বালাজি বাজিরাও ( প্রথম ভাগ ) - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী.

বিদেশী ইংরেজ যখন তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে ভারতীয় জনগণকে দাবিয়ে পরাধীনতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছিল - তখন হাতে গোনা যে কয়েক জন ভারতীয়  এর বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন, বালাজি বাজিরাও এদের মধ্যেকার একজন। 

জানেন কী - 
মুঘলদের মারতে মারতে দিল্লীর মধ্যেই তিনি বেঁধে দিয়েছিলেন... 

মন তার উৎসাহে ভরপুর দশদিনের রাস্তা দু দিন অতিক্রম করতে পারেন এমন ছিল তার বাহিনীর গতি, ঝড়ের গতিতে আক্রমন করে শত্রুর কোমর ভেঙে দেওয়া ছিল তার যুদ্ধ জেতার অন্যতম usp... 

শুধু মুঘলরা একা হেরেছে তাই নয় 
যখন মুঘল নিজাম একসাথে আক্রমন করেছে 
তখনও পরাজিত হয়ে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়েছে...
এমনকি বাজিরাও এর ভয়ে মুঘল বাদশা হিন্দুস্তান ছেড়ে পালাবার পরিকল্পনা করেছিল... 

একটা দুটো নয় -তিনি 41 টি যুদ্ধে জিতেছিলেন।
পরাজয় কি জিনিস তার অভিধানে ছিল না
তিনি পৃথিবী বিখ্যাত সর্বশ্রেষ্ঠ এক যুদ্ধ পরিচালক।
তার যুদ্ধরীতি আজও পাঠ্য হিসাবে আলোচিত হয় ব্রিটেন আমেরিকায়। 

বাজিরাও-মস্তানী খুব জনপ্রিয় আর সফল চলচ্চিত্র। এই চলচিত্রে বাজিরাও নামে এক যোদ্ধার সাথে মস্তানী নামে এক যুবতী কন্যার প্রেমকাহিনী দেখানো হয়েছে। 
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কে এই বালাজি ?????
এহেন বাজিরাও ঠিক কে ছিলেন?
কেমন ছিল তার জীবন?
আসুন দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের পাতায় নজর দিয়ে : 

পুরো নাম : পন্তপ্রধান শ্রীমন্ত পেশোয়া বাজিরাও বল্লাল বালাজি ভাট
(1700-1740) 

পিতার নাম - বালাজি বিশ্বনাথ
মাতার নাম - রাধাবাই বারভে
তাঁর জীবনের মত তাঁর মৃত্যুর কাহিনীও রূপকথার মত মানুষের মনে ছড়িয়ে গেছে -
স্থান- রাওয়ারখেড়ি, কদিন হল এসেছেন এখানে। 
সাথে রয়েছে এক লাখের উপরে সেনা। যাবেন দিল্লী। দখল করবেন লালকেল্লা। 
শিবির ফেলা হয়েছে নর্মদা নদীর ধারে। পরিবেশ মনোরম। তবে দিনে বড্ড গরম রাতে বেশ ঠান্ডা। 
শীত শেষে গরম আসছে। শেষ বসন্তের সময় এখন...,কিন্তু মন তেমন ভালো নেই। হঠাৎ হঠাৎ করে উদাস হয়ে যাচ্ছে। শরীরটাও কেমন যেন সাথ দিচ্ছে না। সকালে ঘোড়াদের ধোয়া মোছা করলেন বাজিরাও। তারপর শুয়ে পড়লেন। 
বড্ড বেশি খারাপ লাগছে যেন এখন
চোখ যেন জুড়িয়ে এল ক্লান্তিতে
হঠাৎ দেখলেন কে যেন আসছে... দূরে... 
খুব চেনা পরিচিত একজন... ঘোড়ার পিঠে চেপে আসছেন...
সামনে আসতে দেখলেন আসছেন তার পিতা। 
তার প্রিয় মানুষ। তার খুব কাছের মানুষ। 
খুব ভালোবাসার মানুষ। 
এসেই তিনি ডাক দিলেন- উঠ বাজি। চল। যুদ্ধে চল...
বাজিরাও উঠে পড়লেন ঘোড়ার পিঠে। 
পাশাপাশি চলেছেন তারা। সামনে যুদ্ধক্ষেত্র। 
তারা চললেন সেই যুদ্ধের দিকেই
কিন্তু কি হচ্ছে
যুদ্ধ চলছে কিন্তু তারা যেন যুদ্ধের অংশ নন। দুইপক্ষের যুযুধান আক্রমনের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এলেন তারা। হঠাৎ করে যুদ্ধক্ষেত্র বদলে গেল ধোঁয়া হয়ে গেল চারপাশ। সেই ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে ক্রমশ তার পিতা এগিয়ে যাচ্ছেন। 
পিছিয়ে পড়ছেন তিনি
কেউ যেন ডাকছে ... 

ধীরে ধীরে চোখ খুললেন বাজিরাও। 
দেখলেন এসেছেন বৈদ্য। আরো কয়েকজন রয়েছে। 
জ্ঞান ফিরেছে... জ্ঞান ফিরেছে 
শিবিরে বয়ে গেল স্বস্তির হাওয়া। 

বৈদ্যর সেবা শুশ্রূষাতে বাজিরাও অনেকটা ভালো বোধ করতে লাগলেন। খাওয়ার পরে অনেকটা ভালো লাগতে শুরু করল।
নাহ খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। 
ডাক পাঠালেন তিনি। দুই স্ত্রী এর উদ্দেশ্যে...

দূত ছুটে গেল সেই ইচ্ছের ভার পিঠে নিয়ে
সন্ধ্যার মধ্যেই ঢুকে গেল শনিবার_ওয়াড়া। 

পরেরদিন সকালে বেরুল একদল সেপাই সান্ত্রী সমেত কাশিবাই এর হাতি। 
শেষ দুপুরের মধ্যে পৌঁছে গেলেন তারা বাজিরাও এর কাছে।
বাজিরাও এর জ্ঞান তখন আসছে যাচ্ছে। 
প্রবল জ্বরে আক্রান্ত। বিড়বিড় করে নানাকথা বলে যাচ্ছেন তিনি। 
কাশিবাই এর সেবা শুশ্রূষাতে একটু ভালো বোধ করলেন তিনি। কিছু কথা হল স্বামী স্ত্রী'র মধ্যে।
বেশিকিছু বলবার মত ক্ষমতা তখন আর ছিল না তখন শুধু বলতে পারলেন- স্ত্রী তুমি আমার। আমার ভালোবাসা। আমি যখন পুণেতে থাকিনা তখন তুমি সব কাজ আমার নিপুণ হাতে সামলিয়েছ। আমি এখন যা যা করতাম আমার অবর্তমানে স্ত্রী হিসেবে তুমি সেই কর্তব্য করবে, এই আশাই রাখি... 

এরপরে আর বিশেষ কথা হয়নি। 
হয়ত ইচ্ছে ছিল বলার। বলে আর উঠতে পারলেন কই
সেই যে জ্ঞান হারালেন আর ফিরল না। শেষ দুপুরের দিকে বৈদ্য ঘোষণা করলেন বাজিরাও আর নেই... 


বাজিরাও:
*************
একের পর এক যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করে গেছেন। 
41টি যুদ্ধ করে গেছেন তিনি। একটি যুদ্ধেও হারেননি।
তাই সারা পৃথিবীতে তার নাম রয়ে গেছে অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধ বিজেতা হিসেবে। পৃথিবী বিখ্যাত সেরা তিন যুদ্ধ বিজেতার মধ্যে তিনি একজন যুদ্ধবিজেতা, যারা কখনো হারেননি কোন যুদ্ধেই... 

ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষত মারাঠা সাম্রাজ্যের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে চর্চিত চরিত্র রানা প্রতাপ এবং শিবাজী মহারাজের ঠিক পরেই...।
হবে নাই বা কেন তার কুড়ি বছরের সামরিক জীবনে মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রসার হয়েছিল সবচেয়ে বেশি আর পাল্লা দিয়ে ছোট হয়েছে মুঘল সাম্রাজ্য। ক্ষতিও হয়েছে খুব।শুধু দিল্লীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি মুঘলদের। 
তিনি রানা প্রতাপ আর শিবাজীর পরেই সবচেয়ে বেশিদিন ধরে মুঘলদের সাথে লড়াই করেছিলেন। 
তবে তার যুদ্ধ পদ্ধতি এনাদের চেয়েও ভালো ছিল।
এটাও ঠিক ক্ষতি তিনিই সবচেয়ে বেশি করেছেন মুঘলদের।
এমনকি তিনি সারা ভারত থেকে মুঘলদের ক্ষমতা এমনভাবে কেটে ছেঁটে ফেলেছিলেন যে শুধু দিল্লীর মধ্যে মুঘলদের আটকিয়ে রাখতে সফল হয়েছিলেন। 

দিল্লী আক্রমন:
****************
তখন তার বয়স মোটামুটি বাইশ বছর। 
তিনি দিল্লীর লালকেল্লা ঘিরে রাখেন। 
বর্তমান তালকটোরা স্টেডিয়াম যেখানে, সেখানে বাজিরাও তার শিবির ফেলেছিলেন।
তখন মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ বেকায়দায় পড়ে যায়। 
তিনদিন পর্যন্ত তিনি লালকেল্লা ঘিরে রাখেন। 
এরপরে সাহুজির ইচ্ছেয় তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। 
মুহম্মদ শাহ এই ঘটনায় এত ভয় পেয়েছিল যে লালকেল্লা থেকে শুধু নয়, দিল্লী ছেড়ে পালানোর বন্দোবস্ত করে ফেলেছিল। 

এই ঘটনা ভারতের বুকে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। তখন সবাই মনে করত দিল্লী আক্রমন মানে খালি হাতে বাঘের মুখে হাত ঢোকান। 
বাজিরাও এর এই দিল্লী আক্রমন সেই myth ভেঙে চুরমার করে দেয়... 

দ্বিতীয়বার দিল্লী আক্রমন করেন তিনি তখন বয়স তার ছত্রিশ। পাঁচশ ঘোড়া নিয়ে দশ দিনের রাস্তা দুইদিনে অতিক্রম করে তারা পৌঁছেছিলেন দিল্লী।
মুঘলদের দশ হাজার সৈন্যের সাথে লড়াই হল এই পাঁচশ সেনার। কিন্তু অভূতপূর্ব সেনা পরিচালনা এবং যুদ্ধ কৌশলে জিত ছিনিয়ে নিলেন বাজিরাও। 
1737 সালের 28 মার্চ। 
এই দিনটি সারা ভারত তথা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম এক সেরা জয়ের দিন হিসেবে লিখিত হয়ে গেল। 

এরপরে মুঘলদের সাথে নিজামরা একযোগে করে যুদ্ধ। 
বেশ কয়েকটি যুদ্ধের পরে নিজাম আর মুঘলরা সন্ধি করতে বাধ্য হয়। পঞ্চাশ লাখ টাকার জরিমানা দিয়ে মুঘলদের পিঠ বাঁচে।
যেহেতু প্রতিবার নিজামরা সন্ধি ভাঙ্গে। 
তাই এবারে কোরানের শপথ নিয়ে নিজামকে নতুন করে সন্ধি করতে বাধ্য করেন বাজিরাও। 

পেশোয়ার পূর্ব জীবন:
*********************
বাজিরাও এর জন্ম 1700 সালের 18আগস্ট তারিখে বর্তমান মহারাষ্ট্রের সিনার নামক জায়গায়। 
কোঁকন ব্রাহ্মন পরিবারে জন্ম তার।
পিতা #বালাজি_বিশ্বনাথ ছিলেন পেশোয়া। 
তখন ছত্রপতি ছিলেন সাহুজি।
তার বাবা বেশিরভাগ সময়টা যুদ্ধে কাটাতেন। 
মাতা রাধাবাই বারভের সাথেই ছেলেবেলার বেশিরভাগ সময়টা তার কেটেছিল। 
তারা ছিলেন চার ভাইবোন। ভাই #চিমাজি_আপ্পা। বোনদের নাম হল আনুবাই ভুইবাই। 

ছোট থেকেই তারা মায়ের কাছে শুনেছেন বিভিন্ন হিন্দু বীর রাজাদের কাহিনী। তাদের মহানতা। তাদের আদর্শ করেছে তাকে অনুপ্রাণিত। 
একটু বড় হতেই তিনি তার পিতার সাথে সময় কাটানো শুরু করলেন। পিতার সাথে থাকাকালীন তিনি শিখলেন লেখাপড়া। শিখলেন সংস্কৃত। শিখলেন মারাঠি। এছাড়াও তিনি পর্তুগীজ ভাষায় কথা বলতে পারতেন।
পাশাপাশি শিখতে লাগলেন সামরিক বিদ্যা। 
অস্ত্রচালনা, ঘোড়দৌড়, কুস্তি, দ্বন্ধযুদ্ধ ইত্যাদি তিনি শিখে ফেললেন খুব সহজেই।
এরপরে পিতার সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে তিনি নিলেন অংশ। মাত্র বার বছর বয়স তখন তার। 

বাজিরাও-কাশিবাই
********************
1711 সালে বিবাহ হয় বাজিরাও-কাশিবাই এর সাথে। তখন কাশিবাই এর বয়স আট আর বাজিরাও এর এগার। সমবয়সী দুইজনের মধ্যে প্রেম ছিল, ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়া। আদরে ভালোবাসায় সুন্দর দিন কাটছিল তাদের... 

কাশিবাই ছিলেন খুব ধনী পরিবারের সন্তান। 
পিতা ছিলেন মহাদজি কৃষ্ণ জোশী। 
তার সাথে ছত্রপতি সাহুজির খুব হৃদ্যতা ছিল। 
পুণের অদূরে চাস নামক জায়গা ছিল কাশিবাই এর জন্মস্থান। 

চাক্সামান নামে একটি বিশাল অট্টালিকা রয়েছে এই চাস শহরে। এই ঘরেই জন্ম #কাশিবাই এর।
সেই অট্টালিকা আজও রয়েছে। রয়েছে সেই ঘর যেখানে জন্ম হয়েছিল কাশিবাই এর। 

তিনি বিয়ের পর চলে আসেন পুণে। 
বাজিরাও এর বানানো মহল শনিবারওয়াড়াতে একসাথে থাকেন তারা। 
মূলতঃ কাশিবাই খুব দক্ষ হাতেই সামলাতেন পুণে নগরী সমেত আশেপাশের এলাকার ভালোমন্দ। যখন পেশোয়া থাকতেন বাইরে অথবা যুদ্ধে থাকতেন ব্যস্ত। 

তাদের হয় চারটি সন্তান। 
দুই সন্তান মারা যান খুব অল্প বয়সেই।
বড় সন্তান বালাজি বাজিরাও ওরফে নানাসাহেব পরে হন পেশোয়া যখন পিতা মারা যান। 

পেশোয়া বাজিরাও:
********************-
কিন্তু বেশিদিন পিতাপুত্রের এই যুগলবন্দী স্থায়ী হলনা। 1720 সালে মারা গেলেন পিতা বালাজি বিশ্বনাথ।মাত্র 20 বছর বয়স তখন ছত্রপতি শাহুজি তাকে করে দেন পেশোয়া। 

1723 থেকে 1739 সাল অব্দি একটির পর একটি যুদ্ধে তার জিৎ হয়। 
প্রথম যুদ্ধ তিনি যেতেন মালোয়া প্রদেশে। 
এরপরে তিনি যান গুজরাট।
সেই থেকে উত্তোলিত হয় তার যুদ্ধ জয়পতাকা। 
সমগ্র জীবনে আর নামেনি কখনো। 

পালখেড় এর যুদ্ধ:
******************
হায়দ্রাবাদের নিজাম আসফ ঝা যিনি ছিলেন আওরঙ্গজেবের ডানহাত, হারেন শোচনীয়ভাবে বাজিরাও এর কাছে। 
বাজিরাও এর অসম্ভব সুন্দর যুদ্ধ পরিচালনা ও যুদ্ধরীতিতে পরাজয় বুঝতে পেরে অর্ধেকের বেশি সৈন্যদল ছেড়ে আসফ ঝা পলায়ন করে। 
পালখেড় নামক স্থানে হয় এই যুদ্ধ। 

Battle_of_palkher। 

এই যুদ্ধ ইতিহাস বিখ্যাত।
সেই যুদ্ধরীতি দেখে ব্রিটিশরা চমৎকৃত হয়েছিল।
ব্রিটিশ জেনারেল মন্টগোমরি তার অভূতপূর্ব যুদ্ধ কৌশল নিয়ে একটি বই লেখেন। 
বইটির নাম History of Warfare। 
বইটি আজও গুরুত্বের সাথে ব্রিটেনের defence studiesএ পড়ানো হয়। 

শুধু ব্রিটেন নয় আমেরিকা পর্যন্ত খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এই যুদ্ধের। 
এখানে এই যুদ্ধশৈলী আমেরিকা মডেল করে রেখেছে। 
সেই পদ্ধতিতে আমেরিকায় যুদ্ধশিক্ষা দেওয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। 

যোদ্ধা বাজিরাও:
*******************
তিনি নিজেও ছিলেন অশ্বারোহী যোদ্ধা। 
তবে তার মত সেরা অশ্বারোহী যোদ্ধা এখনও অব্দি দ্বিতীয়টি দেখা যায়নি আর...।
ঝড়ের গতিতে সুসঙ্গবদ্ধ হয়ে একযোগে আক্রমন করত সেই অশ্বারোহী বাহিনী। 
তার সেনাবাহিনীতে হিন্দু মুসলমান উভয় যোদ্ধাই ছিল। তিনি কখনও কোন মুসলিমের ধর্ম রক্ষায় বাধা দেননি।তার বাহিনীতে সবাই একযোগে নাম নিত- 
।।।"হর হর মহাদেব"।।। 
সবাই একসাথে একযোগে উড়াত গৈরিক পতাকা। 

বাজিরাও এর নিজের ছিল চারটি ঘোড়া। 
তাদের নাম ছিল- নিলা, গঙ্গা, আলেখ আর সারঙ্গা। এই ঘোড়াদের দেখভাল তিনি করতেন নিজের হাতে। এই ঘোড়াগুলো বাজিরাও এর প্রতিটি কথা শুধু নয় ইশারা পর্যন্ত বুঝতে পারত। 
এই ঘোড়াগুলোয় চড়ে যখন বাজিরাও লড়াই করতেন তখন বাজিরাও ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যেত...

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।