শেষ ট্রেন: ফেরার নরম গল্প।
স্টেশন প্রায় ফাঁকা।
ঘড়িতে রাত ১১টা ৪৫।
অর্ণব দৌড়ে এসে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াল।
শেষ ট্রেনটা তখনও আসেনি।
সারাদিনের ক্লান্তি চোখে-মুখে।
শহরটা আজও তাকে একটু বেশি ক্লান্ত করেছে।
হঠাৎ পাশের বেঞ্চে বসা এক মেয়ের দিকে চোখ গেল।
হাতে পুরনো একটা বই, চোখে অদ্ভুত শান্তি।
ট্রেন ঢুকতেই দু’জন একই কামরায় উঠল।
পুরো কামরা প্রায় খালি।
ট্রেন চলতে শুরু করল।
জানালার বাইরে একে একে আলো পেছনে সরে যাচ্ছে।
হঠাৎ মেয়েটি বলল,
“শেষ ট্রেনে একটা আলাদা অনুভূতি আছে, না?”
অর্ণব একটু অবাক।
তারপর হেসে বলল,
“হয়তো… কারণ সবাই তখন বাড়ি ফিরতে চায়।”
মেয়েটি মাথা নাড়ল।
“না… কারণ তখন মানুষ একটু সত্যি হয়ে যায়।”
তারপর অনেক কথা হলো—
স্টেশন, শহর, একাকীত্ব, অসমাপ্ত সম্পর্ক নিয়ে।
অর্ণব বুঝতেই পারেনি কখন তার স্টেশন এসে গেছে।
নামার আগে মেয়েটি শুধু বলল,
“কিছু মানুষ শেষ ট্রেনের মতো—
দেরিতে আসে, কিন্তু মনে থেকে যায়।”
দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ট্রেনটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
অর্ণব প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রইল—
হয়তো সেই রাতটার জন্য,
হয়তো সেই অচেনা কথাগুলোর জন্য।
“শেষ ট্রেন” শব্দটার মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগ আছে।
এটা শুধু পরিবহণ নয়,
এটা দিনের শেষ যাত্রা।
একটা শহর ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ার আগে
মানুষের বাড়ি ফেরার গল্প।
শেষ ট্রেনের কামরায় আপনি নানা মানুষ দেখবেন—
ক্লান্ত অফিসযাত্রী,
চুপচাপ ছাত্র,
নাইট শিফট শেষে ফেরা কেউ,
বা এমন মানুষ, যারা শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।
এই সময় মানুষ একটু নীরব হয়।
দিনের মুখোশগুলো তখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
হয়তো এজন্যই
শেষ ট্রেনে অনেক সত্যি অনুভূতি জন্ম নেয়।
অনেক প্রেমের শুরু হয়েছে শেষ ট্রেনে,
অনেক বিচ্ছেদের কান্নাও লুকিয়ে আছে সেখানে।
স্টেশনগুলো একে একে পেরিয়ে যায়,
আর আমরা বুঝতে পারি—
জীবনও অনেকটা ট্রেনযাত্রার মতো।
কেউ কিছু দূর পর্যন্ত থাকে,
কেউ মাঝপথে নেমে যায়,
আবার কেউ শুধু স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।
তবু শেষ ট্রেন আমাদের একটা জিনিস শেখায়—
যত রাতই হোক,
ফেরার একটা পথ সবসময় থাকে।
🔑:শেষ ট্রেন গল্প, last train Bengali poem, railway nostalgia Bengali, night train story Bengali, emotional Bengali blog

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন