পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রাতের অতিথি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ঘুমন্ত শহর, নিঝুম রাজপথ ল্যাম্প পোস্ট, রাতের নির্জনতা পাড়ার পার্ক, কিংবা ফাঁকা ফুটপাথ কেটে যায় অভিশপ্ত জীবন, দীর্ঘ রাত। রাতের আগন্তুক ওরা খুঁজে বেড়ায় মুক্তির স্বাদ! খোলা আকাশ মাথার উপর সামিয়ানা উপহাসের হাঁসি হাঁসে নির্বাক চাঁদ। হ্যালোজেন ভেপারের আলোর নীচে খোঁজে বেঁচে থাকার সুখ, নূতন ভোরের অপেক্ষায় ঘরহীন কিছু উটকো মুখ! এখানে জীবন ধোয়াশায় ভরা, বর্ণহীন! বৃষ্টি কাদা জল আর ভেজা বাতাস কেটে যায় কত নির্ঘুম প্রহর, অভিযোগহীন! গরম হাওয়ায় কি কনকনে ঠান্ডায়, কংক্রিটের বিছানায়, চাদর বিহীন! এলিয়ে দেয় ক্লান্ত দেহখানি, অচেনা অজানা কারো কাছে তবু ওরা বাঁচে, হয়ে মুক্ত, স্বাধীন! ব্যাঙাচির জীবন, কি আসে যায়! অট্টালিকা আকাশ ছোঁয়া দূরে কিংবা খুবই কাছে নানা রঙীন আলোর ঝলকানি!

কে তুমি? - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ঘন বর্ষার নিঘুম এই রাতে তোমার কথা কেন পড়ছে মনে? কে হও তুমি আমার? কেনই বা তোমার কথা মনে পড়ছে বারবার? কোন ধরনের বন্ধন বা গ্রন্থি কি ছিল আমাদের? নাকি এ শুধুই মায়া! ভালবাসার যন্ত্রণা! বর্ষা যত ভারী হচ্ছে, রাত যত গভীর হচ্ছে- তোমাকে কাছে পাওয়ার বাসনা কেন তত তীব্র হচ্ছে? তুমি কি আমার প্রাণের আত্নীয়? নাকি বিশেষ এমন কেউ,  তুলনাহীনা , অদ্বিতীয়া ! কি হও তুমি আমার? বৃষ্টি, গোধূলির রক্তরাগে কিংবা জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে- শুধু তুমিই কেন আমার মনের গহীনে উঁকি দেবে? কেন আমার  ভাবনা গুলোয় শুধু তুমিই থাকবে? তোমাকে কি ভুলতে পারব না?মন থেকে সরাতে পারবনা? কে তুমি? কি হও আমার?

স্মৃতিতে আঁকা প্রেম - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
পাখিও শীস দিয়ে ডাকে  সমুদ্রের ঢেউও শোনায় গান ঝাউয়ের বাগান পিছনে ফেলে এসে প্রণিপাতে সারি স্নান।  তবে যে বললে, তোমার চোখেও বন্ধ হয়ে আছে পৃথিবীটা বলো , সেখানে আছে কি আকাশ নীল ভুলের বেশে ?  ভুল থেকে ভুলে ফিরে আমিও দেখেছি একা মেঘপালকের সোঁদা অক্ষরে বিরহী বিষাদ রেখা  কিছু গূঢ় কথা, ছিলো কি আমারও তোমারও কি কিছু গান? ছন্দে, বর্ষার বৃষ্টি - ভেজা গ্রামোফোনে অস্পষ্ট অস্ফুট- আনচান!

রায়বাঘিনী রানী ভবশঙ্করী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
রায়বাঘিনী রানী ভবশঙ্করী ছিলেন একজন বাঙালী কন্যা । পিতা চাইলে তার কন্যাকে আর দশটা কন্যার মতো পালন করে বিয়ে দিয়ে কন্যাদায় মুক্ত হতে পারতেন। নিজেও পুজো পাঠ করে নিরূপদ্রব জীবন কাটাতে পারতেন। রাজার উপরে নিজের রক্ষার ভার ছেড়ে দিতে পারতেন।না তিনি তা করেন নি। রাজার সাথে তিনিও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভাগ করে নিয়েছেন দায়িত্ব। নিজের কন্যাকেও গৃহকোনে বন্দী হতে দেননি। নিজের মতো করে বীর করে তুলেছিলেন সেই কন্যাকে। বীর কন্যা তার সম্মান রেখেছিলেন। প্রতি পদে নিজেকে যোগ্য প্রমান করেছেন। প্রতিটি সময়ে নিজের ভালো বুঝেছেন, পরিবারের ভালো বুঝেছেন সাথে রানী হয়ে প্রজাপালনের গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বামী গর্বে ছিলেন গরবিনী তাই সহমরনে যেতে গিয়েও দেশের ভালোর জন্য আবার মন দিয়েছেন রাজকার্যে। পুত্রকে যোগ্য করে তুলে, রাজ্যকে নিষ্কণ্টক করে তবেই তিনি মুক্ত করেছেন নিজেকে। স্বামী মারা যান যখন, তখন তিনি যুবতী। কিন্তু নিজেকে পুত্র ও সমাজের কাজে ব্রতী করেছিলেন।প্রচুর ক্ষমতার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন নি। নিজের আদর্শ থেকে বঞ্চিত হন নি। আদর্শ নারীবাদী মহিলা তিনি, সন্দেহ কোথায়... রানী ভবানীশঙ্কর কি প্রতিট...

প্রথম বন্ধু - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বন্ধু তুই কোথায় আছিস, কেমন আছিস বল? তোর কথা  পড়লে মনে চোখে আসে জল। সেই তো ছিল মজার সময় খেলাধুলা - লেখাপড়ার দিন, দিনে দিনে ঝাপসা হচ্ছে ছেলেবেলার ঋণ। কেমন করে যাচ্ছে ক্ষয়ে প্রাণের বাঁধন সেই, প্রথম বন্ধু তোকে ছাড়া একলা একা আমি ভালো নেই। আয় না আবার তালের পাতায় বানাই সেই বাঁশি, হাওয়ায় হাওয়ায় বাঁশির সুরে বলি ভালোবাসি।

গ্রিটিংস কার্ড - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
নতুন বছরের  সকালে দিন শুরুর মুহূর্তে দিতে চাই তোমাকে নিজের হাতে লেখা শুভেচ্ছা, তাই এই চিঠিতে করছি দান। নতুন স্বপ্নে হারানো এই দিনে কাটুক রাত্রি স্মৃতির সোনার স্পর্শে সুখ, হাসি আর প্রেমের ছোঁয়ায় ভেসে যাক আমাদের স্বপ্নিল প্রাণ।

অবসর - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দিনের শেষে মিলে গেছে আজ অবসর , সব প্রয়োজন গেছে ফুরিয়ে। ভুলে গেছি আজ সময় আর সব কাজ আলস্যের ছায়া জড়িয়ে। মুক্ত আকাশ বুকে নিয়ে আজ প্রথম - অবসর। মনে তাই অবসর যাপনের আয়োজন। মিটে গেছে আমার সব প্রয়োজন।এখন শুধুই অবসর,বহু প্রতীক্ষার পর। বিকালের মিষ্টি রোদ মিষ্টি হলো ফাল্গুনে ঝরাপাতা ঝরাফুলে মিষ্টি মিষ্টি ভালোবাসার আগুনে ঝলসানো আধো আঁধারে। বঞ্চিত চাওয়াগুলো সঞ্চিত মনে আজও তারা বন্দিনী অনুশাসন ও ধর্মের চেতনায় বাঁধা আছে মায়াতে। সন্ধ্যের আবছা আলো আর ছায়াতে ফাগুনের ধুলো এসে তোলে ঝড় আধমরা মনে। অবসাদ শেষ হয় গরম চায়ের লিকারে আর কাব্যরা ব্যালকনি নির্ভর। বহুদিন পর আজ অসময়ে মিলে গেছে - অবসর।

কলকাতা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আমার শহর কলকাতা যেখানে গড়ে উঠেছে বহু আকাশচুম্বী বিশাল অট্টালিকা , তারই পাশে পায়ে চলার রাস্তার ধারে , ত্রিপলের ছাউনির , পাবিরে দেখা। মাটির তলা দিয়ে চলে মেট্রো রেল হয়েছে শান চকচকে বড় রাস্তা , তার সাথে লড়াই  করে চলছে মানুষের টানা  হাত রিক্সা। আছে কত বাতানুকূল রেঁস্তোরা খাচ্ছে বসে কাটলেট , মোগলাই , আবার পথের ধারে কয়লার উনুনে  ভাজছে বসে চাওমিন , ফিসফ্রাই। বড় বড় হোটেলে খেয়ে মানুষ , দাম দিচ্ছে হাজার হাজার টাকার বিল , আবার পথের পাশে ত্রিপলের হোটেলে , পাওয়া যায় পনেরো-কুড়ি টাকার মিল। আলো আর কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল বিশাল বিপনী , আবার ফুটপাতের উপর হকার পসরা -- ফেলেছে , জামা-প্যান্ট , আয়না-চিরুনী। কেউবা আবার মদের পানশালায় উড়ায় হাজার হাজার টাকা , সেখানে পথের ধারে হাত পেতে --- বসে ভিক্ষুক , পাবি তারও দেখা। ঘুরবি ফিরবি দেখবি যত হাসবি  তত মনে মনে , আমার শহর তিলোত্তমা কলকাতা সেজেছে নানা জাতির সমন্বয়ে ।

সাধারণ মানুষ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কষ্টগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি যদি দুঃখ একটু কমে, ভয়গুলোকে মাটি চাপা দিয়েছি আদর করে যদি মনের সাহস একটু বাড়ে। লোভের বাসায় আগুন দিয়েছি রেগে একটু মানুষ হবো বলে! অহংকারের গুদামঘরে দিয়েছি বিস্ফোরক জ্বেলে সাধারণ একজন মানুষ হবো বলে। কষ্টগুলো অনেক কষ্টে ছুঁড়ে ফেলে মনের দুঃখ ফেলেছি ঝেড়ে, হতাশাগুলো মনের সুখে বিক্রি করে দিয়েছি অর্থ পিশাচ শোষকদের কাছে। আমার এখন কোনো কষ্ট নাই সাধারণ একজন মানুষ হবো বলে। আমার কোনো যন্ত্রণা নাই লোক ঠকানো দেখে। কষ্টগুলো শুধু-শুধু বাড়ায় মনের জ্বালা তাই যেটুকু কষ্ট অবশিষ্ট ছিল মনে আজ সকালে তা ঝাঁটা পেটা করে মনের সুখে ফেলে দিয়েছি নর্দমার জলে। সাধারণ মানুষ হবো বলে লোক ঠকাতে ব্যাকুল হই না শীত-গ্রীষ্মকালে, পরের ধনে পরশ্রীকাতর মন হয় না কোনো এক বসন্তের সকালে। সাধারণ একজন মানুষ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি প্রতিমুহূর্তে, কারও সুরম্য -ভবন দেখে উচ্চরক্তচাপে আমি ভর্তি হই না কোনো বিলাসী-হাসপাতালে। আমি সাধারণ মানুষ, আর খুব সাধারণ একজন মানুষ। আমার কোনো কষ্ট নাই, আমার কোনো দুঃখ নাই, তবে আমি মানুষ বলে নিজের কাছে নিজেই লজ্জা পাই । কষ্ট বেচে আমি এখন সুখের মহাজন, আম...

স্বপ্নের বিকেল - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
স্বপ্নের বিকেলে  তুমি থাকবে চায়ের কাপে ক্লান্তিগুলো  ঢেকে রাখবে জটিল কাজের চাপে! রাখব দূরে দুঃখগুলো উড়িয়ে সুখের ঘুড়ি, শক্ত হাতে ধরব লাটাই খেলব লুকোচুরি! রাত্রি বেলা জোছনা মাখা ঘুম জড়ানো চোখে এক পলকে থাকব চেয়ে কে আমারে রোখে। খানিক পরেই রাত্রিটাকে হারিয়ে দেবে কেউ মনের উঠোন থাকবে ভরে  এক সমুদ্র ঢেউ। ফুলের বাগানে মৌমাছি হয়ে ঘুরবে কুসুম গলি, জেনে রেখ তুমি আমার প্রথম ফোঁটা কলি। হৃদয়পুরে  হচ্ছে বর্ষণ, বইছে অঝোরধারা, কেমন করে বাঁচব বল এই তোমাকে ছাড়া!

শেষ না শুরু? - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
দিনের শেষে  আমার  স্বপ্নের চাষ শুরু হয়। উজ্জ্বল রবির আভা যখন মিইয়ে যায়, গোঁধুলীর শুরুতে ঝাপসা বীজের বীজতলা বসে; আলোর শেষ যে বিন্দুতে , অন্ধকার তো শুরুই হয় এখানে!  হতাশার বানে যখন স্বপ্ন গুলো থৈ থৈ- আমি ঘুরে  দাঁড়াই আবার স্বপ্নচারী হবো বলে। হোক না একটা স্বপ্ন চুরমার, ভাঙুক না হাজার টা; আমি তো করি স্বপ্নচাষ । যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু স্বপ্নখেলা। স্বপ্নের শেষ সইবো না,শেষেই শুরু। শেষেই শুরু অথবা শুরুতেই শেষ।

আমার ভালোবাসা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কে দেবে আমায় একমুঠো বিশ্বাস কে শুনবে আমার বুকের ঘন নিঃশ্বাস ?? তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।। কুয়াশার চাদরে ঢাকা কত চোখের জলে লেখা আমার মনের কত কথা হতাশা, গাঢ় নীল ব্যথা ।। তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।। ডায়রীতে বন্দী এলোমেলো কবিতা প্রেমিকার আঁকা কাঠপেন্সিলের ছবিটা একদিন পাবে ঠিক ছন্দ ভাষা প্রেমিকের বোকা ভালবাসা ।। আমাদের ঠোঁটের কোনে হাসি ছড়িয়ে যাক শত রাশি রাশি, গাঢ় নীল-অন্ধকার ভুবনে ভোর হোক নতুন সূর্যের মিলনে ।। একদিন হাত রেখে তোমার হাতে শুরু হোক পথচলা সাজ-প্রভাতে মুঠো ভরা বিশ্বাস নিয়ে শত আশা আমার প্রেম, আমার পথচলা ।। তবুও মনে রাখি আশা একদিন আসবে আমার ভালবাসা ।।

সেই চোখ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
যদি কখনো খুঁজে না পাও , যদি সারা পৃথিবীর কোথাও আমায় আর না দেখা যায়, তবে তোমরা আমাকে খুঁজে দেখো সেই চোখের ভিতর। আমার যখন খুব বেশি আঘাত  পাই খুব করে কষ্ট হয়, তখন আমি বাস্তবতা থেকে পালিয়ে গিয়ে ; আমি সেই চোখের ভিতর ডুবে যাই। কি সেই স্বপ্নময় মায়াভরা চোখ! দৃষ্টিতে যেন কঠিন মরুভূমির তপ্ত বালুকাচরের উত্তাপ , আবার ক্ষণে ক্ষণে সাগরের বিশালতা ভরা এক অসীম নৈশব্দের গল্প। হঠাৎ হঠাৎ সেই কালো মেঘের দৃষ্টি , বৃষ্টি হয়ে ঝরে নামে তৃষিত ধরার বুকে; কখনো বা পাহাড় থেকে ভেসে আসে ঝর্নার মত। আমি সেই ঝর্নার জলে মন ভেজাই। সেই এক জোড়া চোখ, আমার নিজস্ব বাসস্থান । গোটা পৃথিবী যেদিন তীব্র যন্ত্রনায় আমার বিরোধ করে , এই পৃথিবীর সবকিছুই পর ভেবে দূরে ঠেলে দেয়; আমার তখন একমাত্র আশ্রয় হয় সেই গভীর চোখের  তারাতে , রাতের আকাশের সবথেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতই সেই মায়াবী চোখের মনি। সেই চোখ! কি এক বেদনা বিধুর হয়ে, সদ্য যৌবনা তরুণীর, না হওয়া প্রেমের উপন্যাস হয়ে যায়; আমি শুধু সেই উপন্যাস পড়ে যাই, পড়েই যাই। মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ব্যথা জাগানো হাহাকার জন্মে তার চোখের গভীরে, আমি ডুবে যাই সেই গভীরে , ব্যথার রাজ...

প্রতিবাদ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ইচ্ছে হলেই লিখতে পারি সুন্দর কথার কাব্য কি লাভ বল ?  হবো কি আমরা সভ্য ? স্বভাব যখন  অসভ্যতা- তারা কি আর পাল্টায় ইচ্ছে করে কষে মারি চড় তাদের গালটায় । রাজনীতির এই নোংরা খেলায় আমরা কেন বন্দী ? মাস্তানি আর বোমাবাজির ঝলকানিতে নিত্য করি সন্ধি । স্বাভাবিক জীবনের নাই নিরাপত্তা, শুধু অস্থিরতা । চাপা কান্নায় মানুষের মাঝে সমাধির নীরবতা । স্বার্থের চালে রাজনীতি চলে, আমরা তারই বলি । সুশাসন গেছে দূর ভাগাড়ে, মৃত্যুর হাত ধরে চলি । কোথাও দেখিনি মানুষের সাথে মানুষের এহেন নীতি । বলতে পারিনা, মানতে পারিনা ,এই নরকের ভীতি । আর মুখ বুজে নয়, বন্ধুরা মোর গর্জে ওঠ সবে । পশু নই মোরা, মানুষের মত বাঁচতে দিতে  হবে । মরতে চাইনা পেট্রোলে পুড়ে ,  বুলেটে কিংবা বোমে  স্বাভাবিকতার আলিঙ্গন চাই শীতল শান্তির ঘুমে । আমরা বিদ্রোহী নইকো কখন, আমজনতার দল ভুলে যান কেন জনতাই হলো শ্রেষ্ঠ বাহুবল। জীবিকার টানে বাঁচার তাগিদে পথে আসবো নেমে । আগ্রাসী রাক্ষসরা সব ভয়েই যাবে থেমে। বন্দুক নয়, নয় কোন বোমা , জেগে উঠো প্রতিবাদ আমরা জনতা ,আমরাই জয়ী হব,  প্রতিবাদ জিন্দাবাদ।

তোর জন্য - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
তোকে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে হয় মুঠোফোনের ওপাশ থেকে নরম গলায় তোর "এই শুনছো" শুনতে ইচ্ছে হয় ফোন ধরতে দেরী হলে তোর অভিমানী কান্না শুনতে ইচ্ছে হয় দুজন মিলে  যখন মধ্যরাতে আকাশ দেখতে ইচ্ছে হয় ঘাসের উপর কাশফুলের বালিশ পেতে জ্যোৎস্না পোহাতে ইচ্ছে হয় ভালবাসতে ইচ্ছে হয় খুব স্নিগ্ধ সকালে তোর কণ্ঠ শুনে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে হয় কাতর কণ্ঠে "প্লিজ কিছু তো খেয়ে নাও" শুনতে ইচ্ছে হয় তোকে খুব করে ভালবাসতে ইচ্ছে হয় পাশাপাশি হাটার সময় আঙুলের ছোঁয়া পেতে ইচ্ছে হয় শক্ত করে হাত ধরে তোর ঠোঁটের  কোনের কথা শুনতে ইচ্ছে হয় - 'অনেক বেশি ভালবাসি তোমায়'।

সেলফি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
প্রতিদিন ঘুম  থেকে উঠে সকাল সকাল ভাবতে চেষ্টা করি জীবন সমুদ্রের পার ধরে আছড়ে পড়া সময়ের হিসেবে আমরা সত্যি কি ভালো আছি? সুন্দরী নায়িকার মতো বিভিন্ন পোজে আমাদের ছবি প্রতিদিন  খবরে না বেরোক অনিয়মিত হলেও বেরোচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। যখন একা বসে ভাবি মনে হয় আমরা তো অনেক ভালো আছি কারণ আমাদের তো বলার মতো কিছু আছে আমাদের তো বলার মতো কেউ আছে , আমাদের তো পেটে ভাত আছে আছে মাথার উপর ছাদ। কিন্তু সেই মেয়েটা যে প্রতিদিন স্বামীর হাতে মার খেয়ে জীবনকে ভালোবেসে হাসে কিংবা সেই ছেলেটা জীবনের বাঁচার ইচ্ছেটা হারিয়ে তবু বাঁচে যে অসহায় গর্ভবতী ভিখারি প্রতিদিন রাস্তায় একলা হাঁটে প্রকৃতির ধ্বংসলীলার পর স্বজন হারানো মানুষ যখন কাঁদে  তাদের কি বলবেন  ? কখন ভেবেছেন যিশুখ্রিস্ট যাকে আমরা ঈশ্বর মানি তিনিও নিজের মৃত্যুকে নিজেই বয়েছিলেন নিজের কাঁধে তবুও অনেকটা যন্ত্রনা নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করেছিলেন ওদের ভালো হোক, কিন্তু কেন?কখনো কি তিনি জানতে চেয়েছিলেন কেন ভালো হবে ? কেন ? এই প্রশ্নটার মধ্যে হাজার উত্তর সাজানো। ভাগাড়ের নেড়ি কুকুরটাও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ছুটে যায় অদৃষ্ট...

সাদা কালো - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
হয়তো রঙিন নয়, নয় কোন রঙের ভান্ডার , কোন রং আর আমায় আলোকিত করে না, আমিও তাই প্রত্যাশাও করিনা, আমি  সাদা কালো চিন্তায় ভালো থাকতে চাই। যদি ঠিক হয়, যদি এই শর্তে বাধা হয়, রং ই হবে চূড়ান্ত মাপকাঠি, তাহলে সাদাকালো কি অদ্ভুত হবে? নাকি সব রং কে নাড়ানো যাবে? না আমি এখনো ভেবে দেখি নি, নিজের ভেতরটাকে জ্বালাতন করিনি, কারণ প্রতীক্ষার রং কিংবা আশা জাগানোর ছবি তো সাদা কালো হয়। ওপার থেকে আওয়াজ আসছিল, বলছিল যে সাদাকালো টা চলে না , কোন মায়া সাদা কালোকে জড়ায় না। এটা নাকি পুরনো অতীতের রং। তা আমি আবার একটু যুক্তিবাদী মানুষ, বললাম, কেন সাদা তো শান্তির রং? আর কালো তো খুবই সহ্য করে ,কথা বলে না তাহলে কেন চালানো যাবে না? এই যে আপনি খেয়াল করছেন না, সাদা কাগজের মধ্যে কালো কালি দিয়ে আমরা লিখছি আমাদের ইতিহাস, তবে কি ইতিহাস মূল্য হারাবে? আসলে হয়েছে কি, মানুষ এখন রং এর প্রতীক, চোখ সস্তার জাদুতে মাতোয়ারা, সামনে যা দেখে তাতেই খুশী হয়, নব রসিকেরা তো সাদাকালো কে পিষে মারে। আগে-পিছে ও থাকা মুশকিল, সমাজ নাকি আবার সচেতন? তাহলে রঙের খেসারত দেয় কেন বারবার? আমার কথাটা কি যুক্ত...

এখন নারী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী

ছবি
গ্রামের সেই মেয়েটি যে প্রথম যেদিন বাস থেকে নেমে এ কোলাহলপূর্ণ শহরে পা রাখলো ভিতরে কিছুটা ভয় কিছুটা সংকোচ থাকা সত্ত্বেও হালকা সুখের আমেজ, সাথে কিছুটা উত্তেজনা ছিল মন জুড়ে। ঠিক সময়ে ঠিক পৌছে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিজ ডিপার্টমেন্টে। জেনে নিলো তার বরাদ্দকৃত হোস্টেলের নাম। গিয়ে দেখলো এ যেন এক আরেক পৃথিবী। যার সাথে তার মায়ের বোনা ছোট্ট পৃথিবীর কোন মিল নেই। এখানে গণরুম আছে যেখানে সবাই মিলে থাকে। ক্যান্টিন আছে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে খেয়ে আসতে হয়। এখানে খাবার জন্য কেউ ডাকে না। প্রথম প্রথম কিছুটা অসুবিধা হলেও মেয়েটা উচ্চাশার তাগিদে চেপে মেনে নিয়েছিলো অনেককিছুই চোখ জুড়ে স্বপ্ন ছিল তা বাস্তবায়নের তীব্র আকাঙ্খা ছিল। তবুও মাঝে মাঝে চোখ নোনাজলে ভরে যেত বড্ড বেশি একা লাগতো। কিছু বন্ধু হাত বাড়িয়েছিলো তারই মাঝে দুএকজন হাত ধরতেও চেয়েছিলো! কিন্তু প্রথম বর্ষ ছিল মেয়েটি ভাবলো পড়াটাই হয়তো ভালো! হঠাৎ এক রাতে কিছু জরুরী কেনাকাটা সেরে হোস্টেলে ফেরার পথে মেয়েটি এক দল বখাটের পাল্লায় পড়লো কিন্তু এরাও নাকি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র তাদের মধ্য থেকেই একজন সহৃদয় হয়ে তাকে বের করে আনলো ...

এই পথ যদি না শেষ হয় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
তুমি এটা কি করে ভাবলে যে আমি একদিন অথবা অল্প কয়েকদিনের জন্য তোমার সাথে চলেছি। কেন ভাবলে বল? আমি তো কোথাও গেলে তোমার জন্যই যাব। আমি যেখানেই থাকি যেভাবেই থাকি। তোমার জন্যই থাকব? তুমি আমাকে নিয়ে ভাবো , অনেক ভাবো, আমি ভাবার জন্য তোমাকে অনেকটা পথ দেব, সাথে দেব জ্যোৎস্না ভরা আকাশ।কারন কি জানো – এই আমি আর কোন দিন আর কাউকে নিয়ে ভাবব না । শুধু তুমি ছাড়া । আমার সকল ভাবনায় তুমি স্থান করে নিয়েছ । আমার হৃদয়ের প্রত্যেকটি আনন্দে ব্যথায় । মন মন্দিরের গহিনে তোমার আওয়াজ। এই জন্যই বলি দেখ – আমি পাশে আছি – থাকবো । চোখের আড়াল হলে যদি তুমি ভুলে যাও আবার এসে স্মরণ করে দিয়ে যাব । আমি তো এক দিন অথবা এক বছর অথবা এক যুগের জন্য আমি তোমার কাছে আসি নাই। আমি এসেছি এই জনম তো বটেই পর জনমেও যেন তোমার দেখা পাই । তাহলে কেন তুমি অস্থির হয়ে যাও। কেন তুমি বার বার বল আমি চলে যাব চলে যাব । তুমি জানো না আমি যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আসি নাই । আমি মাঝে মাঝেই তোমাকে বলি – তুমি শুধু আমার পাশে থেক । সব চলে যাওয়াই – চলে যাওয়া নয় । তাহলে তো কবি লিখত না ...... চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়, বিচ্ছেদ নয়, চলে যাওয়া মানেই নয় বন্ধন ছিন্ন ...

প্রিয় ফুল - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
পৃথিবীর বুকে ফুঁটেছিল একটি সাদা ফুল মনের বিস্তীর্ণ সীমা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল মূল, পাঁপড়ির বলয়ে তার নিহিত সুবাস দিয়েছিল মনের এক পূর্ণতার আভাস। মুগ্ধ চোখে করতাম শুধু সে ফুলের দর্শন তাঁর স্নিগ্ধতায় বইতো মনে শান্তি সুখের বর্ষণ, অনেক মৌমাছির আনাগোনা ছিল আশেপাশে তবুও তার সৌরভ কমতো না তাতে । দিবানিশি সেই ফুলে হতাম আকুল সুরভিত পরশের জন্য মন হতো ব্যাকুল, তবুও ভ্রমরের মতো কভু চাইনি তা ছুঁতে শুদ্ধতার আবেশে ছিল মন শান্তিতে । হঠাৎ করে এক শান্ত গোধূলিতে ঝরে গেল সেই ফুল দমকা হাওয়াতে, ভুলের মাঝে ছিল অনুতাপ যতো হারানোর যন্ত্রণার ব্যথা জ্বালায় অবিরত।

নার্সিংহোম - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
লাল পাড় শাড়ি  আর ঘোমটা দেওয়া মুখ, নিষ্প্রদীপে এ ফিরে পাওয়া মোমবাতির শিখা; দুটোর মধ্যে পার্থক্য হয় না কোনো উষ্ণতা যে তোমার খুব প্রিয় ছিল তোমায় নিয়ে ছুটে ছিলাম আর. জি. কর… এন. আর. এস… এস. এস. কে. এম… আরো কত জায়গায় তুমি তো জানো, আধুনিক নার্সিং হোম পরিষেবার  সামর্থ্য আমার নেই এমন কি এখন গাড়ি ভাড়াটাও সাধ্যের বাইরে পৃথিবীটা কেন এত অসুস্থ মনে হয় আজ সবাই তো বলেছিল সমস্ত কিছু ফ্রি চিকিৎসা হয় হাসপাতালে তবে… বলা মানেই কি প্রতিশ্রুতি জানো, এই চোখ থেকে বের হয়নি একফোঁটা জলও না না কাঁদছিনা আমি সাদা পাতায় কলম ঘষা ছাড়া আর কি-ই বা পেরেছি জীবনে? তাই বড় অসহায় আজ মনে।

শীতের দেশে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
শীত এলেই উষ্ণতা চায় অঙ্গ মনের মানুষ তাঁর সাথে দেয় সঙ্গ এবার শীতে কি ইচ্ছায় কাটবে রাত ইচ্ছার প্রতিযোগিতায় হবে আমাদের সাক্ষাৎ। কুয়াশার ভাষাই হবে পত্র, যত দেনা পাওনা পত্রের গায়ে পড়ে রবে যেন প্রেমের বর্ণমালা দমকা হাওয়ায় উড়ে যাবে সব বিষাদী কুমন্ত্রণ খেজুর রসে মাখামাখি রবে স্বপ্নের আমন্ত্রণ । হাসিখেলায় কুয়াশার ভেজা স্নিগ্ধ পরশ মেখে মশগুল পাঠে রঙ্গিন সুতোয় উড়বো মন বেঁধে আঁকড়ে চরণ রবির কিরণ অঙ্গে মেখে মেখে শীতের রাত গড়বো মোরা শিউলি পাতার খামে। খামখেয়ালির শহর ছেড়ে যাইনা যতোই দূরে শীত এলেই ইচ্ছের লড়াই জড়িয়ে রবে।

যৌবন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
সব প্রশংসা যৌবনের - বার্ধক্যের নয় যৌবন সবার সাহসে ভরা,বার্ধক্যে ভয় যুবক মনের বহিঃপ্রকাশ তার কর্মে  বার্ধক্যের প্রকাশ তাঁর বয়সের ধর্মে । আকাশ ছোঁয়া পাহাড় দেখে চিন্তায় যে পরল তার জন্য মাউন্ট এভারেস্ট নয় ঘরের কোণটা রইলো ।  চিন্তাহীন উদ্যমতা মনে যার বল ভীতিযুক্ত মন নিয়ে পিছু হেটে চল এই পৃথিবী মুঠিবন্ধ প্রাণে শক্তি যার সর্বত্র সাফল্যের জয়ধ্বনি তার।  ভয় নিয়ে সফল হয় না, হয় সর্বশক্তি ক্ষয় বুকের তাজা সাহস দিয়ে ছিনিয়ে আনো জয় যৌবনের শক্তিতে হৃদয়ের চিন্তা থাকুক দূরে প্রাণশক্তি উদয় কখন হারিয়ে না যায় ভয়ে ।  "সৃষ্টি যত বিনাশ তত " জীবনের জন্য মরণ লড়াই ময়দানে "বীরের" মত নয় পরাজয় বরণ।

সময় বয়ে যায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ব্যাকুল হৃদয়ে পথচেয়ে থাকি কখন দেখবো তোমায় ? সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার রাত্রি অবসানে নির্ঘুম মনের বেদনাতে সকাল হয় সূর্য ওঠে দীর্ঘ চাহিদার ফুল ফোটে আমি কেবলই পথের পানে চেয়ে রই যদি একবার তোমাকে দেখতে পাই ভালবেসে তোমার মাঝে হারিয়ে যাব আমি, কখন আসবে তুমি? স্রোতস্বীনি নদীর মত সময় বয়ে যায় মন শুধু বলে যেন একবার তোমাকে দেখতে পাই তোমায় ভালবেসে নিঃস্ব হতে চেয়েছি যা ছিল আমার সব তোমায় দিয়েছি পথ চেয়ে বসে থাকা কী অসহনীয় যাতনা যদি তুমি না  আসো তোমায় বোঝাতে পারব না জানি- কখন আসবে তুমি? তোমায় রেখেছি হৃদয় মাঝে অতি সংগোপনে পথ চেয়ে বসে থেকে হঠাৎ তোমায় দেখেছি মরীচিকা র মত আনমনে__ তোমায় চেয়েছি নিবিড় করে একান্তে আমি__ কখন আসবে তুমি?

আমার গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
একদিন, নিজের মনের দুয়ারে শব্দ করে  প্রশ্ন করলাম - ভালবাসা কি ?  মন বলল, ওহে উত্তর প্রার্থী -  ভালবাসা কি কোন শব্দ  ?  আমি বললাম, শোনো আমার মন –  ভালবাসার নামে মানুষ অন্ধ প্রায়…  হাসিল মন , রসিকতা করে বলল-  ভালবাসা শব্দের ঠিকানা কোথায় ?  আমি বললাম- অন্তরে, বুকে,  বুকের মাঝে যেথা হৃদয় থাকে…  হা হা করে হেঁসে মন বলল-  এত সব শব্দ তুমি পেলে কোত্থেকে ?  বললাম কেন ?  তোমার রাজ্যে কি অন্তর নেই ? বুকের মাঝে রয়েছে যে হৃদয়,  তোমার রাজ্যে কি এর বিশ্বাস নেই ?  মন বলল, আমি ক্ষুধা পেলে খাদ্য চাই,  মোহ দেখিলে, তাকে জয় করতে চাই…  ভোগের পরই সেই মোহ ভুলে যাই,  আর পথ চলি নতুন মোহের আশায় !!  আমি বললাম,  লজ্জা দিলে হে মন !  মন বলিল- বন্ধ কর, হয়েছে তো অনেক…  আবারও বললাম, লজ্জা দিলে হে মন !  আবারও শুনলাম- বন্ধ কর, হয়েছে অনেক…  আমি হতবাক, কিছুটা নির্বাক… নিশ্চুপে চেয়ে থাকি মনের দিকে! কিংকর্তব্য বিমূঢ় যেন, মনে হলো আজ চেয়ে চারিদিকে…

তোমাকে চাই - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
অসম্ভব প্রতিকূলতার  মাঝে আমি তোমাকে চাই ঠিক যেমন করে তুমি চেয়েছিলে আমাকে একসময় এখানকার বিচ্ছিন্ন মেঘগুলো বড় ভালবাসতো আমাদের দমকা বাতাসে টেবিলসহ বইগুলো কাঁপে নদীতে মাঝির গান ভাসে, মনে হয় মনটা এখনো বদলায়নি কতবার কল্পনার দৃষ্টিতে তোমার চোখে মায়া আলপনা এঁকেছি দু’হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরেছি বন্ধনের শিকলে আঘাত হানতে..... রৌদ্রছায়ার মায়াবেলায় রাত দিনের নিয়মের বেড়ীতে চুপি চুপি বলেছিলাম পরম সত্যটি, তোমাকেও আমি চাই খেয়ালী বাতাসের চেয়েও ভয়ংকর অপ্রতিরোধ্য ছিল আমার চাওয়া অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না, তাই চোখের সাগরে আজ রক্তস্রোত... তুমি কি তোমার মনের ভিতরে চিৎকার করে ওঠো? ভালবাসার জন্য তুমিও কি কাতর হও আমার মতো? অতিদূর থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুরে মনটা ছটফটিয়ে ওঠে রাতের অন্ধকারে তোমাকে পাবার আকাঙ্ক্ষা যেন বন্য হয়ে ওঠে জানি শরীরের ভাঁজে ,অস্তিত্বের যন্ত্রনায় এ আমার অসহায় আর্তনাদ এত অসহায়ত্বের মাঝেও শুধু তোমাকে চাই।

নিরামিষ বিশ্বাস - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
যেতে দিতে হয় ,চলে যেতে হয় আগুন সাক্ষী করে বলে দিতে হয় সত্যিকারের মিথ্যেগুলো। সময়ের আঘাতে ভগ্ন জীবন পবিত্র ঈশ্বরের কাছে নিরামিষ বিশ্বাস। ঈশ্বর বলে কি আছে কিছু, নাকি সবটাই খবরে শুনতে পাওয়া মানুষের অহিংসার নিরামিষ শব অসত্য । ...... যা দেখি সব। ভেজা মাটির বুক ,অদৃশ্য কিসের ঝর্ণায় ভিজছে শহরের সেতু ভিজেই চলেছে হাজার হাজার প্রাচীন প্রেম। প্রশ্ন ছিল পাহাড়ের কাছে জানার ছিল কিসের এতো অহংকার পাহাড়ের? তার শীতলতার ? প্রশ্ন করার ছিল সমুদ্রের কাছে জানার ছিল কিসের এতো গভীর গাম্ভীর্য ওই বিশালতার বুকে ? চলে এসেছি তোমার কাছে তোমার গভীর চোখের ভিতর লিখতে চেয়েছি ভালোবাসার চুপকথা, মেঘ ভিজছে আমার কবিতা। যেতে দিতে হয় ,চলে যেতে হয় সময়ের কাছে ,চুপটি করে গিয়ে বসতে হয় কাউকে জানতে না দিয়ে তোমার হৃদয়ের আনাচে কানাচে। জানি এই প্রবেশের নেই প্রয়োজন কোনো দুর্যোগের অনুমতি জানি এই আমন্ত্রনে জেগে ওঠে এক সুপ্ত অনুভূতি। তাই যেতে চাই আর ফিরতে নয় , এখন আর ফেরার কথা নয় কোনো শুধু ঈশ্বর বোধে তৈরী হওয়া সময়ের মন্দিরের দরজায় নিরামিষ বিশ্বাস নিয়ে চুপটি করে বসা। 

প্রিয় বই - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হলো একটা ভালো বই, বই মানে তো সবার সেরা জ্ঞানের শীর্ষে উঠার মই৷ বইয়ের মধ্যে পাই যে খুঁজে হাজারো সৃজনশীলতার জ্ঞান, বইয়ের মাঝে ডুবে থেকে করি মা সরস্বতীর ধ্যান৷ বই মানে তো আলোর পরিবহন বিশাল জ্ঞানের বাহন, বইয়ের মাঝে পাই যে খুজে জীবনের হাজার রকম কাহন৷ তাইতো আমি দিবানিশি বইকে ভালোবাসি, বইয়ের সাথে  হাঁসি আবার বইয়ের সাথে কাঁদি ৷৷

হারিয়ে যাওয়া কবি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কবিতা লেখা এমনিতেই কঠিন কাজ, তাঁর উপর নিরুদ্দেশের কবিতা লেখা সহজ কাজ নয়। এসেনিনকে তাই করতে হয়। এমন নয় যে কবিতা লেখার ঠিকানা তার নেই। বরং একটা নয়…কয়েকটা আছে। এই যেমন ধরা যাক সোফিয়ার কথা। গত তিন মাস হল তার থেকে ১৬ বছরের বড় সোফিয়ার সাথে তার খুব গভীরতা হয়েছে। দুজনেই দুজনের কুয়োর ভিতর যখন তখন একজন আরেকজনকে নামিয়ে নিচ্ছে। কাল রাতেও প্রেম গলিয়ে অনেক আনন্দ করেছে তারা। এসেনিন শক্ত করে সোফিয়াকে নিজের সাথে চেপে ধরে বলেছে, “তোমার ভিতরে মাথা গুঁজে দম বন্ধ হয়ে মরে যেতে ইচ্ছে করে। কিংবা ধরো, কাঁটা না বেছে একটা লাল গোলাপ পুঁতে দিলাম”! এসব কথার মানে বোঝে না সোফিয়া। এসেনিন নিজেও হয়ত বোঝে না। কিন্তু এইসব কথা খুব শীতে আগুনের আঁচের মতোই ভালো লাগে সোফিয়ার কাছে। আসলে ভালোবাসার একটা আলাদা উত্তাপ আছে আর ভালোবাসার কথাগুলো তাতে আরো মধুর লাগে। এখন দুপুর বারোটা। কুন্ডলী পাকানো সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘরটা কেমন ঘোলাটে হয়ে আছে। জানালার পাশের সোফাটায় বসে আছে সোফিয়া। ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছুড়ে দিচ্ছে এসেনিনের দিকে। তার দিকে ভেসে আসতে থাকা একেকটা ধোঁয়ার বৃত্তের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে এসেনিন। তাঁর দৃষ্টি লক্ষ্যহীন, কিন্তু মন দিয়ে...