মাঝি মাল্লার গল্প - পার্থ প্রতিম গুহ নিয়োগী।
কত যে অন্ধকার পেরিয়ে সকাল হলো জানি না,
দূরে বনে কাঁপছে সবুজ পাতা।
দুয়ারে তোমার সাত সমুদ্রের ঢেউ এনেছে ফেনা।
তুমি জাগলে না? তবু, তুমি জাগলে না?
সাত সমুদ্রের মাঝি, চেয়ে দেখো দুয়ারে দাঁড়ায়ে জাহাজ,
অচল ছবি সে, ছবি হয়ে দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ।
হালে পানি নাই, পাল তার ওড়ে নাকো,
হে নাবিক, তুমি মিনতি আমার রাখো;
তুমি ওঠে এসো, তুমি ওঠে এসো মাঝি মাল্লার দলে
দেখবে তোমার নাও আবার ভেসেছে সাগর জলে,
নীল সমুদ্রের যেন সে পূর্ণিমার চাঁদ
মেঘমালা কেটে কেটে চলে ভাঙে নিষেধের বাঁধ।
তুমি জাগো, কখন সকাল ঝরেছে হাসনুহানা
এখনো তোমার ঘুম ভাঙলো না? তুমি জাগলে না?
দুয়ারে কোনও গর্জন শোনো নাকি?
কত অসংখ্য ক্ষুধিতের সেথা ভিড়,
হে মাঝি, তোমার বসতি ছড়াও,
নইলে যে-সব ভেঙে হবে চৌচির।
দেখছ না, এরা চলে কোন আলেয়ার পিছে পিছে?
চলে ক্রমাগত লক্ষ্য ছেড়ে আরও নিচে!
মাঝি, তোমার তারা নেভেনি একথা জানো তুমি,
তোমার চাঁদনি রাতের স্বপ্ন দেখেছে এ মরুভূমি,
দেখো জমা হলো কত প্রাণ তোমার দিগন্তে ;
কেন তুমি ভয় পাও, কেন কাঁপো অজ্ঞাত ভয়ে !
তোমার জাহাজ হয়েছে কি অচল,
মেঘ কি তোমার তারাকে করে আড়াল?
তাই কি অচল জাহাজ ভাঙা হাল
তাই কি কাঁপছে সমুদ্র ক্ষুধাতুর
বাতাস কাঁপানো তোমার ওই ফাঁকা পাল?
জানি না, তবু ডাকছি তোমাকে সাত দরিয়ার মাঝি,
প্রবাল দ্বীপের নারিকেল শাখা বাতাসে উঠেছে সাজি?
উচ্ছৃঙ্খল রাত্রির আজো মেটেনি কি সব দেনা?
সকাল হয়েছে। তবু জাগলে না? তবু তুমি জাগলে না?
তুমি কি ভুলেছ লবঙ্গ ফুল, এলাচের মৌসুমী,
যেখানে ধূলিতে কাঁকরে দিনের জাফরান খোলে কলি,
ভুলেছ কি সেই প্রথম সফর জাহাজ চলেছে ভেসে
অজানা ফুলের দেশে,
ভুলেছ কি সেই নবীন স্বপ্ন সবার চোখে
ঝলসে চন্দ্রলোকে,
পাল তুলে কোথা জাহাজ চলেছে কেটে কেটে নোনা পানি, অশ্রান্ত সন্ধানী ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন