হঠাৎ দেখা - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
জীবন বড় বিচিত্র। এর প্রবাহ কোন দিকে বইবে, এটা আমাদের অজানা। আমরা তো ভাগ্যর হাতে ক্রীড়নক - সময় আমাদের যেভাবে চালনা করে আমাদের তাতে গা ভাসোনো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তবু তার মধ্যে থেকে যায় কিছু চমক, কিছু মজা, কিছু আনন্দের ঘটনা। এরকম একটা ঘটনা -
রৌদ্রজ্জল সকাল, প্রায় বেলা ১০টা - সাড়ে ১০টা হবে। অফিস টাইম তবুও রাস্তায় লোক জন বলতে অফিস যাত্রীই বেশি। বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম গন্তব্যের বাসের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরে বাসের দেখা মিললো।বাসে উঠতেই চোখ পড়েছিল। জানলার পাশে বসে মেয়েটা। একটাও বসার জায়গা খালি নেই, মেয়েটার পাশে লেডিস-সিটের জায়গাটা খালি। দৃষ্টির একটা তরঙ্গ আছে যেটা মেয়েরাই বুঝতে পরে , মেয়েটা মুখ ফেরালো।
‘আরে তুমি?’, একসঙ্গেই বলে উঠল তারপর।
‘কবে এলে?’
‘এই তো কয়েক দিন হল , কিন্তু তুমি এখানে?
শুনেছিলাম অবশ্য যে কাকু বদলি হয়ে এসেছেন। ভেবেছিলাম কাকু একাই...’ কথা পুরো শেষ না করে হেসে উঠল রূপসা , ঝরঝরে হাসিটা কতদিন পরে। ঘোর লেগে গেল রূপেশের । কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে গেল স্মৃতির অতলে - ছোটবেলায় সাইকেলের সামনে, কলেজ জীবনে মোটরবাইকের পেছনে। ছোটবেলায় ভোলাদার দোকানের ঝাল ঝাল চানাচুর, কলেজ জীবনে কফি হাউস। আইনক্স থেকে নন্দন, অ্যাকাডেমী, বইমেলা। ঝরঝরে হাসি, আর অনর্গল কথা - অফুরন্ত ভালো লাগা ।
হঠাৎ রূপসার কথায় বাস্তবে ফিরলো রূপেশ।
‘এখনও আমাদের খবর শুনতে পাও তুমি? ঝাঁ-চকচকে শহরের রোশনাই, কত হৈ-হট্টগোল, আইপিএল সিনেমা ডিস্ক...’ এই হল রূপসা । সর্বদাই উছলে পড়া দেহের ভাষা , সারা অবয়ব জুড়ে আনন্দ। তবে কেন সীতাকাকিমা দু:খ করেছে মায়ের কাছে যে, রূপু আজকাল হাসে না?
‘আপনাদের আলাপটা কি বসে বসে হয় না?’ পাশের দাঁড়িয়ে থাকা ঈর্ষাকাতর সহযাত্রী বিরক্ত, ‘আমার গায়ে ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?’
‘চেনা যখন, বসেই পড়ুন’, পরশ্রীকাতর আরেকজন ফুট কাটলেন।
চাপা রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়িয়েছে রূপসা , ‘আমি নামব।‘ কি জানি আমিও কেন জানিনা নেমে পড়লাম। নেমে তো পড়লাম দুজনেই - এখন কি করি? নিজের কাজটাও পন্ড হল। নিজের বোকামোর জন্য নিজের উপর রাগ হতে লাগল।
‘শুনলাম, বিদেশ যাচ্ছ?’
‘ও, তার মানে তুমিও এই অধমের একটু আধটু খবর রাখো ।‘
‘রাখব না কেন? শিখা কাকিমা আর মা তো এখন ফেসবুক-বন্ধু‘, হেসে গড়িয়ে পড়ল প্রায়।
‘আর তুমি? তুমি তো ফেসবুকে নেই? তুমি কেন ফেসবুকে নেই? জানো, কত খুঁজেছি তোমায়?’
‘কেন? আমাকে খুঁজে তোমার কি লাভ ? কত সুন্দর সুন্দর বন্ধু তোমার, প্রোফাইলে তাঁদের হাত ধরে ছবি…’
‘দাঁড়াও, দাঁড়াও। প্রোফাইলের ছবি তো কুমায়ুন বেড়াতে গিয়ে তোলা, পাহাড়ের ছবি।‘
‘তাই বুঝি? পাহাড়ের সামনে তোমার পাশে লাল স্কার্ফ মেয়েটা তোমার হাত ধরে নেই? ফেসবুক-স্ট্যাটাস কমিটেড, আমি বুঝি না কিছু?’
‘হ্যাঁ, তা ঠিক। তোমার মতো বুদ্ধিমতী তো সারা দুনিয়ায় নেই। তুমি একটা স্টুপিড। চিরকালের স্টুপিড। উনি বুঝে গেলেন কে কার সাথে কমিটেড?আমি কি আজ থেকে কমিটেড? ক্লাস ইলেভেনে আমাকে একটা মেয়ে...’ গলা ধরে এল। ভালো বাসলে কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক, আর সংবেদনশীল মনের চোখে জল আসাও তো স্বাভাবিক। ধরে যাওয়া গলা পরিষ্কার করে আবার শুরু করলাম, ‘বাইরে পড়তে গেলাম, আর তুমি সব সম্পর্ক ভুলে গেলে। ফোন ধরতে না, নম্বর বদলে নিলে। সবাইকে বারণ করেছ আমায় নম্বর দিতে। ল্যান্ড-লাইনে ফোন করলেও ধরোনি, সীতা কাকিমা বলেছে তুমি বাড়ি নেই। ফেসবুকে ব্লক করেছ, নাকি ফেসবুক-অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছ।’
‘তুমিও তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলে, নতুন শহরে নতুন জীবন কাটাবে। শ্রেয়াকে বলেছিলে, রূপু স্টুপিড, ওর সঙ্গে থাকা যায় না।’ রূপসাও অভিযোগ করলো।
‘ হ্যাঁ, স্টুপিড তো তুমি বটেই।’
‘আবার? আবার তুমি আমাকে স্টুপিড বললে?’
‘বললাম তো, এখন চলো। কাকু-কাকিমার সঙ্গে দেখা করে যাই। মা-বাপী আসবে কাল। তিনবছরের জন্যে যাচ্ছি, তোমাকে আর সুযোগ দেব না।‘
‘কিসের সুযোগ?’
‘ওই যা যা করেছ এই ক’বছর ধরে । বিয়ে না হয় ছুটি নিয়ে এসে করব, কিন্তু পাসপোর্ট ভিসা এসব কাজ এগিয়ে রাখতে হবে না? রূপু পাগলী এত জানো আর এটুকু বোঝো না যে, স্টুপিড কথাটার মানে তোমায় ভালোবাসি?’
এভাবেই কেটে গেল অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘ। অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝির কারন তো ওদের গভীর ভালোবাসা।
আশাকরি ওদের ভালোবাসা ওদের দেবে একটা ভালো বাসা দুজনেরই ।
রৌদ্রজ্জল সকাল, প্রায় বেলা ১০টা - সাড়ে ১০টা হবে। অফিস টাইম তবুও রাস্তায় লোক জন বলতে অফিস যাত্রীই বেশি। বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম গন্তব্যের বাসের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরে বাসের দেখা মিললো।বাসে উঠতেই চোখ পড়েছিল। জানলার পাশে বসে মেয়েটা। একটাও বসার জায়গা খালি নেই, মেয়েটার পাশে লেডিস-সিটের জায়গাটা খালি। দৃষ্টির একটা তরঙ্গ আছে যেটা মেয়েরাই বুঝতে পরে , মেয়েটা মুখ ফেরালো।
‘আরে তুমি?’, একসঙ্গেই বলে উঠল তারপর।
‘কবে এলে?’
‘এই তো কয়েক দিন হল , কিন্তু তুমি এখানে?
শুনেছিলাম অবশ্য যে কাকু বদলি হয়ে এসেছেন। ভেবেছিলাম কাকু একাই...’ কথা পুরো শেষ না করে হেসে উঠল রূপসা , ঝরঝরে হাসিটা কতদিন পরে। ঘোর লেগে গেল রূপেশের । কিছুক্ষনের জন্য হারিয়ে গেল স্মৃতির অতলে - ছোটবেলায় সাইকেলের সামনে, কলেজ জীবনে মোটরবাইকের পেছনে। ছোটবেলায় ভোলাদার দোকানের ঝাল ঝাল চানাচুর, কলেজ জীবনে কফি হাউস। আইনক্স থেকে নন্দন, অ্যাকাডেমী, বইমেলা। ঝরঝরে হাসি, আর অনর্গল কথা - অফুরন্ত ভালো লাগা ।
হঠাৎ রূপসার কথায় বাস্তবে ফিরলো রূপেশ।
‘এখনও আমাদের খবর শুনতে পাও তুমি? ঝাঁ-চকচকে শহরের রোশনাই, কত হৈ-হট্টগোল, আইপিএল সিনেমা ডিস্ক...’ এই হল রূপসা । সর্বদাই উছলে পড়া দেহের ভাষা , সারা অবয়ব জুড়ে আনন্দ। তবে কেন সীতাকাকিমা দু:খ করেছে মায়ের কাছে যে, রূপু আজকাল হাসে না?
‘আপনাদের আলাপটা কি বসে বসে হয় না?’ পাশের দাঁড়িয়ে থাকা ঈর্ষাকাতর সহযাত্রী বিরক্ত, ‘আমার গায়ে ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?’
‘চেনা যখন, বসেই পড়ুন’, পরশ্রীকাতর আরেকজন ফুট কাটলেন।
চাপা রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়িয়েছে রূপসা , ‘আমি নামব।‘ কি জানি আমিও কেন জানিনা নেমে পড়লাম। নেমে তো পড়লাম দুজনেই - এখন কি করি? নিজের কাজটাও পন্ড হল। নিজের বোকামোর জন্য নিজের উপর রাগ হতে লাগল।
‘শুনলাম, বিদেশ যাচ্ছ?’
‘ও, তার মানে তুমিও এই অধমের একটু আধটু খবর রাখো ।‘
‘রাখব না কেন? শিখা কাকিমা আর মা তো এখন ফেসবুক-বন্ধু‘, হেসে গড়িয়ে পড়ল প্রায়।
‘আর তুমি? তুমি তো ফেসবুকে নেই? তুমি কেন ফেসবুকে নেই? জানো, কত খুঁজেছি তোমায়?’
‘কেন? আমাকে খুঁজে তোমার কি লাভ ? কত সুন্দর সুন্দর বন্ধু তোমার, প্রোফাইলে তাঁদের হাত ধরে ছবি…’
‘দাঁড়াও, দাঁড়াও। প্রোফাইলের ছবি তো কুমায়ুন বেড়াতে গিয়ে তোলা, পাহাড়ের ছবি।‘
‘তাই বুঝি? পাহাড়ের সামনে তোমার পাশে লাল স্কার্ফ মেয়েটা তোমার হাত ধরে নেই? ফেসবুক-স্ট্যাটাস কমিটেড, আমি বুঝি না কিছু?’
‘হ্যাঁ, তা ঠিক। তোমার মতো বুদ্ধিমতী তো সারা দুনিয়ায় নেই। তুমি একটা স্টুপিড। চিরকালের স্টুপিড। উনি বুঝে গেলেন কে কার সাথে কমিটেড?আমি কি আজ থেকে কমিটেড? ক্লাস ইলেভেনে আমাকে একটা মেয়ে...’ গলা ধরে এল। ভালো বাসলে কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক, আর সংবেদনশীল মনের চোখে জল আসাও তো স্বাভাবিক। ধরে যাওয়া গলা পরিষ্কার করে আবার শুরু করলাম, ‘বাইরে পড়তে গেলাম, আর তুমি সব সম্পর্ক ভুলে গেলে। ফোন ধরতে না, নম্বর বদলে নিলে। সবাইকে বারণ করেছ আমায় নম্বর দিতে। ল্যান্ড-লাইনে ফোন করলেও ধরোনি, সীতা কাকিমা বলেছে তুমি বাড়ি নেই। ফেসবুকে ব্লক করেছ, নাকি ফেসবুক-অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছ।’
‘তুমিও তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলে, নতুন শহরে নতুন জীবন কাটাবে। শ্রেয়াকে বলেছিলে, রূপু স্টুপিড, ওর সঙ্গে থাকা যায় না।’ রূপসাও অভিযোগ করলো।
‘ হ্যাঁ, স্টুপিড তো তুমি বটেই।’
‘আবার? আবার তুমি আমাকে স্টুপিড বললে?’
‘বললাম তো, এখন চলো। কাকু-কাকিমার সঙ্গে দেখা করে যাই। মা-বাপী আসবে কাল। তিনবছরের জন্যে যাচ্ছি, তোমাকে আর সুযোগ দেব না।‘
‘কিসের সুযোগ?’
‘ওই যা যা করেছ এই ক’বছর ধরে । বিয়ে না হয় ছুটি নিয়ে এসে করব, কিন্তু পাসপোর্ট ভিসা এসব কাজ এগিয়ে রাখতে হবে না? রূপু পাগলী এত জানো আর এটুকু বোঝো না যে, স্টুপিড কথাটার মানে তোমায় ভালোবাসি?’
এভাবেই কেটে গেল অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝির কালো মেঘ। অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝির কারন তো ওদের গভীর ভালোবাসা।
আশাকরি ওদের ভালোবাসা ওদের দেবে একটা ভালো বাসা দুজনেরই ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন