ভালোবাসার সততা- পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
বর্তমান জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া - বিশেষত তরুণ- তরুণীদের কাছে। বর্তমান জীবনের বেশীর ভাগ অংশ তাঁদের কাটে ওই কল্পনার জগতে। এখানেই প্রেম, ভালোবাসা,আবার ছাড়াছাড়ি - এসব নিয়েই এদের দিন কাটে। এরকম ভাবেই ওই কল্পনার জগৎ টায় ঢুকে পড়েছিল বর্ধমানের আয়েশা আর হাওড়ার বাউরিয়ার প্রবীর । ফেসবুক এ পরিচয়,মুঠোফোনে প্রেমালাপ। ভিডিও কলিং এ দেখতে পায় একে-অপরকে।বাড়ে ঘনিষ্ঠতা - আর হালখাতার দিনেই অর্থাৎ ১লা বৈশাখ ভালোবাসার খাতা খুলেছিল আয়েশা আর প্রবীর। কখনো রোমাঞ্চিত হয়ে অস্তরবির রঙে রেঙ্গে ওঠে মুখমণ্ডল, আবার কখনো বিষণ্ণতায় চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে দুজনের। ধর্ম আলাদা , তাই দূরে সরে যেতে চায় তারা, কিন্তু পারেনা। ভালোবাসার অদম্য আকর্ষণে বারেবারে ফিরে আসে।
আয়েশার বাড়িতে জানাজানি হলে অশান্তি চরমে উঠল। বাবা বললেন ," জানিস না , অন্যধর্মে বিয়ে করা পাপ! " আয়েশার অকাট্য যুক্তি", ধর্ম আগে না মানুষ আগে? আমি মানুষকে ভালোবাসি, ধর্মকে নয়। 'সবার উপরে মানুষ সত্য'-একথা কি মিথ্যে ?"
আয়েশার বাবা প্রবীরকে ফোনে ধমকালেন। আয়েশার বাড়িতে অশান্তি চরম পর্যায় - কয়েকদিন পর, ভরদুপুরে প্রবীরের ফোন বেজে উঠল।
" হ্যালো, আয়েশা , কাঁদছ কেন?"
" বাড়িতে প্রচণ্ড অশান্তি। তোমার কাছে চলে আসছি। হাওড়া স্টেশনে এসো প্লিজ !"
"একি! তুমি নাবালিকা যে! সবে নবম শ্রেণী। পথে কতরকম বিপদ হতে পারে ধারণা আছে তোমার? হাওড়া স্টেশনে চুপচাপ দাঁড়াবে,আমি আসছি ।"
আয়েশার বাবাকে মেসেজ করে ট্রেনে চেপে বসল প্রবীর । স্টেশনে পৌঁছে আয়েশাকে বুঝিয়ে বাবার হাতে তুলে দিয়ে বলল, " কাকু , অপরিণত বুদ্ধিতে ও যা করেছে, আমি কী করে করি বলুন!"
ছেলেটির সততায় আপ্লুত আয়েশার বাবা! বললেন," ভালোবাসার কোন ধর্ম হয়না , মানবধর্মই একমাত্র ধর্ম। কথা দিচ্ছি ,তোমার হাতেই মেয়েকে তুলে দেব।"
প্রবীরকে পিছনে ফেলে অজগরের গতিতে এগিয়ে গেল বর্ধমান লোকাল। প্রবীরের চোখে ভাসছে টলটলে দুটি চোখ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন