এক নারীবাদী পুরুষের গল্প: সমতা, সম্মান ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা।

নারীবাদ শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। কেউ মনে করেন এটি পুরুষদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন। কিন্তু আসলে নারীবাদ মানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার এবং পারস্পরিক সম্মান। এই লেখায় আমরা এমন এক পুরুষের গল্প শুনব, যিনি নারীদের সমান মর্যাদায় বিশ্বাস করেন। অরিন্দম ছোটবেলায় খুব একটা কথা বলত না। সে বেশি দেখত, কম বলত। তার মা স্কুলশিক্ষিকা ছিলেন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রান্না, সংসার সামলে স্কুলে যাওয়া—তারপর ফিরে এসে আবার সংসারের কাজ। তবু বাড়ির আত্মীয়রা প্রায়ই বলত— “চাকরি করে ঠিকই, কিন্তু সংসারটাই তো আসল দায়িত্ব!” অরিন্দম তখন ছোট। সে ঠিক বুঝত না কথার মানে। কিন্তু মায়ের মুখের ক্লান্ত হাসিটা সে লক্ষ্য করত। একদিন রাতে পড়তে বসে সে দেখল মা চুপচাপ বারান্দায় বসে আছেন। সে জিজ্ঞেস করল— “মা, তুমি এত কাজ করো, তবু সবাই বলে তুমি কিছুই করো না কেন?” মা একটু হেসে বলেছিলেন— “সবাই সবসময় বুঝতে পারে না রে।” সেই কথাটা অরিন্দমের মনে থেকে গেল। বহু বছর পরে অফিসের ক্যান্টিনে একদিন সহকর্মীরা হাসতে হাসতে বলল— “এই অরিন্দম, শুনেছি তুই নাকি নারীবাদী হয়ে গেছিস!” অরিন্দম মৃদু হেসে বলল— “হয়তো হয়েছি।” —“পুরুষ হয়ে নারীবাদী?” —“হ্যাঁ। কারণ আমি দেখেছি আমার মা কতটা শক্তিশালী মানুষ ছিলেন, অথচ কতবার তাকে ছোট করে দেখা হয়েছে।” ক্যান্টিনে কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে এল। অরিন্দম ধীরে বলল— “আমি শুধু চাই—যে মেয়েটা আমার সহকর্মী, যে মেয়েটা আমার বন্ধু, যে মেয়েটা আমার মেয়ে হতে পারে—তাদের যেন নিজের স্বপ্ন বেছে নেওয়ার অধিকার থাকে।” তার কথা শেষ হলে কেউ আর হাসল না। কারণ সেদিন তারা বুঝেছিল— নারীবাদ মানে কারও বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়। নারীবাদ মানে পাশে দাঁড়ানো। নারীবাদ আসলে কী?: নারীবাদ মূলত একটি সামাজিক চিন্তাধারা, যা বিশ্বাস করে— নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার থাকা উচিত। এটি কোনো বিরোধের ভাষা নয়, বরং ন্যায় ও সমতার দাবি। কেন কিছু পুরুষ নারীবাদী হন: একজন পুরুষের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাকে নারীবাদের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে— মায়ের সংগ্রাম দেখা কর্মক্ষেত্রে নারীদের অবমূল্যায়ন দেখা নিজের মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে সমতার পক্ষে দাঁড়াতে শেখায়। একজন নারীবাদী পুরুষের ভূমিকা: একজন নারীবাদী পুরুষ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন— কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগের পক্ষে কথা বলা ঘরের কাজে অংশ নেওয়া নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া পুরোনো লিঙ্গভিত্তিক ধারণাকে প্রশ্ন করা এই ছোট ছোট পরিবর্তনই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। 🔚: সমতা কখনও একপক্ষের লড়াই নয়। যখন নারী ও পুরুষ একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখনই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কারণ শেষ পর্যন্ত— সমতার লড়াই আসলে মানুষের লড়াই। সমতা কখনও একদিনে আসে না। কখনও একটি স্মৃতি, একটি অভিজ্ঞতা বা একটি উপলব্ধিই মানুষকে বদলে দেয়। হয়তো সমাজ তখনই একটু বদলায়— যখন কেউ একজন সাহস করে বলে, “আমি সমতার পক্ষে।” 🔖: নারীবাদ নারী পুরুষ সমতা বাংলা গল্প সমাজ ও ভাবনা মানবিক গল্প ফেমিনিজম বাংলা ব্লগ সমতার গল্প সমাজচিন্তা

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।