ভালবাসা ও প্রতারণা- পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
সত্য কাহিনী অবলম্বনে একটি সম্পূর্ণ গল্প । পড়ে হয়তো আপনাদের বিবেক এ নাড়া দিতে পারে…… গল্পটা একটু বড় এড়িয়ে যাবেন না …..
ফেসবুক থেকে লগ আউট করার সময় হঠাৎ মিস্টি নামের একটি মেয়ের আইডি দেখতে পায় নির্মল । মিউচুয়াল ফ্রেন্ড অনেক । নির্মল এত মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখে মিষ্টিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল।এমনিতে নির্মল খুব খুব দ্রুত মিলতে পারে। ফেসবুক নিজের আইডি খোলার পর থেকে অনেক অচেনা মানুষকে আপন করে নিয়েছে।বাড়িয়েছে বন্ধুত্বের হাত । অনেক মেয়ের সাথেই তার খোলামেলা বন্ধুত্ব । ভার্চুয়াল জগতের এসব বন্ধুত্ব নির্মল খুব উপভোগও করে। এদের মধ্যে দু একজন তার সত্যিকার ভাল বন্ধু হিসেবেও জীবনে আবির্ভূত হয়েছে।
দুই –তিন দিন পর মিষ্টি নির্মলের রিকোয়েস্ট গ্রহন করে । এরপর স্বভাবতই নির্মল মিষ্টিকে কে চ্যাট মেসেজ দেয়। মিষ্টিও প্রত্যুত্তর দেয়। শুরুটা এইভাবে । এইভাবে প্রতিনিয়তই চলতে থাকে নির্মল আর মিষ্টির চ্যাটিং । মিষ্টির আগ্রহ দেখে নির্মল মিষ্টিকে তার ভাল বন্ধু বানাতে উৎসাহ প্রকাশ করে । এরপর দিন যায় ,সপ্তাহ যায় শুধুই ফেসবুক চ্যাটিং ,দুজনের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ।পারিবারিক,বাক্তিগত অনেক কথাই তারা শেয়ার করে। তবে এর মাঝে সাহস করে মিষ্টির কাছে মোবাইল নাম্বার চায়।মিষ্টি কোন রকম টাল -বাহানা ছাড়াই নাম্বার দিয়ে দেয়।এর পর মোবাইলেও তাদের চ্যাটিং , আর কথা হত। মিষ্টি রাত জেগে পড়াশুনা করত আর সেই সাথে ফেসবুক আথবা মোবাইলে নির্মলের সাথে চ্যাটিং করত । নির্মলের তেমন রাত জাগার অভ্যাস ছিল না, তাই মাঝে মাঝে সে ঘুমিয়ে পরতো। আর তখুনি মিষ্টি মোবাইলে কল দিয়ে নির্মলকে উঠিয়ে চ্যাটিং করতে বলত।খুব সহজ আর সাবলীল ভাবে দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব হয়,জানতে জানতে এক সময় নির্মল জানতে পারে মিষ্টির পরিবার অনেক উচ্চ শিক্ষিত হলেও তাদের পরিবারে শান্তি ছিল না।তার এক মাত্র বড় ভাইয়ের বউ মানে ভাবি সব সময় ঝামেলা বাধিয়ে রাখতো। মিস্টিকে অকারণেই বকাঝকা করতো।একারণে মিষ্টির মন বেশিরভাগ সময়ই খারাপ থাকতো,আর তখন নির্মল তার মন ভালো করার আপ্রান চেষ্টা করতো এবং করতোও ।
মিষ্টি সিটি কলেজ এ বিজ্ঞান বিভাগে পরতো তখন ,ywca স্কুল থেকে ২০১০ সালে এস এস সি পাশ করে।নির্মলের সাথে আগে থেকে রাইফেলস পাবলিক , ywca , সিটি কলেজ,হলি ক্রস ,এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের সাথে জানা শোনা ছিল ।নির্মল তাই সবাইকে মিষ্টির সাথে বন্ধুত্বের কথা জানাতে চাইলো । কিন্তু মিষ্টি জানাতে বারন করলো ।কারণটা অবশ্য বলল না । নির্মল মোটামুটি ধনী পরিবারের ছেলে ।এটা মিষ্টি জানতে পেরে তাকে প্রভাবিত করতে শুরু করলো । নির্মল অবশ্য এতে কিছু মনে করল না।মিষ্টি মেয়ে বলে যখন তখন বাসা থেকে বের হতে পারত না, তাই অনেক সময় নির্মল মিষ্টির মোবাইলে রিচার্জ করে দিতো। প্রথম কয়েকবার মিষ্টি রিচার্জ ব্যাক করতো ,পরে আর কখনই তেমন করতো না। নির্মলের এটা নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যথা ছিল না,বন্ধু ই তো !!
মিষ্টির সমবয়সী তার এক মাসতুতো বোন ছিল ,নাম অনামী ।অনামী জানত নির্মল আর মিষ্টির বন্ধুত্বের কথা।অনামীও সিটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তো। অনামী অবশ্য অনেক আগে থেকেই নির্মলের ফ্রেন্ড লিস্টে ছিল ,আর অনামীর যত বান্ধবী ছিল সবাই- ই ছিল বলতে গেলে। অনামীর সাথে মাঝে মাঝে নির্মলের মিষ্টিকে নিয়ে কথা হত ।মিষ্টির ফেসবুক ব্যবহার বা ছেলে বন্ধুর কথা বাসায় জানত না ।এরপর মিষ্টি নির্মলের সাথে দেখা করার জন্য বলতে লাগলো ।ফেসবুকে দুজনের কারোই কোন ছবি ছিল না তখন । তবে নির্মল দেখা করতে চাইত না,দেখতে মোটা মুটি ছিল বলে। পয়লা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুল ডে তে মিষ্টি তার আরেক কাজিন সঞ্জীতার (ধানমণ্ডি গার্ল স্কুলে ১০ শ্রেণীতে পড়ত)সাথে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেয় । আর এ দিনেই মিষ্টি নির্মলকে প্রপোজ করে । আই লাভ ইউ বলে। নির্মল তো ‘থ’ মেরে যায়। মিষ্টিকে ও শুধু ভাল বন্ধু হিসেবেই দেখতো । আর দু জনে দেখাও হইনি তখন । মিষ্টি বলে নির্মল তাকে ভালো না বাসলে সে ইন্সুলিন নেবে । তবে নির্মল বলে আমাকে এপ্রিল ফুল বানাতে চাইছিস (ততদিনে তারা একে অপরকে তুই করে বলতে শুরু করেছে)মিষ্টি তখন জোরাজুরি করে । আর নির্মল তখন রেগে যায়। বন্ধুত্ব ভাঙতে চায় ।পরে তাড়াতাড়ি মিষ্টি বলে যে সে মজা করেছিল । তখন নির্মল বলে যদি সে প্রপোজ গ্রহন করতো তখন কি হত ? মিষ্টি বলে রিলেশন হত । নির্মল রিলেশন করতে চায় না,সবার সাথে বন্ধুত্বটাই সে উপভোগ করে।আবার সমবয়সী কারও সাথে ও তো রিলেশন করবে না বলেই তার পণ । এভাবেই চলতে লাগলো আর মিষ্টির চাপাচাপি বাড়তে লাগলো । সে শুধু দেখা করতে চাইছে । শেষমেষ নির্মল দেখা করার জন্য রাজি হল ।এপ্রিল ফুল এর ৮/৯ দিন পর ।তখন নির্মল Eastern Metropolitan Bypass - এর পাশে রবীন স্যারের বাসার সামনের গলিতে নির্ধারিত সময়ে দাঁড়িয়ে ছিল ,আর মিষ্টি তার মায়ের সাথে স্যারের বাসা থেকে আসলো । মিষ্টির সাথে মোবাইল ছিল না তখন কিন্তু সে তার মায়ের মোবাইল দিয়ে মেসেজ করছিলো । দুজনের চোখাচোখি হলেও কোন কথা হয়নি । নির্মল তার বাসায় ফিরে আসে।রাতে মিষ্টি নির্মলকে বাচ্চা বলে টিটকারি মারতে থাকে,নির্মল এটা বেশ উপভোগ করতে থাকে । কিন্তু এর পরই মিষ্টির ভীমরতি জেগে ওঠে ,সে নির্মলকে আবার প্রপোজ করে বসে।