বারান্দায় রোদ্দুর

সকালটা শান্ত।
হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে, বারান্দার গ্রিল ছুঁয়ে রোদ্দুর গলে পড়ছে মেঝের গায়ে।
মীনাক্ষী বেতের চেয়ারে বসে রয়েছেন, হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। চুপ করে তাকিয়ে আছেন সামনের কুয়াশা-ধোঁয়াধোঁয়া আকাশে।

বারান্দার কোণায় টবের গাঁদাফুলগুলো আজও অরিজিৎ-এর পছন্দমতো।
"কমলা আর সাদা রাখো, হলুদ ফুল মনকে গরম করে দেয়" — বলতেন।

আজ সেই গরম রোদ এসে পা ছুঁয়ে দিলো। কাঁধে শালটা ভালো করে জড়িয়ে নিলেন তিনি।
কফিতে চুমুক দিয়েই চোখ পড়ল— ছ’ বছর বয়সী মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে বারান্দার দরজায়।

"ঠাম্মি, তোমার এই রোদটা কি রোজ আসে?"
জিজ্ঞেস করল ইরা, তার নাতনি। চোখ দুটো তেতুল পাতার মতো বড়, আর কৌতূহলে টলমল।

"রোজ আসে না রে। কিন্তু যখন আসে, তখন আমি বসে থাকি ওর জন্য।"
একটু হেসে বললেন মীনাক্ষী।

ইরা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তার ঠাম্মির কোলে চড়ে বসল।
"এই রোদ তোমার বন্ধু?"

"হ্যাঁ, একদম ছোটবেলার বন্ধু। তারপর আবার কলেজজীবনে দেখা হয়েছিল। আর একদিন… সে আমাকে চিঠি লিখতে শিখিয়েছিল।"
মীনাক্ষীর কণ্ঠে এক টুকরো আলো মিশে যায়।

ইরা বলে, "তুমি আমায় শিখিয়ে দেবে? আমি রোদ্দুরকে চিঠি লিখতে চাই!"

হাসি চাপতে পারেন না মীনাক্ষী। একটা অজানা আনন্দে বুকটা ভরে ওঠে।
রোদটা একটু এগিয়ে এসেছে যেন, ইরার গালের ওপরে একচিলতে আলোর রেখা।

সন্ধ্যাবেলা মীনাক্ষী তাঁর ডায়রিতে লিখে রাখেন—
"আজ অনেকদিন পর সেই রোদ্দুরটা আবার কথা বলল। শুধু আমার সঙ্গে নয়, ইরার সঙ্গেও। হয়তো একদিন ইরার চোখ দিয়েই অরিজিৎ আবার ফিরে আসবে— আলো হয়ে, চিঠি হয়ে, গল্প হয়ে।"

বারান্দার গ্রীলে তখনও ঝুলে আছে রোদ্দুরের শেষ টুকরো।

---------------------------শেষ---------------------------

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।