অপেক্ষার প্রহর—সময় নয়, অনুভূতির মাপকাঠি।

স্টেশনটা আজও একই আছে— একই বেঞ্চ, একই ঘড়ি, একই ভিড়। ঋজু বসে আছে, হাতে একটা ছোট ব্যাগ। আজ দশ বছর পর সে ফিরে এসেছে। সেদিন বলেছিল— “আমি ফিরে আসব।” আর কেউ একজন বলেছিল— “আমি অপেক্ষা করব।” সময় তার কাজ করেছে— সব বদলেছে, মানুষ বদলেছে, সম্পর্ক বদলেছে। তবু এই স্টেশনের একটা কোণ যেন একই রয়ে গেছে। ঋজুর চোখ বারবার ভিড়ের দিকে চলে যাচ্ছে। কেউ আসছে না… তবু সে উঠে যাচ্ছে না। হঠাৎ এক মহিলা এগিয়ে এল। চোখে চেনা একটা ছায়া। “তুমি এসেছ?” ঋজুর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এই অপেক্ষা, এই প্রহর— এতদিন ধরে যে শুধু সময় নয়, বিশ্বাসকেও বয়ে নিয়ে এসেছে। কিছু অপেক্ষা কখনো বৃথা যায় না— ওরা শুধু একটু বেশি সময় নেয়। অপেক্ষা—এই শব্দটা আমাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। আমরা প্রতিদিনই অপেক্ষা করি— কখনো মানুষের জন্য, কখনো সুযোগের জন্য, কখনো নিজের সময়ের জন্য। কিন্তু “অপেক্ষার প্রহর” শুধু সময়ের হিসাব নয়, এটা আমাদের অনুভূতির মাপকাঠি। যখন আমরা কাউকে বা কিছুকে সত্যি করে চাই, তখন সময়টা দীর্ঘ মনে হয়। একটা মিনিটও যেন এক ঘণ্টার মতো লাগে। কিন্তু অপেক্ষা কি সবসময় কষ্টের? না, অপেক্ষার ভেতরেও একটা আশার আলো থাকে। এই আশাই আমাদের ধরে রাখে, আমাদের ভাঙতে দেয় না। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— আমরা কি সবকিছুর জন্য অপেক্ষা করব? জীবনে কিছু অপেক্ষা অর্থপূর্ণ, কিছু অপেক্ষা আমাদের থামিয়ে দেয়। তাই বুঝতে হবে— কখন অপেক্ষা করতে হবে, আর কখন এগিয়ে যেতে হবে। অপেক্ষার প্রহর আমাদের শেখায়— ধৈর্য, বিশ্বাস, আর নিজেকে বোঝার ক্ষমতা। কারণ, যে অপেক্ষা করতে জানে, সে সময়কে হারাতে না পারলেও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শেখে। 🔑: অপেক্ষার প্রহর গল্প, waiting emotion Bengali, love waiting story Bengali, emotional Bengali blog, patience and hope Bengali

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।