বালাজি বাজিরাও (দ্বিতীয় ভাগ ) - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী.

কৌশলী বাজিরাও:
*******************
তিনি বিভিন্ন জায়গা মুঘলদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর স্থানীয় বংশদের প্রাধান্য দিতে থাকেন। ফলাফলে হোলকার বংশ, পাওয়ার বংশ, সিন্ধে,  গায়কোয়াড়, সিন্ধিয়া ইত্যাদি বংশ পরিচিতি পায়। 
এর ফলে স্থানীয় জায়গায় যেমন মারাঠা সাম্রাজ্যের কব্জা জোর পায়, পাশাপাশি হিন্দু স্বার্থ রক্ষা হয়। 

ধার্মিক বাজিরাও:
*****************
বাজিরাও আমূল সংস্কার করেছিলেন বেনারসের। 
মনিকর্নিকা ঘাট,  রাজঘাট, পঞ্চগঙ্গাঘাট সমেত প্রায় এক তৃতীয়াংশ ঘাটের নির্মাণ তিনিই করেছিলেন। 
এখনও রয়েছে একটি ঘাট এই বারাণসীতে। 
যেটি তিনি বানিয়েছিলেন
বাজিরাও বল্লাল ঘাট। 

অন্যান্য যুদ্ধ:
**************
পালখর এর যুদ্ধ, মালোয়ার যুদ্ধ ইত্যাদি সবকটি যুদ্ধে জিৎ তার মুকুটে এক একই পালক।
প্রতিটি যুদ্ধে তার জিৎ মারাঠা সাম্রাজ্যের ভীত শক্ত করেছিল মধ্যভারত থেকে দক্ষিণ ভারতে। 
কোঁকন প্রদেশে জন্জিরাদের বিরুদ্ধে জিৎ, 
গুজরাট উপকূলে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে জিৎ তার সামরিক জীবনের এক একটি ফলক। 
1737 সালে বসই নামে এক জায়গায় যুদ্ধ হয় পর্তুগিজদের সাথে। 
সেই যুদ্ধে জয়ের কিছুদিন পর থানে আর বেসিন এই দুই জায়গা পর্তুগিজ দখল মুক্ত করে মারাঠাদের কব্জায় আনেন। 

বুন্দেলখন্ড এর সাহায্য প্রার্থনা:
*****************************
তার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় যখন 1729 সালে বুন্দেলখন্ড এর মহারাজা_ছত্রশাল সাহায্য চেয়ে পাঠান। 
সেই চিঠি নিয়ে আসেন কন্যা মস্তানী। 
(ঠিক এইখান থেকেই শুরু হচ্ছে বাজিরাও-মস্তানী সিনেমার কাহিনী) 

মহারাজ ছত্রশাল তিনি নিজেও ছিলেন আরেক যুদ্ধজয়ী রাজা।
সমগ্র বুন্দেলখন্ড ছিল তার অধীনে। 

আওরঙ্গজেব বারবার সৈন্য পাঠায় মহারাজাকে পরাজিত করার জন্য। প্রতিবারই গোহারান হেরে পালাতে বাধ্য হয় আওরঙ্গজেবের বাহিনী।
শেষে মহারাজের বয়স হয় যখন আশি বছর তখন তিনি অসুস্থ হয়ে তার দুর্গে অবস্থান করেন। 

সালটা 1728।
মহারাজের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুহম্মদ খান বাঙ্গাস নামে এক পাঠানকে পাঠায় আওরঙ্গজেব।
যদিও আওরঙ্গজেব ততদিনে মারা গিয়েছেন। 
(মৃত্যুর আগে মুহম্মদকে শপথ করিয়েছিলেন- মহারাজা ছত্রশালকে ছেড়ে দেবে না, সুযোগ এলে যেন চেপে ধরে)
মুহম্মদ সেই দুর্গ ঘিরে রাখে। 
পানীয় জল, খাবার সমেত বিভিন্ন জরুরী জিনিসের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
প্রায় একবছর ধরে বন্দী থাকেন মহারাজ... 

মস্তানী যে চিঠি নিয়ে আসেন সেই চিঠির ভাষা ছিল নিম্নরূপ- যেভাবে যুদ্ধজেতা হাতি বয়স হলে স্থবির হয়ে যায় আমার এখন সেরূপ অবস্থা। এই সুযোগে কুমির এসে ধরেছে আমার পা। এখন এই অবস্থায় আমি চাইছি আপনি আমায় সাহায্য করুন। 
আমরা জানি আমাদের দুজনের চাহিদা ও লক্ষ্য একই ভারতকে মুসলমান শাসন মুক্ত করা। ভারতবর্ষের লুপ্ত গৌরব পুনরুদ্ধার করা। এই কাজ সারাজীবন আমি গৌরবের সাথে করে এসেছি আজ আমার গৌরব বিপদের মুখে। এই সময়ে আমি চাইছি আপনি সেই গৌরব পুনরুদ্ধার করে আমাদের জয়ের ধারা বজায় রাখুন। 

উল্লেখ্য
এর আগে আরেকবার সাহায্য চেয়ে পাঠিয়েছিলেন ছত্রশাল। কিন্তু তখন অন্য যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন পেশোয়া। 
তাই সাহায্য করতে পারেন না তখন... 

চিঠি প্রাপ্তির সাথে সাথে পেশোয়া তার বাহিনী নিয়ে তৎক্ষণাৎ যাত্রা শুরু করেন বুন্দেলখন্ড। 
সঙ্গী হন মস্তানী। 
পথে যত মুঘল চৌকি পেয়েছেন সব দখল করেছেন। 
মুহম্মদ যেখানে অবস্থান করছিল তার আশেপাশের সমস্ত মুঘল চৌকি তিনি বন্ধ করে দেন। 
সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে শেষে মুহম্মদকে চেপে ধরলেন।
যুদ্ধ হয় মালোয়া নামক জায়গায়। 
battle of malwa নামে বিখ্যাত। 
শোচনীয় হেরে সন্ধি করতে বাধ্য হয় মুহম্মদ। 
কোনদিন বুন্দেলখন্ড এর দিকে চোখ তুলে তাকাবেনা এই মর্মে চুক্তিপত্রে সই করতে বাধ্য হয়। 

বাজিরাও-মস্তানী:
*******************
এই যুদ্ধ চলাকালীন প্রেম হয় বাজিরাও আর মস্তানীর মধ্যে। পরে রাজা ছত্রশাল তার কন্যা মস্তানীর সাথে বিবাহ দেন পেশোয়া বাজিরাও বল্লালের। 
সাথে যৌতুক হিসেবে দেন এক তৃতীয়াংশ রাজ্য। 
ঝাঁসি সাগর কল্পি এই তিনটি শহরের নিয়ন্ত্রণ।
সাথে দেন তেত্রিশ লক্ষ মোহর এবং একটি সোনার খনি। 

মোটামুটি সবই চলছিল ঠিকঠাক বাজিরাও এর জীবনে। 
সমস্যা শুরু হয় বাজিরাও যখন করেন দ্বিতীয় বিয়ে। 
বিয়ে করার পর বাজিরাও আর মস্তানী উঠেন বাজিরাও এর প্রাসাদ শনিবার ওয়াড়াতে। 

মস্তানীর মা ছিলেন মুসলিম। 
পার্সি মুসলিম কন্যা রুহানিবাই ছিলেন জন্মদাত্রী মাতা।
সেই সূত্র ধরে পেশোয়ার মুসলমান পত্নী এই নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। মারাঠা সাম্রাজ্যের পুরোহিত এবং অন্যান্য মন্ত্রীগোষ্ঠী প্রবল বিরোধিতা করা শুরু করে। 
মেনে নেন না বাজিরাও এর মাতা রাধাবাই এবং ভাই। প্রথম স্ত্রী কাশিবাই চুপচাপ থাকেন, বিরক্ত হলেও প্রকাশ করেন না। 

শনিবার ওয়াড়ায় এক কোনে মস্তানীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পারিবারিক অশান্তি এড়াতে বানানো হয় আলাদা একটি দরজা শুধু মস্তানীর যাতায়াতের জন্য। আজও আছে সেই দরজা শনিবার ওয়াড়ায়। 

মস্তানী দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে শনিবার ওয়াড়ায় এই পদার্পন উত্তাল করে তুলে বাজিরাও এর অন্দরমহল। 
কাশিবাই তার স্বামীর এই দ্বিতীয় বিবাহ এবং সতীন মস্তানীর সম্বন্ধে একরকম নিস্পৃহ থাকতে শুরু করলেও তার নিজের পিতৃ পরিবার কখনো মেনে নেয়নি...।কোনদিনই মেনে নেন নি বাজিরাও এর নিজের মা রাধাবাই আর ভাই চিমাজি আপ্পা। 

পারিবারিক বিরোধ চরমে উঠলে বাজিরাও মস্তানীকে স্থানান্তরিত করেন শনিবার ওয়াড়ার অদূরে।  কোটরুদ নামের কেল্লায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। পুত্র সন্তান হয় তাদের। 
বাজিরাও নাম রাখেন #কৃষ্ণ_রাও। 
হিন্দু ব্রাহ্মণ সন্তানের হিন্দু মতেই সংস্কার উপনয়ন করার কিন্তু ব্রাহ্মন পুরোহিতদের বিরোধিতা দেখে 
তিনি তাকে তার মায়ের ধর্মেই সংস্কার করেন 
নতুন নামকরন করেন শামসের বাহাদুর। 

বহু বহু যুদ্ধে মস্তানী সঙ্গে থাকেন বাজিরাও এর। রীতিমতো ঘোড়ার পিঠে চেপে অস্ত্র নিয়ে লড়াই করে যেতেন তিনি পেশোয়ার পাশাপাশি। 

শেষ সময়:
************
1740 সালে বাজিরাও এর মৃত্যু ঘটলে পরে ক'দিনের মধ্যেই মারা যান মস্তানী। শোনা যায় তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে মারা যান।
অন্যমতে তিনি বাজিরাও এর সাথে সহমরনে যান 
আরেকটি মত বলে তিনি মারা যান বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে...।
তবে তিনি যখন মারা যান তখন তার সন্তান শামসের এর বয়স মাত্র ছয়।
তাকে তার সৎ মা কাশিবাই মানুষ করেন। 

ঘটনাটি নিম্নরূপ:
1740 সালে তিনি দিল্লী যাচ্ছিলেন লক্ষাধিক সৈন্য সাথে নিয়ে। পথে রাওয়ারখেড়ি নামক জায়গায় তিনি প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন। 

খবর পেয়ে তখন তার সাথে দেখা করার জন্য মাতা কাশিবাইকে পাঠিয়ে দেন পুত্র #নানাসাহেব। 
তারা যখন পৌঁছন বাজিরাও তখন মৃত্যু শয্যায়। বাজিরাও তার পত্নীকে বলে যান স্ত্রী হিসেবে কর্তব্য করে যাওয়ার জন্য।
এরপরে বাজিরাও মারা গেলে তিনি এবং অপর পুত্র জনার্দন শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।
সাথে আসেন মস্তানী বাজিরাও এর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কাজে। 
এখানেই মস্তানী তার স্বামীর চিতায় উঠেন সহমরনে। 
এরপর মস্তানীর দেহ অস্থি কাশিবাই কবরস্থ করেন পুণের পবল নামক স্থানে। 

অন্য আরেকটি মতে 
বাজিরাও এর দেহ চিতায় তোলার আগেই ব্রাহ্মণদের বিরোধিতায় ফিরে আসেন মস্তানী পুণেতে। 
মনে খুব আঘাত পান তিনি যখন তাকে স্বামীর শেষ কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়...
এই সুযোগে তখন গৃহবন্দী করা হয় একাকী শোকার্ত মস্তানীকে। এই কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন পেশোয়া পুত্র নানাসাহেব আর ভাই চিমাজি আপ্পা। 

কর্তব্যপরায়ণ কাশিবাই:
************************
কাশিবাই পেশোয়ার শ্রাদ্ধশান্তির কাজ শেষ করে পুণে ফিরে আসেন। ততক্ষণে বন্দী মস্তানী প্রাণত্যাগ করেছেন। ইসলামিক নিয়মানুযায়ী সমাধি দেওয়ার বন্দোবস্ত করে দেন মস্তানীর দেহ। পুণের পবল নামক স্থানে। 

বন্দী হয়ে রয়েছেন শিশুপুত্র কৃষ্ণ ওরফে শামসের। 
তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে একরকম জোর করেই মুক্ত করে নিয়ে আসেন সেই শিশুপুত্রকে। 
এরপরে শামসের এর দেখভাল লালন পালন করেন নিজের মহল শনিবার ওয়াড়াতে রেখে। 
অস্ত্র শস্ত্র শাস্ত্র সব শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।
পরে তার উদ্যোগে শামসের রাজা হন তার দাদু ছত্রশালের যৌতুক দেওয়া বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের। 

কাশিবাই এর শেষ জীবন:
************************
কিছুদিন পরেই কাশিবাই এর তৃতীয় সন্তান জনার্দন রাও মারা যান। 

ভগ্ন চিত্তে কাশিবাই ধর্মকর্মে মনোনিবেশ করেন। 
বিভিন্ন তীর্থ তিনি করেন দর্শন। 
সঙ্গে নেন আরও দশ হাজার তীর্থযাত্রী। 
তাদের সমস্ত খরচ তিনি বহন করেন। 
বেনারস গিয়ে বাবা বিশ্বনাথের চরনে নিজেকে করেন নিবেদন। 
এরপরে তিনি যান রামেশ্বর ভ্রমণে 
ফিরে এসে তিনি তার জন্মস্থান চাস শহরে একটি শিব মন্দির তৈরি করেন নাম দেন সোমেশ্বর মন্দির। 

1758 সালে তার মৃত্যু হয়। তখন ছিল পঞ্চান্ন বছর বয়স। মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা যায় না। 

********************************************
বাজিরাও মারা যাওয়ার সাথে সাথে শেষ হয় এক কিংবদন্তি যোদ্ধার জীবন। যিনি জন্ম থেকেই আশীর্বাদ প্রাপ্ত ছিলেন বিজয় থাকবে তার সাথেই... 

কিন্তু মৃত্যুই যে শেষ নয় প্রমান দিয়ে গেলেন বাজিরাও।
চল্লিশ বছর তিনি বেঁচেছিলেন 
তার মধ্যে পেশোয়া হয়ে যোদ্ধা জীবন মাত্র কুড়ি বছর।
এই কুড়ি বছর তিনি মারাঠা সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে যেভাবে মুঘল সাম্রাজ্যের কোমর ভেঙে দিয়েছিলেন তার ফলাফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। 

আওরঙ্গজেবের পরেই মুঘল সাম্রাজ্য একরকম বিনাশ হয়ে যায় তার কারণ হিসেবে ধরা হয় ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিনাত্য নীতি। 
পরবর্তীতে সেই দাক্ষিনাত্য নীতির মূল কারিগর ছিলেন বাজিরাও। তিনি ছিলেন মুঘলদের মাথাব্যথা। 
মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্বংসের কারন হয়ে তিনি উড়িয়ে দেন  জাফরানী ধ্বজ। ওমকার চিহ্ন সাথে নিয়ে। 
যা আজও উড়ে চলেছে গৌরবের সাথে... 

বালাজি বাজিরাও এর সমর কুশলতার প্রশংসায় আজো গুঞ্জরিত হয় ব্রিটেন আমেরিকার সামরিক শিক্ষা মহল। আজো তার নাম স্মরণ করে তারা শুরু করে তাদের যোদ্ধা জীবন। 

কিন্তু আমাদের দেশে আজও তিনি উপেক্ষিত। 
তার ইতিহাস কোথাও পড়ানো হয়না। 
বাজিরাও মস্তানী সিনেমা মুক্তির পর লোকজন জেনেছে তার নাম। অন্তত এটুকু উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীকে। 

দেখা যাক 
আমাদের দেশের সামরিক ইতিহাস কবে স্মরণ করে এই মহান বিজয়ী বীরকে...
********************************************
বাজিরাও-কাশিবাই এর বংশ নানাসাহেব:
********************************************
নানাসাহেব পরে কব্জা করতে চান বানারস। 
আওরঙ্গজেব কাশি বিশ্বনাথ মন্দির ভেঙে তার উপর বানিয়েছিল জ্ঞানভাপি মসজিদ। 
তিনি চেয়েছিলেন জ্ঞানভাপি মসজিদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় কাশি বিশ্বনাথ মন্দিরের পুনঃস্থাপন করতে। 
কিন্তু বিভিন্ন বিরোধে সেইকাজ আর তার করা হয়ে উঠেনি...
********************************************
বাজিরাও-মস্তানী এর বংশ কৃষ্ণ রাও:
***********************************
কৃষ্ণ রাও ওরফে শামসের বাহাদুরের প্রায় একশ বছর পরে তার বংশধর নবাব আলী বাহাদুর দ্বিতীয় ছিলেন এই অঞ্চলের রাজা। 
তিনি ঝাঁসির রানী লক্ষীবাই এর পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। 

Note:
পেশোয়া অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী।
ছত্রপতি মানে হচ্ছে মহারাজা/সম্রাট।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।