শুধু তোমাকেই ভালোবাসা যায় - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

পৃথিবীতে এখন এরকম কিছু মানুষ দেখা যায়, যারা এই স্বার্থপর পৃথিবীর মধ্যে একটু অন্য ধরনের। আজকের সমাজের চোখে হয়ত তাঁরা নির্বোধ বলে আখ্যা পেয়ে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের চোখে এদের জায়গা একটু অন্যধরণের। সামনাসামনি কেউ একে কিছু না বললেও মনে মনে একে বিশ্বাসের আসনে অবলীলাক্রমে বসিয়ে দিতে পারেন। তাই তো পিয়া অসীমকে মুখে যাই বলুক না, মনে মনে একটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার  আসনে বসিয়েছে। 

-ব্রেকআপ!!! চিৎকার করে উঠল পিয়া!
-মানে?
-মানে বোঝো না?মানে হল তোমার আর আমার রিলেশনের এখানেই শেষ!বাই বাই!
-আচ্ছা।
-আচ্ছা মানে?তুমি কিছু বলবে  না?
-আচ্ছা আজকে কি আমরা শোক পালন করব?না মানে যেমন ধর…প্রতিদিন আমরা আইসক্রিম,ঝালমুড়ি,ফুচকা খাই..আজকে বরং তা না করে সিগারেট খাই!
-তুমি আমাকে সিগারেট খাওয়াবে !!!
-না মানে…কষ্ট ভুলতে তো মানুষ তা-ই করে!
-তোমার কি মনে হয় আমার কষ্ট লাগবে?মোটেও না!!
-ও!!
রাগে হাতের ব্যাগটা আছাড় মারল পিয়া!-তুমি একটা ছাগল আর একটা ছাগলের সাথে কোনো মানুষের সম্পর্ক থাকতে পারে না!
কথাটা বলেই বাসার দিকে হাঁটতে লাগল পিয়া।
পিয়ার ফেলে যাওয়া ব্যাগটা হাতে নিল অসীম ।
ভিতরে একটা মোবাইল আর কিছু টাকা আছে।
অসীম একবার ভাবল পিয়াকে ব্যাগের জন্য ডাক দেবে।কিন্ত পরক্ষণেই চিন্তাটা বাদ দিল। ব্যাগটা হাতে নিয়েই হাঁটা শুরু করল ও। দুটো বাচ্চা মেয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দড়িলাফ খেলছিল। ওর হাতে মেয়েদের ব্যাগ দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল মেয়ে দুটো। ওদের হাসি দেখে অসীমও হেসে ফেলে ।
তবে এবার আর মেয়ে দুটো হাসে না। হয়ত ওকে পাগল ভাবছে!-হ্যালো,তুমি আমার মোবাইলসহ ব্যাগ চুরি করলে কেন?-না,না আমি তা করিনি!তুমিই তো ব্যাগটা ফেলে আসলে।-একদম মুখের ওপর কথা বলবে না!কালকে আমার ব্যাগ নিয়ে সোজা ক্যাম্পাসে চলে আসবে।
বাই!!ফোনটা কেটে দিল পিয়া!কাঁদছে ও!দুটো কারণে ব্যাগটা ও ইচ্ছে করেই ফেলে এসেছে!প্রথমত,এই ব্যাগের অজুহাতে আবার অসীমের সাথে দেখা করা যাবে!আর দ্বিতীয়ত,আজ-ই অসীমের মেসের ভাড়া দেয়ার শেষ দিন। তাই ব্যাগের টাকাটা রেখে এসেছে যাতে বাধ্য হয়ে ওর টাকাটা দিয়ে মেসের ভাড়াটা মিটাতে পারে অসীম ! এমনিতে সরাসরি দিলে অসীম তা কোনোদিনই নিত না!তাই বাধ্য হয়েই ঝগড়াটার সৃষ্টি করেছিল ও!
আধঘন্টা ধরে বসে আছে পিয়া। কিন্ত অসীমের আসার কোনো নাম নেই!যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেই দৌড়াতে দৌড়াতে সামনে এসে দাঁড়ায় অসীম !
-সরি!এই নাও তোমার ব্যাগ!আর একটা কথা বলব? অপরাধীর মত মুখ করে বলে অসীম।-কি?-আমি তোমার টাকাগুলো খরচ করে ফেলেছি!পিয়ার মুখে একটা প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল!কিন্ত মুখে বলল,-বাজে কথা বলবে না!ব্যাগে কোনো টাকা ছিল না!-না,না,সত্যি ছিল!তোমার ওই টাকা দিয়েই তো গোপাল কাকুকে একটা কম্বল কিনে দিয়েছি!সরি!প্লিজ কিছু মনে কর না!আসলে হাতে কোনো টাকা ছিল না তাই!তবে এ মাসের টিউশিনির টাকাটা পেলেই দিয়ে দিব!তুমি তো কাকুর কথা সবই জানো!তাই আর কি ..সরি!
ঠোঁট চেপে কান্না আটকে রেখেছে  পিয়া!যে মানুষটা নিজেই ঠিকমত চলতে পারে না,যার নিজেরই একটা ভালো শীতের জামা নেই,যে নিজেই সারা বছর কষ্ট করে কাটায়, সেই মানুষটাই কিনা আরেকজনকে সাহায্য করে তার জন্য আমার মাফ চাইছে!কোনোমতে সামলে উঠে বলল ও,-তোমাকে মেস থেকে বের করে দেয়নি??-না!আরো দুইদিন সময় দিয়েছে।-বের করে দিলে খুশি হতাম!-আচ্ছা আজ থেকে কি তোমার ফোন রিসিভ করব?না মানে তুমি ই তো কাল বললে…-হ্যাঁ,আজকে থেকে তুমি আর আমার ফোন রিসিভ করবে না!কিন্ত ফোন ঠিকই করবে ! না করলে চড় মেরে আক্কেল দাঁতসহ সবগুলো দাঁত ফেলে দেব!এবার আর কান্না আটকে রাখতে পারল না মেয়েটা!অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল অসীম ! আর দশটা সাধারণ গল্পের ছেলেগুলোর মত অসীমও বুঝতে পারছে না মেয়েটা কেন কাঁদছে!শুধু মনে মনে বলছে-“আবার কি করলাম!” এই ধরণের  সোনার মনের মানুষগুলো হয়ত সত্যিই অচল!!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।