পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ধৃষ্টদ্যুম্ন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
প্রতিশোধের চিন্তায় জন্মগ্রহণ আর প্রতিহিংসার আরেক ভাবনায় জীবননাশ। এই মহারথীর জীবন প্রতিশোধের আগুনে সারাটা জীবন জ্বলেছে। প্রথম জীবনের বঞ্চনার প্রতিশোধ তাঁকে আবার জন্ম নিতে বাধ্য করেছে। আর সেই নব জন্ম তাঁকে করে তুলেছে  মহাভারতের আরেক উল্লেখযোগ্য চরিত্র। তবে ইনি পুরোপুরি রহস্যময়, জীবন থেকে মরণ  অব্দি তিনি আগুনের মতোই তিনি জ্বলন্ত।  ওনার পিতা রাজা দ্রূপদ, দুই বোন দ্রৌপদী আর শিখন্ডী। এছাড়াও রয়েছে আরো 4 ভাই। সেই চার ভাই আর শিখন্ডী ওনার অগ্রজ শুধু দ্রৌপদী ছোট। পিতার নাম পরিচিত হন দ্রৌপদ নামে।  পূর্বকথন: কাহিনীর শুরু হচ্ছে যখন দ্রূপদ ছিলেন রাজকুমার, শিক্ষার্থী ছিলেন আশ্রমে। সাথী ছিলেন দ্রোনাচার্য্য। দুই জনই ছিলেন অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। বন্ধুত্ব দিন দিন বাড়ে। আশ্রম শিক্ষার শেষের দিনে বন্ধুকে কথা দেন, দ্রূপদ রাজা হলে বন্ধুকে দেবেন অর্ধেক রাজত্ব।  বেশকিছু দিন পরে রাজা হন দ্রূপদ। এদিকে দ্রোনাচার্য্য খুব গরীব। দ্রূপদ রাজা হতে অনেক আশা নিয়ে যান দ্রোনাচার্য্য দ্রূপদের কাছে। কিন্তু ততদিনে রাজা হয়ে দ্রূপদ অনেক বদলে গেছেন, প্রথমে দ্রোনাচার্য্যকে সেরকম সম্মান দেখান নি। দ্রোনাচার্য্য তখ...

বিকল্প ভালোবাসা -পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
অমিয়দার বাড়ি যেতে যেতে সুদীপ ভাবছিল, গত ১টা বছর কিভাবে কাটছে  সকলের। সেই যেদিন থেকে কোভিড সংক্রমণ শুরু হয়েছে সেদিন থেকে জীবনটা দমবন্ধ করা নরক হয়ে উঠেছে। একই আবাসনে সকলে মিলে যেভাবে  হৈ  হৈ করে আনন্দে বাঁচতো, সেটা যেন আজকে স্বপ্ন বলে মনে হত। ইদানিং সংক্রমণের হার নীচের  দিকে যাওয়াতে সরকার নিয়ম কানুনের  কিছু ছাড়  দিয়েছেন. তারপর ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। এই তো কয়েকদিন আগে আবাসনে টিকাকরনের ক্যাম্প হয়ে গেলো। এসবের ফলে ভয়টা কিছুটা কম অনুভব হচ্ছে। তাই অনেক দিনের থেমে থাকা জীবনকে সচল করতে একটা পিকনিকের আয়োজন করেছে - জায়গাটা মন্দারমণিতে। সবাই মোটামুটি অংশগ্রহণ করতে রাজি হয়েছে। একমাত্র অমিয়দাই যাবার ব্যাপারে রাজি নন - অথচ সব মহলে ওনার জনপ্রিয়তা প্রচন্ড। তাই সবার অনুরোধে সুদীপ অমিয়দার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। একটু যেন ফাঁকা লাগে সুদীপের । আনন্দের একটা দিনে সবটুকু আনন্দ যেন বুঝি আর পাওয়া হয়ে উঠল না। কিন্তু কেন যাবে না অমিয়দা? খটকা লাগে তার। কিছু একটা রহস্য আছে। আর সেটাই সে বুঝে উঠতে পারছে না।  কলিংবেলের আওয়াজ শুনে অমিয় নিজেই দরজা খুলে দিল। বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল সুদীপ ...

কর্কটের বিজয় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বর্তমান প্রগতির  যুগে নানা রকম উন্নয়নের সাথে  সাথে মানব জীবনে অনেক রকম চাপও বেড়েছে। সারাদিনের সেই চাপ মানুষকে মানসিক রোগগ্রস্ত করে তুলছে, মানুষ নেশার দাসে পরিণত হচ্ছে। Alcohol আর Cigeratte কত যুবকের জীবনী শক্তিকে নষ্ট করে অসুস্থতার পথে ঠেলে দিচ্ছে। এরকম একটি জীবনের কথা নিয়ে এসেছি। পড়ার পরে আপনাদের অনুভূত হবে এই সর্বনাশা  নেশা কিভাবে একটা পরিবার ও স্বয়ং নেশাগ্রস্থ ব্যক্তির জীবনে কিভাবে সর্বনাশ ডেকে আনে।  প্রিয়া বিছানায় আধশোয়া, আলতো করে পা দুটো বালিশে তোলা, আধো ঘুমে ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে, কিন্তু মাথাটার অসহনীয় যন্ত্রনা , তার ক্রিয়া বিভ্রাটের কথা সব সময় জানান দিচ্ছে। মাথার আর দোষ কোথায়, ক্ষমতার বাইরে গিয়ে তো আর কাজ করবে না। হঠাৎ প্রিয়ার চোখ পড়ে গেল খাটের সোজা আয়নাটার দিকে, প্রিয়ার ঠোঁটের উপর কালো তিলটা এখন শুকিয়ে যাওয়া মুখটায় আরও বেশী স্পষ্ট। প্রিয়ার মনে পড়ে গেল, সুবীর যখন প্রেমের প্রস্তাব দিল, বলেছিল ওর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঐ তিলটা। প্রিয়া ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। সুবীর এম.বি.এ করার পর চাকরী, পরিণাম বিবাহ। মনের মানুষকে পুরো পাওয়ার আনন্দে ভরপুর ছিল ওরা। প্রিয়াকে আদর ...

অবগুন্ঠিত বাস্তব - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
বিকেল থেকেই পরিবেশ ভীষণ থমথমে, চারিদিক কিরকম একটা দমবন্ধ করা মনে হচ্ছে। আসলে এরকম দুর্ঘটনা এই প্রথম। এর মধ্যে আবার আবহাওয়াটা আরো খারাপ হয়ে গেল, ঘন ঘন আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। চারদিকে শোঁ-শোঁ শব্দে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। এ বাতাস আমাদের সবারই খুব পরিচিত, বৃষ্টির পূর্ব মুহূর্তের বাতাস। মথুর মিত্র অফিস রুমে বসে আছেন। খোলা জানলা দিয়ে বাতাস ঢুকে পুরো রুমটা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। মথুর মিত্র চেয়ার থেকে উঠে ফ্যানের সুইচটা বন্ধ করে দিয়ে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফোটা ফোটা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির তুলনায় মেঘের গর্জন বেশি।  এলোমেলো বাতাসের সাথে বৃষ্টিও বাড়তে শুরু করল। বাতাসের সাথে অফিসের সামনের বড় আম গাছটি থেকে আম ঝরে পড়ছে। । সন্দীপ সেগুলো কুড়িয়ে এনে টিচার্স রুমের সামনে একটা বালতিতে রাখছে। সন্দীপ এ স্কুলের অবৈতনিক কর্মচারী। আংশিক ভুল বললাম, সে এখানে সম্পূর্ণ অবৈতনিক কর্মচারী নয়, মাস শেষে স্কুলের সব শিক্ষকের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু পরিমাণ পারিশ্রমিক পায়। সেটা নিয়েই সে খুশি। তার কাজ শুধু ঘণ্টা বাজানো। প্রত্যেক ক্লাসের শেষে সে ঘণ্টা বাজায়। এর বাইরেও তার একটা কাজ আছে, সেটা হচ্ছে সময়ে -অ...

বসন্ত এসে গেছে -পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
শীত চলেই গেছে বলতে গেলে। এখনকার বিশ্বায়নের নানা উন্নয়নের সাথে উষ্ণয়ানের  মাত্রাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর হাত থেকে গ্রাম বাংলাও রেহাই পায়নি। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তামাটে বর্ণের মসৃণ কপালে। আজ বেশ দেরি হয়ে গেল। মেলা আজকের মত শেষের পথে, হয়ত খরিদ্দার এক-দু’জন  এখনও আসবে বসে থাকলে। আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা মোটে হার আর দুল পড়ে আছে। এবার পাততাড়ি গোটানো যাক। সারাদিনের ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যা হয়ে যায় খুবই তাড়াতাড়ি আর ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনিতে সন্ধ্যা সূচিত হওয়ার সাথে সাথেই ভিড় ঠাসাঠাসি শুরু হয় গয়নার হাটে। সারাদিন খাটার  পরে একটু অবসর বিনোদন। বর্ধমান জেলার অন্তর্বর্তী ছোট্ট এক গ্রামাঞ্চল— পুষ্পপুর। আজ শনিবার। সপ্তাহের এই দিনটাই কেবল গয়নার হাটের দিন হিসাবে বরাদ্দ । দুপুর গড়াতে না-গড়াতেই যে-যার পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে বসে পড়ে ময়না , টগর, মঞ্জুরারা ।  সেই কোন ছোটোবেলা থেকে মায়ের কাছে কড়ি, পুঁতি, ঝুটো পাথরের গয়না গড়তে শিখেছে ময়না । নিকটবর্তী আলোকোজ্জ্বল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এলাকাগুলিতে থেকে বাবু-বিবিরা আসেন গয়না কিনতে। ময়নার রুচিশীল ও সুনিপুণ কাজের গুণে ওর চার...

গঙ্গাদেবী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
ইক্ষাকু বংশে মহাভিষ নামে এক রাজা ছিলেন । তিনি অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ এবং পরাক্ৰমশালী ছিলেন । তিনি অনেক অশ্বমেধ রাজসূয় যজ্ঞ করে স্বৰ্গপ্রাপ্ত হয়েছিলেন । একদিন বহু দেবতা  এবং মহাভিষসহ সকল রাজৰ্ষি ব্ৰহ্মার চরণে উপস্থিত হলেন । সেইসময় গঙ্গাদেবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন ।  বায়ু তার হাওয়ার দাপটে গঙ্গাদেবীর শ্বেতবস্ত্ৰ শরীরের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন । উপস্থিত সকলেই লজ্জা পেয়ে চক্ষু নত করেছিলেন , কিন্তু মহাভিষ দেবীর দেহসৌষ্ঠব দেখতে লাগলেন ।  ব্ৰহ্মা তা লক্ষ্য করে বললেন, 'মহাভিষ আমি তোমাকে শাপ দিচ্ছি! তুমি অধঃপতিত ! তাই এবার পৃথিবীতে যাও । যে কামুক দৃষ্টিতে গঙ্গার দিকে তুমি তাকিয়ে আছ সেই তোমার অপ্রিয় কাজ করবে । তুমি তার ওপর যখন ক্ৰোধান্বিত হবে তখন তুমি এই শাপ থেকে মুক্তিলাভ করবে । ”  মহাভিষ ব্ৰহ্মার নিৰ্দেশ শিরোধাৰ্য করে ঠিক করলেন যে , তিনি পুরুবংশের রাজা প্রতীপের পুত্ৰরুপে জন্মাবেন ।  গঙ্গাদেবী সেখান থেকে ফিরে আসার সময় পথে অষ্টবসুদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় । তারা বশিষ্ঠের  শাপে শ্ৰীহীন অবস্থায় ছিলেন । বশিষ্ঠ তাদের নন্দিনী  সূরভি গাভী আত্মসাৎ এর জন্য অভিশাপ ...

রাতের শেষ লোকাল ট্রেন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
রেল স্টেশনের নামটি খুব অদ্ভুত,ঘুম! নামটা ঘুম হলেও, বসতি একটুও নেই ঘুমের, অথচ ঘুমটাই চলে যায় অবলীলায়; স্টেশনে জেগে থাকায়! প্রথম দেখা এখানেই হয়েছিল। শেষ রাতের শেষ ট্রেন থেকে নেমে এই ঘুমের জমিতে । ভুল ট্রেনে উঠেছিলাম দুজনই , আবার শেষ রাতের ক্লান্তিতে,অবসন্নতায়  ভুল স্টেশনে নেমেও ছিলাম দুজনই । তারপর ভোগান্তি, গন্তব্যে আমরা কেউই পৌঁছাতে পারিনি। গন্তব্যের খোঁজে দুজনেই দুজন কে ছেড়েছিলাম। তারপর এ জমি ও জমি করে আবার এই ঘুমের জমিতে ! তবে সময় যে বড্ড বেয়াড়া। বয়ে গেছে নিয়ম করে নিয়ে ও গেছে হিসাব বুঝে । অতঃপর ক্লান্ত, নিদ্রা জর্জরিত, বিপর্যস্ত দুজন পুরোনোতেই ফিরতে আবার এই স্টেশনে। শেষ রাতের শেষ ট্রেন! ফিরব দুজন একসাথে। কোথায় ফিরব?দুজনের চোখে একই প্রশ্ন। উত্তর? সেও একই! যেখানে ভুলের শুরু!সেখানে।

কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় - এক অদম্য সাহসী নারীর গল্প।

ছবি
তখনকার রক্ষণশীল সমাজ। মেয়েদের শিক্ষাদান করা যেন পাপ। আবার সেই মেয়ে ডাক্তার হবে? হলে, নরকেও ঠাঁই পাবে না সেই মেয়েটি ও তার পরিবার। এসব দুরবস্থা দেখে কবি হেমচন্দ্র ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, "হায় হায়, ঐ যায় বাঙালির মেয়ে।"  কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও হাল ছাড়তে নারাজ বিহারের ভাগলপুরের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্রজকিশোর বসুর কন্যা কাদম্বিনী দেবী। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা তাঁর অদম্য।  ১৮৮৩ সালে কাদম্বিনী দেবী তাঁর সহপাঠী চন্দ্রমুখী বসুর সঙ্গে বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। এবং বলা বাহুল্য, তাঁরা দুজনেই ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা বি.এ পাশ।  বি.এ পাশ করে কাদম্বিনী দেবী ডাক্তারি পড়ার জন্যে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আবেদন করেন। তবে সে সময় স্ত্রী-শিক্ষা বিরোধীরা কাদম্বিনী দেবীর জন্যে নানা সমস্যা সৃষ্টি করছিল। আবার ইংরেজদের মধ্যে কিছু ভালো মানুষ সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেন। যেমন, শিক্ষা অধিকর্তা আলফ্রেড ক্রফট ও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ কোটস; কলেজ কাউন্সিলের নিকট লিখিত আবেদন রাখেন, "মহিলাদের চিকিৎসাবিজ্ঞান শেখা প্রয়োজন। যদি একদল মহিলা চিকিৎসক অন্তঃপুরে ঢোকার অধিকার পায় তাহলে সেখানকার দুঃ...

প্রিয়তমা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
আজকাল নিজেকে বড্ড বুড়ো লাগে, সময় আর বয়সের ভারে, কেমন জানি ক্লান্তু হচ্ছি। "প্রিয়তমা" সে আমার এক আকাঙ্ক্ষিত নাম। আমার জীবনের পথ ধরে আসা, এক পরিপূর্ণ মানবী, আমার অর্ধাঙ্গিনী । ১৮ বছর বয়সে ঘরে এনেছিলাম তাকে মায়ের পছন্দে, দীর্ঘ পথ হেটেছি দুজনে, ২০ টি প্রেম দিবস কাটিয়েছি ভালোবাসায়, পরিপূর্ণতায় জীবনের ছন্দে. এবারের ভ্যালেন্টাইনে আমি একা। প্রিয়াকে বলতে চাই...... আমি আরো অনেক প্রেম দিবসে তোমাকে পাশে চাই,ভালোবাসতে চাই। আজ আমার বড্ড একা লাগে প্রিয়া, ভোরে জানালা খুলতেই, মিষ্টি হাওয়ার সাথে কথা বলি।বৃষ্টি এলেই তোমার কন্ঠে শুনি,- "এই চলো বৃষ্টিতে ভিজি"। তোমার প্রিয় বইগুলোর মাঝে তোমাকে খুঁজি। তোমার প্রিয় গানগুলো শুনে  তোমাকে চিনি। প্রিয়া , তুমি থাকতে বুঝিনি, কতটা যত্নে রাখতে, কত ভালোবাসতে আমায়। আজ বুঝি, সেই তোমাকেই ফিরিয়ে দিয়েছি কত অবহেলায়।

একলব্য - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
এই নামটা মনে করিয়ে দেয় অর্থ ও ক্ষমতা জোর করে মেধাকে কিভাবে নষ্ট করে হারতে শেখায়। আর ছাত্র যেমন একলব্য তেমনি গুরু মহাভারতের মহারথী, রাজপরিবারের অস্ত্রগুরু মহাবীর দ্রোনাচার্য্য। গুরুদক্ষিণা একলব্যর অসাধারণ।  যে দক্ষিণা তিনি দিয়েছেন সব জেনে বুঝেও তা ছিল অসাধারণ। আমরা সবাই জানি তার সেই অসাধারণ গুরুভক্তির কথা। কিন্তু শুধু কি এটুকুই।  গুরুদক্ষিণা ছাড়াও কিন্তু মহাভারত জুড়ে তিনি রয়ে গেছেন এক বিরাট অংশ জুড়ে কারন  গুরুদক্ষিণা দেওয়ার পরেই তিনি তার জীবন শেষ করে ফেলেন নি বা থামিয়ে নেন নি। অসাধারণ বীরত্বের সাথে তিনি পরবর্তী জীবনটা কাটিয়েছেন  তার সেই বীরত্ব গাথা স্মরণ করে আজও এক শ্রেনীর ভারতীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ রীতি অনুসরণ করেন  আসুন দেখে নেওয়া যাক তার অনন্য জীবন-  পালকপিতা- হিরণ্যধনুষ পালকমাতা- সুলেখা  জন্মদাতা পিতা- দেবশ্রভা  সময়কাল- মোটামুটি 7500 বছর আগের মতান্তরে 9500 বছর আগে বা তারও আগের  পরিচিতি: ************ নিষাদ রাজত্ব বিস্তৃত ছিল বর্তমান এলাহাবাদ থেকে মধ্যপ্রদেশের নর্মদা নদীর উত্তর তটের থেকে গুরগাঁও অব্দি এক বিস্তৃত অঞ্চলে। এই রাজ্যের নাম ছিল শৃঙ্গবে...

বর্ণহীন জীবন - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
শহরের সাথে গ্রামের পরিবেশের  তফাৎ অনেকটাই। কলকাতায় সকাল থেকেই এক দমবন্ধ করা  কাজের চাপ, সারাটা রাত বিশ্রামের পর সকাল থেকে কর্মব্যস্ততায় ছোটার শুরু। কিন্তু গ্রামের জীবন অনেক শান্ত, এতো ছুটে বেড়ানোর ব্যাপার নেই। মানুষ এখানে জীবনের ইঁদুর দৌড়ে সামিল নয়, বরং জীবন নির্বাহের নূন্যতম প্রয়োজনটা মিটলেই খুশি - বাকী সময় নিজের মত জীবনটা চালিয়ে নাও। অবশ্যই এর ব্যতিক্রমও আছে। গ্রামের সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একটা বিশাল আশীর্বাদ আর মাটির কাছাকাছি বাস করা  মানুষগুলো মাটির মতই নরম, সহজ ও সরল। বৈশাখ মাসের মধ্যাহ্ন কালীন সময়ে, কালবৈশাখীর দরুন গতরাতে এবং আজ সকালের বৃষ্টিতে চারিদিকের প্রকৃতি -পরিবেশ সিক্ত। যেন সদ্যস্নাতা নববধূর মত নবরূপে সজ্জিত হয়েছে প্রকৃতি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে না। আকাশ শালিক পাখির ডিমের মতো নীল। সকালের সেই ঝড়-জলের ভীষণ রূপ আর বজ্রের ভয়ংকর করাঘাতের পর এমন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, ব্যাপারটা যেন মরীচিকার মতোই মনের ভুল বলে মনে হয়। পুকুর পাড়ের একটা কোনে একটা বিশাল আকার রাধাচূড়া গাছের শাখা হলুদ-হলুদ ফুলের গহনায় যেন সজ্জিত হয়ে আছে। দুপুরের ঘন রোদে তার ফুলগুলো যেন মিশে গেছে। ফুলে...

বাস্তুসাপ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
কলকাতা শহরতলীর একটি আবাসন, খুব বড় কমপ্লেক্স নয়। স্বচ্ছল মধ্যবিত্তদের মাথা  গোঁজার এখন একমাত্র ব্যক্তিগত বাড়ীর বিকল্প। তবে এপার্টমেন্টের কিছু বাড়তি সুবিধা  আছে - যেমন সিকিউরিটি গার্ড, মেইনটেইনন্স স্টাফ ইত্যাদি। আবার অসুবিধাও কিছু আছে। অবশ্য আমরা এপার্টমেন্টের সুবিধা - অসুবিধা  নিয়ে আলোচনা করতে বসিনি। সত্যজিৎ  এরকমই একটি এপার্টমেন্ট - এ থাকে। সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের মত ভাবনা চিন্তা নিয়ে চলে। বাড়ীর EMI -এর টাকা শোধ করার জন্য সুচিন্তিত ভাবে খরচ কমানোর দিকে খেয়াল রাখে। এরই মধ্যে  এ মাসে আবার ইলেক্ট্রিসিটি বিল অনেক বেশি এসেছে। কুহেলীকে বললেও শোনে না। নির্ঘাৎ আবার সেই হু হু ঠাণ্ডা এসি চালিয়ে শুয়ে থাকছে সারাদিন!  টুকাইটারও মাঝখান থেকে বদভ্যাসটি গেড়ে বসেছে, একটু গরম হলেই সে একেবারে অস্থির করে দেয়! শীত পড়ে গেছে, এখন আদৌ আর এসি না চালালেও চলে – কিন্তু কে সেটা বোঝাবে এদের! মা আর ছেলে দুজনেই নাকি ঘেমে নেয়ে যায়! গত সেপ্টেম্বর থেকে টুকাই বাড়ির পাশেই একটা প্লে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে৷ ফলে একা ঘরে শুয়ে বসে আয়েস করার অঢেল সময় পাচ্ছে কুহেলী এখন। আর সত্যের খরচের তালিকা বাড়ছে।...

দ্রৌপদী - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

ছবি
মহাভারতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মহিলা চরিত্র। পুরোপুরি রহস্যময়, জীবন থেকে মরণ অব্দি তিনি আগুনের মতোই তিনি জ্বলন্ত। নিঃসন্দেহে দ্রৌপদী যে নিজের কর্তব্য সচেতন, নিজের সম্বন্ধে সচেতন এক স্বাভিমানি মহিলা। প্রয়োজনে তিনি নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে বলার ক্ষমতাও রাখেন। অন্যায়কে যে কোন পরিস্থিতি তে অন্যায় বলার ক্ষমতাও রাখেন। আবার তিনি নিজের সমস্ত কাজ নিষ্ঠা ভরে করে গেছেন বনবাসকালে। স্বামীদের সঙ্গ করেননি ত্যাগ। রান্না করেছেন ঘর সামলেছেন জঙ্গলের মধ্যে থেকে রাজসুখের হাতছানি ত্যাগ করে।  আদর্শ কর্তব্য পরায়ন গৃহকর্ম নিপুনা সাথে নিজের অধিকার সচেতনতার মেলবন্ধনে এক আশ্চর্য ব্যক্তিত্বের অধিকারিনী তিনি।  তবে এটাও ঠিক "সুতপুত্র" বলে কর্ণকে অভিহিত করা, দুর্যোধনকে "অন্ধের পুত্র অন্ধ" অভিহিত করা কিংবা পুত্রসম ঘটৎকচকে তুচ্ছ করা ইত্যাদি তার মত এক মহান ব্যক্তিত্বের সাথে ঠিক মেল খায় না যেন...  এই সব কথাগুলোই কিন্তু তার নিজের বংশের নাশের সাথে তার নিজের যাবতীয় দুর্ভোগের কারনও হয়েছিল। "জিভ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা" আর "ধনুক থেকে ছিটকে যাওয়া তীর" কাকে কিভাবে আঘাত করবে কে বলতে পারে... তা...