বন্ধ দরজা: ওপাশে লুকিয়ে থাকা গল্প।

পুরনো বাড়িটায় বহু বছর পর ফিরেছে অনিরুদ্ধ। বাড়ির সবকিছুই যেন আগের মতো আছে— দেয়ালের ফিকে রং, উঠোনের শিউলি গাছ, আর লম্বা বারান্দা। শুধু একটা দরজা ছাড়া। বাড়ির শেষ ঘরটার দরজা এখনও বন্ধ। ছোটবেলায় মা ওই ঘরটায় কাউকে ঢুকতে দিতেন না। বলতেন, “সব ঘর সবসময় খোলা থাকে না।” অনিরুদ্ধ কখনো জোর করেনি। কিন্তু আজ কেমন যেন অদ্ভুত টান অনুভব করছিল। ধীরে ধীরে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। হাতে ধুলো জমা পুরনো চাবি। দরজাটা খুলতেই এক ঝাঁক পুরনো গন্ধ বেরিয়ে এল। ঘরের ভেতরে একটা টেবিল, কিছু বই, আর দেয়ালে টাঙানো একটা ছবি। তার বাবার। অনিরুদ্ধ খুব ছোট থাকতেই বাবা চলে গিয়েছিলেন। মা কখনো বাবার কথা বলতেন না। টেবিলের ওপর একটা চিঠি রাখা ছিল। “যদি কোনোদিন এই দরজা খোল, জেনে নিও— আমি তোমাকে ছেড়ে যাইনি, শুধু সময় আমাকে দূরে নিয়ে গিয়েছিল।” অনিরুদ্ধ অনেকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝল— কিছু দরজা আমরা ভয় থেকে বন্ধ রাখি। কিন্তু দরজার ওপাশে কখনো কখনো উত্তর অপেক্ষা করে। জীবনে আমরা সবাই কিছু না কিছু “বন্ধ দরজা” তৈরি করি। কখনো সেটা কোনো সম্পর্কের পরে, কখনো কোনো ব্যর্থতার পরে, আবার কখনো নিজের ভেতরের ভয় থেকে। এই দরজাগুলো সবসময় চোখে দেখা যায় না। অনেক সময় মানুষ হাসিখুশি থেকেও ভেতরে একটা ঘর বন্ধ করে রাখে। কারণ, কিছু স্মৃতি খুব কষ্ট দেয়। কিছু প্রশ্নের উত্তর আমরা শুনতে চাই না। তাই মানুষ নিজেকে নিরাপদ রাখতে অনুভূতির ওপর তালা লাগিয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো— বন্ধ দরজা শুধু কষ্টকে আটকে রাখে না, আলোও ঢুকতে দেয় না। আমরা অনেক সময় ভাবি, ভুলে যাওয়াই শান্তি। কিন্তু সত্যিকারের শান্তি আসে মুখোমুখি হওয়ার সাহস থেকে। যে মানুষ নিজের ভয়, কষ্ট আর অতীতের সামনে দাঁড়াতে পারে, সে-ই ধীরে ধীরে মুক্ত হয়। বন্ধ দরজা তাই শুধু সমাপ্তির প্রতীক নয়, এটা নতুন শুরুরও প্রতীক হতে পারে। কারণ, প্রতিটা দরজার ওপাশেই একটা নতুন সম্ভাবনা অপেক্ষা করে। 🔑: বন্ধ দরজা গল্প, closed door Bengali poem, emotional Bengali blog, hidden feelings Bengali writing, nostalgic Bengali story

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

একলা চলার মহিমা।

ডায়েরির পাতায় আপনার চিন্তা প্রকাশের কৌশল।

পুরোনো বইয়ের দোকান।