এবার আর মজা নয়,সত্যি সত্যি সে নির্মলকে প্রস্তাব দেয় । নির্মল হতবাক হয়ে না বলে দেয় । শুধু ভাল বন্ধু হয়ে থাকার অনুরোধ জানায় । কিন্তু মিষ্টি বাড়াবাড়ি করতে থাকে । ঘুমের ঔষধ ,ইন্সুলিন ইত্যাদি খাবে বলে হুমকি দেয় । নির্মল মিষ্টিকে অনেক বকাঝকা করে। বন্ধুত্বই ছেড়ে দেয় নির্মল । এর দুই দিন পর নির্মল তার মায়ের সাথে তার দাদুর বাড়ি যাবার সময় মিষ্টিকে কল করে । নির্মল রিসিভ করে না । শেষে বিরক্ত হয় বাধ্য হয়ে কল রিসিভ করে । মিষ্টি কান্নাকাটি করতে থাকে ফোনে । বার বার সরি বলে মাফ চায় । আর কখনও এমন পাগলামি করবে না বলে কথা দেয় । মিষ্টির কান্না কাটি শুনে নির্মল তাকে মাফ করে দেয় । কিন্তু মায়ের সামনে কিছুই বলতে পারে না ,তাই বলে - “করে দিলাম” । পরে কথা হবে । এই বলে ফোন কেটে দেয় নির্মল।
আবার বন্ধুত্ব হয় । তাদের দেখাও হয় বেশ কয়েকবার এর পরে। মিষ্টির সাথে একই এলাকার আরেকটা মেয়ে (ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তারা ) মুনিয়া কলেজে আসতো । যেদিন নির্মলের সাথে দেখা করতো ঐদিন তাকে মিথ্যা বলে আগে পাঠিয়ে দিতো । এক সময় তারাও সব জেনে যায় । এর মধ্যে মিষ্টি প্রায়ই নির্মলের কাছ থেকে মোবাইল রিচার্জ করে নিতো ,কিন্তু টাকা ফেরৎ দিতো না । মিষ্টি এর কিছু দিন পরপরই নির্মলকে প্রপোজ করতে ত্থাকে । নির্মলকে ছাড়া বাঁচবে না এসব কথা বলে ।নির্মল বারবারই তাকে ফিরিয়ে দেয় । অনেকবার বকাঝকা করে । কথা বলা বন্ধ করে দেয় । পরে মিষ্টির বাহানা আর কান্না কাটি শুনে নির্মল আবার মিষ্টিকে ক্ষমা করে দেয় । এভাবেই চলতে লাগলো । নির্মলও ভাল একটা বন্ধু হারানোর ভয়ে বার বার মিষ্টিকে ক্ষমা করে দেয় ।
কিন্তু বাস্তব সত্যটা একটু অন্যরকমই ছিল । নির্মল তখন ব্যাপারটা জানত না । জানলে হয়তো অনেক আগেই ফ্রেন্ডশিপ ব্রেক করতো । যাই হোক সেসব কথায় পরে আসা যাবে !! বন্ধুত্বটা অন্যরকম হয়ে গিয়েছিলো ।কিছুদিন খুব ভালো তো কিছুদিন খুব খারাপ । মিষ্টির পাগলামিতেই এমন হয়,আর তখনই মিশু তার বান্ধবী নির্মলের ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধুদের বলে বেড়াতে লাগলো নির্মল তার বয় ফ্রেন্ড ।সবাই নির্মলকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো । এমনিতে মিষ্টি বেশ সুন্দরী ই ছিল তবে একটু মোটা । নির্মল খেপে যায় । মিষ্টিকে আবার বকা ঝকা করতে থাকে । মিষ্টি বাহানা দিতে থাকে ।নির্মল এসবে কান না দিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেয় । এর পর আবার মিষ্টি নির্মলকে নানাভাবে বোঝাতে থাকে , তার ছোটখাটো সমস্যা গুলো অনেক বড় করে দেখাতে থাকে । বলল বাসায় ভাবি তাকে জ্বালিয়ে মারছে ,সুইসাইড করতে ইচ্ছে করছে ।কান্নাকাটি শুনে নির্মল আবারও তাকে ক্ষমা করে ,এর মাঝে মিষ্টির জন্মদিনে নির্মল মিষ্টিকে একটা চমৎকার ব্রেসলেট উপহার দেয় । এত সুন্দর ব্রেসলেট পেয়ে মিষ্টিতো ভারী খুশি। পরে তারা রেস্টুরেন্টে খায়।
মিষ্টিরা চার বান্ধুবী ।মুনিয়া ,মনি,মিঠি ও মিষ্টি ।মুনিয়া এবং মিষ্টি বেশির ভাগ সময় এক সাথে থাকতো । মনি ও মিঠি ও তাদের ভাল ফ্রেন্ড ছিল ।তবে মিঠির কাছে ওরা অনেক কিছু লুকাত । নির্মলের ব্যাপারটা ও তারা মিঠিকে জানাতে চাই নি । এর মাঝে ভ্যালেন্টাইন ডে - তে নির্মল গাড়ি নিয়ে মিষ্টির সাথে দেখা করতে চায় । ঐদিন মিঠিও ছিল তাদের সাথে । তাই মিঠি সব জেনে গেল । রেস্টুরেন্ট থেকে রবীন্দ্র সরোবরে গিয়ে বসল ।মনি ও মুনিয়া কি জানি কিনতে যাবে বলে তাদের ওখানে থাকতে বলল ।নির্মল মিষ্টির জন্য সাদা গোলাপ আর একটা গিফট এনেছিল । কিন্তু সবার সামনে দিতে লজ্জা করছিল তাই ওদের বলল গাড়িতে আসতে ।কিন্তু ওরা আসলো না । তাই নির্মল রাগ করে ফুল এবং গিফট মাটিতে ফেলে চলে যায়। মিষ্টি অনেকবার কল করে ওকে ফেরানোর জন্য,কিন্তু ফোন কেটে দেয় ।পরে রাতে মিষ্টি সব দোষ মিঠির উপর চাপিয়ে দেয় এর পর তাদের শেষ কথা হয় এইচ এস কেমিস্ট্রি ২য় পত্র পরীক্ষার আগের দিন নির্মল প্রতিটা পরীক্ষার ৮০% কমন পড়বে এরকম শর্ট সাজেশন মিষ্টিকে দেয় । ম্যাথ সাজেশন ছিল না বলে আর কথা হয়নি ।
এবার আসা যাক বাস্তব সম্মত কথায় , , নির্মল পরে যা নিশ্চিত ভাবে জানতে পারে ।মিষ্টি এক প্রকার লোভী, স্বার্থপর আর সর্বশেষে চরিত্রহীনা ছিল । নির্মলের সাথে কথা বলার সময় সে অন্য ছেলেদের সাথে সম্পর্ক রেখেছে ।পরে মিষ্টি সেটা স্বীকার করেছে ।এমন কি বয়সে ছোট ছেলের সাথে ও সে সম্পর্ক করেছে ।তাদের কাছ থেকে ও মিষ্টি টাকা ধার নিতো, কিন্তু ফেরত দিতো না ।তবে সে সব চেয়ে বেশি ব্যবহার নির্মলকে করেছে ।নির্মলকে বিয়ে করতে চাইত সে। ভাবত নির্মলের বউ হলে রাজরানী হয়ে থাকতে পারবে ।এমনকি সে তার মেয়ে বন্ধুদের পদে পদে ব্যবহার করেছে ।মুনিয়ার ভাই ডাক্তার বলে সে প্রায় চাইত মুনিয়ার ভাই এর সাথে আলাপ করতে ।তবে মুলত মিষ্টির বাবা চাইত মুনিয়ার ভাই এর সাথে মিষ্টির বিয়ে দিতে । মিষ্টি আর মুনিয়া এক সাথে কলেজে যেত বলে তাদের ভাল জানাশোনা ছিল ।
নির্মল যখন মিষ্টিকে না করে দিল ,তখন নানা অজুহাতে আরও চরম মিথ্যা কথা বলে মাফ চাইত ।কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল একটাই । নির্মলকে নিজের করে রাখা ,সাথে অন্য ছেলেদের সঙ্গে টাইম পাস করা। নির্মলকে তার বয় ফ্রেন্ড বানিয়ে সবার কাছে বলতে লাগল। নির্মল যখন তার সাথে কথা বলা বন্ধ করল মিষ্টি তখন তার বন্ধুদের মিথ্যা বলে নির্মলের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিল ।নির্মলের তথা কথিত বন্ধুরা নির্মলকে কিছু না জিজ্ঞেস করেই তাকে ফেসবুকে রিপোর্ট আর ব্লক করতে লাগল ,নির্মল অনেক আগেই মিষ্টিকে কে ব্লক করেছিল ।,সবার রিপোর্ট পেয়ে নির্মল ফেসবুক থেকে ওয়ার্নিং পায় ,বাস্তবতার ধাক্কায় নির্মল হতবাক হয়ে যায় । বন্ধুত্বকে বাজে ভাবে ব্যবহার করা একজনের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল এটা ভাবতেই টা গা শিউরে উঠে ।
হতাশ মিষ্টির ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়, মিষ্টি সরাসরি নির্মলের উপর দোষ চাপায় । কিন্তু নির্মল এসবের কিছুই জানত না । তারা চার বান্ধবীর পাসওয়ার্ড তাদের প্রত্যেকেই জানতো । মিষ্টির মিথ্যে কথায় সবাই শুভ্র কে খারাপ ভাবতে শুরু করল । শুভ্র হারাতে লাগল তার আত্নসম্মান।একটা চরিত্রহীনার মিথ্যে কথায় ।
মিষ্টি নির্মলের সাথে কথা বলার পরও মহেশ নামের একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক করে । সেটা এখন ও চলছে ।ছেলেটি সিটি কলেজ এর বিজ্ঞান বিভাগ এর ছাত্র ।
সব সাবজেক্ট সাজেশন পাবার পর যখন দেখল তার A+ নিশ্চিত তখন নির্মলকে useless মনে হল । নির্মলকে আর ব্যবহার করা যাবে না এটা একটা বড় কারন ।হায়রে মেয়ে । আর তোর বন্ধুত্ব !! মেয়েদের ভুবন ভুলানো কথা আর হাসিতে কতো ছেলে তাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে তার ইয়ত্তা নেই । মিষ্টি মহেশের সাথে বেশ খোলাখুলি রিলেশন এ গিয়েছে বলে নির্মল শুনেছে । তারা ঘুরতে যায় এটা নির্মলের বন্ধুরা দেখেছে । হয়তো কিছু দিন পর মহেশকেও ব্যবহার করা শেষ হয়ে যাবে মিষ্টির ।তাদের কথা আর না ই বা বললাম ।হায়রে মানুষ !!!
মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য কত কি করতে পারে । নিজের চরিত্র বিসর্জনও দিতে পারে ?? অবশ্য এই সব মেয়েদের মধ্যে চরিত্র বলতে কিছু ছিল বলে মনে হয় না ।তারা জন্মায় ই নিজেদের ধান্দাবাজ পিশাচ বা চরিত্রহীনা হিসেবে পরিচিতি পাবার জন্য । আর বন্ধুত্বের মত পবিত্র সম্পর্ককে কালিমা লেপনের জন্য ।যখন বন্ধুকে (!) ব্যবহার শেষ হয় তখন তাকে সবার কাছে খারাপ বানিয়ে নাচতে নাচতে নতুন ব্যবহারযোগ্য বন্ধু বানায় ।
ভাবতে পারেন এমন বন্ধুত্বের কথা ?? একবার ভাবুন তো এমনটা আপনার সাথে ঘটলে কি হত ??? নিজেকে নির্মলের জায়গায় কল্পনা করুন তো ……???
দেখুন তো মিষ্টিকে মানুষ মনে হয় কি না???? কি মনে হয়………………………. ????????
আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানান , মিস্টিদের মত কোন মেয়েরা যেন নির্মলের মত আর কোন ছেলে কে ব্যবহার করতে না পারে সেই জন্য সচেতন করুন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন