চোর ও গৃহকর্তার বন্ধুত্ব: একটি অদ্ভুত সম্পর্ক।

📌: চোর ও গৃহকর্তার বন্ধুত্ব: বিশ্বাস কীভাবে বদলে দেয় মানুষের পরিচয়। প্রথম দিন ধরা পড়ার পর দু’জনেই একটু অবাক হয়েছিল। চোরটা ভেবেছিল—আজ বুঝি থানায় রাত কাটবে। আর গৃহকর্তা ভেবেছিলেন—এই বয়সে এসে এমন অভিজ্ঞতা কেন! কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, গৃহকর্তা চোরটাকে বেঁধে রাখেননি। এক গ্লাস জল দিয়েছিলেন। তারপর বলেছিলেন, “ভয় পেও না, বসো। আগে জল খাও।” চোরটা জল খেল, চোখ নামিয়ে রাখল। এই প্রথম কেউ তাকে চোর না বলে মানুষ হিসেবে দেখল। গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করেননি—কেন চুরি করছ? জিজ্ঞেস করেছিলেন— “ক’দিন খাওনি?” সেই প্রশ্নেই দেয়ালটা ভেঙে গিয়েছিল। এরপর দিন বদলাতে লাগল। চোর আর রাতে আসে না। আসে বিকেলে। কখনো ভাঙা চেয়ার সারায়, কখনো বাজার থেকে সবজি এনে দেয়। গৃহকর্তা জানেন—ওর নাম চোর। চোর জানে—এই লোকটার বাড়ি চুরি করা যাবে না। দু’জনেই জানে—এই সম্পর্কটার কোনো নাম নেই। একদিন গৃহকর্তা বলেছিলেন, “সব মানুষ ভালো বা খারাপ হয় না। পরিস্থিতি হয়।” চোর চুপ করে শুনেছিল। তারপর ধীরে বলেছিল, “আপনি যদি সেদিন দরজা বন্ধ করতেন, আমি আজও চোরই থাকতাম।” বন্ধুত্ব আসলে কখনো পরিকল্পনা করে হয় না। কখনো হয় ভুল দরজায় ঢুকে পড়লে। কখনো হয় ভয় আর বিশ্বাসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। এই শহরে অনেক দরজা আছে। সব দরজায় তালা আছে। কিন্তু কিছু দরজায় মানুষ থাকে— সেই দরজাগুলোই জীবনের দিক বদলে দেয়। চোর আর গৃহকর্তা এরপর আলাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দু’জনের জীবনেই একটা জিনিস থেকে গিয়েছিল— বিশ্বাস। আর সেটাই সবচেয়ে দামী জিনিস, যেটা কোনোদিন চুরি হয় না। 🔎:চোর ও গৃহকর্তা,বন্ধুত্বের গল্প,মানবিক গল্প সামাজিক গল্প,বিশ্বাস ও মানবতা,বাংলা গল্প, বাংলা ব্লগ,ছোটগল্প, নৈতিকতা,সমাজ ও মানুষ, সম্পর্কের গল্প,জীবনের গল্প,সহানুভূতি, পরিস্থিতি ও মানুষ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।