এক বেঞ্চের বন্ধুরা – স্মৃতির বেঞ্চে বসে
এক বেঞ্চের বন্ধুরা – স্মৃতির বেঞ্চে বসে
একটি বেঞ্চ, চারটি ছায়া—আর হাজারটা গল্প। স্কুলজীবনের সেই পুরনো দিনগুলো মাঝেমধ্যে আমাদের বর্তমানের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ছায়ার মতো এসে পড়ে।
আজ সেই পুরনো ছায়াগুলোর একটি গল্প বলি—স্মৃতির পাতা উল্টিয়ে।
ক্লাস সেভেন থেকে টেন—একই বেঞ্চে বসে বড় হয়েছিল ওরা চারজন: অভীক, শুভম, মিতুল আর রিনু। কেউ ছিল অঙ্কে দুর্দান্ত, কেউ আঁকায়, কেউ গল্প বলায়, কেউ আবার শুধু হেসে হেসেই মন জয় করে নিত।
প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছে চারজনে মিলে একসঙ্গে দুপুরের টিফিন খাওয়া, চুপিচুপি স্যারের নকল করা, আর টিফিন পিরিয়ডে পিচের মাঠে দৌড়ঝাঁপ—এ যেন একটা ছোট পৃথিবী ছিল ওদের। কারও পরীক্ষায় খারাপ হলে বাকিরা পাশে দাঁড়াত, কেউ অসুস্থ হলে স্কুল ছুটির পর বাড়ি গিয়ে দেখা করে আসত।
তবে সময় বড় নিষ্ঠুর। মাধ্যমিকের পর সবাই ছড়িয়ে গেল। কেউ কলকাতায়, কেউ আসানসোলে, কেউ বাইরের রাজ্যে, কেউ বিদেশে। মাঝে মাঝে WhatsApp গ্রুপে “Hi” “Hello” চললেও, ধীরে ধীরে সেটাও থেমে গেল। সবাই ব্যস্ত নিজের জীবনে—চাকরি, সংসার, দায়িত্ব।
একদিন আচমকাই মিতুল একটা ছবি পাঠাল গ্রুপে—পুরনো স্কুলের বেঞ্চটার, যে বেঞ্চে এক সময় ওরা চারজন একসঙ্গে বসত। সে গিয়েছিল মেয়ের অ্যাডমিশনের জন্য।
ছবির নিচে লেখা ছিল:
“এই বেঞ্চটা এখনো অপেক্ষা করে... আমাদের মতো কিছু বন্ধুর জন্য।”
শুরু হলো কথোপকথন, স্মৃতির ঝড়। অবশেষে ঠিক হলো—বছরের একদিন, স্কুলের সামনে দেখা হবে। কেবল স্মৃতির জন্য, কেবল নিজেদের জন্য।
সেই দিন এল। সকলে এল—চুলে পাকা রঙ, হাতে বয়সের ছাপ, চোখে অদম্য উত্তেজনা। বেঞ্চটা আজও দাঁড়িয়ে ছিল। ধুলো মুছে আবার বসল ওরা, এক বেঞ্চে, একসাথে।
শুধু এইবার ব্যাগে বই ছিল না—ছিল স্মৃতি, ছিল ভালোবাসা, আর ছিল বন্ধুত্বের না-মুছে-যাওয়া আঁচড়।
আপনারও কি এমন কোনও বেঞ্চ আছে যা আজও অপেক্ষা করে?
লিখে জানান মন্তব্যে, আমি পড়তে আগ্রহী।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন