয়ে বেড়াবে যে। অপেক্ষায় থাকে সবাই।।

হঠাৎ দেখা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
জীবন বড় বিচিত্র। এর প্রবাহ কোন দিকে বইবে, এটা আমাদের অজানা। আমরা তো ভাগ্যর হাতে ক্রীড়নক - সময়  আমাদের যেভাবে চালনা করে আমাদের তাতে গা ভাসোনো ছাড়া  আর কোনো উপায় থাকে না। তবু  তার মধ্যে থেকে যায় কিছু চমক, কিছু মজা, কিছু আনন্দের ঘটনা। এরকম একটা ঘটনা - রৌদ্রজ্জল সকাল, প্রায় বেলা ১০টা - সাড়ে ১০টা হবে। অফিস টাইম তবুও রাস্তায় লোক জন বলতে  অফিস যাত্রীই বেশি। বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম গন্তব্যের বাসের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরে বাসের দেখা মিললো।বাসে উঠতেই চোখ পড়েছিল। জানলার পাশে বসে মেয়েটা। একটাও বসার জায়গা খালি নেই, মেয়েটার পাশে লেডিস-সিটের জায়গাটা খালি। দৃষ্টির একটা তরঙ্গ আছে যেটা মেয়েরাই বুঝতে পরে , মেয়েটা মুখ ফেরালো। ‘আরে তুমি?’, একসঙ্গেই বলে উঠল তারপর। ‘কবে এলে?’ ‘এই তো কয়েক দিন হল , কিন্তু তুমি এখানে? শুনেছিলাম অবশ্য যে কাকু বদলি হয়ে এসেছেন। ভেবেছিলাম কাকু একাই...’ কথা পুরো শেষ না করে হেসে উঠল রূপসা , ঝরঝরে হাসিটা কতদিন পরে। ঘোর লেগে গেল রূপেশের । কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে গেল স্মৃতির অতলে - ছোটবেলায় সাইকেলের সামনে, কলেজ জীবনে মোটরবাইকের পেছনে। ছোটবেলায় ভোলাদার দোকানের ঝাল ...

কল্পনার রূপে তুমি.... - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দমকা হাওয়ায় যখন উড়ে গেলো তোমার দ্বিবর্ন শাড়ির আঁচল- কপালের উপর আছড়ে পড়লো তোমার উদাসী চুল- তোমার আত্মসমর্পণে তখন মনে হলো তুমি যেন ঠিক একজন দেবী মধ্যাহ্ন গগনের মধুকর অবনী।  ঘাড়ের লাভ সাইন বাদামী তিলে যখন তুমি তোলো কোনো বৈকালিক রাগ তখন তোমার ভ্রুর ভাঁজে ভাঁজে শুরু হয় গোপন প্রণয়ের কানাকানি।  প্রিয়া তুমি অমল প্রান্তরে কোমল ঘাসের আড়ালে - লুকিয়ে থাকা এক হীরকখণ্ড- সারাদিনের মায়াময় রৌদ্রের নরম আলোতে রচিত নিবিড় নীলিমার মমতা।  জানো কি তুমি ভালোবাসি বলবার আগেই ফুলের সুবাসে শুনতে পাই ভ্রমরের গুঞ্জন খুলে যায় প্রাসাদের অক্ষম স্থবির মরচে পড়া দ্বার ।  ভালোবাসার তাপে বিবিধ ফুলের সুবাসিত  মালার সংহতি হও- মলিন নৈঃশব্দ্যের একক সাগরে নিভৃত ধ্যানমগ্নতায় প্রকাশিত হও- তুমি আমার প্রস্ফুটিত বিশুদ্ধ কমলসোহাগী জলের বুকে জলছবি দীপ শিখা আলোকিত ধুপসন্ধ্যার সিঁড়ি করতলে রাত্রির, চিবুক ছোঁয়া মায়াবিনী। তোমার–আমার ভালোবাসায় দূর হোক প্রেমহীনতার অন্ধকারের শাণিত বিষাদ।

তোমায় ভোলা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ইচ্ছে করলেই কি কাউকে ভুলে যাওয়া যায়? কি জানি হয়তো যায় - আমি ভুলে গেছি তোমায়, শুধু কিছু বিবর্ণ স্মৃতি রয়ে গেছে মনের মাঝে, হয়তো এই স্মৃতি গুলোও একদিন মুছে যাবে। ভুলতে চাই না, তবু  ভুলতে হবে যে তোমাকে কেন জানো স্মৃতি গুলো আর থাকতে চায় না বন্দী হয়ে আমার কাছে - আমাকে মুক্তি দিতে চায় তোমার এই স্মৃতি গুলো । জানিনা কেমন করে তোমার  স্মৃতি গুলো জেনে গেছে, আমি আর বেশী দিন নেই   ধরিত্রীর বুকে । তাই ওরা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চায় বার বার । কি অদ্ভুত দেখো আমি এতদিন স্মৃতি গুলো বেড়িয়েছি বয়ে , কাল আমি কারো  কাছে থাকবো হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি হয়ে। কি অসীম  অপার লীলা-খেলা এই ধরিত্রীর । অপবাদহীন তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি, লুকিয়ে রাখিনি আমার হৃদয়ের অন্তস্থলে । অনেক আগেই তুমি  গেছো চলে তবুও আজ আবার বললাম - যত দূরে যেতে চাও তুমি, চলে যাও বাঁধা দেব না আমি____।

আমার চাহিদা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

তুমি কি আমার জন্য বিশাল নীল আকাশ হবে  উড়তে ইচ্ছে হলে আমি তোমার বুকেই উড়বো, আমি চাই তুমি আমার জন্য প্রখর রোদ হও পুড়তে চাইলে আমি তোমার তাপেই পুড়বো, আমি চাই তুমি আমার জন্য স্রোতস্বীনি নদী হও তৃষ্ণার্ত হলে আমি তোমার মাঝেই ডুববো, আমি চাই তুমি আমার জন্য উদ্যমী জীবন হও লড়াইয়ের জন্য আমি তোমার প্রেরণা চাইবো, আমি চাই তুমি আমার জন্য শ্বাসবায়ু হও, গ্রহণ - বর্জনের ছন্দে আমি তোমাকেই খুঁজব...।।

যদি....... - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

যদি তুমি নীরবতা ভালোবাসো- শান্ত সমুদ্রের গভীরতার নীরবতা নীল আকাশের বিশালতার নীরবতা, যদি তুমি বৃষ্টি ভালোবাসো- শ্রাবণের মেঘের মন খারাপ করা বৃষ্টি, অঝোর ধারায় ঝরতে থাকা বৃষ্টি, যদি রোজ স্বপ্নে আসতে পারো শেষরাতে জেগে ভাবতে বাধ্য করো, তবেই তোমাকে ভালোবাসি। যদি একটা মুহুর্ত তৈরি করতে পারো মায়াভরা একটা ক্ষণ,  অতুলনীয় মায়ার, যদি ক্লান্ত দুপুরের অলস ভাবনায়  আসতে পারো যদি হতে পারো  অলক্ষ্যে গেয়ে যাওয়া প্রিয় সুর তবে হেঁটে যেতে পারি দূর হতে দূর - বহুদূর। যদি হতে পারো সীমাহীন অপেক্ষার শেষ ইচ্ছা অনুভবের অন্তহীন অনুভূতি অগোছালো অবিন্যস্ত কবিতার প্রতিটি লাইন তবেই তোমাকে ভালোবাসি।

আমার আমি...... - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

আমি একজন অতি সাধারণ, আমার সামনে পিছনে সমাজের হাজার বন্ধন। আমি অত্যন্ত অগোছালো, গোছাতে গিয়ে বাস্তবের আঘাতে জর্জরিত। আমি অসম্ভব বেহিসাবি,হিসাব রাখতে গিয়ে  আবার হিসাবের তালগোল পাকিয়ে ফল হয় শূন্য। যদিও আমি স্বাধীন, সর্বত্রই আমি আবার মানসিকভাবে পরাধীন। আমি আমার মতো, পরক্ষনেই আমি হয়ে যাই আমি থেকে বিচ্যুত। আমি ভাবি  আমি যাযাবর, অথচ আমার যাওয়ার মত নেই কোন প্রান্তর। আমি এক দিশাহীন, যেন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকা এক বদ্ধ উন্মাদ। আমি আমাতেই বাঁচি, আবার হতাশায় মরণ কামনায় হয়ে যাই মাতাল।