এক যে ছিল বাবা
নামটা শুনলেই মনে হয় "বাঃ, বাঃ ", কিন্তু আমি মনে করি এটা সঠিক নয়। সকলে মন খুলে খালি প্রশংসা করে, কারণ সকলের জন্য পছন্দের জিনিস দেয়াটাই তার পরিচয়। তাতে তার নিজের ভাগে না হয় রইলো কিছু, অন্যরা তো পেলো। আসলে উনি একজন ভীষণ বড় মিথ্যেবাদী, নিজের ব্যবহারের কোন জিনিসের কথা বললে বলবে এখন ঠিক আছে। অথচ ছেলে - মেয়ের সব জিনিস কিছুদিন পর পর বদলানো চাই। ওই দামী জিনিস গুলো নাকি তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায়। ওনার আবার একজন অন্ধ সমর্থক ছিলেন - আমার মা। যার কাছে ওনার জায়গা ছিল ঈশ্বরের মত। হয়ত কখনও লেখাপড়ার কোন একটা বিষয় নিয়ে গলদ্ঘর্ম হচ্ছি, মা বলতেন এত ভাবিস না, উনি আসলে জিজ্ঞাসা করে নিস, সব বুঝিয়ে দেবে। এতটাই ওনার অন্ধ বিশ্বাস ছিল "ওনার প্রতি "।
বাজার থেকে হাত খরচের পয়সা চুরি করলে, বলতেন বাচ্চা ছেলে ঠকিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি জানি উনি সেটা বুঝতেন, কিন্তু কখনও ছোট করতেন না। এটা মিথ্যাচার নয়, এরকম উদাহরণ দিতে গেলে লেখাটা বোধহয় আর শেষ হবে না।
আসলে তখন মোবাইল বিহীন, ইন্টারনেটহীন মানুষগুলো জীবনের সব কিছু ছিল পরিবার।
এক কবি বলেছিলেন -
"ঈশ্বর,
পাহাড়ের কাছ থেকে নিলেন সহস্র বছরের 'কঠিনতম দৃঢ়তা',
গাছের কাছ থেকে নিলেন,গীস্মের তীব্র দাবদাহে নির্মল ছায়াময় 'মহানুভবতা',
শান্ত নদীর কাছ থেকে নিলেন চির-বহমান 'স্থিরতা'
প্রকৃতির কাছ থেকে নিলেন 'সুনির্মিত উদারতা' ,
রাত্তির কাছ থেকে নিলেন 'আরামদায়ক উষ্ণতা' ,
বয়সের কাছ থেকে নিলেন 'পরিপক্বতা'
পাখির কাছ থেকে নিলেন অবাধ বিচরণের 'উড়ুক্কু শক্তি'
বাসন্তী সকালের কাছ থেকে নিলেন 'প্রভাতী স্নিগ্ধতা',
শর্ষে বীজের কাছ থেকে নিলেন জন্মানোর 'বিশ্বাস'
বৈশ্বিকতার কাছ থেকে নিলেন টিকে থাকার 'ধৈর্য',
পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা থেকে নিলেন 'বন্ধনের গভীরতা'
ঈশ্বর তার সৃষ্টির সবগুলো গুণাবলী একত্রিত করে যখন দেখলেন-
আর কারো কাছ থেকে কোনকিছুই যোগ করার অবশিষ্ট নেই!!
এবার তিনি সন্তুষ্ট হলেন যে তার 'উৎকৃষ্টআত্মা' তৈরি হয়ে গেছে,
আর তাকেই নাম দিলেন "বাবা".........
মানুষ,
এই বাবাকেই সম্মান দিয়ে চালান দেয় "বৃদ্ধাশ্রমে"
এমন বাবাকেই শ্রদ্ধা প্রদশর্নের করে বলে "ব্যাকডেটেড"
এমন বাবাকে ভালোবাসার জন্য বেছে নেয় "নিদিষ্ট দিবস"
ঈশ্বর আর মানুষের ভালোবাসায় তাইতো যোজন ফারাক।" (সংগৃহীত)
তাই মাঝে মাঝে ভাবি ভালোই হয়েছে, আজ উনি নেই। কারণ প্রিয়জনদের ছেড়ে যদি কখনও বৃদ্ধাশ্রমে কাটাতে হতো, তাহলে হয়ত সহ্য করতে পারতেন না সেই মানসিক কষ্ট। কি জানি? হয়ত লোককে বলতেন "ছেলে বড় চাকরি করে বিদেশে, তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমাকে রেখে গেছে। কিছুতেই কোন কথা শুনবে না , ভালোবাসার ব্যাপারে ও বড্ড বেয়ারা"। এটাই হলো বাবা।
তথ্য : আন্তর্জাল, বিভিন্ন পত্রিকা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন