গণপ্রহার
ছেলেধরা অথবা চোর, কোনো মানুষকে বাইরে থেকে দেখে তার সম্পর্কে এতটা অনুমান নিশ্চয়ই করা যায় না৷ সন্দেহ জাগতে পারে, তাকে পাকড়াও করে প্রশ্ন করা যেতে পারে৷ একটি এলাকায় কী উদ্দেশ্যে সেই ব্যক্তি এসেছে, তা জানতে চাইতে পারে স্থানীয় বাসিন্দারা৷ জবাবে সন্তুষ্ট না হলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যায়৷ কিন্তু, স্রেফ সন্দেহের বশে একটি মানুষকে তারই মতো একদল মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলছে৷ বাঁশ-লাঠি-রড দিয়ে মারধর করছে, তা তিনি মহিলা হোন বা প্রৌঢ়৷ মৃত্যু নিশ্চিত করতে পাথরের ঘায়ে থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে মাথা৷
গণপ্রহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মারাত্মক। নতুন কেন্দ্রীয় আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও দণ্ড সংহিতায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকী মৃত্যুদণ্ডেরও সংস্থান রয়েছে। কিন্তু তাতেও মারমুখী জনতার যেন ভ্রুক্ষেপ নেই! একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটেই চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। ঝরছে একের পর এক তরতাজা প্রাণও। করোনা পরবর্তী বাংলায় যেন নতুন সংক্রমণের নাম গণধোলাই।
বেশ কিছু বছর আগে সহিষ্ণুতার ইতিহাস লিখতে গিয়ে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অশীন দাশগুপ্ত বলেছিলেন, ‘এই দেশে হিন্দু মুসলমানকে, বাঙালি হিন্দুস্থানিকে, গরিব বড়লোককে এবং নারী পুরুষকে সহ্য করে।’ অশীনবাবু আজ বেঁচে থাকলে মানতেন, তাঁর কথা শুনে ঘোড়াও হাসবে। কেননা সহিষ্ণুতা নয়, দেশের সারা অঙ্গ জুড়ে এখন অসহিষ্ণুতার দুষ্ট ক্ষত দগদগ করছে। আজ হিন্দু মুসলমানকে, বাঙালি অবাঙালিকে, গরিব বড়লোককে, নারী পুরুষকে অসহ্য মনে করে।
মানুষ আজ এতটাই অসহিষ্ণু যে পোষ্য কুকুরকে ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করায় পোষ্যের মালিক বৃদ্ধ আত্মীয়কে খুন করে! চা তৈরি করেনি স্ত্রী, পিটিয়ে খুন করে শাস্তি দেয় স্বামী। তারস্বরে ডিজে বাজানোর প্রতিবাদ করায় বাঁশ দিয়ে মেরে খুন করে ক্লাবের ছেলেরা। বাড়ির দোরগোড়ায় মদ বিক্রি আর মদ্যপানের আসর বসানোর প্রতিবাদ করলে খুন করে মদ্যপবাহিনী। ক্লাসে কথা বলার অপরাধে দোতলা থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে ছাত্রকে মেরে ফেলে শিক্ষিক। বাবাকে তিরিশ টুকরো করে কেটে কুয়োতে ফেলে ছেলে বলে বেশ করেছি। কথা বলতে চায়নি তরুণী, একান্ন বার আঘাত করে তাকে খুন করে যুবক! এইগুলি সদ্য অনুষ্ঠিত ঘটনা। একটু পিছনের দিকে তাকান। দেখতে পাবেন দাদরি থেকে আলোয়ার, বল্লভগড় থেকে রামগড় হয়ে গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর, এমএম কালবুর্গি— অসহিষ্ণুতার কুৎসিত চিহ্নের তালিকাটি দীর্ঘ। অসহিষ্ণুতা থেকে উৎসারিত উন্মত্ত ব্যক্তিরোষ, জনরোষ, গণপ্রহার এমনকি হত্যার ঘটনা ক্রমাগত ঘটেই চলেছে।
যে ঘটনাগুলি আমরা এইমাত্র স্মরণ করলাম, লক্ষ্য করে দেখবেন, সেগুলি একরৈখিক সমাপতন নয়, অসহিষ্ণুতার পারদস্তম্ভে তা বিভিন্ন তল এবং তাপমাত্রায় বাঁধা। এদের উৎসভূমি কিছুটা ব্যক্তিগত লোভ আর লাভের বীজগণিতের মধ্যে, আর বাকিটা সমষ্টির সাংস্কৃতিক চৈতন্য ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের পাটিগণিতে নিহিত আছে।
অসহিষ্ণুতা থেকে উৎসারিত সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী-হিংসার পিছনে দু’টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথমটি ইতিহাস নির্দেশিত, যা একটি সর্বভারতীয় সাবেকি মেটা-ন্যারেটিভের খণ্ডাংশ। বিশ শতকের চারের দশকে ‘হাই পলিটিক্স’-এর আতপ্ত সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা আর দেশবরেণ্য নেতাদের স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতা লাভের লোভকে কেন্দ্র করে যে কেজো তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল তা দেশের অনেক শুভ সম্ভাবনাকে অকেজো করে দিয়েছিল। ইতিহাসবিদরা বলেন, দেশভাগ সাধারণ হিন্দুরা চায়নি, সাধারণ মুসলমানও চায়নি। তবুও দেশভাগ হলো, কেননা দেশের দশের ভালোমন্দ দেখাশোনার ইজারা নিয়েছিলেন যে নেতারা, তাঁরা তা চেয়েছিলেন। মুসলিম নেতারা সাধারণ মুসলমানদের বুঝিয়েছিলেন, দেশ স্বাধীন হলে ইংরেজি শিক্ষার দৌড়ে প্রাগ্রসর হিন্দুরা সব সরকারি চাকরি দখল করে নেবে। হিন্দুপ্রধান কংগ্রেসী নেতারা সাধারণ হিন্দুদের বোঝালেন, দেশটা আদতে হিন্দুস্থান, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের আদি বাসভূমি। তাই মুসলমানদের এখানে কোনও স্থান নেই।
স্বাধীনতা যত আসন্ন হচ্ছিল, ততই এই ধরনের কুটিল সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পও বিস্তারিত হচ্ছিল। স্বাধীনতার আগে হলো দেশভাগ। একটা স্মৃতিকে হিন্দুমননে নানাভাবে জারিত করে জাগিয়ে রাখা হলো: মুসলমানদের আলাদা ঘর দিতে গিয়ে আস্ত বাড়িটাকেই ভাঙতে হয়েছে। দু’টো নয়, দেশটাকে তিন-টুকরো করতে হলো: তোমাদের যখন জায়গা দেওয়াই হয়েছে ভিন্ন ভূখণ্ডে, তা হলে আর এখানে কেন! এই মেটা-ন্যারেটিভের অন্তর্গত হয়ে আছে অনেক খণ্ডিত গল্পাংশ, যে গল্পে আমরা মহেশ আর গফুরদের দেখা পাই। কিন্তু এই মেটা-ন্যারেটিভের বিপ্রতীপে আরও একটি সাধারণধর্মী আটপৌরে গল্পাংশ ছিল, যেটি এদেশের প্রোটো-হিস্ট্রির অন্তর্গত, যেখানে দুই-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির আলেখ্য আমরা পাঠ করি। কিন্তু রাজনৈতিক লাভের লোভে লালায়িত দেশনায়করা সেই সনাতন সত্যটিকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। তাঁদের ‘লার্জার-দ্যান-লাইফ’ উপস্থিতি ইতিহাসকেও অস্বীকার করল। সম্প্রদায়ের ইতিহাসলালিত সহিষ্ণুতা নয়, অসহিষ্ণুতাকেই উসকানি দিয়ে জাগিয়ে রাখা হলো।
দ্বিতীয় কারণটিকে আমরা তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্য করতে পারি। প্রথমত, সাম্প্রতিক কালে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে, যেখানে হিংসাকে অন্যতম রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মত্ত জনতা স্রেফ পারিবারিক সম্মান কিংবা গোরক্ষায় এতটা নির্মম হবে, এমনটা ভাবা অমানবিক। এর পিছনে একটি ধর্মগোষ্ঠীর সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংকল্প আছে, যে ন্যায়, ইতিহাস এযাবৎ ব্যাহত করে রেখেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বাঁকা ইতিহাসকে সোজা করতে হত্যায় এদের হাত কাঁপে না। এদের শাস্তিও হয় না। ফলে তা পরবর্তী হিংসায় প্ররোচনা দেয়। প্রতিবাদের এই কৃৎকৌশলটি একবার সামাজিক বৈধতা পেয়ে গেলে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক অবস্থানের ব্যাপারটি গৌণ হয়ে পড়ে। এটা একটা দল করার হক পেলে, অন্য দলকেও ছাড় দিতে হয়। তখন ডান-বাম-মধ্য বিভাজন করা মুশকিল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, ইদানীং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সামাজিক ন্যায়বিচারেরও দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছে। ন্যায়বিচার এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের তাৎক্ষণিক বিচারব্যবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। পুলিশকে দোষ দেওয়া সহজ। কিন্তু উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের পদোন্নতি যত দিন ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গুলিহেলনে চলবে, তত দিন এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না। এই ব্যবস্থা একদিনে নয়, পূর্বের সরকারের সময় থেকে এই ট্রাডিশন চলছে।তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ যে হারে বেড়েছে, স্থানীয় থানা স্তরে সে ভাবে বাড়েনি। অথচ গ্রাম বা শহরে লুম্পেনদের ঠেকাতে থানায় পুলিশি ব্যবস্থায় আরও বেশি শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল।
এই লুম্পেনগোষ্ঠীকে সদ্যোজাত মনে করার কোনও কারণ নেই। আগেও যারা জুতসই লুম্পেনত্বের সুযোগ পেয়েছিল, তারাই এখন গোমাতা আর হিন্দু ভারতমাতাকে রক্ষা করতে লুম্পেনগিরিকে কাজে লাগাচ্ছে। আবার ভারত হিন্দুরাষ্ট্র— এমন কথা মোদীর সাঙ্গোপাঙ্গরাই প্রথম বলছেন এমন নয়। প্রয়োজনে মুসলিম-তোষণ বিজেপি’র একক অ্যাজেন্ডা— এমনও নয়। এই ব্যাপারে বাকিরাও কম যায় না, কোন মুসলিম অঞ্চলে কোন দলই অ - মুসলিম প্রার্থী দেয় না।
এ তো গেল রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার উপাখ্যান যা সমষ্টির বৃত্ত থেকে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তান্তের দিকে ধেয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি সমান্তরাল চলেছে ব্যক্তিগত অসহিষ্ণুতা যার মূল অনেকটাই সমষ্টিগত লোভ আর লাভের চোরাবালি থেকে উৎসারিত। আজ কেউই সাধারণ জীবন যাপনের কথা ভাবে না। আমরা ইদানীং সাধারণত্বের উদ্যাপন করতে ভুলে গেছি। আধুনিক জীবনযাপনে হরেক রকমের প্রযুক্তি আমাদের সুখ আর আরামের অভাবনীয় দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। সে সব সুখের ইন্ধনে ঘৃতাহূতি দিতে অর্থ লাগে। সে সব প্রযুক্তির জন্য মূল্য দিতে হয়। আর মূল্য মেটাতে আমরা অবৈধ বৈভব অর্জনের জন্য একচক্ষু হরিণের মতো ছুটে চলেছি।
কেন এমনটা হচ্ছে, তার কোনও সুস্পষ্ট কারণ এখনও জানা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা এর নানা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এবং সকলেই প্রায় একমত যে, মারমুখী আগ্রাসনের ছোঁয়াচে রোগটা ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে জনমানসে। গত মাসের গোড়ায় প্রথমে চন্দননগর, তার পর বারাসতে দু'টি ঘটনায় চার জন গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। একজন মারাও যান।
এরপর একে একে অশোকনগর, ঝাড়গ্রাম, বিশরপাড়া, রাজারহাট, বউবাজার, চণ্ডীতলা, পাণ্ডুয়া, এমনকী মঙ্গলবার শিয়ালদহেও ঘটে গিয়েছে একই ঘটনা। মারমুখী জনতা গণধোলাই-সংক্রমণের কবলে পড়ে এই কাণ্ড ঘটাচ্ছেন বলে মনে করছেন মনোরোগ কিংবা সমাজতত্ত্বের বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা বলছেন, একটি বা দু'টি ঘটনা ঘটলে, মারমুখী জনতার আবেগে, আচরণে তা সংক্রমিত হয়ে পড়ে দ্রুত। ফলে ঘটতে থাকে একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনা, যা একপ্রকার গণ-হিস্টিরিয়ার সঙ্গেই তুলনীয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জয়রঞ্জন রাম বলেন, 'একা কিছু করতে গেলে ঝুঁকি সংক্রান্ত নানা হিসেব-নিকেষের কথা ঘোরে মাথায়। কিন্তু ভিড়ের কোনও নিজস্ব মুখ হয় না। ওখানে সবাই রাজা। তাই হতাশা আর আক্রোশের মিলিত বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। তাই গণপিটুনি এক জায়গায় হলে সেটা চেনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।'
জয়রঞ্জন মনে করেন, একটা জায়গায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটলে অনেকের মনে হয়, তার একটা সামাজিক স্বীকৃতি রয়েছে। তাই ন্যূনতম ইন্ধন থাকলে সেই আচরণই অনুকরণ করে অন্যরাও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক সৈকত বৈদ্য অবশ্য লাগাতার গণপিটুনির ঘটনাকে গণ-হিস্টিরিয়া মানতে নারাজ।
তাঁর বক্তব্য, 'এটা হলো বিহেভিয়োরাল অ্যান্ড ইমোশনাল কন্টাজিয়ন। অর্থাৎ আবেগ ও আচরণের ছোঁয়াচে বহিঃপ্রকাশ। যা আদতে একজনের মারমুখী প্রবণতার অন্যের মধ্যে সংক্রমণ। এর সঙ্গে মব বা ক্রাউড সাইকোলজির সম্পর্ক অতি নিবিড়। মবের বাইরে থেকে এসেও তখন গণপিটুনির ঘটনায় নিজে থেকে এসে সামিল হয়ে যায় লোকে। একে বলে কালেক্টিভ বিহেভিয়ার।'
সৈকতের ব্যাখ্যা, গণপিটুনির মানসিকতা ছোঁয়াচে বলেই একজন মানুষ তার মনের মধ্যে জমে থাকা দীর্ঘমেয়াদী নিরাশা, হতাশা, অপ্রাপ্তির বেদনা, ব্যর্থতার যাতনা- সবই এই আগ্রাসনের মধ্যে দিয়ে চরিতার্থ করে। যা এতদিন সামাজিক অনুশাসন ও লোকলজ্জার ভয়ে করতে না পেরে সে গুমরে মরছিল হয়তো।
সৈকতের কথায়, 'সে জানে, যদি সে এই মারমুখী জনসমুদ্রে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে মনের জ্বালা মেটায়, তা হলে জনতার ভিড়ে কেউ তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারবে না। ফলে থাকবে না ধরা পড়ার ভয়ও।' কিন্তু সকলেই কি এই মবের মধ্যে সামিল হয়? মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কখনোই নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা সামিল হয়, যাদের মনের গহনে লুকিয়ে থাকে অ্যান্টিসোশ্যাল বা ডিজ়সোশ্যাল ডিসফাংশনাল পার্সোনালিটি ডিজ়অর্ডারের বীজ।
সাধারণত এরা একটুতেই রেগে যান, হারিয়ে ফেলে ভালোমন্দের ফারাক করার ক্ষমতা। তারাই বেশি শরিক হন গণপিটুনির। জয়রঞ্জন আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন আরও একটি সামাজিক বিষয়। তাঁর কথায়, 'যখন আইন ও প্রশাসনের উপর আস্থা কমতে থাকে মানুষের, তখন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ে মানুষের মধ্যে।'
একমত সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায়ও। তবে তাঁর সংযোজন, 'মানুষের আসল রাগ কিন্তু চোর সন্দেহে ধরা পড়া লোকের উপর নয়। আসল রাগ হলো, নেতা-মন্ত্রীর মতো সমাজের উপরতলার মানুষের উপর। কিন্তু লোকে বোঝে, ওই সব ওপরতলার মানুষ অত্যন্ত সুরক্ষিত, তাঁদের কিছুই করা যাবে না। সেই চাপা রাগটারই পথ ভুলে বহিঃপ্রকাশ ঘটে যাচ্ছে এই গণপ্রহারের ক্ষেত্রে।'
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন