:যে পুরুষটি পাশে দাঁড়াতে শিখেছিল।
অরিন্দম ছোটবেলায় খুব একটা কথা বলত না। সে বেশি দেখত, কম বলত।
তার মা স্কুলশিক্ষিকা ছিলেন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রান্না, সংসার সামলে স্কুলে যাওয়া—তারপর ফিরে এসে আবার সংসারের কাজ। তবু বাড়ির আত্মীয়রা প্রায়ই বলত—
“চাকরি করে ঠিকই, কিন্তু সংসারটাই তো আসল দায়িত্ব!”
অরিন্দম তখন ছোট। সে ঠিক বুঝত না কথার মানে। কিন্তু মায়ের মুখের ক্লান্ত হাসিটা সে লক্ষ্য করত।
একদিন রাতে পড়তে বসে সে দেখল মা চুপচাপ বারান্দায় বসে আছেন।
সে জিজ্ঞেস করল—
“মা, তুমি এত কাজ করো, তবু সবাই বলে তুমি কিছুই করো না কেন?”
মা একটু হেসে বলেছিলেন—
“সবাই সবসময় বুঝতে পারে না রে।”
সেই কথাটা অরিন্দমের মনে থেকে গেল।
বহু বছর পরে অফিসের ক্যান্টিনে একদিন সহকর্মীরা হাসতে হাসতে বলল—
“এই অরিন্দম, শুনেছি তুই নাকি নারীবাদী হয়ে গেছিস!”
অরিন্দম মৃদু হেসে বলল—
“হয়তো হয়েছি।”
—“পুরুষ হয়ে নারীবাদী?”
—“হ্যাঁ। কারণ আমি দেখেছি আমার মা কতটা শক্তিশালী মানুষ ছিলেন, অথচ কতবার তাকে ছোট করে দেখা হয়েছে।”
ক্যান্টিনে কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে এল।
অরিন্দম ধীরে বলল—
“আমি শুধু চাই—যে মেয়েটা আমার সহকর্মী, যে মেয়েটা আমার বন্ধু, যে মেয়েটা আমার মেয়ে হতে পারে—তাদের যেন নিজের স্বপ্ন বেছে নেওয়ার অধিকার থাকে।”
তার কথা শেষ হলে কেউ আর হাসল না।
কারণ সেদিন তারা বুঝেছিল—
নারীবাদ মানে কারও বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়।
নারীবাদ মানে পাশে দাঁড়ানো।
🔖:নারীবাদ
নারী পুরুষ সমতা
বাংলা গল্প
সমাজ ও ভাবনা
মানবিক গল্প
ফেমিনিজম
বাংলা ব্লগ
সমতার গল্প
সমাজচিন্তা

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন