সন্তানের দৃষ্টিতে বৃদ্ধাশ্রম।
গেটটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা আজও কানে বাজে।
আমি খুব দ্রুত হাঁটছিলাম।
পিছনে তাকাইনি।
তাকালে হয়তো আর বেরোতে পারতাম না।
বাবা বলেছিলেন,
— “এখানে ভালোই আছি।”
কিন্তু আমি জানি, উনি কখনও মিথ্যে বলতে শিখেননি।
তবু সেদিন বলেছিলেন।
বৃদ্ধাশ্রমে প্রথম দিনটা যেন খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে চেয়েছিলাম।
ফর্মে সই করেছি, টাকা জমা দিয়েছি, ঘর দেখে এসেছি—সব যেন একটা কাজের মতো।
শুধু একটা জায়গায় এসে হাত কেঁপে গিয়েছিল—
“অভিভাবকের নাম” লিখতে গিয়ে।
বাবার নাম লিখতে গিয়ে মনে হলো—
যিনি এতদিন আমার অভিভাবক ছিলেন,
আজ আমি তার অভিভাবক হয়ে গেলাম।
বেরিয়ে আসার সময় বাবা বললেন,
— “সময় পেলে আসিস।”
আমি বলেছিলাম,
— “খুব তাড়াতাড়ি আসব।”
জানি না, উনি বিশ্বাস করেছিলেন কিনা।
বাড়ি ফিরে দেখি বাবার চেয়েটা খালি।
চশমাটা টেবিলের ওপর নেই।
রেডিওটা বন্ধ।
ঘরটা যেন একটু বড় হয়ে গেছে।
আর একটু ফাঁকা।
রাতে ফোনটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম।
ফোন করব কি করব না—ভাবছিলাম।
কি বলব?
“ভালো আছ?”
না “খাবার খেয়েছ?”
শেষে ফোন করিনি।
কারণ ভয় হচ্ছিল—
বাবা যদি জিজ্ঞেস করেন,
— “কবে আসবি?”
তার উত্তর আমার কাছে ছিল না।
আজ একমাস হয়ে গেছে।
অফিস থেকে ফেরার পথে মাঝে মাঝে ওই রাস্তা দিয়ে যাই।
ভিতরে ঢুকি না।
শুধু গেটটার দিকে তাকিয়ে থাকি।
ভাবি—
আমি কি ভুল করেছি?
তারপর নিজেকেই বুঝাই—
ওখানে ডাক্তার আছে,
লোকজন আছে,
দেখাশোনা আছে।
তবু একটা কথা মাথা থেকে যায় না—
বাবা যখন ছোট ছিলেন,
তখন নিশ্চয়ই ভাবেননি
তার শেষ ঠিকানা হবে বৃদ্ধাশ্রম।
আর আমি—
আমি কোনোদিন ভাবিনি
বাবাকে সেখানে রেখে আসতে হবে।
গেটটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা
আজও কানে বাজে।
🔖: #সন্তানেরদৃষ্টিতে #বৃদ্ধাশ্রম #বৃদ্ধদেরসেবা #পরিবারেরমুল্য #মানবিকতা #সামাজিকদায়িত্ব #বৃদ্ধাশ্রমেরজীবন #সন্তানেরদায়িত্ব #বৃদ্ধদেরঅধিকার #সামাজিকসচেতনতা

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন