রবি স্মরণে: আলো হয়ে থাকা এক নাম
বইয়ের আলমারির ধুলো ঝাড়তে গিয়ে অনির্বাণ হঠাৎ খুঁজে পেল পুরনো একটা বই—
পাতা হলদে হয়ে যাওয়া গীতাঞ্জলি ।
বইটা খুলতেই একটা শুকনো শিউলি ফুল পড়ে গেল।
অনির্বাণ থমকে গেল।
এই ফুলটা রেখেছিল মেঘলা।
কলেজ জীবনে প্রতি পঁচিশে বৈশাখে তারা একসাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা পড়ত, গান গাইত।
মেঘলা বলত,
“রবিঠাকুরকে শুধু পড়লে হয় না, অনুভব করতে হয়।”
সময়ের স্রোতে মেঘলা হারিয়ে গেছে,
কিন্তু তার রেখে যাওয়া শিউলি ফুল আর রবির শব্দগুলো রয়ে গেছে।
অনির্বাণ জানালার পাশে বসে ধীরে ধীরে পড়তে লাগল—
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে…”
বাইরে হালকা বাতাস বইছে।
মনে হলো, সময় বদলায়, মানুষ বদলায়,
কিন্তু কিছু শব্দ কখনো পুরনো হয় না।
সেদিন অনির্বাণ বুঝল—
রবীন্দ্রনাথ শুধু বইয়ের পাতায় নেই,
তিনি থেকে যান মানুষের অনুভূতিতে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -কে স্মরণ করা মানে শুধু একজন কবিকে স্মরণ করা নয়,
একটি সংস্কৃতি, একটি চেতনা ও এক বিশাল মানবিকতাকে স্মরণ করা।
তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সুরকার, চিত্রকর, দার্শনিক—
কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, তিনি ছিলেন মানুষকে গভীরভাবে বোঝা এক শিল্পী।
বাংলা ভাষার এমন খুব কম অনুভূতি আছে
যা রবীন্দ্রনাথ স্পর্শ করেননি।
প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি, দেশপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা, একাকীত্ব—
সবকিছুর মধ্যেই তাঁর শব্দ আজও প্রাসঙ্গিক।
আজকের দ্রুতগতির পৃথিবীতেও
রবীন্দ্রনাথ আমাদের থামতে শেখান।
নিজের ভেতরের মানুষটাকে খুঁজতে শেখান।
হয়তো এজন্যই
প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়,
তবু রবীন্দ্রনাথ পুরনো হন না।
তিনি থেকে যান—
গানের সুরে,
বইয়ের পাতায়,
বর্ষার বিকেলে,
বা কোনো এক নিঃশব্দ একাকীত্বে।
রবি স্মরণে তাই শুধু শ্রদ্ধা নয়,
একটা কৃতজ্ঞতাও থাকে।
কারণ, তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—
শব্দ দিয়েও আলো জ্বালানো যায়।
🔑:
রবি স্মরণে গল্প, Rabindranath Tagore Bengali blog, রবীন্দ্রনাথ কবিতা, রবীন্দ্রজয়ন্তী লেখা, Bengali literary tribute

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন