হারানো স্মৃতি - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।

মানুষের জীবন সব সময়েই ঘটনা বহুল - জীবনের চলার পথ দীর্ঘ তাতে বহু সময়  বহু মানুষের সাথে নিজের অজ্ঞাতে দেখা হয়ে যায়। হয়ত এটার কারণ পৃথিবীটা গোল।
গত সপ্তাহেতেই নতুন অঙ্কের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছে অভিষেক । বাড়ি থেকে খুব বেশী দূরে অবশ্য নয় কোচিং সেন্টারটি। পায়ে  হেঁটে এই মিনিট কুড়ির  রাস্তা। তবে আজ রোববার হওয়াতে একমাত্র ছেলেকে কোচিং থেকে আনার দায়িত্ব বর্তেছে সুজনের উপরেই।  আগে কথাবার্তা বলা থেকে ভর্তি করানো, এমনকি ভোরে কোচিং এ দিয়ে আসা সবই অবশ্য করেছে স্ত্রী ঈশানী । সুজন জেনেছে ওই কোচিং এ নাকি বিশেষ যত্ন নিয়ে অঙ্ক শেখানো হয়। একটা ব্যাচে একসাথে কেবল দুইজনকেই পড়ানো হয়। ঈশানী জানিয়েছে অভি ছাড়া ওই ব্যাচে পড়বে ইলা নামের একটি মেয়ে। 

ঘড়িতে এখন ঠিক ন টা বাজতে পাঁচ। কোচিং সেন্টার থেকে সামান্য দূরে দাড়াল সুজন। দেখল, ওর প্রায় সমবয়সী এক ভদ্রমহিলাও একটু সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। বুঝতে অসুবিধা হল না  যে, উনি অভির ওই ব্যাচের অপর সহপাঠিনীর অভিভাবিকা। মেয়েকে নিতে এসেছেন। সুজনের ভীষণ যেন চেনাচেনা লাগল ওনাকে! ওর সংশয় কিন্তু সত্যে পরিণত হল ভদ্রমহিলার মুখটি ভালোভাবে নজর করতেই। চোখে চোখ পড়ার আগেই ওখান থেকে একটু এগিয়ে নিজেকে আড়াল করল সুজন। 


বুকটা তখনও ওর ঢিপঢিপ করছে। মনে পড়ে গেল, বহু বছর আগেকার ক্লাস নাইনের অঙ্ক কোচিং এ অমিতার সাথে আলাপের প্রথম দিনটা। আলাপ থেকে ভালোলাগা, তার থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত। না, বিয়েটা তো অমিতার বাবা হতে দিলেন না। যুক্তি ছিল, সুজনদের অস্বচ্ছল অর্থনৈতিক অবস্থা। আজ প্রায় সতেরো বছর পর আবার অমিতার দেখা পেল সুজন। কি অদ্ভুত! আজও মিলনস্থল ক্লাস নাইনের অঙ্ক কোচিং সেন্টার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।