কাঁচের দেওয়ালের ওপারে।
কর্পোরেট অফিসগুলো বাইরে থেকে খুব চকচকে দেখায়।
কাচের দেওয়াল, এয়ারকন্ডিশনড ফ্লোর, মিটিং রুমে প্রেজেন্টেশন—সবকিছু যেন খুব পরিপাটি।
কিন্তু সেই কাচের দেওয়ালের আড়ালেও মানুষের ছোট ছোট গল্প জন্ম নেয়।
ঈশান ছিল একটি কর্পোরেট সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার। কাজের ব্যাপারে সে খুব কঠোর। তার টিমে সবাই জানত—ঈশানের কাছে কাজ মানেই নিখুঁত কাজ।
একদিন টিমে নতুন একজন যোগ দিল—নন্দিতা।
প্রথম কয়েক সপ্তাহে নন্দিতা খুব বেশি কথা বলেনি। কিন্তু তার কাজের মধ্যে একটা অদ্ভুত নিষ্ঠা ছিল।
ঈশান খেয়াল করল—
অন্যরা যেখানে দ্রুত কাজ শেষ করতে চায়, নন্দিতা সেখানে সময় নিয়ে কাজটা ঠিকঠাক করে।
একদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশনের আগে টিমে একটু উত্তেজনা তৈরি হলো। কিছু ডেটা ঠিক মিলছে না।
সবার মধ্যে একটু অস্থিরতা।
নন্দিতা শান্তভাবে বলল—
“ডেটাটা আবার একবার ক্রসচেক করলে হয়তো সমস্যা ধরা পড়বে।”
সত্যিই তাই হলো।
সেদিন প্রথমবার ঈশান বুঝল—এই মেয়েটি আলাদা।
কিন্তু কর্পোরেট অফিসে সব গল্প এত সহজ নয়।
কয়েকদিনের মধ্যেই অফিসে ফিসফাস শুরু হলো।
“বসের সঙ্গে নন্দিতার বেশ বোঝাপড়া।”
এই ধরনের কথাবার্তা কর্পোরেট দুনিয়ায় খুব অচেনা নয়।
ঈশান বিষয়টা বুঝতে পারল।
একদিন সে নন্দিতাকে ডেকে বলল—
“আমাদের একটু সাবধানে চলতে হবে। অফিসের মানুষ গল্প বানাতে ভালোবাসে।”
নন্দিতা শান্ত গলায় বলল—
“আমি জানি। কিন্তু কাজটা ঠিকভাবে করা কি ভুল?”
ঈশান একটু থেমে বলল—
“না, ভুল নয়। কিন্তু এই দুনিয়ায় সবসময় সঠিক জিনিসটাই সবচেয়ে সহজ হয় না।”
সেদিনের কথোপকথনের পরে দুজনেই একটু দূরত্ব রাখল।
কাজের সম্পর্ক আগের মতোই রইল, কিন্তু ব্যক্তিগত কথা কমে গেল।
তবু কিছু অনুভূতি দূরে রাখলেও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।
একদিন রাত পর্যন্ত কাজ করতে করতে অফিস প্রায় ফাঁকা।
কাঁচের দেওয়ালের বাইরে শহরের আলো জ্বলছে।
নন্দিতা জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঈশান এসে বলল—
“কখনও কখনও মনে হয় কর্পোরেট জীবনটা খুব অদ্ভুত।”
নন্দিতা তাকাল।
ঈশান বলল—
“এখানে মানুষ খুব কাছাকাছি কাজ করে, কিন্তু অনুভূতিগুলোকে দূরে রাখতে শেখে।”
নন্দিতা একটু হাসল।
“হয়তো সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পেশাদারিত্ব।”
ঈশান জানত—
এই গল্পটা হয়তো খুব দূর এগোবে না।
তবু কিছু সম্পর্কের মূল্য এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে নয়।
কখনও কখনও
সম্মান আর নীরব বোঝাপড়াই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গভীর রূপ।
কাচের দেওয়ালের ওপারে শহর তখনও আলোয় ভরা।
আর সেই আলোয় দাঁড়িয়ে দুজন মানুষ বুঝছিল—
কর্পোরেট জীবনে সব অনুভূতি প্রকাশ পায় না।
কিছু অনুভূতি
শুধু নীরবতাতেই বেঁচে থাকে।
#অফিসরোমান্স #প্রেমেরঅফিস #কর্মক্ষেত্রেরপ্রেম #অফিসেরগল্প #প্রেমেরপেশা #অফিসেরবন্ধন #কর্মক্ষেত্রেররোমাঞ্চ #অফিসেরসুখ #প্রেমেরঅভিজ্ঞতা #অফিসেরসঙ্গী

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন