মুক্তির স্বাদ - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
রাতের নৈশাহার করতে বসেছে তপতী, মেয়ে অতসী আর অনিকেত। মেয়ের পরামর্শ মত আজই অনিকেতের সম্মতি আদায় করতে হবে - সময়ও হাতে বেশি নেই।
“তোমায় আর দুটো রুটি দিই?” জিজ্ঞাসা করল তপতী।
“হুম”,মাংসের হাড় চিবোতে চিবোতে উত্তর দিল,অনিকেত।
ওর পাতে রুটি দুটো দিয়ে তপতী আর অতসীর মধ্যে চোখে চোখে ইশারা হলো। তপতী মেয়েকে চোখে চোখেই আশ্বস্ত করে,নিজের পাতে একটা রুটি নিল। কি বলে যে শুরু করবে,কিভাবে বললে কাজ হবে?“জানো,আজ মাসি ফোন করেছিল।”“কোন মাসি?”অনিকেত মাংসের ঝোলে রুটি ডুবাতে ডুবাতে বলল।“আমার মাসি।কোন মাসি আবার।”অনিকেতের কিছুই খেয়াল থাকে না,তপতী বিরক্ত হয়। “ও আচ্ছা,তা কি বলল?”“এমনি জানতে চাইছিল আমরা সব কেমন আছি। এই আর কি,আর আর” অনিকেত তপতীর দিকে তাকাল,“মাসিরা বেড়াতে যাচ্ছে,হরিদ্বার,ঋষিকেশ,দেরাদুন মুসৌরী ,আমাদেরও যেতে বলছিল।”অনিকেত এতক্ষনে একটু হেসে বলল, “তো এই হচ্ছে আসল কথা।”“চলো না গো ,মাসিরা তো প্রতিবারেই বলে,আমরা কোনদিন যাই না।”“দ্যাখ, তপতী আমি তোমাকে আগেই বলেছি,আত্মীয়স্বজন বিশেষ করে শ্বশুরবাড়ীর লোকেদের সঙ্গে বেশী মাখামাখি আমার পছন্দ নয়। হ্যাঁ, একটু হাই হ্যালো করলে,অনুষ্ঠানে গেলে এলে,ব্যাস ঐ পর্যন্তই। বেশী মাখামাখি করলেই দেখবে এরপর মন কষাকষিতে দাঁড়িয়ে যাবে। কথায় আছে যত গলাগলি, পরে তত চুলোচুলি।”
তপতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “কে আর মাখামাখি করছে শুনি? ঐ মাসিই একটু যা যোগাযোগ রেখেছে।তাও তুমি......” কথা আর শেষ করে না তপতী। তারপর আবার বলে, “বেশ তো আমার বাড়ীর কারো সাথে যাবে না, তা নীলদাও তো মাঝে মাঝেই বেড়াতে যায়,তোমায় বলে যেতে।তাই গেলেও তো হয়।”অনিকেত বলে ওঠে, “নীল?ওর কথা বলছ? ওর আর কি,বিয়ে থা করেনি,কোন ঝামেলা নেই,বেড়িয়ে পরলেই হলো।আমাদের মতো সংসারের জোয়াল বইতে হতো তো বুঝতাম।”“প্লিজ বাপী চলো না” ,অতসী বলে ওঠে।“সামনে পরীক্ষা,সেটা মনে আছে না নেই?যাও ভাল করে পড়াশোনা কর।”অনিকেত উত্তর দেয় ।অতসী আর কিছু না বলে চুপচাপ উঠে যায় গোমড়া মুখ করে।মেয়ের চলে যাবার দিকে তাকিয়ে থাকে তপতী। দড়াম করে অতসীর ঘরের দরজা বন্ধ হবার শব্দ আসে।“আমার কথা না হয় ছেড়েই দিলাম,অন্তত মেয়েটার জন্যেও তো দুদিনের জন্যে কোথাও যেতে পারতে ?” অনিকেত কোন উত্তর দেয় না ,চুপচাপ উঠে বেসিনে মুখহাত ধুয়ে সোফায় বসে টিভির বিজনেস চ্যানেলটা খোলে।তপতী জানে ,এখন ওর বলে যাওয়াই সার হবে কিন্তু অনিকেতের কানে কোন কথা ঢুকবে না।সারাজীবন খালি ব্যবসা আর টাকা ছাড়া কিছু চিনল না মানুষটা নিজের মনেই গজগজ করতে করতে বাকি খাবার গুলো গুছিয়ে ফ্রিজে তুলতে থাকে তপতী।ঐজন্যে ও কোন কথাই তুলতে চায় না এই নিয়ে,কারন ফল কি হবে তা তো জানাই।কমদিন তো আর ঘর করল না লোকটার সঙ্গে।শুধু অতসীর জেদাজেদিতে বলতে হলো।টেবিল মুছে ,শেষবারের মতো একবার রান্নাঘরে গিয়ে সব চোখ বুলিয়ে নিল ও,ঠিকঠাক করাই আছে সব ,তবু প্রতিদিনের অভ্যাস।"আমি ঘরে গেলাম।"কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।মেয়ের ঘরের দিকে একবার তাকাল,দরজা বন্ধ করে দিয়েছে,রাগ হয়েছে,এখন আর ডাকলেও খুলবে না।এই দুজনের মাঝে তপতীর যে নিজেকে কি অসহায় লাগে মাঝে মাঝে।অদ্ভুত ঘরকুনো অনিকেত।একুশ বছরের বিবাহিত জীবনে একবার শুধু দীঘা গিয়েছিল দুজনে,তাও অনেক বায়না,কান্নাকাটি করে।সারাজীবন শুধু এই কোলকাতাতেই কাটিয়ে দিল।যদি টাকাপয়সার অভাব থাকত,তাহলেও না হয় মানতে পারত তপতী,কিন্তু তা তো নয়।অনিকেতকে খুব একটা কৃপন বলাও যায় না।কোন কিছুরই অভাব রাখেনি সংসারে।কিন্তু ঘোরা বেড়ানোয় দারুন অনীহা।আগে বলত, 'ধুস।বেড়ানোর অনেক ঝামেলা।টিকিট কাটা,হোটেল বুকিং ,গাড়ী বুকিং,অতো সময় নেই আমার।'
তপতী জানিয়েছিল, “এখন তো ট্যুর কোম্পানি গুলোই সব ব্যবস্থা করে দেয়,তুমি খালি পয়সা দাও আর মজা করে ঘুরে বেড়াও।”কিন্তু তাতেও অনিকেতকে ঘর থেকে বের করা যায়নি।ও ওর নিজের ব্যবসা, শেয়ারবাজার আর বন্ধুদের সঙ্গে সান্ধ্যআড্ডা নিয়েই খুশি।অতসীও এখন তার পড়াশোনা,কলেজ কেরিয়ার নিয়েই ব্যস্ত।শুধু অন্য বন্ধুদের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় বেড়ানোর ছবি দিতে পারেনা বলে মনখারাপ করে।মাঝখান থেকে তপতীই এই চার দেওয়ালের মাঝে হাঁপিয়ে ওঠে।সেই একই গতে বাঁধা জীবন,আজ একুশ বছর ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের মেয়ে ছিল তপতী।দেশ বিদেশে না ঘুরে বেড়াক, খোলা আকাশের নিচে বড় হয়েছে।তখন কতদিন বিকেলবেলা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়িয়ে পরেছে সাইকেল নিয়ে।নদীর ধারে বাঁধ ধরে কত দূরদূরান্তে চলে গেছে।মা কাকীমাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছে কত মেলায় মেলায়।তপতীদের গ্রামে মেলা বসত খুব।পুজোপার্বন হলেই হলো।মস্ত শাঁখারীর মাঠে সারিসারি দোকান বসে যেত।যাত্রাপাল হতো নিয়ম করে প্রতিবছর,বাবা,কাকারা তো সেখানে যাত্রা করতই,কোলকাতা থেকেও নামকরা দল যেত।বন্ধুদের সাথে আনন্দোৎসবের দিনে সবাই মিলে হৈহৈ করে মাঠে গিয়ে একসঙ্গে রান্না করে খাওয়া দাওয়া হতো।তারপর আজ পিসির বাড়ী কাল মাসীর বাড়ী তো পরশু মামার বাড়ী,জীবনের কুড়িটা বছর যে কোথা দিয়ে কেটে গিয়েছিল বুঝতেই পারেনি তপতী। হঠাৎ করে একদিন বিয়ে হয়ে গেল,নিজের সেই গ্রাম,সেই রঙিন জীবন ছেড়ে এসে উঠল এই কোলকাতায়।চার দেওয়ালের ফ্ল্যাটের মধ্যে জীবন গেল আটকে। খাঁচায় বন্দি পাখির মত জীবন - কতদিন খোলা আকাশ দেখেনি তপতী তার হিসেব নেই।প্রথম থেকেই বাপের বাড়ী যাবার সৌভাগ্য বিশেষ হতো না ওর ,আর এখন মা ,বাবা চলে যাবার পর তো যাওয়াই হয়না।ছোটবেলায় মা মাসিরা সবাই মিলে একবার পুরী গিয়েছিল,সব মাসতুতো ভাইবোনেরা মিলে সমুদ্রে নেমে যা হুড়োহুড়ি করেছিল,ভাবলে এখনো ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে ওঠে তপতীর।টুং টুং করে মেসেজ ঢোকে ফোনে।তপতী ফোন তুলে নেয় হাতে।এতক্ষন ধরে এই মেসেজটারই অপেক্ষা করছিল ও।এখন এটাই ওর বেঁচে থাকার রসদ।এখন বেশ ঘন্টা খানেক ধরে চলবে কথোপকথন।ও জানে অনিকেত এখন ঘরে আসবে না।লেপের তলায় নিজেকে গুছিয়ে নিতে নিতে ঘরের আলোটা বন্ধ করে দেয় ও।
‘ এই শহর থেকে আরও দূরে চলো চলে যাই...’ গুনগুন করতে করতে সমুদ্রের ধার ধরে হেঁটে যাচ্ছিল তপতী । সমুদ্র এখানে অনেক শান্ত,কিন্তু হাওয়া উত্তাল।বারবার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে চুল।ওড়না উড়ছে বাতাসে।ছোট ছোট ঢেউ এসে পা ভিজিয়ে দিচ্ছে,এই অখ্যাত সমুদ্রের তীরে এমনিতেই লোকজনের আনাগোনা কম,তারপর এই ভোরের দিকে প্রায় নির্জন বললেই হয়।কতদিন পর এইভাবে খোলা আকাশের নীচে সে এলো।অবশ্য আসাটা মোটেই সহজ হয়নি, অনিকেতকে অগ্রাহ্য করতে প্রথমে বেশ দ্বিধায় ছিল,তারপর অবশ্য ভেবেছে,অনেক তো হলো,মেনে চলা মানিয়ে চলা,কি পেল শেষ পর্যন্ত,এবার না হয় একটু নিজের খেয়ালেই চলল,নিজের মনের কথাই শুনল।“তপতী” ডাক শুনে পাশ ফিরল ও। প্রদীপ , অনিকেতের বিপরীত মেরুর মানুষ।অনিকেত জীবনে একটা পা, কোনদিন না হিসাব করে ফেলেনি,অথচ প্রদীপ বেহিসাবী ,খেয়ালী।কখন কি করে বসবে ,কোন ঠিক নেই।ওর সঙ্গে যে থাকবে সে বুঝতেই পারবে না সময় কোথা দিয়ে কেটে যাবে। জীবনের পরতে পরতে কত যে রঙ লুকিয়ে আছে,সুর লুকিয়ে আছে - ওর সাথে না থাকলে বোঝাই যায় না ।এই যে বালির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে চলা যে এতো সুন্দর হতে পারে,তা কি তপতী কখনো জানতে পারত,যদি না প্রদীপের কথায় রাজী হয়ে বেড়িয়ে পড়ত।“চা চলবে?”প্রদীপ হাসি হাসি মুখ করে বলল।“চলবে মানে দৌড়াবে,কিন্তু এখন চা পাই কোথায় ? এত জন মানবহীন জায়গা, এখানে এখন চা পাওয়া ভাগ্যের। ”প্রদীপ হেসে বলল, “ঐ দিকে আর একটু হেঁটে যেতে হবে,এক কাকার ঝুপড়ি আছে, চা টা দারুন বানায়,তার সঙ্গে ডিম সেদ্ধ।”দুজনে এগিয়ে চলল। প্রদীপ কি একটা সুর ভাঁজছিল মনে মনে,তপতী গানটা চিনতে পারল না। “আমি মাঝেমাঝেই আসি এদিকটায়,হুটহাট চলে আসি, তাই সবাই আমাকে চেনে। কাকার সঙ্গে তো খুব খাতির।” “তাই? সত্যি তোমরা পুরুষ মানুষেরা খুব ভাগ্যবান,ইচ্ছা মতো ঘুরে বেড়াতে পার।”তপতীর গলায় হতাশা ফুটে ওঠে।
“আজকাল কিন্তু অনেক মেয়েরাও নিজেদের মতো করে ঘোরে।”
“ওসব বিদেশে হয়,এদেশে নয়।”
“ভুল ধারণা , এখন এদেশের মেয়েরাও অনেকেই বেড়িয়ে পড়ে। দলবেঁধে তো বটেই, এমনকি একাও ট্রাভেল করে।” একটু থেমে আবার বলে,“সোশ্যাল মিডিয়ার ট্র্যাভেল ব্লগ গুলো একটু খুঁজে দেখো পেয়ে যাবে।আমার এক বান্ধবী তো একাই ঘুরে বেড়ায়।”
ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস চাপে তপতী।সামান্য কোলকাতাতেই নিজের মতো করে চলাফেরা করতে পারে না সে, মানে দেয় না অনিকেত।গাড়ী ছাড়া যাবার কথা শুনলেই হাঁ হাঁ করে ওঠে।যেন জীবনে কোনদিন বাসে ট্রেনে চাপেনি তপতী।অবশ্য গাড়ী ব্যবহার করলেও নিজে চালানোর অধিকার নেই ওর।আদরে শাসনে ছকে ফেলা জীবন।
একটু এগিয়েই চোখে পড়ল,একটা বিবর্ন রামধনু রঙা ছাতার নিচে চায়ের কেটলি,মগ,ছাকনি, বিস্কুটের বয়াম আর স্টোভ নিয়ে এক বুড়ো দাঁড়িয়ে আছে, প্রদীপ “কাকা,কেমন আছো?আবার এসে গেছি” বলে হৈহৈ করে এগিয়ে গেল।কাকাও হাসি মুখে কি বলল, কিন্তু এতো হাওয়ার শব্দে তপতীর আর কানে তা ঢুকল না।এখানে হাওয়ার বেগ আরও বেশী।বেশ ঠান্ডা লাগল এবার তপতীর , কিন্তু অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল, ঐ বুড়ো ,চাওয়ালা কাকা একটা ছেঁড়া ফতুয়া পরেই দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে।আরো কয়েকজন সামনে দাঁড়িয়ে আছে,সম্ভবত সমুদ্রের জেলেরা,প্রদীপ বেশ গল্প শুরু করে দিয়েছে ওদের সঙ্গে।কতো ছোট ছোট পাওয়া মানুষকে জীবনে পূর্ন করে তোলে।কাচের গেলাস ভর্তি চা নিয়ে সমুদ্রের কাছে গিয়ে দাঁড়াল তপতী।সমুদ্রের ঢেউয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে নিজের সব না পাওয়া,সব দুঃখগুলো কোথায় যেন ভেসে যায়,ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে।মনে হয় জীবন কি বিশাল,একদম ঐ সমুদ্রটার মতোই,আর মানুষ তার সামনে নেহাতই তুচ্ছ।কি যে এক মন ভালো করা ওষুধ সমুদ্রের হাওয়ায় আছে,তপতী জানে না। “এই যে এখানে লুকিয়ে লুকিয়ে চা খাওয়া হচ্ছে?আর আমরা খুঁজে মরছি।”পরিচিত গলার আওয়াজে চমকে ওঠে - আরেকটু হলেই চা পড়ে যাচ্ছিল তপতীর হাল্কা গোলাপী কূর্তিতে। আরতি , প্রদীপের বৌ আর তপতীর মামাতো বোন।
“আমার ছোট ভায়রাভাই টি তো বেশ বুদ্ধিমান,সকালবেলাই সুন্দরী শালীকে বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে।”ওপাশ থেকে বলে ওঠে উঠল দেবদা,স্বাগতাদির বর।প্রদীপ আর তপতী দুজনেই হো হো করে হেসে উঠল। তপতী বলল, “আমি কিন্তু সবাইকেই ডেকে এসেছিলাম,তোমরাই কেউ উঠতে চাইলে না।আমার দোষ নেই বাবা।” এবার ওর কথায় বাকী সবাই হেসে উঠল।“মা,আমিও চা খাব।”দলের পিছন থেকে সামনে এসে বলল অতসী।তপতী অবাক হয়ে বলল, “আরে তুইও উঠে পরেছিস ঘুম থেকে,বাড়ীতে তো...” কথার মাঝে প্রদীপ বলে উঠল “ঐজন্যেই তো বাইরে আসা, বাড়ীর সব বদলে যাবে বাইরে এলে,এসো এসো সবাই চা খাবে এসো,কাকার চা একদম রেডী” ।
আসলে মাস ছয়েক আগেই ফোনে সব মামাতো,মাসতুতো ভাইবোনেদের নিয়ে একটা দল তৈরি হয়েছিল,তার নামকরন হয়েছিল ‘চল বেড়াই’। স্বভাবতই তপতীও তাতে যোগ দিয়েছিল।কতদিন পর সব যোগাযোগ,বিয়ের সূত্রে, কাজের সূত্রে কে কোথায় ছিটকে গিয়েছিল,কিন্তু যোগাযোগটা হতে মনে হয়েছিল যেন মাঝের এই সময়টা কোন ব্যবধানই গড়ে তুলতে পারেনি।তপতীর দমবন্ধ জীবনে তো অক্সিজেন জুগিয়েছিল পুরো বিষয়টা।সারাদিনের শেষে রাতের বেলা সব ভাইবোনেরা এক হয়ে গ্রুপে আড্ডা চলত।তপতী সারাটাদিন ধরে অপেক্ষা করত এই সময়টার জন্যে।খুব মনে পড়ত, মা মাসি সবাই মামাবাড়ী গেলে ঠিক এইরকমই আড্ডার আসর বসত মামাবাড়ীতে।তারপর সবাই মিলে ঠিক করে কদিনের জন্যে কোন জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসবে সবাই মিলে,সব প্রদীপের পরিকল্পনা।সবটা শুনে তপতীর মনটা নেচে উঠেছিল,কিন্তু অনিকেত কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না,কিন্তু তপতী এবার আর অপেক্ষা করেনি অনিকেতের মতামতের জন্যে - জানে ও রাগ করেছে । তবুও কিচ্ছু না ভেবে সোজা সবার সঙ্গে তাজপুরে।যদিও প্রথমে মনটা বেশ খুঁতখুঁত করছিল,আসলে অনিকেতের মনের মতো করে চলাটা পল্লবীর একটা অভ্যাস হয়ে গেছে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, নিজের জন্যে,বাঁচার মতো বাঁচার জন্যে অভ্যাসের বদল মন্দ নয়।পুরো দলটা হইচই করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে , অতসী শুধু মায়ের সামনে এসে কানের সামনে আস্তে করে বলল, “থ্যাংকস মা।”
তপতী মেয়ের হাতটা ধরল।সামনে তখন একটা আস্ত ঝকঝকে দিন। তপতী ও অতসীর মনে বাঁধ ভাঙা মুক্তির স্বাদ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন