সত্যের সামনে - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

সেদিন অনেকরাতে প্রভাতের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে স্তম্ভিত  স্বপন । একী হলো চন্দ্রার ! দুবছর বিয়ে হয়েছে প্রিয়-বন্ধু প্রভাতের সাথে। আর...
ঝামেলার বিয়ে ওদের। প্রভাত বেকার। তখন-ও স্কুলশিক্ষক হয়নি। তাই চন্দ্রার পরিবার রাজি ছিল না।
তখন স্বপন ব্যাংকের চাকরিটা পেয়েছে। চন্দ্রা এসেছিল এক সন্ধ্যায়। বলেছিল --স্বপন -দা,  আমার কিছু কথা...
--- খাওয়াতে হবে?
---যদি চাও...
---চাই মানে, আলবত চাই! আমার চন্দ্রা খেতে চাইছে, আর আমি...
চন্দ্রা বলেছিল---আগে মাইনে পাও, টিউশানির টাকায় তো খেয়েইছি।
----তাই হবে, কিন্তু আজতো কিছু খাও...
---তোমাকে বললাম না, কিছু বলতে চাই।
---যা বলবে, আমি আন্দাজ করতে পারছি, সো-টু-সে, এই কথাটা শোনার জন্যে আমি...
----আমি প্রভাত -দাকে বিয়ে করতে চাই স্বপন -দা, বাবা রাজি হচ্ছে না। তোমাকে
রাজি করাতে হবে। প্লিজ স্বপন -দা, না হলে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে।
শুনে হতচকিত স্বপন কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেনি। পরে কোনোরকমে বলেছিল--বেশ।
সেই চন্দ্রা কিনা দুবছরের মধ্যে... 

প্রভাত চাকরি পাওয়ার পর চন্দ্রাকে নিয়ে  চুঁচুড়ায় থাকতো। স্বপন ওদের বাড়িতে পৌঁছেছিল খুব ভোরে।চন্দ্রা -র মা দরজা খুলে বলেছিল -হঠাৎ কী হয়ে গেল স্বপন ! কেন যে ঘুমের বড়ি খেলো প্রভাত !
চন্দ্রার সামনে দাঁড়াতে স্বপনের ভয় করলো। ওকে দেখে চন্দ্রা চোখ নামিয়ে নিল। স্বপন চন্দ্রার পাশে বসে ওর মাথায় হাত রাখল। চন্দ্রা যেন কেঁপে উঠল। স্বপন বলল-- কেন এমন হলো? তোমার জন্য কি?
শুনে চন্দ্রা স্বপনের চোখে চোখ রাখলো। তারপর কাঁপা- কাঁপা গলায় বলল---তোমার জন্য। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।