শহরের কোণায় ছোট্ট কফিশপটা এখনও আছে। কাঠের দরজা, হলুদ আলো, আর জানালার পাশে সেই টেবিল। ঋদ্ধি অনেকদিন পর ঢুকল ভেতরে। কফির গন্ধটা এক মুহূর্তেই ফিরিয়ে দিল কয়েক বছর আগের এক বিকেলে। সেদিন সামনেই বসেছিল অনন্যা। হাতে ধোঁয়া ওঠা কাপ, চোখে একটু অভিমান। “তুমি সবসময় দেরি করে আসো,” হেসে বলেছিল সে। ঋদ্ধি বলেছিল, “তবু তো আসি।” তারপর অনেক কথা হয়েছিল— স্বপ্ন, ভয়, ভবিষ্যৎ, আর মাঝেমধ্যে নীরবতা। জানালার বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি। অনন্যা হঠাৎ বলেছিল, “কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলোকে থামিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে।” ঋদ্ধি উত্তর দেয়নি। শুধু তার দিকে তাকিয়ে ছিল। আজ সেই একই টেবিলে বসে ঋদ্ধি বুঝল— মুহূর্ত থামে না, কিন্তু তাদের গন্ধ থেকে যায়। ওয়েটার কফি রেখে গেল। ঋদ্ধি ধীরে ধীরে কাপটা হাতে তুলে নিল। কফিশপের সেই বিকেল শেষ হয়ে গেছে বহু আগেই, তবু তার উষ্ণতা এখনো ঠান্ডা হয়নি। আমাদের জীবনে কিছু জায়গা থাকে, যেখানে ফিরে গেলে মনে হয় সময় থেমে আছে। একটা কফিশপ তেমনই জায়গা হতে পারে। কফির কাপ, নরম আলো, জানালার ধারে বসা মানুষ— সব মিলিয়ে যেন একটা আলাদা জগৎ। কফিশপ শুধু পানীয়ের জায়গা নয়, এটা গল্পের জায়গা। বন্ধুত্বের শুরু, প্রেমের স্বীকারোক্তি, ...