মায়াবী জ্যোৎস্না—আলোর ভেতরে লুকোনো অনুভূতি।
গ্রামের বাড়িতে বহু বছর পর ফিরেছে অনির্বাণ।
শহরের ব্যস্ততা, শব্দ, ক্লান্তি—সব পেরিয়ে আজ সে উঠোনে দাঁড়িয়ে।
আকাশভরা পূর্ণিমা।
চারপাশে সাদা আলো ঝরে পড়ছে।
শিউলি গাছটার নিচে দাঁড়াত একসময় মেঘলা।
প্রতিটি পূর্ণিমায় তারা দু’জনে আকাশ দেখত।
অনির্বাণ ধীরে ধীরে সেই গাছটার কাছে গেল।
পাতার ফাঁক দিয়ে জ্যোৎস্না মাটিতে ছড়িয়ে আছে।
হঠাৎ মনে হলো, কেউ যেন পাশে এসে দাঁড়াল।
“এত দেরি করলে?”
চমকে উঠে চারপাশে তাকাল সে।
কেউ নেই।
হয়তো ছিল শুধু স্মৃতি,
হয়তো মায়াবী জ্যোৎস্নার খেলা।
অনির্বাণ আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
“আমি ফিরেছি… তুমি আছো তো?”
সেদিন রাতভর সে বুঝেছিল—
কিছু মানুষ চলে যায়,
কিন্তু কিছু আলো থেকে যায়।
জ্যোৎস্নার রাতের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে।
এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট নয়,
আবার অন্ধকারের মতো ভয়ও নয়।
জ্যোৎস্না মাঝামাঝি এক অনুভূতি—
যেখানে বাস্তব আর কল্পনা পাশাপাশি হাঁটে।
এই কারণেই আমরা জ্যোৎস্নাকে “মায়াবী” বলি।
চাঁদের আলোয় পৃথিবী বদলে যায় না,
কিন্তু পৃথিবীকে দেখার চোখ বদলে যায়।
একই পথ অন্যরকম লাগে,
একই উঠোন নতুন মনে হয়,
একই মানুষকে আরও বেশি মনে পড়ে।
জ্যোৎস্না অনেক সময় স্মৃতির দরজা খুলে দেয়।
পুরনো কথা, হারিয়ে যাওয়া মানুষ,
অপূর্ণ প্রেম, নিঃশব্দ অপেক্ষা—সব ফিরে আসে।
হয়তো এজন্যই জ্যোৎস্না আমাদের এত টানে।
কারণ, এটা শুধু রাতকে সুন্দর করে না—
মনের ভেতরটাকেও আলোকিত করে।
তাই কোনোদিন যদি খুব ক্লান্ত লাগে,
একটু জ্যোৎস্নার দিকে তাকান।
হয়তো দেখবেন—
সব উত্তর না পেলেও, মনটা হালকা হয়ে গেছে।
🔑:
মায়াবী জ্যোৎস্না গল্প, moonlight Bengali poem, romantic Bengali blog, nostalgic night story Bengali, full moon emotion Bengali

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন